ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নাটোরে বাজারের ব্যাগ থেকে শুটারগান উদ্ধার
সাত লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ১
পূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল
পূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী পুতুল
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, পূজার উৎসবে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা বা সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ বিষয়ে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পূজামণ্ডপে ডিও প্রদান এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূজা সারা বাংলাদেশের উৎসব। বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিত হবেন, এটাই আমরা চাই। জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারে না থাকলেও পূজার উৎসব সবার জন্য আনন্দময় করতে বিএনপি চেষ্টা করেছে। এবারও সরকারের পক্ষ থেকে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি দলেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবুসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন’
উত্তরবঙ্গে কৃষি ভিত্তিক আঞ্চলিক হাব সৃষ্টির লক্ষে নাটোরে টাউন হল সভা
নাটোরে জার্মান পর্যটকের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার
বিয়ের চার মাস পর জানতে পারলেন পাত্রী ‘সুমাইয়া’ আসলে ছেলে!
নাটোরে জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া সেই ল্যাপটপ যেখান থেকে শনাক্ত!

নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি হওয়া জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরা উদ্ধারে রাজশাহীতে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ল্যাপটপটির অবস্থান কয়েক দফায় শনাক্ত করা গেলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ল্যাপটপটির সর্বশেষ অবস্থান নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে থাকা ট্রেনেও তল্লাশি চালানো হয়। চুরি যাওয়া মালামালের সন্ধানে বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার সাংবাদিকদের বলেন, কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি। তিনি বলেন, সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমরা নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আমরা আমার জিনিসপত্রের অবস্থান খুঁজে পাব। পুলিশের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, তার জিনিসপত্র উদ্ধারে পুলিশ কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর বলেও জানান তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান ক্রিল ল্যান্ডার। এ সময় এক ব্যক্তির কাছে নিজের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে যান তিনি। ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তি ও তার ব্যাগ- দুটিই নেই। ব্যাগে ছিল ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই পর্যটক। পরে ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় শনাক্ত হয়। পরে রাত ১১টার দিকে ক্রিল ল্যান্ডার রাজশাহীতে আসেন। তখন ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখায়। রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের পর রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেসের মালিক ও কেয়ারটেকারদেরও বিষয়টি জানানো হয়। তিনি বলেন, ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রাতে অবস্থানেরও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরে ল্যাপটপটি বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়। ওসি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ল্যাপটপটির অবস্থান নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে শনাক্ত হয়। ওই সময় তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে থাকার কথা ছিল। পরে রেলওয়ে পুলিশ ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায়। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। হাফিজুর রহমান বলেন, এখনো আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সঠিক লোকেশন পাওয়া গেলে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিদেশি পর্যটক আমাদের মেহমান। তার জিনিসপত্র যাতে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

মানবিক সহায়তায় প্রাণ ফিরে পেলেন অসহায় জয়গুন

অবশেষে অসহায় জয়গুননেছার হার্টের জটিল দুটি বøকে দুটি রিং স্থাপন করে দিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট রাজশাহী।মানবিক সহায়তায় এ যাত্রায় প্রাণ ফিরে পেলেন তিনি। গুরুদাসপুর- বড়ইগ্রামের কয়েকজন সংবাদকর্মী  সহ নাটোরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফ ফর লাইফের সহায়তায় এসব রিং স্থাপন করা হয়। জয়গুননেছাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় আনা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা. রইছউদ্দিন তার হার্টে দুটি রিং স্থাপন করেন। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. রাকিবুল হাসান তুষার। জয়গুননেছা বড়াইগ্রাম পৌরসভার গোপালপুর মহল্লার দরিদ্র দিন মজুর আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে জয়গুননেছাকে নিয়ে খবর প্রকাশ হলে বিষয়টি রাজশাহীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফ ফর লাইফের সহায়তায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দেয়া হয়। অবশিষ্ট এক লাখ ১৮ হাজার ২২০ টাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে।  হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অসুস্থ জয়গুননেছা বেগমের মেয়ে শান্তনা খাতুন সংবাদকর্মীসহ আর্থিকভাবে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, আল্লাহ যেন তাদেরকে উপযুক্ত প্রতিদান দেন।

বয়স ১২৩, চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন নাটোরের আব্বাস প্রামাণিক

