ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আখাউড়ায় ৯০ দশক থেকে পাঠকের হাতে পত্রিকা তুলে দিচ্ছে অবসর বুকস্টল
আখাউড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মেয়র প্রার্থীর মতবিনিময়
সীমান্তে ৮০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করলো বিজিবি
সীমান্তে ৮০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করলো বিজিবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পৃথক অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া ও কসবা উপজেলার মঈনপুর, চন্ডিদার, কসবা, মাদলা ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার সালদানদী, শশীদল ও শংকুচাইল বিওপির টহলদল  সীমান্ত এলাকা থেকে এসব ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়।  বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এস এম শরিফুল ইসলাম বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া ও কসবা উপজেলার মঈনপুর, চন্ডিদার, কসবা, মাদলা ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার সালদানদী, শশীদল ও শংকুচাইল  সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।  অভিযানে ভারতীয় অবৈধ বাসমতি চাউল, রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, গরু, চকলেট, শাড়ী, ডেরোবিন ক্রিম, অলিভ অয়েল, নারিকেল তৈল, শ্যাম্পু, সাবান, মদ, গাঁজা ও ইজিবাইক জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ৮১০ টাকা। অভিযানে বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত ভারতীয় পণ্য সামগ্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে। সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবি'র এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
কচুরিপানার মধ্যে থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার
পচা ডিম দিয়ে বেকারির খাদ্য তৈরি করার দায়ে এশিয়া বেকারিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
সরাইলে ট্রাক চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
যেভাবে মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি করেন আকবর ও হাসিব
আখাউড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

"ঘর থেকেই শুরু করি- দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে মহড়া ও আলোচনা সভা,র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  ( পিআইও) মোঃ আলমাছ উদ্দিনের সভাপতিত্বে,সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া।  এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি শামীম ইকবাল,উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কফিল উদ্দিন মাহমুদ,প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ড. দৌলত হোসেন ভূঁইয়া,উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সুমন, পিআইও অফিসের কাম সহকারী গোলাম মহিউদ্দিন,অফিস সহায়ক নূরে আলম সিদ্দিক সহ আরও অনেকে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোঃ নান্নু মিয়ার নেতৃত্বে,অগ্নিকান্ডে ঘটনায় বিচলিত না হয়ে কিভাবে দ্রুত সময়ের ভিতরে আগুন নেভানো যায় সে বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও অগ্নি নির্বাপক মহড়া প্রদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বক্তারা বলেন, দুর্যোগের প্রত্যেকটা স্টেপে মাথা ঠান্ডা রেখে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারেন সেই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শেষ মূহুর্তে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রতিমা শিল্পীরা

দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়য় মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরীর শেষ মূহুর্তের কাজ।  মাটির কাজ শেষ করে এখন চলছে সাজসজ্জার কাজ। রঙের আঁচড়ে দেবী দুর্গাকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বর্ণিল সাজে। পূজা ঘনিয়ে আসায় এখন রাত দিন ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা। প্রতিটি প্রতিমাকে রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে রাঙাতে ব্যস্ত শিল্পীরা। চলছে সাজ-সজ্জার কাজও।  দেবী দুর্গার সাথে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতী দেবীকেও। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই মৃৎশিল্পীদের। পুরুষদের কাজে সাহায্য করছে বাড়ির নারীরাও।  এদিকে ভক্তরা দোবী দুর্গার রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করার জন্যে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা। তারা বলছেন মায়ের আগমনের ক্ষণকালে ভক্তরা সকলেই পুলকিত। ভক্তদের মনে লেগেছে আনন্দের দৌলা। জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তুলি সাহা ও রিপন শীল জানান, মায়ের আগমন উপলক্ষ্যে আমরা সবাই বেশ খুশি। পরিবারের সকলের জন্য কেনাকাটা করেছি। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত মায়ের রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করবো। জেলা শহরের মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা ইন্দ্র বনিক ও অয়ন বিশ্বাস বলেন,  আমরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি কখন আসবে মাহেন্দ্রক্ষণ। মায়ের রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করবো। এবার জগৎ জননী মায়ের কাছে দেশের জন্য দশের জন্য প্রার্থনা করবো মা যেন সকলকে রোগশোক থেকে আমাদের মুক্ত রাখে।  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পূর্বপাইক পাড়া গগনসাহা বাড়ি রোড সার্ব্বজনীন দূর্গা পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার সাহা জানান, এ বছর মায়ের আগমনে আমরা অনেকটাই পুলকিত। ইতোমধ্যে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মন্ডপে প্রতিমা আনা হয়েছে। সাজ শয্যার কাজ চলছে। এখন অপেক্ষা ক্ষণকাল গননা করা। আমরা পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাড়া প্রতিবেশীসহ পূজা কমিটির সকলকে সাথে নিয়ে মায়ের রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করবো।  এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং গ্রামের  মৃৎশিল্পী বরেন পাল জানান, দুর্গাপূজার আর মাত্র কযেক দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে আমরা প্রতিমার গায়ের সাজশয্যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। কেননা প্রত্যেকের হাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিমা তুলে দিতে হবে। তারা প্রতিমা নিয়ে নিজ-নিজ এলাকায় মন্ডপে স্থাপন করবেন। সেজন্য নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি। একই কথা জানান মলাই চন্দ্র পাল নামে অপর এক মৃৎশিল্পী। তিনি জানান, কাজ শেষ হতে এখনও বাকি আছে। যার কারণে অনেক ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। তবে শেষ সময়ের আগেই কাজ সমাপ্ত করে পূজারীদের হাতে প্রতিমা তুলে দেবো। সেজন্য রাতদিন কাজ করছি। তিনি বলেন গতবার ৩৫ টি প্রতিমা বানিয়ে ছিলাম। এবার ৪৬ প্রতিমা বানাচ্ছি। ভক্তদের পক্ষ থেকে তারা আছে। তাই যত দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে চেষ্টা করছি। জেলা শহরের কান্দিপাড়া রঘুনাথ জিউর আখড়ার প্রতিমা শিল্পী ঝন্টু পাল বলেন, এ বছর ১৮ টি মূর্তির অর্ডার পেয়েছিলাম। শেষ মূহুর্তে এখন দম পেলার সময় পাচ্ছি না। কারন সময় মত সকলের কাজ শেষ করতে হবে। এ বছর সর্বনিম্ন ৫০ হাজার এবং সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকায় মূর্তি অর্ডার নেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব প্রবীর চৌধুরী রিপন বলেন, এবছর উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারবো। পূজায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্হা জোড়দার করা হবে। গত ৩০ অক্টোবর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়েছে।  যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে। তিনি আরো জানান, এবার জেলার ৯টি উপজেলায় এবছর জেলার ৯ টি উপজেলায় মোট ৬২৮টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছর  সংখ্যা ছিল ৫৭৮টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের চেয়ে এ বছর মন্ডপ বেড়েছে ৫০টি। ৬২৮টি মন্ডপের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৮৫টি, নাসিরনগর উপজেলায় ১৪২টি, নবীনগর উপজেলায় ১৩২টি, বিজয়নগর উপজেলায় ৬৪টি, সরাইল উপজেলায় ৫৬টি, কসবা উপজেলায় ৫৬টি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪৬টি, আখাউড়া উপজেলায় ২৯টি ও আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৮টি মন্ডপ রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের নিয়মিত টহল কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। পূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করছি, এবারও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে মণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশের টহল দলও দায়িত্ব পালন করবে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমন করবেন। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পূজা পালন করে হবে। আগামী ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। 

লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার হলেন আখাউড়ার সজীব

ব্রিটেনের লন্ডনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ আইন পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল অর্জন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উপজেলার নয়াদিল গ্রামের কৃতিসন্তান ব‍্যারিস্টার সজীব রাফিত। তাঁর এই অর্জনে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লিংকনস ইনের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত Call to the Bar অনুষ্ঠানে একসাথে ইন্ডিয়া, চীন, ভীয়েতনাম, পাকিস্তান এবং অনেক ইউরোপীয়ান দেশসহ ২১টি দেশের মোট ৯৬ জন প্রার্থী সম্মানজনক ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে সজীব বি. রাফিতের দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও উচ্চশিক্ষার যাত্রায় যুক্ত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সজীব বি. রাফিত প্রয়াত হাজী আব্দুর রাজ্জাক হাজারী (ডিলার) সাহেবের কনিষ্ঠ ছেলে। তাঁর বাবা নয়াদিল “হাজী আব্দুর রাজ্জাক হাজারী মাদ্রাসার” প্রতিষ্ঠাতা স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঐতিহ্য ধারণ করে বেড়ে ওঠা সজীবের এই সাফল্য পরিবার ও জন্মস্থান নয়াদিলের জন্য বিশেষ গৌরবের। এই অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর আবেগ। ২০২৪ সালের আগস্টে ব‍্যারিস্টার সজীবের বার পরীক্ষার সময় তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন। ছেলের ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর বাবার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। সেই স্বপ্ন পূরণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে লন্ডনে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বড় ভাই সাম রাব্বি ও তাঁর গর্বিত মা। সজীবের মেজো ভাই, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক কামরুদ্দোহা রাজীব বলেন, তাঁরা আশা করেন, সজীব আইনি পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং অসহায় ও আইনি সহায়তাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ব‍্যারিস্টার সজীব রাফিতের বার্তা, নিজের স্বপ্নকে সীমাবদ্ধ না রেখে অধ্যবসায়, সততা ও শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। অর্জিত জ্ঞানকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণেও কাজে লাগাতে হবে। লন্ডনের ঐতিহাসিক লিংকনস ইন থেকে এই অর্জন শুধু ব্যারিস্টার সজীব রাফিতের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি তাঁর পরিবার, নয়াদিল গ্রাম এবং আখাউড়ার মানুষের জন্যও গর্বের একটি অধ্যায়। তাঁর এই সাফল্য এলাকার তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে—এমন প্রত্যাশা পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।  

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরে মন্দিরে চলছে দেবী বন্দনা

ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রারম্ভে পবিত্র মহালয়া তিথির মধ্য দিয়ে দেবি পক্ষের শুভ সূচনা হয়েছে।  শনিবার ভোরের আলো ফুটে উঠার সাথে সাথেই মহালয়ার তিথির মাহেন্দ্রক্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের শিব বাড়ীতে পুস্পাঞ্জলী সংসদ পূজা মন্ডপ ও মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরে পবিত্র চন্ডীপাঠ ও দেবীদূর্গার আগমনীর সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীকে মর্ত্যধামে আমন্ত্রণ জানানো হয়।  অনুষ্ঠানে সনাতনী শিল্প গোষ্ঠির শিল্পীদের পরিবেশনায় দূর্গা দেবীর আগমনীর সঙ্গীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো পূজামন্ডপ এলাকা। অনুষ্ঠানের শিল্পীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ভক্তরা লাল-সাদা রঙ্গের বর্ণিল শাড়ী ও পাঞ্জাবি পরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন। মন্ত্রপাঠ চলাকালে শঙ্ক ও উলুধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। অনুষ্ঠানে শ্রুতি মুধুর চন্ডী পাঠের পাশাপাশি আগমনী সঙ্গীতে পুলকিত হয়ে উঠেন তারা। ভক্তরা জানান এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমন করবেন। পাঁচ দিন ভক্তদের মাঝে থেকে আবারো বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে স্বামী গৃহে কৈলাশ চলে যাবেন।  মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরে উপস্থিত অন্বেষা পাল জানান, এই মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবী পক্ষের শুভ সূচনা হয়। মর্ত্যধামে দেবী দূর্গার আগমন ঘটেছে। মায়ের আগমনী বার্তায় আমরা বেশ পুলকিত। মা যেন আমাদেরকে সকলকে ভাল রাখেন। দেশবাসীকে ভাল রাখেন, শান্তিতে রাখেন এই প্রার্থনা করছি।  পুৃষ্পাঞ্জলী সংসদের অনুষ্ঠানের আয়োজক নয়ন কর জানান, মহালয়া তিথির মধ্য দিয়ে এই মর্ত্যধামে মায়ের আগমন ঘটেছে। আজকে আমরা চন্ডীপাঠ, আগমনী গানের মাধ্যমে মাকে বরণ করেছি। আজকে আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করব মা যেন সবাইকে ভাল রাখেন। সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারি।  প্রান্ত সূত্রধর নামে আরেক ভক্ত জানান, আজকে মহালয়ার মধ্য দিয়ে মায়ের যে আগমনী বার্তা তাতে যেন সারা বিশ্বে শান্তি বিরাজমান করে, আমাদের মাতৃভূমি যেন শান্তিতে থাকে। সকল অশুভ শক্তি যেন বিনাশ হয়, সে কামনা করি।  শিববাড়ী মন্দিরের পুরোহিত নন্দ কিশোর চক্রবর্তী জানান, মহালয়া হলো পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ। এর মাধ্যমে দুর্গাপূজোর উৎসবের সূচনা হয়। দেবীদুর্গা এই দিন পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই তিথি দেবী দুর্গার জন্ম এবং অসুর রাজা মহিষাসুরের উপর তাঁর চূড়ান্ত বিজয়ের বর্ণনা দেয়। পিতৃপক্ষে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে 'জলদান' বা তর্পণ করা হয় এবং পরলোকগত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই অসহায় মানুষদের দান করলে পূর্ণ লাভ হয় ।  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে মহালয়া তিথি উপলক্ষে পূজার্চনার আয়োজন করা হয়েছে।   

