ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জেলেদের ধাওয়া দিতে গিয়ে ডুবে গেল নৌ-পুলিশের স্পিডবোট, শটগান গায়েব!
মতলব উত্তরে জাল নোটসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার ​
কচুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা
কচুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের জাহাজী বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের নয়টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা হলেন—ওই বাড়ির মকবুল হোসেন, কামাল হোসেন ও নুরে আলম। আগুনে বসতঘরসহ ঘরে থাকা আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ একটি ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নয়টি বসতঘর ও ঘরের মালামাল পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম ও কড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম সওদাগর। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পাশে থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। আগুনে বসতঘর ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবার বর্তমানে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা সরকারি ও স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা
শাহরাস্তির চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উদ্বোধনী ক্লাস ও  নবীন বরণ  
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করায় শিক্ষককে অব্যাহতি
চাঁদপুরে নিখোঁজ স্কুলছাত্র বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে উদ্ধার
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন এনসিপি নেতা!

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক নারীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর শ্বশুর হারুনুর রশিদ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।   শনিবার রাতে বাহরাইন প্রবাসী ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রহমত উল্লাহ পালিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজ শুরু করেন।   অভিযোগে বলা হয়েছে, এরপর থেকে রহমত উল্লাহ ও মরিয়মের মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রোববার সকালে মরিয়মের পরিবারের সদস্যরা শাহরাস্তি মডেল থানায় এসে অভিযোগ করেন। এ সময় তার দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানও মায়ের খোঁজে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় আসে। শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ইব্রাহিম খলিলের ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, রহমত উল্লাহ ও মরিয়মের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পরিবারের নজরে আসার পর ইব্রাহিম খলিলকে জানানো হয়। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার রাত তারা উধাও। অন্যদিকে, মরিয়মের শ্বশুর ও অভিযোগকারী হারুনুর রশিদ দাবি করেন, তার পুত্রবধূ যাওয়ার সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়ে গেছেন।  তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ রহমত উল্লাহ ও মরিয়মের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও কর্মনিষ্ঠ ও আন্তরিকভাবে কাজের আহ্বান এমডির / বকেয়া রাজস্ব আদায়ে সফলদের সম্মাননা দিল চট্টগ্রাম ওয়াসা

চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে গঠিত বিশেষ টিমের সফল সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বকেয়া আদায়ে অবদান রাখায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসাসূচক সনদ এবং সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গঠিত মনিটরিং টিমগুলো এলাকাভিত্তিকভাবে কাজ করছে এবং বকেয়াধারী গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিল পরিশোধে উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, “মনিটরিং টিম মূলত মোটিভেশনাল কার্যক্রম করছে। এর আগে আমরা ৫০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে বকেয়া আদায়ে কাজ করেছি। এবার ২৫ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে বকেয়াধারীদের নিয়ে সাত কর্মদিবসের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম শেষে এর ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে।” চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বকেয়া আদায়ে জোরালো তৎপরতার সুফল ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়েও দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাসিক রাজস্ব আদায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও জুলাইয়ে ২৬ কোটি ৮০ লাখ এবং আগস্টে ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ের ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা চট্টগ্রাম ওয়াসার ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড। তিনি আরও বলেন, “যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সফলতা এসেছে, তাদের কাজে আরও উৎসাহিত করার জন্য প্রশংসাসূচক সনদ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, সবাই আরও কর্মনিষ্ঠ ও আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবেন।” চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে আটটি বিশেষ টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এসব টিম ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের সংযোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করছে এবং বকেয়া আদায়ে উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে বকেয়াধারী গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে ওয়াসার গ্রাহক ডাটাবেজ সমৃদ্ধ করার কার্যক্রম চলছে। গ্রাহকের হিসাব নম্বর, নোটিশ প্রদানের তারিখ, মোট বকেয়ার পরিমাণ, আদায়ের পরিমাণ ও তারিখ, সর্বশেষ মোবাইল নম্বর এবং বকেয়া পরিশোধ না করার কারণসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এর আগে বকেয়া আদায়ে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে আটটি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ শুরু করে। এসব টিম বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের বিরুদ্ধেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশনায় ওয়াসার বিভিন্ন বিভাগের জনবল বকেয়া রাজস্ব আদায়ে আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। মনিটরিং টিমগুলোর নিরলস পরিশ্রমের ফলে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড হয়েছে। সম্মাননা প্রদান করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্পৃহা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আমিন, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দেসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মতলব পৌরসভার আয়োজনে বেওয়ারিশ কুকুরের ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে বেওয়ারিশ কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগের বিস্তার রোধে ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মতলব পৌরসভার আয়োজনে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো বেওয়ারিশ কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগের বিস্তার রোধ করা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. ইশমাম, পৌর সচিব সাইফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও টিকাদান কর্মীরা উপস্থিত থেকে কুকুরগুলোকে টিকা প্রদান করেন। পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।

