আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদে ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান আর না থাকার খবরে দেশে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে তার সরে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে (সাবেক টুইটার) এই তথ্য প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, টবি ক্যাডম্যানের সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয় নতুন করে তার সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তার ভাষায়, ক্যাডম্যানকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সরকার শুরুতে মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ মুহূর্তে নতুন করে কোনো অ্যাগ্রিমেন্টে যাওয়া হবে না।
ডেভিড বার্গম্যানের পোস্ট অনুযায়ী, টবি ক্যাডম্যান নিজেই জানিয়েছেন যে তার চুক্তির মেয়াদ গত নভেম্বরে শেষ হয়েছে। সরকার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তবে তিনি কেন নতুন করে থাকতে চাননি— সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক বছরের জন্য চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে টবি ক্যাডম্যানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত সব বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরকে পরামর্শ দেওয়া হবে তার দায়িত্ব।
টবি ক্যাডম্যান এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে চেয়েছিলেন। সে সময় ঢাকায় বিমানবন্দর থেকেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আবার ঢাকায় আসেন এবং সেপ্টেম্বরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপরই তাকে বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তার সরে যাওয়ার খবর এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার দ্বিতীয় রায় ঘোষণার কথা ছিল। মঙ্গলবার রায় দেওয়ার কথা থাকলেও ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে।
এই মামলায় ঢাকার চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন পলাতক। এর আগে একই ট্রাইব্যুনালে দেওয়া প্রথম রায়ে তিনটি ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য তিনটি ঘটনায় আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় চিফ প্রসিকিউটরের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছিলেন টবি ক্যাডম্যান।
পুনর্গঠনের আগে ১৫ বছরের বেশি সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ৫৭টি মামলার রায় দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয় এবং আইনে সংশোধনী আনা হয়।
মন্তব্য করুন








