বিয়ের পিঁড়িতে হাসিমুখেই বসেছিলেন যুবক। কিন্তু বাসর ঘরে প্রবেশ করতেই যেন আকাশ থেকে পড়েন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, যাকে দেখে তিনি বিয়ে করতে সম্মত হয়েছিলেন, ঘোমটা খুলতেই দেখা যায় তিনি অন্য একজন। ‘পাত্রী বদল’-এর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। পাত্রীপক্ষের করা মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় বর রায়হান কবিরকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত জুলাই মাসের শেষের দিকে। পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার রায়হান কবিরের জন্য তার পরিবার পাত্রী খুঁজছিল। ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রাণীশংকৈল উপজেলার জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তারের সঙ্গে তাদের সম্বন্ধের আলাপ হয়। রায়হানের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে তাদের প্রথমবার পাত্রী দেখানো হয়েছিল এবং সেই তরুণীকে পছন্দ হওয়ার পরই ১ আগস্ট বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর বাসর রাতে ঘটে বিপত্তি। রায়হান অভিযোগ করেন, কনে মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন যে এই মেয়েটি সেই মেয়ে নয় যাকে তিনি বিয়ের আগে দেখেছিলেন।
রায়হানের মামা বাদল মিঞা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় কনের মুখে অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি। কিন্তু বাসর রাতে কনে মেকআপ তোলার পর প্রতারণার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। তাদের দাবি, ঘটক ও কনের বাবা যোগসাজশ করে পরিকল্পিতভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এই অভিযোগ তুলে বিয়ের পরদিনই কনেকে তার বাবার বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেয় বরপক্ষ।
অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক বরপক্ষের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষের প্রায় ৭০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তখন কেউ কনেকে দেখে কোনো প্রশ্ন তোলেননি, অথচ বাড়িতে গিয়ে তারা কনে বদলের কথা বলছেন। জিয়ারুল হকের অভিযোগ, মূলত বিয়ের পর বরপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। তিনি জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু বরপক্ষ সময় না দিয়ে উল্টো তার মেয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছে।
এদিকে নিজের দায় অস্বীকার করে ঘটক মোতালেব জানিয়েছেন, তিনি কোনো ভুল মেয়ে দেখাননি এবং দুই পরিবার নিজেদের মতামতের ভিত্তিতেই বিয়ে সম্পন্ন করেছিল।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালতে বর রায়হান কবিরের জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন গণমাধ্যমকে বলেন, ছেলেপক্ষের অভিযোগ মেয়েপক্ষ ও ঘটক মিলে কনে বদলের মাধ্যমে প্রতারণা করেছে। প্রথম দিকে মীমাংসার শর্তে রায়হান কবির জামিনে ছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি এখন পুরোপুরি বিচারাধীন। আমরা আশা করছি আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
মন্তব্য করুন








