ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপির প্রার্থী হারলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে উন্নয়নকাজ করব না: চিফ হুইপ
হয় আপনি থাকবেন, নয়তো চাঁদাবাজেরা থাকবে: পাথরঘাটার ওসিকে চিফ হুইপ
ঋণের শৃঙ্খল ভাঙা ও জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবিতে বলেশ্বর নদীর পাড়ে মানববন্ধন
ঋণের শৃঙ্খল ভাঙা ও জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবিতে বলেশ্বর নদীর পাড়ে মানববন্ধন
বৈশ্বিক ঋণসংকট নিরসন, জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং অর্থনীতির ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বরগুনার পাথরঘাটায় বলেশ্বর নদীর পাড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বলেশ্বর নদীর পাড়ে রুহিতার বালু মাঠে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে এসব দাবি সামনে এসেছে। এ সময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার কীর্তনিয়া, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন, পরিবেশকর্মী মাইনুল ইসলাম‌ রেজা, জাকির হোসেন মুন্সি, স্থানীয় বাসিন্দা হারুন কাজী, পান্না হাওলাদার প্রমুখ ‌। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বৈদেশিক ঋণের বোঝা কমিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে। ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে যেন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে বেশি দায়ী দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জলবায়ু অভিযোজনের নামে নতুন ঋণের বোঝা চাপিয়ে না দিয়ে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। বক্তারা কৃষকের ন্যায্যমূল্য, ভূমিহীন মানুষের জমির অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান। মানববন্ধন থেকে ঋণের শৃঙ্খল ভেঙে অর্থনীতির ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
উপকূলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নারী-যুবদের সম্পৃক্ততা জরুরি
পাথরঘাটায় ইলিশ রক্ষায় আজ মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
তালতলীতে নারীর শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ
উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়তে তালতলীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ
আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আহত ২ পুলিশ

বরগুনার বামনায় একাধিক মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম খোকন ওরফে চান্দি খোকন (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় আসামির হামলায় এক এএসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ​শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার সোনাখালী এলাকার মঞ্জু শিকদার বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত খোকন সোনাখালী গ্রামের মৃত হারুনুর রশিদ চৌকিদারের ছেলে। ​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বামনা থানার এএসআই মোঃ আমির হোসেন দুই জন কনস্টেবল নিয়ে অভিযান চালিয়ে সোনাখালী মঞ্জু শিকদার বাড়ির এলাকা থেকে একাধিক পরোয়ানার আসামি খোকনকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় আসামি পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হয়। এতে এএসআই মোঃ আমির হোসেনসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফারুক হোসেন খান জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও বামনাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এই ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

বামনায় ফেলে যাওয়া নবজাতক, মিলেছে মায়ের পরিচয়

বরগুনার বামনায় বাজারের ব্যাগে ভরে ফেলে যাওয়া নবজাতক কন্যাশিশুটির মায়ের পরিচয় মিলেছে। তবে শিশুটির পিতৃত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। মায়ের দাবির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট যুবক পিতৃত্ব অস্বীকার করায় বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ২৪ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে বামনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সামনে সড়কের পাশ থেকে কান্নার শব্দ পেয়ে একটি বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ব্যাগ খুলে তাঁরা সদ্যোজাত কন্যাশিশুটিকে দেখতে পান। পরে ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামান ও স্থানীয় চা বিক্রেতা তারিক হোসেন শিশুটিকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারিক হোসেন শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নেন। বর্তমানে তাঁর বোনের তত্ত্বাবধানে শিশুটির পরিচর্যা চলছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশুটির মা উপজেলার পূর্ব সফিপুর এলাকার শাহিনুর বেগম। তিনি ওমানপ্রবাসী মো. মাসুমের স্ত্রী। তাঁদের নয় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। শাহিনুরের স্বামী প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। শাহিনুর দাবি করেন, তাঁর বাবার বাড়ির পাশের প্রতিবেশী কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। উদ্ধার হওয়া শিশুটি জাকিরের সন্তান বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক লোকলজ্জা ও পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্মের পর নবজাতকটিকে ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে রেখে আসা হয়। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন জাকির হোসেন। তিনি শাহিনুরের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন এবং শিশুটির পিতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ অবস্থায় শিশুটির প্রকৃত পিতা কে এবং জন্মের পর তাকে কে বা কারা ব্যাগে ভরে ফেলে গেছে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটির পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করছে পুলিশ। বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।

