ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন ইশরাক

অনলাইন ডেস্ক

  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছন ইশরাক হোসেন। আজ সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ইশরাক তার পোস্টে লেখেন, আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি লেখেন, ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনও আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।

ইশরাক আরও লেখেন, এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লেখেন, দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!

পূজার জন্য ১ মাস ধরে শাড়ি জমিয়েছেন রুমিন ফারহানা
সংসদ সদস্য ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘গত এক মাস ধরে আমি একটা একটা করে শাড়ি জমিয়েছি—এটা সপ্তমীতে পরব, এটা অষ্টমীতে পরব, এটা নবমীতে পরব, এটা দশমীতে পরব। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজ সংসদীয় আসনের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় এক বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এসছি আপনাদের সঙ্গে আনন্দটা ভাগাভাগি করে নিতে। আমাদের আবহমানকালের সংস্কৃতি— আমরা ঈদের আনন্দ যেমন একসাথে উপভোগ করি, পূজার আনন্দ কিন্তু আমাদের কম না। গত এক মাস ধরে আমি একটা একটা করে শাড়ি জমিয়েছি— এটা সপ্তমীতে পরব, এটা অষ্টমীতে পরব, এটা নবমীতে পরব, এটা দশমীতে পরব। সুতরাং এই আনন্দ কিন্তু কম না।  তিনি বলেন, ‘ঈদে দায়িত্ব বেশি থাকে, আর পূজায় আমার ঘোরাঘুরি আর আনন্দ বেশি হয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এটা আমাদের প্রাণের উৎসব। সকলের কাছে অনুরোধ রেখে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই উৎসবের রংটা যেন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বল হয়। এই উৎসবের রঙের মধ্যে যেন কোনো রকম কোনো কষ্টের ছাপ না পড়ে— এটা দেখবার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা আমাকে যে আশীর্বাদ দিয়েছেন, আগামীতেও যেন আপনাদের পাশে থাকতে পারি, নির্বাচিত হতে পারি। আল্লাহ যেন সেই আশীর্বাদ পূরণ করেন। মায়ের আশীর্বাদ চাই, আপনাদের সকলের আশীর্বাদ চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’
পূজার জন্য ১ মাস ধরে শাড়ি জমিয়েছেন রুমিন ফারহানা
একই দিনে চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা
একই দিনে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশের এই দুই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা পৃথক কর্মসূচীতে অংশ নেবেন। তবে দুই নেতার কোথাও সাক্ষাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম আসবেন এবং নগরীর জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মন্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে তিনি হোটেল রেডিসনে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় মিলিত হবেন।  অন্যদিকে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও একই দিন চট্টগ্রাম আসছেন। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, দলের কেন্দ্রীয় আমীর সকালে চট্টগ্রাম সফরে আসবেন। তিনি সকাল দশটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার চট্টগ্রাম সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চলছে নানামুখী আলোচনা।  এদিকে, দুই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সফরকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জে এম সেন হলে পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।  অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা জিইসি কনভেনশনে একটি সাংগঠনিক কর্মসূচীতে অংশ নেবেন। উভয় কর্মসূচী যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় সেভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই দিনে চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা
৮ মাসে মন্ত্রিসভায় তিন মন্ত্রীসহ আরও যাদের পদত্যাগ
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যেই বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় একাধিক পরিবর্তন এবং দলীয় একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কখনো শারীরিক অসুস্থতা, কখনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন, আবার কখনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর পদত্যাগ- ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট এক নয়। তবে এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে জবাবদিহি, শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। সাম্প্রতিকতম ঘটনা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়েন; পরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাজধানীর একটি মা ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেন। ইশরাকের পদত্যাগ: অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও থেকে বিতর্ক গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং মন্ত্রীর আচরণ ও আইনগত সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। যদিও ইশরাকের দপ্তর শুরুতে পদত্যাগের খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছিল, সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। ইশরাক জানান, তার কারণে প্রধানমন্ত্রী বা দল যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে জন্য তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। তার পদত্যাগের ঘটনাটি রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ: অসুস্থতা, নাকি অন্য কোনো প্রেক্ষাপট? সরকার গঠনের প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ ছাড়েন দীপেন দেওয়ান। পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য ছিল, অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছিল। তবে তার পদত্যাগের পর পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ এবং রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। তার অনুসারী-সমর্থকদের একাংশ পদত্যাগের প্রতিবাদ করে তাকে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছিলেন। তবে এসব আলোচনাকে পদত্যাগের প্রমাণিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান নিজেই অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। জহির উদ্দিন স্বপন: মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর নতুন দায়িত্ব গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান জহির উদ্দিন স্বপন। এর আগের দিন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আন্দালিভ রহমান পার্থ। পরে জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ কারণে তার ক্ষেত্রে পদত্যাগের পাশাপাশি দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মন্ত্রিত্ব হারানো নিয়ে আলোচনা থাকলেও, তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কেবল মন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য এখানে নেই। