ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পে ধীরগতি

খায়রুল আলম (সুমন)

  ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৪ পিএম

ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। তবে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে কাজের গতি এক রকম নয়। কোথাও নির্মাণকাজ এগোলেও কোথাও ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর ও অন্যান্য জটিলতায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে আগের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি এখন নতুন সময়সীমা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় প্রকল্পের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে জানান, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি তখন প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

কতটুকু কাজ এগিয়েছে?

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘সাসেক ঢাকা–সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ ২০২১ সালে শুরু হয়। প্রকল্পের মূল আওতায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার মহাসড়ক উন্নয়ন, চার লেনের মূল সড়কের পাশাপাশি সার্ভিস লেন, সেতু, কালভার্ট ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি ছিল ২১ শতাংশ। ওই সময় মূল সড়কের কাজের অগ্রগতি ছিল ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, সার্ভিস লেনের ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সেতুর ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং কালভার্টের ৫৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে সড়কমন্ত্রী জানান, আগের ছয় মাসে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ১৩ শতাংশ থেকে ৩৮ শতাংশের বেশি হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি জানান, প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে আটটির কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোলেও পাঁচটি প্যাকেজের অগ্রগতি এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তবে এপ্রিলের ২১ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে মন্ত্রীর উল্লেখ করা ৩৮ শতাংশের বেশি অগ্রগতির হিসাব দুটি ভিন্ন সময়ের। ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পের সর্বশেষ সমন্বিত সরকারি অগ্রগতি প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই এই মুহূর্তে মোট কাজের সুনির্দিষ্ট হালনাগাদ শতাংশ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

কেন পিছিয়ে পড়েছে প্রকল্প?

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, নকশা সংশোধন, মাটির অবস্থা এবং ঠিকাদারি কাজের ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জটিলতা উল্লেখযোগ্য।

আইএমইডির সমীক্ষায় ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব জটিলতা থাকায় অনেক স্থানে নির্মাণকাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। পাশাপাশি প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে কাজের অগ্রগতির পার্থক্য সামগ্রিক বাস্তবায়নেও প্রভাব ফেলছে।

সড়কজুড়ে জনদুর্ভোগ, বাড়ছে প্রত্যাশা

ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই পথে চলাচল করে। সিলেটের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প এবং প্রবাসী আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম।

নির্মাণকাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সাময়িক ভোগান্তি ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে নির্মাণকাজ, সড়ক মেরামত কিংবা যান চলাচলের সংকীর্ণতা রয়েছে, সেখানে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে উন্নত সড়ক যোগাযোগ, নিরাপদ যাতায়াত এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এসব সুফল পেতে হলে শুধু নির্মাণকাজ এগিয়ে নিলেই হবে না; সড়কের গুণগত মান, সঠিক নকশা, নিরাপত্তা এবং কার্যকর তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৯ সালের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত?

