ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

‘দুর্গ’ হারিয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, লালমনিরহাট

  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪২
জাতীয় পার্টি (জাপা)। ছবি : সংগৃহীত

একসময়ের জাতীয় পার্টির (জাপা) অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে দলটির চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে, যেখানে লাঙলের হেভিওয়েট তিন প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় এই লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। শুধু পরাজিত হওয়াই নয়, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ তিন হেভিওয়েট প্রার্থীই তাদের জামানত খুইয়েছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘ ৪৭ বছর পর জেলার সবকটি আসনে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

গত এক দশকে এই অঞ্চলে জাতীয় পার্টির যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। জেলার তিনটি আসনে জাপা প্রার্থীদের প্রাপ্ত মোট ভোটের যোগফল মাত্র ৮ হাজার ১১১টি, যা দলটির অস্তিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে ১ লাখ ভোট ছিল, সেখানে এখন শূন্যের কোটা। লালমনিরহাটের নির্বাচনি ইতিহাসে জাতীয় পার্টির এমন শোচনীয় পরাজয় আগে কখনো দেখা যায়নি।

লালমনিরহাট-৩ (সদর): এই আসনটি জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জি এম কাদের এই আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার এই আসনে জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জাহিদ হাসান লিমন লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ১৫০ ভোট। যেখানে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬২টি। একাদশ নির্বাচনের তুলনায় এই ধসকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ): এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এলাহান উদ্দিনের ফল ছিল সবচাইতে করুণ। ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৩টি প্রদত্ত ভোটের বিপরীতে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৮১০ ভোট। এক সময়কার শক্তিশালী এই ঘাটিতে জাপার এমন ভোটপ্রাপ্তি দলের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম): এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রার্থী হয়েছিলেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ ২ লাখ ৯১ হাজার ২২২টি ভোটের মধ্যে পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ১৫৮ ভোট। হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

লালমনিরহাটের তিনটি আসনে এবার ভোটার উপস্থিতি এবং সচেতনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনটি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৭টি। কিন্তু এই বিশালসংখ্যক ভোটারের মধ্যে লাঙল প্রতীক পেয়েছে মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, দলের নীতিহীন অবস্থান এবং বড় দলের লেজুড়বৃত্তি করার কারণেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাধারণ ভোটার এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পতনের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ তকমা। সাধারণ মানুষের মতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা এবং তাদের ওপর ভর করে নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়ার অপচেষ্টা ভোটাররা মেনে নেয়নি। অনেকেই মনে করছেন, জাপার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক মেরুদণ্ড না থাকায় মানুষ বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকেছে। এ ছাড়াও দলটির শীর্ষ নেতাদের হটকারী সিদ্ধান্ত এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়ন জাপাকে ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত করেছে। নির্বাচনের আগে জাপা প্রার্থীরা বরাবরই এই অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের কাছে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন, মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করা এবং চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার সুযোগ পেয়েও সেসব বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো ভূমিকা না রাখায় সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে।

১৯৭৯ সালের পর লালমনিরহাটের সবকটি আসনে বিএনপির এই জয় এবং জাতীয় পার্টির এমন শোচনীয় পরাজয় এই জনপদের রাজনীতিতে নতুন এক মেরূকরণ সৃষ্টি করেছে। জাতীয় পার্টি যদি তৃণমূলের আস্থা এবং নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে এই ‘দুর্গ’ উদ্ধার করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, দল এখন হাইব্রিড নেতাদের দখলে। যারা ত্যাগী কর্মী তাদের মূল্যায়ন নেই। আগে মানুষ লাঙল বলতে পাগল ছিল, আর এখন মানুষ আমাদের হাসির পাত্র বানায়। রাজনৈতিক ভুলের কারণেই আজ এই ভরাডুবি।

একসময়ের ‘লাঙলের ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটে এখন জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই বিপর্যয় কাটিয়ে দলটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে খোদ সমর্থকদের মধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এশিয়া পোস্টকে বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়ন না করা নিয়ে জাতীয় পার্টি যে নাটক করেছে, তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। তারা ক্ষমতায় থেকেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা মোগলহাট স্থলবন্দর সচল করার মতো মৌলিক দাবিগুলো পূরণ করেনি। বরং পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে তারা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে সহায়তা করেছে। লালমনিরহাটের মানুষ আর কোনো ধোঁকাবাজিতে বিশ্বাস করে না, যার প্রমাণ এই নির্বাচনের ফলাফল।

