ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
অসহায় মা ও শিশুর পাশে জামায়াতের প্রার্থী বাদল মাদবর
ঝাড়ফুঁকের আড়ালে অসুস্থ কিশোরীকে ধ'র্ষণ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের
ভেদরগঞ্জে শিশু সুরক্ষার বর্তমান পটচিত্র ও করণীয় নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক   
ভেদরগঞ্জে শিশু সুরক্ষার বর্তমান পটচিত্র ও করণীয় নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক   
নাগরিকতা প্রোগ্রাম, সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (CEF)-এর আওতায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (GAC)-এর অর্থায়নে এবং নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি (নুসা), ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প), ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক) ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (সোডেপ)-এর সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন Gender Uplifting for Inclusive Development and Community Empowerment (GUIDANCE) প্রকল্পের উদ্যোগে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে শিশু সুরক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভেদরগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  ‘শিশু সুরক্ষার বর্তমান পটচিত্র ও করণীয়’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ফেসিলিটেশন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন GUIDANCE প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন GUIDANCE প্রকল্পের জেন্ডার এন্ড নেটওয়ার্কিং অফিসার আল আমিন হোসাইন জয় ।  বৈঠকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ৮টি সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের (CSO) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।  আলোচনায় শিশুদের প্রতি সহিংসতা, যৌন নির্যাতন ও শোষণ, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, শিশু পাচার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ এর তথ্য চিত্র তুলে ধরা হয়।  বক্তারা বলেন, শিশু সুরক্ষায় সরকারি সেবাগুলো আরও কার্যকর করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সেবা ও রেফারেল নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, কমিউনিটি, স্থানীয় সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি।  বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার ও সুশীল সমাজের মধ্যে সমন্বয়, অংশীদারিত্ব ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরে শিশু সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে করণীয় ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শেষে বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 
খেলনা বল ভেবে হাতে নেওয়া ক'কটেলের বি'স্ফোরণ, কিশোর হাসপাতালে
ডামুড্যায় দলিল টেম্পারিং করে বেশি জমি নামজারির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১
শরীয়তপুরে পপুলার লাইফের ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বীমা দাবি পরিশোধ
শরীয়তপুর জেলায় গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হলেন গেলমানুল হক
গোসাইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৫ মাদকসেবী আটক ​

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে।  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোসাইরহাট থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধার পরে আসামীদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে৷ আটককৃত হলেন, ১৷ মোঃ আবু বক্কর রাড়ী (৩৮), পিতা- মৃত রমিজ উদ্দিন রাড়ী,২। বিল্লাল সরদার (৪০), পিতা- মোঃ আব্দুর রব সরদার, ৩। ‍রুবেল সরদার (৩৪), পিতা- মনিরুজ্জামান, ৪। সুজন শিকদার (৩৫), পিতা- ফজলে করিম শিকদার,৫। সোহাগ সরদার(২৫), পিতা- আক্কাস আলী সরদার, গোসাইরহাটে ইদিলপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার মাদক সেবনরত অস্থায় গ্রেফতার করা হয়। ​থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতার করে মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান।  ​গোসাইরহাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, তাদেরকে মাদক সেবনরত অস্থায় গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টের মাধম্যে আসামীদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে আসামীদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সোসাইটি ফর সোশাল সাভির্সের উদ্যোগে ৩ হাজার ১৪০টি গাছের চারা বিতরণ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার বালার বাজারে সোসাইটি ফর সোশাল সার্ভিস (এসএসএস)-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ বিতরণ করা হয়। সোমবার ও মঙ্গলবার (২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর) দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে তারাবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, চর সেনসাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এসএসএসের সদস্যদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, তারাবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদুল হক, চর সেনসাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাবারক হোসেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাসুম বালা, সোসাইটি ফর সোশাল সাভির্স (এসএসএস) এর ডামুড্যার এরিয়া ম্যানেজার মো. আবদুর রহমান, সখিপুর থানার সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিসান বালা, সাবেক সহ-সভাপতি ফয়সার মাঝি, সোসাইটি ফর সোশাল সাভির্স (এসএসএস) এর সখিপুর শাখার ব্যবস্থাপক ইলিয়াস হোসেন মোড়ল, সোসাইটি ফর সোশাল সাভির্স (এসএসএস) এর বালার বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. নাসির উদ্দিনসহ স্কুলের ছাত্রছাত্রী বৃন্দ। সখিপুর থানার সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিসান বালা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধিতে এসএসএসের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য এসএসএস কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও তাদের এমন মহৎ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। এসএসএস ডামুড্যার এরিয়া ম্যানেজার মো. আবদুর রহমান বলেন, সোসাইটি ফর সোশাল সার্ভিস (এসএসএস) একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করে আসছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এসএসএস বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের এ বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এসএসএসের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ বিতরণ করা হয়।

