
ব্রিটেনের লন্ডনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ আইন পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল অর্জন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উপজেলার নয়াদিল গ্রামের কৃতিসন্তান ব্যারিস্টার সজীব রাফিত। তাঁর এই অর্জনে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রায় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লিংকনস ইনের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত Call to the Bar অনুষ্ঠানে একসাথে ইন্ডিয়া, চীন, ভীয়েতনাম, পাকিস্তান এবং অনেক ইউরোপীয়ান দেশসহ ২১টি দেশের মোট ৯৬ জন প্রার্থী সম্মানজনক ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে সজীব বি. রাফিতের দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও উচ্চশিক্ষার যাত্রায় যুক্ত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সজীব বি. রাফিত প্রয়াত হাজী আব্দুর রাজ্জাক হাজারী (ডিলার) সাহেবের কনিষ্ঠ ছেলে। তাঁর বাবা নয়াদিল “হাজী আব্দুর রাজ্জাক হাজারী মাদ্রাসার” প্রতিষ্ঠাতা স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঐতিহ্য ধারণ করে বেড়ে ওঠা সজীবের এই সাফল্য পরিবার ও জন্মস্থান নয়াদিলের জন্য বিশেষ গৌরবের।
এই অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর আবেগ। ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যারিস্টার সজীবের বার পরীক্ষার সময় তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন। ছেলের ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর বাবার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। সেই স্বপ্ন পূরণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে লন্ডনে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বড় ভাই সাম রাব্বি ও তাঁর গর্বিত মা।
সজীবের মেজো ভাই, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক কামরুদ্দোহা রাজীব বলেন, তাঁরা আশা করেন, সজীব আইনি পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং অসহায় ও আইনি সহায়তাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ব্যারিস্টার সজীব রাফিতের বার্তা, নিজের স্বপ্নকে সীমাবদ্ধ না রেখে অধ্যবসায়, সততা ও শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। অর্জিত জ্ঞানকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণেও কাজে লাগাতে হবে।
লন্ডনের ঐতিহাসিক লিংকনস ইন থেকে এই অর্জন শুধু ব্যারিস্টার সজীব রাফিতের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি তাঁর পরিবার, নয়াদিল গ্রাম এবং আখাউড়ার মানুষের জন্যও গর্বের একটি অধ্যায়। তাঁর এই সাফল্য এলাকার তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে—এমন প্রত্যাশা পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।




