
ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ঘুম ও শরীরচর্চার পাশাপাশি অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক সময় শরীরে দেখা দেওয়া দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তিকে সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যাওয়া হয়। অস্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে নিচের অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা যেতে পারে।
১. ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন
ক্যানসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি হলো তামাক ব্যবহার। সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক শরীরের কোষ ও ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘদিন ধূমপানের সঙ্গে ফুসফুসসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে।
শুধু ধূমপান নয়, অন্যের সিগারেটের ধোঁয়ার সংস্পর্শও ক্ষতিকর। তাই নিজের ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করার পাশাপাশি ধূমপানের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা উচিত।
২. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করুন
শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ঘুমানোর আগে মোবাইল, কম্পিউটার বা অন্যান্য উজ্জ্বল স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো এবং শোয়ার ঘর অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা ভালো। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. খাবারে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনুন
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাসেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, পূর্ণ শস্য ও আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, লাল মাংস এবং বেশি চিনি ও লবণযুক্ত খাবার কমানো উপকারী।
খাবারের সময়ের ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে চলা ভালো। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকাকে ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় হিসেবে দেখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সীমিত। তাই ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত।
৪. প্লাস্টিকের ব্যবহার সচেতনভাবে কমান
গরম খাবার বা পানীয় প্লাস্টিকের পাত্রে রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। খাবার সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্টভাবে নিরাপদ ও উপযোগী পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্লাস্টিকের রাসায়নিক নিয়ে গবেষণা চলমান থাকলেও সব ধরনের প্লাস্টিক বা নন-স্টিক পাত্রকে সরাসরি ক্যানসারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তাই অতিরিক্ত গরমে বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় এসব পাত্র ব্যবহারে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাচ, স্টেইনলেস স্টিল বা অন্যান্য উপযোগী পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে মুখ, গলা, খাদ্যনালী, লিভার, স্তন ও কোলনসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। শরীরে অ্যালকোহল ভাঙার সময় অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি হয়, যা কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তাই ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে অ্যালকোহল না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাসগুলোর একটি। যারা পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণ ও নিয়মিততা কমানো ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ক্যানসার প্রতিরোধে কোনো একটি অভ্যাসই শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে ধূমপান ও তামাক এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ঘুম, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাস সামগ্রিকভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি শরীরে অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।




