চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বাধ্য। কাগজে-কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে কোনো ভৌত অবকাঠামো নেই এসবের। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাজারো মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। তবে এগুলোর কোনো অবকাঠামো নেই। ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রে কোনো জনবল নেই। কসবা ইউনিয়ন কেন্দ্রের দুজন জনবল থাকলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর নাচোলকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ৪টি ইউনিয়ন গঠিত হয়- নাচোল, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর। সাধারণত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকা উচিত, যেখানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন স্যাকমো কর্মরত থাকেন। কিন্তু বাস্তবে এখানে কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয়রা উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া ও ওষুধের খরচ বাড়ছে। দীর্ঘদিন কেন্দ্র না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
কসবা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। ভাড়া ও ওষুধপত্রের খরচ বাড়ছে। দ্রুত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক।’
নাচোল উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, তবে অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। নেজামপুর ও ফতেপুর কেন্দ্রে জনবল নেই। কসবা কেন্দ্রে একজন স্যাকমো পদে কর্মরত আছেন, তবে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। তবে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে জনবল শূন্য। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ওইসব জায়গায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগামীতে ওইসব ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে। এটা অবশ্যই স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবি। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে বেশ উৎপর। আশা করছি, এসব সংকট নিরসন হবে।
মন্তব্য করুন








