কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দাফন করার ছয় মাস পর কবর থেকে সোহেল শেখ (৪৮) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কালোয়া কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। নিহত ব্যক্তি ওই এলাকার মৃত শাহাদত শেখের ছেলে। মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আদালতের নির্দেশে মরদেহটি উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কুমারখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, কুষ্টিয়া পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন, কবরস্থান কমিটির সভাপতি মোজাহারুল হক মিলনসহ নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে সোহেল তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। সেখানে ২০২৩ সালে হঠাৎ স্ট্রোক করে তিনি প্যারালাইজড হয়ে যান। ঢাকায় কিছুদিন চিকিৎসার পর তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্ত্রী ও সন্তান। এরপর অবহেলায় অযত্নে সোহেল বিভিন্ন রকম রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২৫ সালের ৬ জুন সকালে মারা যান। ওইদিনই স্বজন ও স্থানীয়রা তার মরদেহটি কালোয়া কবরস্থানে দাফন করেন।
এ ঘটনায় ১৬ জুলাই শারীরিক নির্যাতন ও বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী আমলি আদালতে মামলা করেন নিহত সোহেলের ছেলে সোহানুর রহমান। মামলায় সোহেলের মা, বোনসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. কামাল হোসেনকে। তিনি তদন্তের জন্য গত বছরের ২৭ আগস্ট কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালত মরদেহটি উত্তোলনের আদেশ দিলে মঙ্গলবার কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। সোহেল মৃত্যুর পূর্বে তার পৈতৃক সম্পত্তি মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মৃত সোহেল রানার ছেলে সোহানুর রহমান জানান, বাবা অসুস্থ হলে তাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করছিলাম। প্রতি মাসে বিকাশের মাধ্যমে খরচ পাঠাতাম। কিন্তু আমার দাদি, ফুফু, ফুফা ও ফুফাতো ভাইয়েরা চার শতাংশ জমির জন্য সবাই মিলে আমার বাবাকে শারীরিক নির্যাতন ও বিষ দিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর তারা আমাদের না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করে। সঠিক বিচারের আশায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে সোহানুর রহমানের ফুফা মো. আজাহার বলেন, সোহেল প্যারালাইজড, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিল। তার স্ত্রী ও ছেলে কেউ তার খোঁজ নিত না। সে কারণেই মৃত্যুর আগে পৈতৃক সম্পত্তি তার মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিল। এখন জমির লোভে সোহানুর মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়ার পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন বলেন, বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কুমারখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, আদালতের নির্দেশনায় সোহেল শেখের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন








