
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। এখন আর ঠিকমতো বিছানা থেকে উঠে আসতে পারেন না। রোগ-শোক বাসা বেঁধেছে শরীরে। কিন্তু ঘরে থাকতে মন সায় দেয় না। সকাল হলেই বেরিয়ে পড়েন বাইরে। মানুষের কাছে ঘুরে ঘুরে বিলি করেন সংবাদপত্র। পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে রয়েছে তাঁর অসামান্য অবদান। এমনই একজন গুণী ব্যক্তি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা গ্রামের মৃত ফজলুল হক গাজীর ছেলে সোহরাব হোসেন গাজী (৮৮)।
সোহরাব হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি ১৯৬২ সালে নাজিরপুরের মালিখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। নওয়াপাড়া থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে খুলনা দৌলতপুর কলেজ থেকে ডিগ্রি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি চিতলমারী উপজেলার বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন।
কর্মময় জীবনে তিনি হিজলা, চরবড়বাড়িয়া, কালশিরা ও চারুপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিতে (সিপিবি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য। এছাড়া বাগেরহাট জেলা কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
একদিকে যেমন সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি ও অবহেলিত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করেছেন, পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর অসামান্য অবদান। এখনো অসুস্থ শরীরে দলের হাল ধরে রেখেছেন তিনি। কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র হিসেবে সাপ্তাহিক ‘একতা’ পত্রিকা মানুষের হাতে নিয়মিত পৌঁছে দেন।
জীবনে উপার্জিত অর্থ ব্যয় করেছেন সমাজের নানা কাজে। এখন জীবনের অন্তিম সময়ে আর্থিক অনটন থাকলেও থেমে নেই তাঁর পথচলা। একজন দিকপাল হিসেবে শিক্ষাগুরু সোহরাব হোসেনের কর্মকাণ্ড অনেককে উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি এই বয়সে এসে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করার বিষয়টিও অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে।
চিতলমারী উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান জানান, সোহরাব হোসেন স্যার একজন গুণী মানুষ। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। নৈতিক আদর্শ নিয়ে তিনি রাজনীতি করেন। তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। একদিকে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন, অন্যদিকে রাজনীতির আদর্শিক দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কর্মকাণ্ড এখন অনেকের কাছেই অনুকরণীয়।