বামনায় ইয়াবাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শামীমসহ আটক ২

বরগুনার বামনায় পুলিশের অভিযানে ১৩ পিস ইয়াবাসহ মো. শামীম মিয়াজী (৩১) ও মো. শাহজালাল দফাদার (৩০) নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া গ্রামের একটি পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছোনবুনিয়া এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচার খবর পেয়ে বামনা থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজন পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটক শামীম মিয়াজীর পরিহিত হাফশার্টের পকেট থেকে ১০ পিস এবং শাহজালাল দফাদারের প্যান্টের পকেট থেকে তিন পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক শামীম ছোনবুনিয়া গ্রামের মো. জামাল হোসেন মিয়াজীর ছেলে এবং শাহজালাল জাফ্রাখালী গ্রামের মো. ছিদ্দিকুর রহমান দফাদারের ছেলে। তারা দুজনই বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে শামীমকে বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন খান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যে জালে শুধু মাছ নয়, ধরা পড়ে মিমের বেঁচে থাকার স্বপ্ন

বয়স ২৩ বছর। এই বয়সে পড়াশোনা, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ গড়ার কথা। কিন্তু মিম আক্তারের জীবনে বাস্তবতা ভিন্ন। পরিবারের খাবারের জোগান দিতে প্রতিদিন পায়রা নদীতে জাল ফেলতে হয় তাঁকে। নদীতে মাছ মিললে সেদিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়, না মিললে অপেক্ষা করতে হয় পরের দিনের জন্য। বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিম। তাঁর বাবা মারা গেছেন বহু বছর আগে। এরপর মায়েরও অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। কয়েক বছর আগে স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ছয় বছরের মেয়েসহ পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে মিমের কাঁধে। পরিবারের একজন সদস্য বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ভাই। আরেক ছোট ভাইয়ের দেখভালের দায়িত্বও তাঁকেই নিতে হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি জরাজীর্ণ ঘরে মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন মিম। সংসারে স্থায়ী কোনো আয় নেই। খাবার, চিকিৎসা ও পোশাকের খরচ জোগানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার ব্যয় বহন করাও তাঁর জন্য কঠিন। অর্থের অভাবে মেয়ের নিয়মিত পড়াশোনা হচ্ছে না। ছোট ভাইয়ের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পায়রা নদীতে মাছ ধরা। কখনো ভোরে, কখনো বিকেলে, আবার কখনো রাতেও নদীতে নামতে হয় তাঁকে। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা নদীর উত্তাল ঢেউ-জীবিকার তাগিদে কোনো কিছুই তাঁকে ঘরে আটকে রাখতে পারে না। মিম বলেন, নদীতে মাছ পাওয়া গেলে সেদিন পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা হয়। মাছ না পেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্থায়ী কোনো আয়ের ব্যবস্থা থাকলে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে হতো না। মিমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন তাঁর মেয়েকে পড়াশোনা করানো। অভাবের কারণে নিজের মতো করে যেন মেয়েকেও জীবন কাটাতে না হয়, সেটিই তাঁর চাওয়া। ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ারও ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। মিম বলেন, সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ কিংবা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তিনি নদীতে মাছ ধরা ছেড়ে অন্য কোনো কাজ করতে চান। এতে পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি সন্তান ও ভাইয়ের পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. খোকন মিয়া বলেন- মিম তেমন কোনো সরকারি সহযোগিতা পান না। জেলেদের জন্য সরকারি যে সহায়তা রয়েছে, সেটিও তিনি তেমন পান না। তাঁর পরিবারের বিষয়টি বিবেচনা করে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে মিমের পরিবার উপকৃত হবে। পায়রা নদীর ওপর নির্ভর করেই চলছে মিমের সংসার। প্রতিদিন নদীতে জাল ফেলেন তিনি, কিন্তু সেই জালে শুধু মাছ নয়, ধরা পড়ে তাঁর পরিবারের বেঁচে থাকার প্রত্যাশাও। নিরাপদ জীবিকা ও সরকারি সহায়তা পেলে ঝুঁকিপূর্ণ এই জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চান ২৩ বছরের এই নারী।  

