ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৩ পিএম
নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ কর্মসূচির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রম অবহিতকরণ’ শীর্ষক খুলনা বিভাগীয় সেমিনারের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, যেকোনো সমস্যায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে গেলে সমাধান পাওয়া যাবে। তবে সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা এককভাবে এ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থারও দায়িত্ব রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠপর্যায়ে বিস্তৃত হবে। সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং আকস্মিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আরও সচেতন ও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রা যত আধুনিক ও উন্নত হচ্ছে, সমাজে ততই নতুন নতুন সমস্যা ও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনবল বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি সংযোজন ও পদোন্নতির বিষয়েও কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। তবে আরও অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি প্রয়োজন।

সেমিনারটি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্মুক্ত ও আন্তঃক্রিয়ামূলক আলোচনার মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

খুলনা সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মোহা. কামরুজ্জামান।

সেমিনারে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

যে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি ও রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবার সই করা পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী তাঁর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। একইভাবে জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিলের জন্য সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তার ক্ষেত্রেও ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের বিধান অনুযায়ী নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারের দেওয়া সুপারিশ ও সম্মতির আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের পরিবর্তন ব্যাংক খাতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ, ঋণ আদায়, মূলধন ঘাটতি, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে দুই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ কেন বাতিল করা হচ্ছে, চিঠিতে তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মশিউর অর্ণব
সৌদিতে মৃ'ত্যুদণ্ড কার্যকর: সেই পাকিস্তানি নাগরিকই ফাঁসিয়েছে নজরুলকে!
শেষ দেখা তো দূরের কথা, কথা বলার সুযোগটুকুও পায়নি পরিবার। ঠিক কখন তাদের সন্তানের জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হলো তার কিছুই জানতে দেওয়া হয়নি মা-বাবাকে। গত বুধবার সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অতি গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ নজরুল ইসলামের (২২)। দূর প্রবাসের বন্দীশালায় যখন নজরুলের প্রাণহীন দেহটি ঝুলছিল, তখনও হয়তো হতভাগা মা-বাবা পথ চেয়ে বসেছিলেন পরের রোববার ছেলের ফোন আসবে। কোনো পূর্ব নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এভাবে আকস্মিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্তব্ধ পুরো পরিবার। ক্ষোভে, দুঃখে গোটা এলাকা যেন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। নজরুলের মা রহিমা বেগম বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান তার ছেলে। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস কাজ করার পর একদিন ডিউটিরত অবস্থা থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন নজরুল। কারাগারে থাকা অবস্থায়ও ছেলে প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা কেউ কোনো খবর পাননি। গণমাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে তারা ভেঙে পড়েছেন। রহিমা বেগম জানান, নজরুল দায়িত্ব পালনের সময় একদিন এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে তর্কে জড়ান। নজরুলের ডিউটি ছিল নিচে এবং ওই পাকিস্তানি নাগরিকের দায়িত্ব ছিল ছাদে। পাকিস্তানি নাগরিক ডিউটির স্থান পরিবর্তন করতে চাইলে অস্বীকৃতি জানান নজরুল। সেটাই তার ছেলের জন্য কাল হয়েছে কিনা সেই আশঙ্কা করছেন নজরুলের মা রহিমা বেগম।
মশিউর অর্ণব
কাল থেকে টানা ৫ দিনের ছুটি: কারা পাবেন, কারা পাবেন না
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি। এ ছুটি চলবে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত। তবে জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসাসেবা ও অত্যাবশ্যকীয় কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মীরা ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ছুটির আগে সরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস। ছুটির কারণে সরকারি অফিসের পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার ও আদালতের কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা চালু থাকবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন যারা জরুরি পরিষেবা: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট এবং ডাকসেবায় নিয়োজিত কর্মীরা ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরাও দায়িত্ব পালন করবেন। হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা: হাসপাতাল, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকবেন। চিকিৎসক ও ওষুধ সরবরাহ: চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীদের পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। জরুরি দাপ্তরিক কাজ: জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম চালু রাখবে। ব্যাংক ও আদালত: ছুটির সময়ে ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট। বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা: বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত ছিল। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। এ ছাড়া ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ও ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
মশিউর অর্ণব
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুলের সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, জানালেন বাবা
সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নিহত নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্বজনদের না জানিয়ে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের মক্কায় অনৈতিক কাজের অভিযোগে নজরুল ইসলামসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের খবর দেখে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন। দেশে ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় শোকের মাতম। হৃদয়বিদারক এই খবরে শোক সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। স্বজন হারানোর এই করুণ পরিণতিতে পুরো গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা যায়, এসএসসি পাস করার পর পরিবারের দারিদ্র্য দূর করতে ২০২২ সালে প্রায় ৭ লাখ টাকা ঋণ করে নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে মক্কা নগরীর হারাম শরীফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান তিনি। তবে কাজের প্রায় সাত-আট মাস পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর কারাগার থেকে নজরুল তার বাবাকে ফোন করে বন্দি থাকার কথা জানান, যদিও সে সময় আটক হওয়ার কারণ সম্পর্কে কিছু জানাননি। দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর, মৃত্যুর ঠিক আগের রোববার পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় তার। তখন তিনি জানান যে তিনি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক রাখা হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কোনো আইনি সহায়তা কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কনস্যুলেট বা পরিবারকে আগাম কোনো তথ্য না দিয়ে এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা-মা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহত নজরুলের বাবা আবদুল বাছির ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ২০২২ সালে ৭ লাখ টাকা ঋণ করে নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার একমাস পর মক্কার হেরাম শরীফে সে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পায়। তবে সাত থেকে আট মাস পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আটকের প্রায় দেড়মাস পর নজরুল সেদেশের জেল থেকে আমাকে ফোন দিয়ে জানায় সে সেখানে কারাবন্দি। তবে কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে সে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি কিংবা আমরাও জানি না।  