ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আনোয়ার মারা গেছেন
জিয়ানগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যান উপহার
জিয়ানগরে সরকারি পুকুরের মাছ ধরার অভিযোগ খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, নিলামে বিক্রি
জিয়ানগরে সরকারি পুকুরের মাছ ধরার অভিযোগ খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, নিলামে বিক্রি
পিরোজপুরের জিয়ানগরে উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কে এম মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের সহায়তায় মাছগুলো উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন।  শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মাছগুলো প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনভর উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেন ওই কর্মকর্তা। পরে মাছগুলো ককশিটের বাক্সে ভরে নিজ জেলা পাবনায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে উপজেলা খাদ্য গুদাম এলাকায় রাখা হয়।  বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ওয়ালিউর রহমান রুবেল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে মাছগুলো হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশের সহায়তায় মাছগুলো উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মচারী জানান, সরকারি পুকুর থেকে অনুমতি ছাড়া মাছ ধরার ঘটনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি কয়েকটি মাছ ধরেছিলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফোন করলে মাছগুলো তাঁর কাছে জমা দিয়েছেন। জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ওয়ালিউর রহমান রুবেল বলেন, অনুমতি ছাড়াই সরকারি পুকুর থেকে মাছ ধরার বিষয়টি জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে মাছগুলো জব্দ করা হয়। পরে শনিবার সকালে প্রায় ২০ কেজি মাছ প্রকাশ্যে নিলামে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। নিলামের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর এসআরবি-৮
বিএনপির প্রার্থী হারলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে উন্নয়নকাজ করব না: চিফ হুইপ
বাকেরগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ
ঝালকাঠিতে লালন সাঁইয়ের ১৩৩তম তিরোধান দিবস পালিত  
চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর নির্দেশ / হয় আপনি থাকবেন, নয়তো চাঁদাবাজেরা থাকবে: পাথরঘাটার ওসিকে চিফ হুইপ

বরগুনার পাথরঘাটায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নুরুল ইসলাম মনি। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিমকে উদ্দেশ্য  করে তিনি বলেন, ‘হয় আপনি থাকবেন, নয়তো চাঁদাবাজেরা থাকবে। আপনি থাকতে পাথরঘাটায় কোনো চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক সপ্তাহের সফরে নিজ নির্বাচনী এলাকা বরগুনা-২ আসনে অবস্থানকালে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পাথরঘাটার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে চিফ হুইপ অভিযোগ করেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি চাঁদাবাজি করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী এবং কোস্ট গার্ডের সোর্সকে কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, যারা চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাথরঘাটায় কোনো চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ কিংবা সন্ত্রাসী চক্রের স্থান হবে না। এ সময় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাংয়ের কথা শোনা যাচ্ছে। এখানে তাদের কোনো স্থান হতে পারে না, হতে দেওয়া হবে না। এসব অপরাধী চক্র নির্মূল করতে হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাং বলতে কিছু থাকবে না। মতবিনিময় সভায় পাথরঘাটার জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবি ও অবৈধ ট্রলিং বোটের বিষয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ট্রলিং জালের কারণে ইলিশের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় ট্রলিং বোট চললেও পাথরঘাটায় কোনো অবৈধ ট্রলিং বোট চলতে দেওয়া হবে না। পাথরঘাটার জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ ট্রলিং বোটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার পাশাপাশি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়েও সভায় আলোচনা করেন চিফ হুইপ। তিনি পাথরঘাটার রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে সফরকালে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সংস্কার ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন নুরুল ইসলাম মনি। এ ছাড়া পাথরঘাটার জেলেদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং লেমুয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি। সফরকালে তিনি পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদে সালামি মঞ্চ এবং সংসদ সদস্যদের জন্য নির্মিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলার ৪৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৫ হাজার টাকা ও এক টন চাল সহায়তা দেন। পাশাপাশি নিখোঁজ তিন জেলে পরিবারে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেক বিতরণ করেন। সফরের অংশ হিসেবে পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন চিফ হুইপ। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাথরঘাটার বিভিন্ন পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন তিনি।

নেছারাবাদে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্বোধন

বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় উপজেলা সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদের সভাপতিত্বে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফরিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী কামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এমপির। তবে সঙ্গত কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানে সভাপতিসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা গেলে কর্মসূচির কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তাঁরা আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নেছারাবাদ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলো।  

চরফ্যাশন রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

ভোলার চরফ্যাশন রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে জ্ঞান ও আধুনিকতার সমন্বয়ে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের অঙ্গীকার নিয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় কলেজ মিলনায়তনে "এসো নতুন তোমাদের করি বরণ, তোমাদের শুভাগমনে ধন্য হোক এ ভুবন" স্লোগানকে সামনে রেখে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রমিজ উদ্দিন, কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট রহমত উল্লাহ সেলিম এবং সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক। এছাড়া কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ইবরাহীম খলিল। অনুষ্ঠানে বক্তারা নবাগত শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, বরং নৈতিক ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তোমাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তারা উল্লেখ করেন, একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চরফ্যাশন রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ সুশৃঙ্খল পাঠদান, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ প্রয়োজনীয় সকল বিভাগের গুণগত মান বজায় রেখে শুধু ভোলা জেলায় নয়, দেশজুড়ে ইতিমধ্যে প্রশংসনীয় সুনাম অর্জন করেছে। তোমাদেরকে সুনামের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে জানান বক্তারা।  অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শিক্ষক ও প্রবীণ শিক্ষার্থীরা। আলোচনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্বিতীয় পর্বে কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে।