তালতলীতে জমি বিরোধে বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

বরগুনার তালতলীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি বসতঘরে হামলা ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ রহিম মৃধা গং দের বিরুদ্ধে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোনখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোনখোলা এলাকার এমদাদুল গং দের সঙ্গে রহিম মৃধা গং দের ছয় একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। জমি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিরোধের জের ধরে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রহিম মৃধার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমদাদুলের বাবা কালু হাওলাদারের বসতঘরে হামলা চালায়। একপর্যায়ে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে তা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। ভুক্তভোগী কালু হাওলাদার বলেন,আমরা দুই বছর ধরে এই ঘরে বসবাস করছি। বিকেলে আমরা বসতঘরে না থাকায় ওই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রহিম মৃধাসহ বহিরাগত লোকজন এসে আমার বাবার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়।  অভিযোগ অস্বীকার করে রহিম মৃধা বলেন, তারা আমাদের জমি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা করছে। আমাদের ফাঁসাতে তারা নিজেরাই নিজেদের ছোট একটি ঘরে আগুন দিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন,এবিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালতলীতে ট্রলারডুবি, জেলে পরিবারকে প্রশাসনের সহায়তা

বরগুনার তালতলীতে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে দুর্ঘটনাকবলিত ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের উদ্ধার হওয়া ১৪ জেলে পরিবারকে জরুরি খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের নিদ্রা বাজারে জেলেদের মাঝে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ এবং প্রয়োজনীয় হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া ও ধনিয়ার গুঁড়া দেওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেবক মন্ডল, তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম, সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ ফরাজী এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ। (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন,উপকূলীয় এলাকার জেলেদের যেকোনো দুর্যোগ ও বিপদে উপজেলা প্রশাসন সবসময় দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত। দুর্ঘটনাকবলিত এই জেলে পরিবারগুলো যাতে কোনো প্রকার খাদ্য সংকটে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই তাৎক্ষণিকভাবে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবে প্রশাসন। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারটি সাগরে ডুবে যায়। পরবর্তীতে একই দিন রাত ১২টায় সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা ১৪ জেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন জেলেরা।

আমতলীতে কোচিং-এ আখরোট খেয়ে ৭ ছাত্রী অসুস্থ, শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে

আমতলী উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর আনা আখরোট খেয়ে সাত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, আমতলী উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী রাতে কোচিং করতে আসে। বুধবার সন্ধ্যায় যথারীতি কোচিং চলছিল। রাত সাড়ে ৭টার দিকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির হোসেন তার প্রবাসী বাবার আনা আখরোট নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। পরে সে সহপাঠীদের মধ্যে ওই ফল বিতরণ করে। আখরোট খাওয়ার পর তানিয়া, উর্মী, মিম, এলমা, মরিয়ম, ফাতেমা ও সামিয়া নামে সাত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের কয়েকজন বমি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে। খবর পেয়ে স্বজনরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। এ সময় বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিদ্যালয়টি প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে স্বজনরা তাদের বরিশালে নিয়ে যান। অভিভাবক মিলন ফকির, জসিম বয়াতি ও আবুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে দেখি মেয়েরা বমি করছে এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছে। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা বলতে পারছি না। ছাত্রী সামিরা ও মরিয়ম বলেন, আমরা দুজন আবিরের আনা আখরোট খাইনি। অন্যরা খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও অসুস্থ হয়ে যাই। আমতলী উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমান হোসেন বলেন, সপ্তম শ্রেণির ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে কেন তারা অসুস্থ হয়েছে, তা তিনি জানেন না। আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করা হয়েছে। আবির নামের এক শিক্ষার্থী তার প্রবাসী বাবার আনা আখরোট সহপাঠীদের খাওয়ানোর পর কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে মরিয়ম ও সামিয়া নামের দুই শিক্ষার্থী আখরোট না খেলেও অসুস্থ হয়েছে। আবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শুভেন্দু বায় বলেন, শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা শ্বাসকষ্ট, অস্থিরতা ও বমির সমস্যায় ভুগছিল। তবে ঠিক কী খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো.হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।  

আরও
X