আখাউড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দুই শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। যুবদল নেতা মোবাশ্বের আহমেদের ব্যবস্থাপনায় কাতার চ্যারিটির অর্থায়নে সোমবার (৫ অক্টোবর) পৌর শহরের দেবগ্রাম মাজহারুল হক দারুল উলুম মাদরাসার হলরুমে দিনব্যাপী ফ্রী আই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।  দৃষ্টি আই হাসপাতালের চিকিৎসক রোগী দেখেন। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ সেবা নিতে আসেন।  সকালে আই ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদউল ইসলাম,বিএনপি নেতা হুমায়ন কবির।  বক্তারা বলেন, এই ফ্রী চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকে। যারা হয়তো জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারে না তারা এখানে চোখের চিকিৎসা নিতে পারছে। চোখের চিকিৎসা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে ছোট বাচ্চাদের চোখের সমস্যা হচ্ছে। চোখ মূল্যবান সম্পদ। এ ধরনের ক্যাম্প যত বেশি হবে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। বক্তারা আয়োজকদের প্রশংসা করেন।  

আখাউড়ায় রেলসেতুর নিচ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আজমপুর বাইপাস রেলপথের খড়মপুর এলাকায় রেলসেতুর নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আখাউড়া থানা পুলিশ ও রেলওয়ে থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এসময় একটি ব্যাগে কিছু টাকা, একটি পরিচয়পত্র ও একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। পরিচয়পত্রে হা মিম গ্রুপ লেখা। নাম মোঃ মিজান।  আখাউড়া রেলওয়ে জিআরপি থানার সাব ইন্সপেক্টর কাদের বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছি ট্রেনের থাক্কায় বা ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে লোকটির মৃত্যু হয়েছে। তার মাথায় ও মুখে আঘাত রয়েছে।  আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক ভাবে যেটা ধারনা করছি যেহেতু ব্রীজের নীচে দুই পাশে নেট দিয়ে ঘেরা। বাহির থেকে মরদেহ ভেসে আসার সুযোগ নাই। হয়তো ট্রেন থেকে পড়েছে অথবা অন্যভাবে হতে পারে। তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।   

সীমান্তে ৩৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করলো বিজিবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৩৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।  শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত পৃথক অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া ও কসবা উপজেলার আখাউড়া, কসবা, চন্ডিদার, খাদলা এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল, শংকুচাইল বিওপির টহলদল সীমান্ত এলাকা থেকে এসব ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়।  শনিবার দুপুরে বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এস এম শরিফুল ইসলাম।   তিনি জানান, শুক্রলবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া ও কসবা উপজেলার আখাউড়া, কসবা, চন্ডিদার, খাদলা এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল, শংকুচাইল  সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।  অভিযানে ভারতীয় অবৈধ বাসমতি চাউল, রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, অলিভ অয়েল, ফুসকা, বাঁজি, তালা, মদ, গাঁজা ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।  উদ্ধারকৃত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ কোটি ৩ হাজার টাকা। অভিযানে বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত ভারতীয় পণ্য সামগ্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে। সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবি'র এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।  

আরও
X