আব্বাস প্রামাণিক দেশের প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। দীর্ঘ জীবনে ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনদেখেছেন তিনি।ভোটার আইডি কার্ডে১৯০৩ সালে জন্মতারিখ অনুযায়ী তাঁর বর্তমান বয়স ১২৩ বছর। কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি এলাকায় ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে।বয়সের ভারে শরীর এখন অনেকটাই দুর্বলআব্বাস প্রামাণিকের। চলাফেরায় লাঠির প্রয়োজন হয়। কানে কম শোনেন।  সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়- ১২৩ বছর বয়সেও তিনি চশমা ছাড়াইনিয়মিত নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়তে।খালি চোখে স্পষ্ট দেখতে পান। হাতে তাঁর ক্যাসিও ঘরি। তাঁর চেয়ে ৩০-৪০ বছর কম বয়সী অনেকেই চশমা ছাড়া দেখতে পারেন না, সেখানে আব্বাসের দৃষ্টিশক্তি এখনো অনেকটাই স্বাভাবিক। সরেজমিনে জানা গেছে, নাতি-বউয়েরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আব্বাসের দেখাশোনা করেন। তাঁর স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। তাঁর সমবয়সীদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই।কয়েক যুগ একাই কাটিয়েছেন আব্বাস আলী। তাঁর প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল। একসময় অর্থ-সম্পদও ছিল তাঁর।  তবে এখন ভাঙাচোরা একটি ঘরেই বসবাস করছেন তিনি।তবে শত বছরের অনেক স্মৃতি এখন আর তাঁর মনে নেই।বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। এখনো নিজের কাজ নিজেই করার চেষ্টা করেন তিনি। আব্বাসের নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর দাদা ধার্মিক মানুষ। সৎভাবে জীবন কাটিয়েছেন। সাদাসিধে জীবনযাপনই ছিল দাদার পছন্দ। গাড়িতে চড়াকেও বিলাসিতা মনে করতেন। তাই বেশির ভাগ সময় হেঁটেই চলাচল করেছেন। এখন শরীর আগের মতো সায় দেয়না। তবু লাঠিতে ভর করে বাড়ির উঠানে হাঁটেন। আরেক নাতি বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমার দাদার ছেলেমেয়েরা সবাই নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই দাদাকে দেখাশোনার জন্য নির্দিষ্ট কেউ নেই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করছি।দাদারঘরটিও ভাঙাচোরা। এই বয়সে পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। কিন্তু সবসময় তা জোগাড় করা সম্ভব হয় না।’ আব্বাসের মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, ‘৫ বছর বয়সে তাঁর মা মারা যান। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সৎ ও সহজসরল জীবনযাপন করতে দেখেছেন।কর্মজীবনে তিনি খুবজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকছিলেন। আলিমা আরো বলেন, ‘আমার আব্বাএখনো চশমা ছাড়া কোরআন পড়েন। অথচ তাঁর সন্তানরাই এখন চোখে কিছুটা ঝাপসা দেখেন।আব্বা তাঁর সন্তান ও নাতিদের সঙ্গেই থাকেন। সুযোগ পেলেই তিনি পছন্দের খাবার নিয়েআব্বাকে দেখতে যান।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। বয়সের কারণে তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। তাঁর চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। ইউএনও ফাহমিদা বলেন, ‘আব্বাস আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে খুবজীপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র। উপজেলা প্রশাসনও বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সহযোগিতা করে আসছে।’  

গুরুদাসপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত

প্রবীণরা পরিবারের বোঝা নন,তাঁদের প্রয়োজন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও যত্ন। ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে নাটোরের গুরুদাসপুরে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি র‌্যালিবের করে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদে গিয়ে র‌্যালীটি শেষ হয়।  এপর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায়  অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস ও রবিউল ইসলামসহ সাংবাদিক আলী আক্কাছ। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুর রশীদ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে প্রবীণদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ।

নাটোরে বড়শিতে ধরা পড়ল ১৪ কেজির চিতল

নাটোরের নলডাঙ্গার বারনই নদীতে বড়শিতে ধরা পড়েছে ১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি বিশাল আকৃতির চিতল মাছ। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপাতিল গ্রামে বারনই নদীতে মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি শিকার করেন বাঙ্গালখলসি গ্রামের এক জেলে। তবে জেলের পরিচয় জানা যায়নি। বিশাল আকৃতির এই চিতল মাছটি নদীর পাড়ে আনার পর তা এক নজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। বড় আকারের মাছটি ঘিরে সেখানে তৈরি হয় উৎসব মুখর পরিবেশ। পরে পশ্চিম সোনাপাতিল গ্রামের কয়েকজন মিলে মাছটি প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা দরে মোট ১১ হাজার ৪৭৫ টাকায় কিনে নেয়। জানা গেছে, বুধবার বিকেলে সোনাপাতিল এলাকার বারনই নদীতে এক জেলে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন। এসময় হঠাৎ তার বড়শিতে বিশাল আকৃতির একটি চিতল মাছ আটকে। অনেক চেষ্টার পর বিশাল চিতল মাছটি নদী থেকে তুলতে সক্ষম হন ওই জেলে। পরে স্থানীয় সোনাপাতিল বাজারে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে যান। সেখানে মাছটি ৮৫০টাকা কেজিতে কিনেন স্থানীয় আনোয়ার, সালাম, জামিল, শফি, মতিনসহ ৬-৭ জন। মাছটির এক ক্রেতা মো. জামিল হোসেন বলেন, বারনই নদীতে এত বড় চিতল মাছ আগে কখনো দেখিনি। জীবনের প্রথম এ বড় চিতল দেখলাম। আমরা কয়েকজন মিলে মাছটি কেজি দরে কিনলাম।

১২৩ বছরেও চশমা ছাড়া কুরআন পড়েন বৃদ্ধ আব্বাস আলী!

শরীরজুড়ে বার্ধক্যের ছাপ, বয়স ছাড়িয়েছে ১২৩ বছর। হারিয়েছেন চলাফেরার শক্তি, কানে ঠিকমতো শুনতে পান না, কাঁপছে হাত দুটিও; কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এই বয়সেও চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্পষ্ট কুরআন তিলাওয়াত করেন প্রবীণ আব্বাস আলী প্রামাণিক। ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের দাবি, প্রকৃত বয়স আরও বেশি। দীর্ঘ জীবনে তিনি দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নাতি-নাতনিদের বয়সও ৬০ বছর ছাড়িয়েছে। অবাস্তব মনে হলেও এমনই এক জীবন্ত বিস্ময়ের দেখা মিলেছে নাটোরের গুরুদাসপুরে। উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আলী প্রামাণিক। সারাজীবন ধর্মচর্চায় কাটিয়েছেন তিনি। অসুস্থতা কিংবা বয়সের ভার—কোনো অবস্থাতেই নামাজ ছাড়েননি সদাচারী এই মানুষটি। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন আব্বাস আলী। পাশাপাশি বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা দিয়ে আলোকিত করেছেন অনেক মানুষকে। জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে মানুষের সেবায়। আজকাল যেখানে অল্প বয়সেই অনেকের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, সেখানে এই বয়সেও আব্বাস আলীর দৃষ্টিশক্তি অটুট থাকা সবাইকে বিস্মিত করেছে। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, যেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকতেই কষ্ট হয়, সেখানে এখনো পরম মমতায় হাতে তুলে নেন পবিত্র কুরআন। একের পর এক পাতা উল্টে কোনো চশমা ছাড়াই তিলাওয়াত করে চলেন। শতবর্ষী এই প্রবীণের জীবন কেটেছে অতি সাদামাটাভাবে। কখনো যানবাহনে চড়েননি তিনি, পায়ে হেঁটেই গেছেন গন্তব্যে। একসময় সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন তার দিন কাটে একটি ভাঙা ঘরে। তবে ছেলে, মেয়ে, নাতি ও নাতবউদের সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তার। ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছেন আব্বাস আলী। মেয়েরাও সময় পেলেই বাবাকে দেখতে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আব্বাস প্রামাণিকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন তার জন্য একটি ভালো ঘর ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।

চলনবিল পুনরুদ্ধারে মতবিনিময় সভা

নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত ১৬৩টি বিল এবং ৫৮টি নদী নিয়ে গঠিত  চলনবিল পুনরুদ্ধারে গুরুদাসপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা কনফারেন্স রুমে সেন্টার ফর ইনভাইরনমেন্ট এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের (সিইজিআইএস) আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  মতবিনিময়ে উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়গুলো হলো- ‘চলনবিলকে সচল রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আত্রাই, নন্দকুজা, তুলসী নদীসহ বেড়াবাড়ি, বিলসা ও কুন্দইল খাল খননের আওতায় আনতে হবে। অকেজো রেগুলেটরগুলো সচল করতে হবে। ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কার করে উচু করতে হবে। সেই সাথে চলনবিলের ক্ষতি না করে শাহাজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিও করেন বক্তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের চলনবিল প্রকল্পের পরিচালক তানভিরুল হক, সিইজিআইএস এর সিনিয়র স্পেশালিষ্ট তানভির আহম্মেদ, স্পেশাল সেফগার্ড এক্সপার্ট আলমগীর হোসেন ইমন ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান। এসময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নুরুজ্জামান মিন্টু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম, সিনিয়ির মৎস্য কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা, বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, চলনবিল প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আক্কাছ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা আরও বলেন, ‘চলনবিল পুনরুদ্ধারে বিল ও নদীকে দখলমুক্ত করতে হবে। সেই সাথে পুকুর খনন বন্ধ করা, সোঁতিজাল, চায়না জাল ও বাদাই জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করাসহ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

আরও
X