মন্তব্য করুন

সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
ময়মনসিংহের ফুলপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস শেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। বালিয়া মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সেনাবাহিনীর একটি বড় গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর গাড়ির চালক ও বাসের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত আটজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, নিহত সেনাসদস্য সার্জেন্ট পদমর্যাদার ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পর কার্যালয়ের সামনে টাঙানো ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের দিন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয়। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের সামনে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্যোগেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভোরে কিছু লোক সেখানে ব্যানার টাঙায়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। কিছুক্ষণ পর ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ব্যানারটি কারা সরিয়েছে, তা জানা যায়নি।
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
সিলেটের হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১০-১২ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। পরদিন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন কোনো দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ সময় সরকারও কার্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জেলা কার্যালয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় এক বক্তা বলেন, শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহিরের নির্দেশে আজ আমরা কার্যালয় খুলেছি। এর মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হলো। হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ-সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে পাঁচজন জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে নাইক্ষ্যংদিয়া নামক নাফ নদী থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সত্যতা নিশ্চিত করে শাহপরীর দ্বীপ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, জালিয়াপাড়া এলাকার মাহামুদুল্লাহর নৌকাটি মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে আরাকান আর্মি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপহৃত জেলেরা হলেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ, শাহ আলম, আমীর আব্বাস, আবুল হোসন। এর মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তারা স্থানীয় মাহামুদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন নৌকায় মাছ শিকার করছিল। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আতাউর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি নৌকা একসঙ্গে মাছ শিকার শেষে ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যায়। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এসে একটি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যায়। অন্য নৌকাগুলো দ্রুত সরে এসে নিরাপদে ফিরে আসি। তিনি আরও বলেন, মাছ শিকার শেষে ফেরার সময় মিয়ানমারের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে আসতে হয়। এ কারণে প্রায়ই জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময় নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে জিন্মি ছিল। এদের মধ্যে গত সোমবার ৭৩ জনকে ফেরত আনে বিজিবি। এ ঘটনার দুই দিনের মাথায় নাফ নদীতে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটল।
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন লম্বরী ও মিঠাপানির ছড়া নৌঘাট এলাকা থেকে ভেসে আসা তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী সৈকত এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে দুটি মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয় জেলেরা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ওসি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া তরুণীর শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। অপরদিকে তরুণের পরনে লম্বা প্যান্ট ও জ্যাকেট ছিল। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ দুটির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকেও জামিন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন। বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির জানান, আদালত বুধবার এই তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বরিশালের অন্তত ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পর্শে হয়ে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার দক্ষিণ নলুয়া গ্রামের খান বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন মৃত শাহাদাত খানের স্ত্রী আমেনা বেগম রিনা (৬৫) এবং তার ছেলে এনামুল হক রাসেল খান (৩৫)। স্বজনরা জানান, বাড়ির প্রায় ৫০০ গজ উত্তরে তারা নতুন ভিটাবাড়িতে সেচের জন্য শ্যালো মেশিনে পানি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ জন্য রাস্তার পাশে স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন এনামুল হক রাসেল।  এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুতায়িত হন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমেনা বেগম রিনাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বাধ্য। কাগজে-কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে কোনো ভৌত অবকাঠামো নেই এসবের। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাজারো মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। তবে এগুলোর কোনো অবকাঠামো নেই। ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রে কোনো জনবল নেই। কসবা ইউনিয়ন কেন্দ্রের দুজন জনবল থাকলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর নাচোলকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ৪টি ইউনিয়ন গঠিত হয়- নাচোল, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর। সাধারণত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকা উচিত, যেখানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন স্যাকমো কর্মরত থাকেন। কিন্তু বাস্তবে এখানে কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয়রা উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া ও ওষুধের খরচ বাড়ছে। দীর্ঘদিন কেন্দ্র না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কসবা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। ভাড়া ও ওষুধপত্রের খরচ বাড়ছে। দ্রুত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক।’ নাচোল উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, তবে অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। নেজামপুর ও ফতেপুর কেন্দ্রে জনবল নেই। কসবা কেন্দ্রে একজন স্যাকমো পদে কর্মরত আছেন, তবে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। তবে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে জনবল শূন্য। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ওইসব জায়গায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগামীতে ওইসব ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে।  এটা অবশ্যই স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবি। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে বেশ উৎপর। আশা করছি, এসব সংকট নিরসন হবে।
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের এ কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন তারা। নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করতেই দীর্ঘদিন পর তারা কার্যালয়ে ফিরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কর্মী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দাবি ছিল কার্যালয়টি চালু করার। আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি।’
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের