ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপির প্রার্থী হারলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে উন্নয়নকাজ করব না: চিফ হুইপ
আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আহত ২ পুলিশ
বামনায় ফেলে যাওয়া নবজাতক, মিলেছে মায়ের পরিচয়
বামনায় ফেলে যাওয়া নবজাতক, মিলেছে মায়ের পরিচয়
বরগুনার বামনায় বাজারের ব্যাগে ভরে ফেলে যাওয়া নবজাতক কন্যাশিশুটির মায়ের পরিচয় মিলেছে। তবে শিশুটির পিতৃত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। মায়ের দাবির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট যুবক পিতৃত্ব অস্বীকার করায় বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ২৪ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে বামনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সামনে সড়কের পাশ থেকে কান্নার শব্দ পেয়ে একটি বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ব্যাগ খুলে তাঁরা সদ্যোজাত কন্যাশিশুটিকে দেখতে পান। পরে ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামান ও স্থানীয় চা বিক্রেতা তারিক হোসেন শিশুটিকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারিক হোসেন শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নেন। বর্তমানে তাঁর বোনের তত্ত্বাবধানে শিশুটির পরিচর্যা চলছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশুটির মা উপজেলার পূর্ব সফিপুর এলাকার শাহিনুর বেগম। তিনি ওমানপ্রবাসী মো. মাসুমের স্ত্রী। তাঁদের নয় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। শাহিনুরের স্বামী প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। শাহিনুর দাবি করেন, তাঁর বাবার বাড়ির পাশের প্রতিবেশী কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। উদ্ধার হওয়া শিশুটি জাকিরের সন্তান বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক লোকলজ্জা ও পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্মের পর নবজাতকটিকে ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে রেখে আসা হয়। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন জাকির হোসেন। তিনি শাহিনুরের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন এবং শিশুটির পিতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ অবস্থায় শিশুটির প্রকৃত পিতা কে এবং জন্মের পর তাকে কে বা কারা ব্যাগে ভরে ফেলে গেছে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটির পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করছে পুলিশ। বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।
বামনায় ইয়াবাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শামীমসহ আটক ২
ভেন্টিলেটর দিয়ে ঘরে ঢুকে চুরি: গ্রেপ্তার ৩
বামনায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
বরগুনায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩ নেতাকর্মী আটক
তিন দিনের মায়া পেরিয়ে ঢাকায় নবজাতক, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা

বরগুনার বামনায় জন্মের পরপরই প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়া সেই নবজাতক কন্যাশিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বুধবার বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়ার সরকারি শিশু সদন ‘সোনামনি নিবাস’ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। এর আগে গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বামনা উপজেলার সোনাখালী এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে একটি দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় যুবক তারিফ হাওলাদার শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামানের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় শিশুটির নাড়ি তখনো কাটা হয়নি। নাভির সঙ্গে নাড়ি সংযুক্ত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পিঁপড়া জড়ানো ছিল। পরে তাকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। উদ্ধারের পর স্থানীয় গৃহবধূ মাসুমা বেগম তিন দিন শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে মায়ের মতো যত্ন নেন। শিশুটির কান্না থামানো, খাওয়ানো ও পরিচর্যা করেন তিনি। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটির প্রতি গভীর মায়া তৈরি হয় তাঁর। বুধবার উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পুলিশের কর্মকর্তারা শিশুটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় শিশুটিকে বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাসুমা। তিনি বলেন, ‘শিশুটি আমার, আমি দেব না।’ পরে কর্মকর্তাদের বোঝানো ও আশ্বাসের পর শিশুটিকে বুকে নিয়েই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে আগৈলঝাড়ার ‘সোনামনি নিবাসে’ যান মাসুমা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তারিফ হাওলাদার ও বামনা থানার দুই পুলিশ সদস্য। আগৈলঝাড়ায় পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাসুমা ও তারিফকে শিশুটির আইনগত দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তাঁদের জানানো হয়। পরে তাঁরা বামনায় ফিরে আসেন। বর্তমানে শিশুটি সরকারি তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি জানানো হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে সড়কপথে উন্নত অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার স্যারের নির্দেশে বুধবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), একজন চিকিৎসক, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও একজন নার্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।’ বামনা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী শিশুটিকে সরকারি শিশু সদনে পাঠানো হয়েছে। কেউ আইনগত প্রক্রিয়ায় শিশুটির দায়িত্ব নিতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আফসারা আজাদ সারা বলেন, উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিঁপড়ার কামড়ের দাগ ছিল। চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো ছিল।

আরও
X