সরকারের নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার কথা। কিন্তু প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং পিছিয়ে থাকা পাঁচটি প্যাকেজের অগ্রগতি বিবেচনায় এই সময়সীমা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত বা প্রকল্প কর্মকর্তাদের নতুন সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা যাচাই করা না থাকায় নির্ধারিত সময়সীমা নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়নযোগ্য কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। তবে কাজের গতি বাড়ানো, নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পে অগ্রগতির নতুন আশার কথা শোনা গেলেও কাজের বড় অংশ এখনো সম্পন্ন করা বাকি। ২০২৯ সালের জুনের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত শেষ করা, পিছিয়ে থাকা প্যাকেজগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করা এবং নির্মাণকাজের মান বজায় রেখে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার ওপর। এখন সিলেটবাসীসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা—প্রতিশ্রুতি যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নেয়।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আনোয়ার মারা গেছেন
সৌদি আরবের হাইল শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আনোয়ার হোসেন (৪৮) মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হাইলের কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) আনোয়ারের মৃত্যুর খবর জানাজানি হয়।  নিহত আনোয়ার হোসেন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পূর্ব ইন্দ্রা পাশা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মনসুর হোসেন। তিনি সৌদি আরবের হাইল শহরে কর্মরত ছিলেন। নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, তার স্বামী আনোয়ার হোসেন পেশায় একজন মাইক্রোবাস চালক। গত ১০ অক্টোবর হাইল শহরে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গুরুতর আহত হন আনোয়ার হোসেন। পরে তাকে পুলিশ গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কিং খালিদ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। জেসমিন বেগম বলেন, আমার স্বামীর মরদেহ যেন সন্তানরা দেখতে পারে। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের দৃষ্টি কামনা করছি। রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কামাল বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কিছু জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তারপরেও আমরা এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি।
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আনোয়ার মারা গেছেন
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা: এসআরবি’র অভিযানে আরও ৪ জন গ্রেপ্তার
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনে আটক দুই মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-১-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক শাহ আলম। ​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আকাশ হোসেন (২৩), মো. রাজিব (২৩), মো. নাজমুল হোসেন নাদিম এবং শিউলি আক্তার সুমি (৩৫)। ​এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে ইয়াবাসহ আনিছ (১৯) ও শিমলা আক্তার ওরফে বৃষ্টিকে (২২) আটক করে রেলওয়ে পুলিশ। আটককৃতদের ছিনিয়ে নিতে একদল দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। ​উক্ত ঘটনায় ১৬ অক্টোবর রেলওয়ে পুলিশের এটিএসআই মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ​ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-১-এর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদ ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন পূর্ব চান্দনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি আকাশ ও রাজিবসহ তদন্তে প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামি নাজমুল ও শিউলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ​গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য গাজীপুর মহানগরের সদর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ​উল্লেখ্য, হামলার ঘটনার পরপরই গত বৃহস্পতিবার রাতে জিএমপি সদর থানা পুলিশ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এসআরবি’র নতুন অভিযানে এ মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ জনে।   
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা: এসআরবি’র অভিযানে আরও ৪ জন গ্রেপ্তার
বেলকুচিতে জমি সংক্রান্ত জেরে ভাতিজার কোদালের কোপে চাচার মৃত্যু 
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজা (চাচাতো ভাইয়ের ছেলের) কোদালের কোপে চাচা আবুল কালাম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাবি হাফিজা খাতুন ও ভাতিজা কামরুল হাসান গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ​ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বেলকুচি উপজেলার ভাঙাবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর চন্দনগাঁতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত আবুল কালাম উত্তর চন্দনগাঁতি গ্রামের মৃত গনি শেখের ছেলে। ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে আবুল কালামের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই মান্নান শেখের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। ​এরই জেরে শনিবার সকালে আবুল কালামের মালিকানাধীন শালবাগানের গাছ কাটতে যায় চাচাতো ভাই মান্নান শেখ, তাঁর ছেলে আরিফসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। খবর পেয়ে আবুল কালাম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাতিজা আরিফ তাঁর হাতে থাকা কোদাল দিয়ে আবুল কালামের মাথায় আঘাত করে। এ সময় আবুল কালামকে রক্ষায় তাঁর ভাবি হাফিজা খাতুন ও ভাতিজা কামরুল হাসান এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদেও ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ​পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কালামের মৃত্যু হয়। ​এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বদিউজ্জামান বাদী হয়ে একটি হত্যাকান্ড জনিত মামলা দায়ের করেন। আমরা ইতিমধ্যে নিহতরের চাচাতো ভাই মান্নান শেখ ও তার বেয়াইনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। বাকী আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
বেলকুচিতে জমি সংক্রান্ত জেরে ভাতিজার কোদালের কোপে চাচার মৃত্যু 
দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ভাঙ্গুড়ায় প্রশাসনের তৎপরতা
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন রোববার (১৮অক্টোবর) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা। পূজার সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছেন তাঁরা। পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান, ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আযম এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, পূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয় পর্যায়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক প্রস্তুতি তদারকিতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ভাঙ্গুড়ায় প্রশাসনের তৎপরতা
নেত্রকোনায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা 
নেত্রকোনায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রবিবার সকাল ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা ২ সদর ও বারহাট্টা আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ আনোয়ারুল হক এমপি। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ওয়াহিদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মনিজা খাতুন, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম প্রমুখ।  এসময় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় কমিটির সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।  উন্নয়ন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ আনোয়ারুল হক এমপি বলেন জেলার উন্নয়নে স্বচ্ছতার সাথে সকলকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রত্যেকটি উন্নয়ন কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। 
নেত্রকোনায় জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা 
X