ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু কাল, মিলবে ৫ পণ্য

এশিয়া পোস্ট নিউজ

  ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৫
ছবি : এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

পবিত্র রমজান উপলক্ষে সারা দেশে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোগ্যপণ্য বিক্রি শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ কার্যক্রমের আওতায় বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর পাওয়া যাবে। পাশাপাশি চলবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিক্রি কার্যক্রমও।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ২০ দিন (শুক্রবার ও ছুটির দিন ছাড়া) রোজার এ বিক্রয় কার্যক্রম চালু থাকবে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন টিসিবির উপপরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদত হোসেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোজার দুটি বাড়তি পণ্য ছোলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও খেজুর ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হবে। এ ছাড়া ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, চিনি ৮০ টাকা ও মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে।

ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে একজন ভোক্তাকে সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি ডাল, এক কেজি ছোলা ও বরাদ্দ সাপেক্ষে এক/দুই কেজি খেজুর দেওয়া হবে।

ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের এসব পণ্য যে কেউ কিনতে পারবেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য নিয়মিত বিক্রি কার্যক্রম যথারীতি চলবে। কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রয় করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুরডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে এবং রমজানে ছোলা ৬০ টাকা ও খেজুর ১৬০ টাকা দামে বিক্রি করা হবে।

প্রতিদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০টি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি ও ৭টি মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৫টি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। অবশিষ্ট ৫৫ জেলায় ৫টি করে সর্বমোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি।

টিসিবি জানিয়েছে, দৈনিক ট্রাকপ্রতি ৪০০ জন নিম্নআয়ের জনসাধারণের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ২৩ হাজার টন পণ্য বিক্রি করা হবে।

আরও পড়ুন:

বগুড়া-৬ আসন ছাড়লেন তারেক রহমান, ইসিতে চিঠি

দুর্বল কাঁধে বিশাল দায়িত্ব, এ ভার বহনের চেষ্টা করব : মন্ত্রিপরিষদ সচিব

মন্তব্য করুন

দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস।
দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
কমলো স্বর্ণের দাম
সাতদিন পর দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করে।  এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। এর আগে, সবশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। উল্লেখ্য, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১১ দফা।
কমলো স্বর্ণের দাম
এলপিজির কর-ভ্যাট কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
শিল্পখাত এবং গৃহস্থালি কাজের জন্য অপরিহার্য পণ্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর প্রদেয় ভ্যাট ও কর কমিয়েছে সরকার।  সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে জারি করা আলাদা ‍দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান ওই প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন।  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলপিজি উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এলপিজি আমদানিতে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আগের মতোই বহাল থাকছে।  এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আবেদন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে জনস্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।  শিল্পখাত ও গৃহস্থালি ব্যবহারের অপরিহার্য এই জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম বজায় রাখা এর মূল লক্ষ্য।  এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, বিদ্যমান ব্যবস্থায় এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানিতে ২ শতাংশ আগাম কর দিতে হতো। জনস্বার্থে সরকার এলপি গ্যাসের ওপর প্রদেয় এই কর ও ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।    ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এলপিজি উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ে আগাম কর প্রত্যাহার করে শুধু আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  প্রজ্ঞাপন দুটি কার্যকরের তারিখ থেকে এলপি গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ভোক্তা সাধারণের ওপর প্রায় ২০ শতাংশ মূসকভার হ্রাস পাবে।
এলপিজির কর-ভ্যাট কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
রমজানে শেয়ারবাজারে লেনদেনে নতুন সময়সূচি
পবিত্র রমজান মাসে শেয়ারবাজারে লেনদেনে নতুন সময়সূচিতে জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইর ম্যানেজার (প্রকাশনা ও জনসংযোগ) মোহাম্মদ শাখাওয়াত-ই-এলাহি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রমজানে শেয়ারবাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চলবে।  এ ছাড়া পোস্ট ক্লোজিং সেশন হবে ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। পোস্ট ক্লোজিং সেশনে নতুন দাম প্রস্তাব করা যাবে না। তবে, দিনের ক্লোজিং দামে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ও ইউনিট ক্রয় বা বিক্রয় করতে পারবেন। তবে, ডিএসই অফিসিয়াল কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন হয়। রোজার পর ঈদের ছুটি শেষে আবার এই সময় অনুযায়ী লেনদেন হবে। এর আগে, রমজানে অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় দেশের সব সরকারি ও আধাসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।  তবে ব্যাংক, বিমা, অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থ বিবেচনায় তাদের নিজস্ব আইন বা বিধি অনুযায়ী অফিস সূচি নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
রমজানে শেয়ারবাজারে লেনদেনে নতুন সময়সূচি
আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
আমদানিকৃত হওয়ায় স্বর্ণের দাম বাংলাদেশে প্রায় প্রতিনিয়তই ওঠানামা করে। সবশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেই দামেই সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। বাজুসের সবশেষ দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা খরচ করতে হবে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ১০ দফা।
আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
নির্বাচন ঘিরে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা বেড়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দুই মাসে ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন বেড়েছে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা।  গত বছরের নভেম্বরে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া জানুয়ারিতে তা আরও বেড়ে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, ভোটের আগে মানুষের হাতে নগদ টাকা বাড়াটা স্বাভাবিক। তবে, অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন হলে তা বিএফআইইউকে রিপোর্ট করার ব্যবস্থাও কার্যকর রয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুব রহমান বলেন, ভোট দিতে মানুষ নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরাও খরচ করেছেন। ফলে টাকা উত্তোলন কিছুটা বেড়েছে। এদিকে, নির্বাচনকালীন সময় ভোট কেনাবেচা বা কোনো ধরনের নাশকতামূলক কাজে অর্থের জোগান বন্ধ করতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। এই সময়ে গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট কিছু সেবা ব্যবহার করতে পারলেও ক্যাশ-ইন বা ক্যাশ-আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ-ইন এবং ক্যাশ-আউট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ উল্লিখিত সময়ে কোনো এজেন্ট পয়েন্ট থেকে গ্রাহকরা তাদের হিসাবে টাকা জমা বা উত্তোলন করতে পারবেন না। সেন্ড মানির ক্ষেত্রেও কঠোর সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একজন গ্রাহক প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা করে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সেন্ড মানি করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পে (বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিল) ও কেনাকাটার পেমেন্ট আগের মতোই স্বাভাবিক রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি প্রদান এবং অন্যান্য সরকারি জরুরি সেবার ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে বাধা নেই। এগুলো প্রচলিত নিয়মেই সচল থাকবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নির্বাচন ঘিরে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা বেড়েছে
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সাক্ষাৎকার / নতুন সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে
সালেহউদ্দিন আহমেদ ১৯৭০ সালে অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। অতঃপর তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি) যোগদান করেন। ১৯৭৮-৭৯ সালে ঢাকা জেলার সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭৯-৮০ সালে পিরোজপুর মহকুমার মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। তিনি ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টে কাজ করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সঙ্গে একীভূত হয়। তিনি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। তিনি ১৯৯৫-৯৬ সালে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিরডাপ) গবেষণা প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ২০১৪ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তিনি গণবিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ট্রাস্টি। অর্থনীতি, উন্নয়ন এবং তার কর্মময় জীবনের ‍ওপর তার ১০০টির বেশি নিবন্ধ ও বই প্রকাশিত হয়, যেগুলো দেশ ও বিদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বেও ছিলেন সাবেক এই গভর্নর। সরকারের শেষ সময়ে এসে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন খ্যাতিমান এই অর্থনীতিবিদ। এ সময় তিনি দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ, দুর্নীতি, দেশের অর্থপাচার, ব্যাংকিং খাত ও বিভিন্ন খাতের সংস্কারসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। এশিয়া পোস্ট: দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভঙ্গুর অবস্থায় আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন। আর্থিক খাতকে কী অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: আমরা অর্থনৈতিক বা আর্থিক খাতকে মোটামুটি একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রেখে যাচ্ছি। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন ব্যাংকিং খাতের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। বেশিরভাগ ব্যাংকে তারল্য সংকট ছিল। ব্যাপক হারে অর্থ পাচার হয়েছিল। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার প্রবণতা ছিল প্রবল। ব্যাংকিং খাতের ঋণ সুবিধা গুটিকতক মানুষের হাতে কুক্ষিগত থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। দুর্নীতি এবং এনবিআরের বিশৃঙ্খলার কারণে কর আদায়ে লিকেজ বা অপচয় হচ্ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের অভাব ছিল, যদিও তৈরি পোশাক খাত ভালো অবস্থানে ছিল এবং এখনও আছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং বাজার অস্থিতিশীলতা। জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে প্রচুর লোডশেডিং হতো। সামষ্টিক দিক বিবেচনা করলে বর্তমানে আমরা সন্তোষজনক অবস্থায় আছি। লোডশেডিং আগের তুলনায় কমেছে। গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছিল। তা আমরা ৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েছে। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের দায় পরিশোধের পরেও বর্তমানে গ্রস রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। বাজারের অবস্থা অনেকটা ভালো হয়েছে। রপ্তানি আয় কমেনি এবং রেমিট্যান্সে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে, যা আগে হুন্ডির মাধ্যমে আসত। এশিয়া পোস্ট: অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ:  ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোপুরি চাঙা হয়নি। দেশে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে। দেশীয় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ না করলে বিদেশি বিনিয়োগ আসাও কঠিন। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সার্বিকভাবে আমি মনে করি পরিস্থিতি অনেকটা সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। এশিয়া পোস্ট: বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আপনারা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: প্রথমত, সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো মানুষের মানসিকতা। অনেকেই পরিবর্তন চান না এবং চিরাচরিত পদ্ধতিতে কাজ করতেই অভ্যস্ত। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই যারা পুরনো ব্যবস্থায় সুবিধাভোগী ছিলেন, তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার মেনে নিতে চান না। কারণ, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে অর্থের অপচয়, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধ হবে, যা তাদের স্বার্থের পরিপন্থি। তাই সংস্কারের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিরোধ ছিল। দ্বিতীয়ত, পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এক ধরনের ধীরগতি লক্ষ করা যায়। নতুন প্রযুক্তি বা আইটি ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হতে মানুষের সময় লাগে। তৃতীয়ত, সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান লোকের অভাব রয়েছে। আইটি খাতে কিছুটা উন্নতি হলেও প্রকৌশল বা চিকিৎসা খাতের মতো বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি আছে। স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতের সংস্কারে এই বিষয়গুলো সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করেছে। এশিয়া পোস্ট: সরকারের ব্যয় সংকোচন বা অপচয় রোধে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: অতীতে বিদেশ ভ্রমণ, বিভিন্ন উৎসব ও দিবস পালনের নামে সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় হতো, যার কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেশের প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়নে ছিল না। মুষ্টিমেয় কিছু লোক এসব সুবিধা ভোগ করত। আমরা এসব অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করে দিয়েছি। এতে সুবিধাভোগী একটি ছোট অংশ অসন্তুষ্ট বা ক্ষুব্ধ হলেও সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি, কারণ তারা এর কোনো সুফল পেত না। বরং জনগণ দেখছে যে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হচ্ছে এবং তা ভালো কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। কিছুটা বিরূপ মনোভাব থাকলেও কোনো বড় ঝামেলা ছাড়াই আমরা এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এশিয়া পোস্ট: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের সংস্কার নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী এবং এটি বাস্তবায়নে কী ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দীর্ঘকাল ধরে একটি চিরাচরিত বা গতানুগতিক ধারায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তাদের নীতি বা রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতিতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে রাজস্ব আদায়ের দক্ষতা বৃদ্ধি বা করের আওতা (ট্যাক্স নেট) বাড়ানোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। এ কারণেই আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম, যা বর্তমানে মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমরা রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব আদায়—এই দুটি কার্যক্রমকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে এনবিআর কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন এতে তাদের ক্ষমতা কমে যাবে বা জনবল ছাঁটাই করা হবে, যা সম্পূর্ণ অমূলক। আমাদের পরিকল্পনায় জনবল কমানোর কোনো বিষয় নেই। আমরা প্রযুক্তির উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছি। আমরা চেয়েছি, নীতি বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আধুনিক শুল্ক, আয়কর ও ট্যারিফ নীতি প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে, আদায় বিভাগ দ্রুততম সময়ে ভ্যাট, আয়কর আদায় এবং বন্দরে পণ্য খালাসের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। নিজেদের স্বার্থ ও ক্ষমতা কমে যাওয়ার ভয়ে এনবিআর-এর ভেতর থেকে কিছুটা প্রতিরোধ ও আন্দোলন হয়েছিল। তবে সরকারের দৃঢ় অবস্থান এবং আলোচনার মাধ্যমে আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাংবাদিকরাও এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। তারা মত দিয়েছেন যে এটা করা দরকার। ফলে শেষ পর্যন্ত বাধার যুক্তিগুলো টেকেনি। এশিয়া পোস্ট: অর্থপাচার রোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে আপনারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: প্রথমত, অর্থ পাচার রোধ ও পুনরুদ্ধারে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছি। সেখানে মূল দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমাদের প্রধান উপদেষ্টাও এই বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। আমাদের প্রধান লক্ষ্য দুটি। প্রথমত, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ যতটা সম্ভব ফেরত আনা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে যেন কেউ অর্থ পাচারের সাহস না পায় তার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। আমরা ইতিমধ্যে বড় বড় ১২টি সংস্থাকে শনাক্ত করেছি যাদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং ২০০ কোটি টাকার ওপরে অর্থ পাচারকারীদের অনেককেও আমরা চিহ্নিত করেছি। প্রথম ধাপে, দেশে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আদালতের আদেশের মাধ্যমে ফ্রিজ বা জব্দ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে, বিদেশ থেকে টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং এর জন্য ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন দেশের আইন ও নিয়মকানুন ভিন্ন হওয়ায় আমরা বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানকেও (লিগ্যাল ফার্ম) নিয়োগ করছি। যুক্তরাজ্যে কিছু সম্পদ জব্দ করা হলেও তা ফেরত আনা সময়সাপেক্ষ। হুট করে একদিনেই এই টাকা ফেরত আনা সম্ভব নয়। তবে আমরা প্রক্রিয়াটি শুরু করে দিয়েছি এবং আশা করছি আমাদের সময়েই কিছু অর্থ ফেরত আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমরা একটি সঠিক পথ তৈরি করে দিচ্ছি যা পরবর্তী সরকারগুলোকেও অনুসরণ করতে হবে। এশিয়া পোস্ট: গত সরকারের সময় দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমলা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি চক্র কাজ করেছে। এটাকে ভাঙতে আপনাদের কী পদক্ষেপ ছিল? এর ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অলিগার্কি বা মুষ্টিমেয় লোকের আধিপত্য ভাঙা হয়েছে। আগে দেখা যেত ব্যাংকের মালিক, শিল্পপতি, সংসদ সদস্য এবং গণমাধ্যমের মালিক—সবাই মূলত একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। এই সিন্ডিকেটের অনেকেই এখন পলাতক। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে, যেখানে প্রত্যক্ষভাবে ব্যাংকের মালিকদের আধিপত্য নেই। গণমাধ্যমের মালিকানার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। অনেকে দুর্নীতিসহ অন্যান্য ক্রিমিনাল মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে মালিকানা একই থাকলেও তাদের নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। আগে বিভিন্ন এজেন্সির চাপে তারা নির্দেশিত পথে চলত। এখন সেই চাপ বা নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে। আমাদের নেওয়া পদক্ষেপ এবং পরিস্থিতির স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে এতদিন বঞ্চিত ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এখন সামনে আসছেন। ব্যাংকগুলোও এখন বড় ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে ছোটদের ঋণ দেওয়ায় আগ্রহী হচ্ছে। কারণ, ব্যাংকগুলো বুঝতে পেরেছে যে বড় ব্যবসায়ীরাই মূলত বড় ঋণখেলাপি। যদিও তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো পুরোপুরি সহায়তা করতে পারছে না, তবুও তাদের ফোকাস এখন পরিবর্তিত হয়েছে। এর ফলে বড় বড় সিন্ডিকেট বা অলিগার্ক প্রথা ভেঙে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে আরও বিকেন্দ্রীকরণ ও সমতা আসবে বলে আমি মনে করি। এশিয়া পোস্ট: ব্যবসায়িক খাতে দীর্ঘদিনের বৈষম্য কমাতে আপনারা কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন? গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর কোনো প্রভাব কি লক্ষ করা যাচ্ছে? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: অতীতে ব্যবসায়িক খাতে বৈষম্য ছিল অত্যন্ত প্রকট। সেই অসম কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সামান্য বৈষম্য বাড়লেও তা বিশাল আকার ধারণ করে। আমরা হয়তো রাতারাতি এই বৈষম্য পুরোপুরি কমিয়ে আনতে পারব না। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এটি যেন আর না বাড়ে। এ কারণেই নতুন ঋণ ও ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছি। এখন নতুন উদ্যোক্তরাই প্রধান ভূমিকা পালন করছেন এবং আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে পুরোনো প্রভাবশালী বা সিন্ডিকেটকারীরা আর আগের মতো বাজার নিয়ন্ত্রণ বা কারসাজি করতে পারছে না। যদিও পুরনোদের কেউ কেউ ছদ্মবেশে আসার চেষ্টা করতে পারে। তবু নতুনদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। আমরা আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। নারীদের ব্যবসার ক্ষেত্রে কর রেয়াতসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে বৈষম্য কমে আসে। গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে কৃষি খাতে জমি লিজ নেওয়া বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের হাতে ছিল। তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো জমি দখল বা নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা নেই। কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ খাতে এখন যারা প্রকৃত উৎপাদনকারী, তারাই মালিকানা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ পাচ্ছেন। আগে উৎপাদনকারীরা কেবল শ্রমিক হিসেবে খাটত এবং মালিকানা থাকত অন্যের হাতে। এখন উৎপাদনকারী ও মালিকের মধ্যে দূরত্ব কমেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা মিলেমিশে কাজ করছেন। ফলে ক্ষেত-খামারে কাজ করা শ্রমিকরা আগের মতো বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন না। পরিস্থিতি পুরোপুরি ঠিক না হলেও উন্নতির দিকে যাচ্ছে। এশিয়া পোস্ট: কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে আপনাদের কৌশল কী ছিল? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: কর্মসংস্থান তৈরির মূল উৎস হলো বেসরকারি খাত, সরকারি খাত নয়। তাই আমরা বেসরকারি খাতকে উজ্জীবিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। বড় শিল্পের অবশ্যই প্রয়োজন আছে, তবে সেগুলো শ্রমঘন (লেবার ইনটেনসিভ) হতে হবে। পাশাপাশি আমরা রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিচ্ছি। তৈরি পোশাকের বাইরে চামড়া, প্লাস্টিক পণ্য, ইলেকট্রিক সামগ্রী এবং সিরামিক শিল্পের বিকাশে কাজ করছি। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্প। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা এই খাতগুলোকে উৎসাহিত করছি। ব্যাংকারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন এই খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো হয়। চাকরির পেছনে না ছুটে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য স্টার্টআপ বা নিজের উদ্যোগে কিছু করাকে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। এক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন বা পুঁজি। ব্যাংকঋণ বা এসএমই ফান্ডের প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধীরগতির হলেও কাজ হচ্ছে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা এখন দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। মধ্যপ্রাচ্য বা সৌদি আরবে আমাদের শ্রমিকরা যে বেতনে কাজ করেন, একটু দক্ষ হলে বা কারিগরি জ্ঞান থাকলে তারা তার দ্বিগুণ বা তিনগুণ আয় করতে পারতেন। এ ছাড়া জাপান, ইতালি বা কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে কাজের জন্য ভাষার দক্ষতা জরুরি। তাই আমরা ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছি। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং ব্যাংক ঋণের সহজলভ্যতা—সব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি পাবে। এশিয়া পোস্ট: কাঙ্ক্ষিত হারে বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো কী বলে আপনি মনে করেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, অর্থের যোগান বা ঋণের অভাব। অনেক বিনিয়োগকারী ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছেন—কেউ পরিস্থিতির শিকার হয়ে, আবার কেউ অন্য কোনো কারণে। ফলে তারা নতুন করে ঋণ বা অর্থায়ন পাচ্ছেন না। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি সংকট। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে অনেকে কারখানা স্থাপন করেও উৎপাদনে যেতে পারছেন না। তৃতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। চতুর্থত, দেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা থাকায় বিদেশি বিনিয়োগও আসছে না। বিদেশিরা সাধারণত স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে অথবা তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে চায়। দেশি বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় না হলে বিদেশিরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ ছাড়া আমাদের ফিসকাল পলিসি বা রাজস্ব নীতিতে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিশেষ করে কর, ভ্যাট এবং অগ্রিম আয়কর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশ কি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত? এ ক্ষেত্রে আপনারা কী ধরনের ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ দেখছেন? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের বিষয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে এর জন্য প্রস্তুত। তবে কিছু নির্দিষ্ট খাত যেমন—বন্দর সুবিধা, আইটি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এখনো ঘাটতি রয়েছে। নিজেদের শিল্পকারখানা এবং এই খাতগুলোর উন্নয়ন না ঘটিয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। গ্র্যাজুয়েশনের পর আমরা মেধাস্বত্ব বা ট্রিপস সুবিধা হারাতে পারি এবং আমাদের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধাগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইউরোপ হয়তো আর বাড়তি সময় (গ্রেস পিরিয়ড) দেবে না, আবার আমেরিকার ট্যারিফ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। সব মিলিয়ে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও আমরা মনে করি, এখনই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত। আমরা যদি বারবার সময় পিছিয়ে দিই, তবে ব্যবসায়ীরা চিরাচরিত অভ্যাসেই থেকে যাবে, নতুন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেবে না। আমরা প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি। যদি ভবিষ্যতে দেখা যায় যে আমরা কুলিয়ে উঠতে পারছি না, তখন সময় নেওয়া যাবে। এমনকি পরবর্তী সরকারও এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে বাড়তি সময় চাইতে পারবে। প্রশ্ন: গত সরকার যে ব্যাপক পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নিয়েছিল সেই ঋণের দায় পরিশোধে বর্তমান পরিস্থিতি কেমন এবং ঋণের চাপ সামলাতে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: আমরা ঋণের কিস্তি মোটামুটি নিয়মিত পরিশোধ করছি। সম্প্রতি আমরা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ঋণ পরিশোধ করেছি। তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন দায় বা ঋণের বোঝা যুক্ত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। ভবিষ্যতে ঋণের বিষয়ে আমরা দুটি পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রথমত, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করছি। দ্বিতীয়ত, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অর্জনের জন্য দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতের উন্নয়ন জরুরি। কারণ শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার না ঘটলে ঋণ শোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এশিয়া পোস্ট: পরবর্তী সরকারের জন্য আপনার পরামর্শ কী থাকবে? বিশেষ করে আপনাদের শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে তাদের প্রতি আপনার কোনো বার্তা আছে কি? ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: পরবর্তী সরকারের প্রতি আমার প্রথম পরামর্শ হলো—কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, অর্থাৎ সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব না থাকে। সবকিছু চলতে হবে পেশাদারত্ব, আইন এবং ব্যবসায়িক নীতিমালার ভিত্তিতে। দ্বিতীয়ত, আমাদের অর্থনীতি বা ব্যবসা-বাণিজ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে বিশ্ব ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করতে হবে। কারণ সামনে আমাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা ট্রেড পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টের (টিপিএ) মতো বিষয়গুলো নিয়ে দরকষাকষি করতে হবে। তাই নীতিগুলো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই প্রণয়ন করা জরুরি। সর্বশেষ পরামর্শ হলো, আমরা যেসব সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি, সেগুলো যেন অব্যাহত রাখা হয়। কারণ এই সংস্কারগুলো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনগণের মঙ্গলের জন্যই করা হয়েছে। যে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলেই পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের এই কাজগুলো করতে হতো। তাই আমার অনুরোধ থাকবে, তারা যেন এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করে। প্রয়োজনে কাজের ধরনে বা ভঙ্গিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা যেতে পারে, কিন্তু সংস্কারগুলো যেন একেবারে বাদ দেওয়া না হয়। এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।
নতুন সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে
‘যুক্তরাষ্ট্রে ৯০ শতাংশ পণ্য রপ্তানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ’
বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা বড় অর্জন বলে দাবি করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, শুল্ক চুক্তির ফলে সব মিলিয়ে বলা যায় ৯০ শতাংশ পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন বাণিজ্য চুক্তি পৃথিবীর আর কোনো দেশ করতে পেরেছে কি না আমি জানি না। বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি পণ্য রপ্তানি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই তৈরি পোশাক থেকে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। এটা বাণিজ্যের জন্য অনেক বড় অর্জন। চুক্তির বিষয়ে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, শুল্ক চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও সুতা রপ্তানি বাড়বে। তবে নির্বাচিত সরকার চাইলে শুল্ক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। সেই ধারাও চুক্তিতে সংযুক্ত আছে। রমজানে পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি কেমন থাকবে, এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, রমজানের বাজারদর দিয়েই আমাদের কাজের মূল্যায়ন করবে জনসাধারণ। মূল্যস্ফীতি সার্বিকভাবে কমছে। এমন সব পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছি, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে ভোজ্যতেলের দাম কমাতে পারবে। নিত্যপণ্যের বাজার সহনীয় করতে পারবে। শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এসআলমসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিত্যপণ্যের বাজার জিম্মি করে রেখেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকার যৌথভাবে করেছে বলেও দাবি করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
‘যুক্তরাষ্ট্রে ৯০ শতাংশ পণ্য রপ্তানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ’
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিধিনিষেধ—লেনদেনে কী খোলা, কী বন্ধ
নির্বাচনকালীন সময় ভোট কেনাবেচা বা কোনো ধরনের নাশকতামূলক কাজে অর্থের জোগান বন্ধ করতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। এই সময়ে গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট কিছু সেবা ব্যবহার করতে পারলেও ক্যাশ-ইন বা ক্যাশ-আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ-ইন এবং ক্যাশ-আউট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ উল্লিখিত সময়ে কোনো এজেন্ট পয়েন্ট থেকে গ্রাহকরা তাদের হিসাবে টাকা জমা বা উত্তোলন করতে পারবেন না। সেন্ড মানির ক্ষেত্রেও কঠোর সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একজন গ্রাহক প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা করে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সেন্ড মানি করতে পারবেন। এদিকে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পে (বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিল) ও কেনাকাটার পেমেন্ট আগের মতোই স্বাভাবিক রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।  এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি প্রদান এবং অন্যান্য সরকারি জরুরি সেবার ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে বাধা নেই। এগুলো প্রচলিত নিয়মেই সচল থাকবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিধিনিষেধ—লেনদেনে কী খোলা, কী বন্ধ