
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এবার ২২৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যে পুরো উপজেলায় বইতে শুরু করেছে উৎসবের আমেজ। প্রতিমা নির্মাণের শেষ ধাপ, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী, আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, শিল্পীদের নিপুণ তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে। কোথাও চলছে রংয়ের শেষ স্পর্শ, কোথাও বা মণ্ডপ সাজানোর কাজ। রাতদিন পরিশ্রম করে উৎসবকে বর্ণিল করে তুলতে কাজ করছেন ডেকোরেটর শ্রমিকরাও।
জানা গেছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং পরিদর্শন খাতা সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে এবার উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর প্রতি মণ্ডপে ৫০০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছিল। উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে উপজেলার মিকশিমিল খরসংঘ বটতলায় এবারো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডুমুরিয়ার অন্যতম বৃহৎ দুর্গোৎসব। সেখানে দুই শতাধিক প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে, যা পূজাপ্রেমী দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। এছাড়া ডুমুরিয়া কালীবাড়ি, চুকনগর মাতৃমন্দির এবং বান্দা সার্বজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
ডুমুরিয়া কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি মঠের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন্দ্র প্রসাদ কুন্ডু টুটুল জানান, “শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে ডুমুরিয়া কালিবাড়ি মঠের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, উৎসবমুখর পরিবেশে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পূজার সকল আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন। পাশাপাশি সম্প্রীতি, উৎসব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে এ উৎসব সকলের মাঝে আনন্দ ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেবে।”
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল চন্দ্র বৈরাগী বলেন, “ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকলের অংশগ্রহণে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমরা আশা করছি।”
ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, পূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, উৎসবের আনন্দ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে ডুমুরিয়ার ২২৬টি মণ্ডপ এখন অপেক্ষা করছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে বরণ করে নেওয়ার।