৩য় বারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সাংবাদিক ডলার

মতলব উত্তর উপজেলার ১৯২১ সালে নির্মিত প্রাচীনতম ১০০ নং চরকালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ৩য় বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার। উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ১০০ নং চরকালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার এর আগে ২০০৮ ও ২০২৩ সালে সভাপতি মনোনীত হয়েছিলেন এবং সর্বশেষ অদ্য ২০২৬ সালেও সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মতলব উত্তর প্রতিনিধি, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, উপজেলা মানবাধিকার কমিশন মতলব উত্তর উপজেলার সভাপতি, উত্তর রামপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ঐতিহ্যবাহী নেদায়ে ইসলাম পরিচালনা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার দীর্ঘদিনের সহ সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর দীর্ঘদিনের সংগঠনিক সম্পাদক, শিল্পকলা একাডেমী পরিচারনা কমিটির দীর্ঘদিনের সদস্য  সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত আছেন। ছবি ক্যাপশনঃ চরকালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক ডলার।  

চাঁদপুরে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত পাঁচ শতাধীক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা 

চাঁদপুরে এই প্রথম সদর ও হাইমচর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৭১ জন মেধাবী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শহরের মুনিরা ভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বক্তব্যে বলেন, জেলায় এসএসসিতে ১২২৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। সদর ও হাইমচরে ৫৫৫ জন এবং ৯২ ভাগ উপস্থিত রয়েছে। শিক্ষা শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধতা থাকলে হবে না। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্ম চর্চায় থাকতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। লেখাপড়ার জন্য চাঁদপুর হবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ালেখা ছাড়া সব চাঁদপুরে আছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরান বাজার ডিগ্রী কলেজ, হাইমচর কলেজসহ সকল কলেজের পড়ালেখার মান এক করা হবে। আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে সরকার চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন। ইতোমধ্যে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের আটটা সেশনের শিক্ষার্থীরা বের হয়েছেন। এমপি মানিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চায় তোমরা দেশ পরিবর্তনে অংশ নেবে। সুন্দর চাঁদপুর বিনিমানে ভূমিকা রাখবে। আগামী দিনে বিসিএস ডাক্তার সব চাঁদপুরেই হবে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয় একটু সময় লাগবে। আগামী দুই তিন বছরের মধ্যে সরকারের কাজগুলো দৃশ্যমান হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি তোমাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। মাদকের বিষয়ে তোমরা ৯৯৯ নাইনে ফোন দিবে বা প্রয়োজনে ছবি ভিডিও করে পাঠিয়ে দিবে। মাদক চাঁদপুরে থাকবেন। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ভূমি দখলদারদের চাঁদপুরে জায়গা হবে না।’ এই নেতা বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৫০ জন গরিব মেধাবীদের সহায়তা করা হবে। লেখাপড়া বন্ধ করা যাবে না। একটি সুন্দর চাঁদপুর বিনির্মাণে সবার সহযোগিতার প্রয়োজন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লার চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন,  ‘তোমাদের দিকে চেয়ে আছে বাংলাদেশ। তোমরা নিজেদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করলে তোমরা তোমাদের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। ক্লাসের তুলনা হয় না। প্রাইভেট এর উসিলায় ক্লাস বর্জন করা যাবে না। মোবাইলকে শিক্ষা কাজে ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। ফেসবুক মেসেঞ্জারে থাকলে জীবনকে পিছিয়ে ফেলবে। এগুলো বর্জন করলে আমি আশা করি তুমি ভালো ফলাফল করবে। তোমাদের আগ্রহই তোমাদেরকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।’ শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক স্বপ্নদ্রষ্টা। শিক্ষকদের মেধাশূন্য হওয়া যাবে না। একজন শিক্ষককে স্মার্ট শিক্ষক হতে হবে। শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে ক্লাস নিলে শতভাগ উপস্থিতি হবে এটা আমি বিশ্বাস করি। আপনাদের আন্তরিকতায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করবেই।’ চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদ, চান্দ্রা ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এটি এম মোস্তফা হামিদী, লেডি প্রতিমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা ইসলাম, হাইমচর বাজাপ্তি রমণী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান। কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন জোছনা আক্তার মমতাজ, রতন কুমার বাইন ও রাশেদুল ইসলাম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জান্নাতুল মাইশা, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফাহিম আফরান খান, চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেহজাবিন ইসলাম, চাঁদপুর ড্যাফোডিল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাজবীর হান্নান, নীলকমল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফারিহা ও হাইমচর চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহজাবিন ইসলাম। আলোচনা শেষে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৭১ জন মেধাবী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

কচুয়ায় থানার বিশেষ অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক ৩

চাঁদপুরের কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ জনকে আটক করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কচুয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কড়ইয়া মৎস্য আড়তের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে *মো. হাসান (২৩) ও রুবেল (২৬)*কে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। একই দিন রাত ৭টা ১০ মিনিটের দিকে সাচার উত্তর বাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পেয়ার আলী মুন্সী (৫০) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৬ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হকের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আটক তিনজনকে বিধি মোতাবেক পুলিশ পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মতলব উত্তরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান, ৯ মাসে গ্রেপ্তার ১৬৮

মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত নয় মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে থানা পুলিশ। থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মতলব উত্তর থানায় ১৩৩টি মাদক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৭ কেজি ১৪০ গ্রাম গাঁজা, ১০টি গাঁজা গাছ, ২ লিটার চোলাই মদ এবং ৩৭৫ মিলিলিটার কেরু মদ। এছাড়া মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন ওসি কামরুল হাসান। থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার এবং বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধেও সক্রিয় রয়েছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাদের মতে, মতলব উত্তর থানার মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদকের উৎস, কারবারি ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মতলব উত্তরকে নিরাপদ রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকলে পুলিশকে জানালে তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও
X