
বন্ধ থাকা চারটি পাটকল চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ায় অবস্থিত এসব কারখানায় নতুন করে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের। একই সঙ্গে কারখানাগুলোতে উৎপাদিত পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ। এতে কারখানাটির শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। সম্প্রতি আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগে কারখানাটি আবার চালু হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পাটপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি এসব পণ্য রপ্তানিও করা হচ্ছে।
রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্ধ পাটকল চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এগুলো হলো—ফরিদপুরের দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরিদপুর জুট ফাইবার্স এবং কুষ্টিয়া জুট ইন্ডাস্ট্রিজ। চারটি কারখানাতেই বর্তমানে পাটের সুতা ও বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে।
আবুল খায়ের গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, এসব পাটকল থেকে বছরে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তুরস্ক ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে এসব পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে।
আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, পাটপণ্যের ব্যবসা মূলধননির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতের অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সে কারণে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে বন্ধ কারখানাগুলোর সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি পাট ব্যবসায় নামার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকল চালু করেছি। এতে চার কারখানায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বন্ধ তিন থেকে চারটি পাটকল নেওয়ার জন্যও আবেদন করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।’
শেখ শাবাব আহমেদ আরও বলেন, ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের বা ভ্যালু অ্যাডেড পাটপণ্য উৎপাদনের চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের পাটের মান ভালো এবং পরিবেশবান্ধব এ পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারও রয়েছে। এ কারণে পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এতে পরোক্ষভাবে হলেও পাটচাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’




