
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধিতে সরকারের ঘোষিত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যখন চলমান, ঠিক সে সময় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা পরিষদ চত্বরে চরম অবহেলা ও অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ উঠেছে। টানা ১৮ দিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো ছোঁয়া না পাওয়ায় পরিষদ চত্বরে জমেছে ময়লা-আবর্জনা ও পাখির মলমূত্র। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। জনগণের নাকাল অবস্থা।
গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চললেও এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে খোদ উপজেলা প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্রে। পরিষদ চত্বরের গাছপালায় অবস্থান নেওয়া পাখিদের বিষ্ঠা ও অব্যবহৃত ময়লা জমে চত্বরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
উপজেলা পরিষদে নানা কাজে আসা মাহফুজুর রহমান, রাসেল রানা সহ একাধিক সেবাপ্রার্থী জানান, আমরা সেবা নিতে এসে খোলা জায়গায় দাড়াতে পারছি না। উপজেলা পরিষদের যেখানেই দাড়ানো যায় সেখানেই পাখি মলত্যাগ করে, কখনো তা শরীরের উপরে পরে, না হয় মাটিতে। চারদিকের তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তারা আরও বলেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে প্রশাসনিক চত্বরের এমন বেহাল দশা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। যেখানে সুন্দর মনোরম পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে দ্রুত দৃষ্টি দিয়ে বেলকুচি উপজেলা পরিষদ চত্বর পরিচ্ছন্ন করা এবং সরকারি স্বাস্থ্যনির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সেবাপ্রার্থীরা।
তবে এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতিথি পাখি আমাদের পরিবেশ বন্ধু। তাই বরাবরই আমরা তাদের স্বাগত জানাই । তবে সেবা প্রার্থীদের সমস্যা কথা চিন্তা করে আমরা উপজেলা পরিষদের যে সকল দপ্তরে সেবাপ্রার্থীদের যেতে সমস্যা হচ্ছে সে সকল দপ্তরের যাওয়ার পথে সেড নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি। সেই সাথে উপজেলা পরিষদের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ের কথা জানান। তিনি আরও বলেন, পাখিদের বিষ্টা পরিছন্ন কর্মী দিয়ে সকাল বিকাল পরিষ্কার করানো হয়।




