
দেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের বাস্তবতায় নগর স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। ফলে সে সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রধান গুরুত্ব ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে বাদ রেখে টেকসই জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ড. এম এ মুহিত জানান, এতদিন নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এ ব্যবস্থার ইতিবাচক ও কার্যকর দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে এখন সরকারের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।
তিনি বলেন, নগর স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর যৌথভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর সঙ্গে নতুন কর্মীদের সমন্বয় করে একই কাঠামোর আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এসব ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীর হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত ডিজিটাল অ্যাপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন।
নগরের নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।
নগর স্বাস্থ্যসেবার নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, এর মাধ্যমে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর দেশের নগরবাসীর জন্য জনবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা।