ডামুড্যায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা হুইপের

শরীয়তপুরের ডামুড্যার মাটিতেই শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সারে ৫ টায় ডামুড্যা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, শরীয়তপুর কৃষিনির্ভর একটি অঞ্চল। এ জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে। ডামুড্যার মাটিতেই শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। পাশাপাশি কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুইপ বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার প্রমাণ দিয়েছে। তবে শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের জ্ঞান ও মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। ভবিষ্যতে তারা যেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এ সরকারের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে অপু বলেন, আমরা এই এলাকাকে রেলের আওতায় আনার জন্য বিশেষভাবে একটি প্রকল্প দাঁড় করানো হয়েছে। এর মাধ্যমে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, গোসাইরহাট রেল প্রকল্পটি বরিশালের সাথে সংযোগ হবে। যাতে করে এই অঞ্চলের মানুষ রেলের সকল সুবিধা পেতে পারে। ভবিষ্যতে আমাদের এই শরীয়তপুর আর অবহেলিত থাকবে না।  এর আগে, ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন এবং ডেঙ্গু ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে আদর্শ বাজেটের আওতায় ডামুড্যায় বিভিন্ন উন্মুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দদের সাথে মতবিনিময় সভা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৩-এর সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার এবং শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম নাসির উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম। কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। হুইপ অপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকে ঘিরে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীয়তপুরের কৃষি, গবেষণা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কুয়াকাটায় শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের আনন্দভ্রমণ

পেশাগত ব্যস্ততা আর সংবাদ সংগ্রহের দৌড়ঝাঁপ থেকে খানিকটা দূরে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে কুয়াকাটায় আনন্দভ্রমণ করেছে শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসইউজে)। পথজুড়ে চা-আড্ডা, হাসি-গল্প ও খুনসুটির পাশাপাশি কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি ও আনন্দে মুখর হয়ে ওঠেন সাংবাদিকরা। শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও ভোরের ডাকের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি এম. হারুন অর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক ও দিনকালের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মোঃ আল-আমিন শাওন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি খোরশেদ আলম বাবুল এবং কোষাধ্যক্ষ ও আমাদের সময় জেলা প্রতিনিধি মোঃ রোমান আকন্দের নেতৃত্বে এ ভ্রমণে অংশ নেন সংগঠনের বিভিন্ন  নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। ভ্রমণে ছিলেন, শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি মোহাম্মদ নান্নু মৃধা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক যায়যায়দিনের প্রতিনিধি কালাম সরদার। এ ছাড়াও ভ্রমণসঙ্গী ছিলেন, শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন খান, দপ্তর সম্পাদক কাওছার হোসেন, জনকল্যাণ সম্পাদক সোহাগ সরদার, আপ্যায়ন সম্পাদক মনির হোসেন, সদস্য জানে আলম টুটুল, ওমর বিন আলী (মমিন), ইনছান সরদার ও স্বপন প্রমূখ। ভ্রমণের আনন্দে বিশেষ আয়োজন; আনন্দভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সদস্যদের উৎসাহিত করতে আয়োজিত বিশেষ পুরস্কার প্রদান। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে আয়োজিত একমাত্র পুরস্কারটি অর্জন করেন শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি  মোহাম্মদ নান্নু মৃধা। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে নান্নু মৃধাকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পুরস্কার পাওয়ার পর সহকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কুয়াকাটার পথে বিভিন্ন স্থানে যাত্রাবিরতিতে চা-নাস্তা ও আড্ডায় মেতে ওঠেন সাংবাদিকরা। কর্মক্ষেত্রের নানা ব্যস্ততার মাঝে সহকর্মীদের সঙ্গে এমন অনানুষ্ঠানিক সময় ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কুয়াকাটায় পৌঁছে সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করেন তারা। সমুদ্রের ঢেউ, খোলা আকাশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে দলবেঁধে ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা ও আড্ডায় কাটে আনন্দঘন সময়। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে এমন আয়োজন পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও শক্তিশালী করে। ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। একটি ভ্রমণ, অসংখ্য স্মৃতি—কুয়াকাটার এই সফর শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যদের কাছে হয়ে থাকলো আনন্দ, বন্ধুত্ব, স্বীকৃতি ও ভ্রাতৃত্বের এক স্মরণীয় অধ্যায়।