জিয়ানগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আ. মান্নান শিকদারের সমর্থনে এমপি মাসুদ সাঈদীর মতবিনিময় সভা জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সদর ইন্দুরকানী ইউনিয়নে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজিয়া রশিদ দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক পুলিশ সুপার (অব.) আব্দুর রশিদ শিকদার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। সভায় বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ৪ নম্বর সদর ইন্দুরকানী ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নান শিকদার। এ সময় বক্তব্য দেন জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আলী হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মামুন হোসাইন, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা খায়রুল বাশার, শহীদ শুকুর আলীর বাবা মো. সিদ্দিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হান্নান এবং রাজিয়া রশিদ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় সদর ইন্দুরকানী ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। এ সময় উপস্থিত অনেকেই জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নান শিকদারের প্রতি সমর্থন জানান।

সুগন্ধায় স্পিডবোর্ট দুর্ঘটনা, ইউএনওসহ আহত ৯

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে মৎস্য অভিযান পরিচালনাকালে স্পিডবোর্ট দুর্ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুণ্ডুসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।  শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে বোর্টচালক মো. আশরাফুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জেলা মৎস্য দফতর সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইউএনও প্রতীক কুমার কুণ্ডুর নেতৃত্বে কংসার দিঘির পাড়সংলগ্ন নদীতে মৎস্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ সময় ইউএনওসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা স্পিডবোর্টেকরে নদীতে টহল দিচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে স্পিডবোটটির গিয়ারে ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুতগতিতে নদীর পাড়ে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউএনওর মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন। অন্য আহতদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়। অভিযানে ইউএনও প্রতীক কুমার কুণ্ডু, আনসার সদস্য জসিম ও রেজাউল, চালক মো. আশরাফুল, ‘ভলান্টিয়ার্স অব নলছিটি' নামের স্থানীয় সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য শাহাদাত ফকির, জিসান, মিল্লাত, সিফাত, রায়হান, আহত হয়।

গলাচিপায় পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের মতবিনিময়

পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এমপি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় গলাচিপা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক। সভায় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম মোস্তফা, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সদস্যসচিব জাকির হোসেন মুন্সী, গলাচিপা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কাওসার, কালিবাড়ি কমিটির আহবায়ক রামু পাল, সদস্য সচিব  সুখরঞ্জন বণিক, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শংকরলাল দাস, পৌর পূজা উদযাপন কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় কুমার পাল, কালীবাড়ি কমিটির সদস্য সাবেক বণিক সমিতি সম্পাদক তাপস দত্তসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময় সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ তাঁদের মতামত ও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।  

আগৈলঝাড়ায় ৯৭টির মধ্যে ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দ্বিগুণ চাপ সামলাতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের। জরুরি প্রয়োজনে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে শিশুদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দিনদিন লেখাপড়ার চরম বিপর্যয় ঘটছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন পদ গুলো শূন্য থাকায় এসকল প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর ফলে তাদের নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রেখে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের এই সংকটের কারণে একদিকে যেমন বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদানও মারত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া এবং অবসরজনিত কারণে একের পর এক পদ শূন্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়, পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক কার্যক্রম, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত মনিটরিং, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একই সঙ্গে ক্লাস নেওয়া ও দাপ্তরিক কাজ সামলানোর দ্বৈত চাপে পড়তে হয়। এতে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মান দিন দিন নি¤œমুখি হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।  উপজেলার উত্তর সেরাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, নাগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, বারপাইকা হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন বিশ্বাস ও তালতারমাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুচিত্রা রানী বিশ্বাস জানান, দাপ্তরিক কাজে অফিসে যাতায়াত করার কারণে প্রায়ই আমাদের ক্লাস মিস হয় এবং অন্যান্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস বাধ্য হয়ে নিতে হয়। প্রধান শিক্ষক না থাকায় একই কাজ আমাদের দ্বিগুণ করতে হয়।  এ বিষয়ে উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা জানান, দাপ্তরিক কাজ ও মিটিংয়ের পেছনেই অনেক সময় চলে যায় ফলে ঠিকমতো পাঠদান তদারকি করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। এ ব্যাপারে অভিভাবকরা দ্রæত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট নিরসন করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মন্নান মিয়া বলেন, উপজেলার ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদানে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি তারা অবগত আছেন। শূন্য পদগুলো দ্রæত পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং খুব দ্রæতই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও
X