
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরশহরের সাজিউড়া মোড়ে জেলা পরিষদের ভূমিতে সুহাল সুপার মার্কেটের দখলে (অবৈধভাবে) থাকা জায়গা চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোণা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে এ নির্দেশ দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুহাল সুপার মার্কেটের মালিক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক এক সচিব দীর্ঘদিন যাবত সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা পরিষদের জায়গা দখল করে সুবিধা ভোগ করেছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাবেক কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদারের সহযোগিতায় দখলকৃত জায়গার পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয় ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের ওপর, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে যদি সেই সম্পত্তি দখলে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবে-এটাই এখন তাঁদের বড় প্রশ্ন?
এ সময় নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোর্শেদুুল ইসলাম, কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন ভুইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, উল্লেখিত সাবেক সচিবের আপন ছোট ভাই মো. লুৎফর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পরিষদের এই নির্দিষ্ট জমিতে তিনতলা ভবন নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। এখানে নতুন ভবন তৈরি হলে কয়েকশত ব্যবসায়ী তাদের কর্মসংস্থান খুঁজে পাবেন এবং কেন্দুয়ার সর্বসাধারণ এর সুবিধা ভোগ করবেন।
তিনি আরও বলেন , কোনো একক ব্যক্তি সুবিধার ওপরে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। প্রশাসক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, একজন ব্যক্তির স্বার্থের জন্য আমরা বিশাল জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত রাখতে পারি না। জেলা পরিষদের জমি বেআইনিভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জায়গাটি খালি করে বুঝিয়ে দিতে হবে।
এর আগে সকলের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট ভূমি মাপঝোঁক করেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করে এই নতুন ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দুয়ার সর্বস্তরের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।