মালিক শাহীন বাবুর বিচার ও নিখোঁজ রনিকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন

সৌদি আরবে নিখোঁজ যুবক নজরুল ইসলাম রনিকে অবিলম্বে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আরহান রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক শাহীন বাবুর প্রতারণা ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ​বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন পালিত হয়। ​মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আরহান রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক শাহীন বাবুর মাধ্যমে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে ডামুড্যার সন্তান নজরুল ইসলাম রনি সৌদি আরবে গমন করেন। সেখানে তাকে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও শাহীন বাবুর নির্দেশে স্থানীয় এক প্রবাসী (মিঠুন) রনিকে দিয়ে অবৈধ কাজ করানোর চেষ্টা চালায়। রনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে চুরি ও চুরির চক্রান্তের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতন করা হয়। এর পর থেকেই রনি নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, সে বিষয়ে তার পরিবার এতদিনেও কোনো সন্ধান পায়নি। ​ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রতারক চক্রটি ভুয়া টিকিট ও ভুয়া আকামার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ভিসার কথা বলে সৌদি কফিলের কাছে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে জিম্মি করা, দিনে মাত্র একবেলা শুকনো ভাত খেতে দেওয়া এবং বন্দি রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানোর মতো গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছে এই চক্রটি। ​মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসী অবিলম্বে শাহীন বাবুসহ প্রতারক ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং নিখোঁজ রনিকে উদ্ধারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্য মিছিল

শরীয়তপুরে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও কারাবন্দীদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এ মিছিলে শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন বলে জানা গেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীয়তপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের কোটাপাড়া ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মহসিন মাদবর, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান ওরফে ভুলু এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শিকদারের নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী সড়কে মিছিল করছেন। এ সময় মিছিলকারীদের ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘চলছে লড়াই, চলবে’ ও ‘শেখ হাসিনা লড়বে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। কয়েকজনের হাতে জাতীয় পতাকাও ছিল। মিছিল চলাকালে সড়কে অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। মিছিলের পেছনে একটি ট্রাককেও অপেক্ষমাণ অবস্থায় দেখা গেছে। প্রকাশ্যে এমন বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়ে আগে থেকে পুলিশকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম। ওসি শাহ আলম বলেন, আজ ভোরে যে মিছিল হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই। তারা বিক্ষোভ মিছিল করবে—এমন কোনো তথ্যও আমাদের কাছে আসেনি। আমরা বিষয়টি দেখছি। তিনি আরও বলেন, মিছিলের স্থানটি পালং ও নড়িয়া থানার সীমান্তবর্তী এলাকা। তারা হুটহাট করে মোটরসাইকেলে এসে কয়েক মিনিট মিছিল করে চলে যায়। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও শরীয়তপুরে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শরীয়তপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৩

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ঢাকা-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এসময় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। গতকাল সোমবার নড়িয়া উপজেলার গাগরীজোড়া এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক র‌্যালি’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে শতাধিক ব্যক্তি ঢাকা-শরীয়তপুর সড়ক ধরে হাঁটছেন। তারা শেখ মুজিবুর রহমান, ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের নাম নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া সেতুর ঢালে গাগরীজোড়া এলাকায় অনেকগুলো মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এতে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থল পালং মডেল থানার কাছাকাছি হওয়ায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে তিনটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুষার আহমেদ (২৩), আল আমিন সরদার (২৬) ও রিয়াদ মুন্সি (৪৯)। সোমবার রাতে তাদের নড়িয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে নড়িয়া থানার এক এসআই বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এ বিষয়ে নড়িয়া থানার এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু লোক ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কে মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেন। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 

আরও
X