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি: স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগের পর পদত্যাগ রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও ভেঙে ফেলার অভিযোগ সামনে আসে। মিষ্টি ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ঘটনার পর তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা এবং দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। ফলে ঘটনাটি শুধু একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়ে। পদত্যাগগুলো কী বার্তা দিচ্ছে? চারটি ঘটনার মধ্যে কিছু পার্থক্য স্পষ্ট। দীপেন দেওয়ান পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হয়েছেন। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। আর ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পেছনে ছিল অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক। এসব ঘটনা থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রাজনৈতিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সব পদত্যাগ একই কারণে হয়েছে কিংবা প্রত্যেককে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে এমন দাবি প্রতিষ্ঠা করার মতো সমান মাত্রার প্রমাণ নেই। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর সরকার ও দল কীভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কীভাবে এগিয়ে নেবে। পদত্যাগ প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের একটি অংশ; কিন্তু কোনো ঘটনায় আইনভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তার সত্যতা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াও প্রয়োজন।
মশিউর অর্ণব
‘চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম’
মাদকের বিরুদ্ধে এখন আরও জোরালো ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে নিজেই অভিযানে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় এলাকার মানুষের চাপের মুখে তিনি এই উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার এলাকার জনগণ, আমার এলাকার ভোটারদের একটা মারাত্মক প্রেসার ছিল আমার ওপরে। এখানে হয় আমি অভিযানে সমন্বয় করে নেতৃত্ব দিতাম, অথবা এটা প্রমাণ হতো যে সেখান থেকে আমার কোনো ইন্টারেস্ট আছে। সেদিন চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেছি। অভিযানের পদ্ধতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, কারও গায়ে যেন একটা টোকাও না পড়ে। সবাইকে আইনের হাতে তুলে দিতে বলেছেন। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জ, বংশালের আংশিক ও কোতোয়ালির আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ১১টি ওয়ার্ডের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানজট ও সার্বিক সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) এবং ডিএমপির সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারদের (ডিসি) সঙ্গে প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করেন। সেখানে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইশরাক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনের পর্যায়ে ফিরতে পারেনি বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিতে ছয় থেকে সাত মাস পর বাধ্য হয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশকে ভালোবাসে, জনগণকে ভালোবাসে। এই শহরকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও দায়িত্ব পালন করেছি। এখন তো অবশ্যই আরও জোরালো ভূমিকা পালন করব। ৫ আগস্টের পর তার এলাকার তিনটি থানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, তখন তারা পুলিশের বসার ব্যবস্থা ও আসবাবপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন বলেও জানান তিনি।
মশিউর অর্ণব
বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করে অবশেষে ক্ষমা চাইলেন সেই এমপি
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ওই মন্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না।’ তার এ মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং নিহতদের স্বজনদের মধ্যে এ বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। সমালোচনার মুখে দেওয়া ফেসবুক বিবৃতিতে কামরুজ্জামান রতন বলেন, টকশোতে ঘটনাটি নিয়ে সংকীর্ণভাবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করতে গিয়ে আবেগের বশে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই মন্তব্যটি করা একেবারেই ঠিক হয়নি এবং আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যাহার করছি। আমার এই মন্তব্যের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন এবং আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের মনে যে কষ্ট ও আঘাত দিয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’ এই সংসদ সদস্য বলেন, মানুষ ভুল করতেই পারে, আর ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ মহান আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। আমার ওই মন্তব্যটি জন্য আমি দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
৮ মাসে মন্ত্রিসভায় তিন মন্ত্রীসহ আরও যাদের পদত্যাগ
ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যজনক পোস্ট
‘চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম’
নিজ হাতে গাড়ি থেকে স্টিকার তুলে ফেলে যা বললেন ইশরাক
X