
রাঙামাটির রাজস্থলীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজস্থলী উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর পাড়া গ্রামে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা করেন রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইউছুফ হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত সুপারভাইজারদের হাতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য আধুনিক ট্যাব তুলে দেন। পরে তিনি সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং এর বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ইউছুফ হাসান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নির্বাচনের সময় প্রতিটি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, আজকের উদ্বোধনী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
এ সময় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইউএনও বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের নাম ভাঙিয়ে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি কারও কাছে অবৈধভাবে টাকা দাবি করেন, তাঁকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ধরনের অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইউএনও আরও বলেন, রোববার থেকে রাজস্থলীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কার্যক্রম সফল করতে রাজস্থলীর সর্বস্তরের বাসিন্দাদের তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা লিজা চাকমা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু মিয়া, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এমদাদুল হক মিলন, এমপি প্রতিনিধি জিকু কুমার দে, বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রিন্স, মহিলা সদস্য সালমা আক্তার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