তিনি আরও বলেন, প্রায় তিন বছর তিনমাস ধরে সে কারাগারে ছিল। গত রোববার সে আমাকে ফোন দেয়। সে জানায় সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটাই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। গত বুধবার শুনলাম নজরুলকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আমি এই বিষয়ে আর কিছু বলতে পারি না। বাড়িতে এখন কান্নার রোল। আমার বোন আবেদা বেগম বাড়িতে এসে নজরুলের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আমার ছেলেও গেলো, বোনও গেলো সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। আমি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।  তিনি বলেন, নজরুল কারাগারে থাকার সময় তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তার কাছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে কেউ যোগাযোগ করেছে কিনা কিন্তু কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিটি দেশের কনস্যুলেট জেলে থাকা তাদের নাগরিকদের খোঁজ-খবর নেয়। অথচ আমাদের দেশের কনস্যুলেট থেকে তার কোনো খোঁজ নেয়া হয়নি। আমরা কি দেশে বাস করছি। আমার ছেলেকে যেই অভিযোগে নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য কোনো আইনজীবী পেয়েছিলেন কিনা অথবা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হয়েছে কিনা তাও এখন বড় প্রশ্ন। আমার ছেলের মত আর কেউ যেন এভাবে মরতে না হয়। সেদেশে যারা আছেন তাদের যেন আমাদের দেশের সরকারের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেয়া হয়।
মশিউর অর্ণব
সৌদিতে বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীর মৃ'ত্যুদণ্ড, অবশেষে জানা গেল পরিচয়
সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন আব্দুল বাছির। আশা ছিল, ছেলে বিদেশে কাজ করে টাকা পাঠাবেন, সংসারের অভাব দূর হবে, ধীরে ধীরে শোধ হবে ঋণ। কিন্তু সেই আশার জায়গায় এখন নেমে এসেছে শোক আর অনিশ্চয়তা। সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলামের বাবা তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা প্রশ্ন—কী অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নজরুল, কীভাবে কাটল তাঁর কারাবন্দি জীবন, আর শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল তাঁর ভাগ্যে? ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ। বিদেশে যাওয়ার সময় তাঁর পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, কাজ করে উপার্জন করবেন এবং সেই অর্থে সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর ছয় মাসের মাথায় সেই স্বপ্নে ছেদ পড়ে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ও সুইটিকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পেরেছিল। তবে ঠিক কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেনি তারা। এরপর দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয় নজরুলকে। সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কাটে কারাগারে। এই দীর্ঘ সময়ে পরিবারের কাছে তাঁর জীবন কেমন ছিল, কীভাবে চলেছে আইনি প্রক্রিয়া কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিণতি কী—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি স্বজনেরা। নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর পর তাঁরা আশা করেছিলেন, সে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে সহায়তা করবে। কিন্তু কাজ শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই গ্রেপ্তারের খবর আসে। এরপর থেকে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের। আব্দুল বাছিরের ভাষ্য, “ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।” সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুল ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন নজরুলের বাবা। তাঁর বক্তব্য, সুইটি আক্তারকে তাঁদের পরিবার চেনে না। নজরুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল—এমন তথ্যও তাঁরা জানেন না। ঋণের বোঝা, ছেলেকে হারানোর শোক নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন আব্দুল বাছির। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে—এই আশাতেই এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। কিন্তু নজরুলের কাছ থেকে পাওয়া গেছে মাত্র দেড় লাখ টাকা। এখনো ঋণের বড় অংশ বাকি। ছেলের মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি সেই ঋণ পরিশোধের চাপও তাঁকে তাড়া করছে। আব্দুল বাছির বলেন, “সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।” একজন বাবার কাছে সন্তানের মৃত্যুর সংবাদই সবচেয়ে বড় আঘাত। তার সঙ্গে যখন যুক্ত হয় বিদেশের মাটিতে সন্তানের শেষ পরিণতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তা, তখন সেই শোক আরও গভীর হয়ে ওঠে। আব্দুল বাছিরের ক্ষেত্রেও ঘটেছে তেমনটাই। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একের পর এক শোকের ঘটনায় পরিবারটি এখন বিপর্যস্ত। মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষা নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়াচ্ছে। এর মধ্যে নজরুল ও সুইটি আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নজরুলের বাবা। একই সঙ্গে দুজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে—এমন তথ্যও সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা। বিদেশের মাটিতে মৃত্যুর পর সন্তানের শেষ বিদায়টুকু জানাতে চান আব্দুল বাছির। তাঁর দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পেছনে অন্যায় বা অবিচার থেকে থাকলে তার বিচার হতে হবে। গ্রামজুড়ে শোক নজরুলের মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে বিরামপুর গ্রামের মানুষ তাঁদের বাড়িতে যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছেন, সমবেদনা জানাচ্ছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। যে তরুণকে ঘিরে পরিবারের স্বপ্ন ছিল, তাঁর এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। নজরুলের জীবনের শেষ তিন বছর তিন মাস কেটেছে কারাগারে। সেই সময়ে তাঁর পরিবার জানতে পারেনি, ঠিক কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কী। এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরের পরও পরিবারের সামনে রয়ে গেছে অনেক প্রশ্ন।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
বাকেরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স
আজ থেকে সারাদেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য সাড়ে ৪ কোটি পরিবার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী 
পোরশায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
লক্ষ্মীপুরে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু
X