গর্ত-কাদাপানিতে বেহাল প্রধান সড়ক, ভোগান্তিতে গুরুদাসপুরবাসী
একদিকে ৪৪ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বাজেট, অন্যদিকে হাসপাতালের সামনে ভাঙাচুরা সড়ক। প্রধান এই সড়কের সাথে হাট বাজারের অলিগলিও এখন কাদাপানির রাজ্য। কার্পেটিং উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। একই পথে হাসপাতালে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রসূতিসহ অন্যান্য রোগীরা। সড়কের কোথাও ড্রেন আছে, কোথাও নেই। আবার ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই।
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের এমন বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। কাদাপানির নিচে থাকা ভাঙা সড়কগুলো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ও রিকশা-ভ্যানে রোগী আনা-নেওয়ার সময় ভাঙা সড়কের ঝাঁকুনিতে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। জরুরি মুহূর্তে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে বাণিজ্যনগরী চাঁচকৈড় বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে কাদাপানি জমে। মাছ বহনকারী গাড়ী থেকে পানি ছিটকে পড়েও সড়কে কাদা তৈরি হচ্ছে। হাসপাতালের ফটকের সামনে ভাঙা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে অ্যাম্বুলেন্স ও অটোরিকশা। পাশেই রয়েছে বাসস্ট্যান্ড। এ সড়কে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বাস, ট্রাক, ট্রলি, সিএনজি, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে।
জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত উন্মুক্ত বাজেটে পৌরসভার আয় ধরা হয় ৪৪ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ব্যয়ও একই পরিমাণ। বাজেটে উদ্বৃত্ত দেখানো হয় ৯১ লাখ ৩০ হাজার ২০০ টাকা। বিপুল অঙ্কের বাজেটের পরও 'ক' শ্রেণির এই পৌরসভায় নাগরিকদের উন্নত জীবনমান নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে হাসপাতালের সামনে ইট-বালু ও পাথর রেখে ড্রেন নির্মাণ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভাঙা সড়ক আর সংস্কার হচ্ছেনা। কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জামিল আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম, শাহজাহান আলী, আপেল সরকার জানান, পৌরসভার বেশির ভাগ রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য। জনগণ এত টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়েও সুফল পাচ্ছেন না। ড্রেন নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তাঁরা।
এদিকে বাণিজ্যনগরী চাঁচকৈড় হাটের প্রতিটি রাস্তা ও অলিগলি এখন খানাখন্দ আর কাদাপানিতে একাকার। আমজাদ শেখ স্মৃতিগেট থেকে ধানহাট, পাটহাট, কাঠহাট, ডিমহাটা, গুড় ও চৈতালী হাটসহ বাঁশহাটের রাস্তা অকেজো হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব রাস্তার বেহাল দশা থাকলেও সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় জবতুল্লা মন্ডল, মাহফুজ, জালাল মাস্টার, আসাদুজ্জামান, আব্দুল বারীসহ অনেকেই বলেন, চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া এলজি মোড় থেকে কাঠহাটা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সড়ক হলেও বিভিন্ন স্থানে এলোমেলোভাবে ইট বিছানো রয়েছে। সড়কটি এতটাই বন্ধুর যে প্রসূতি রোগীদের আনা নেওয়া যায়না। মধ্যমপাড়া ব্রিজ থেকে মৎস্যজীবী মোড় পর্যন্ত ১৭ বছরেও রাস্তা হয়নি।
একইসাথে অবহেলিত জিয়া খালের পাশ দিয়ে রাস্তার হেয়ারিং-বন্ড থাকলেও সেখানে ইট নেই। খালের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। চাঁচকৈড় তালুকদারপাড়া থেকে বাজারের মূল অংশ পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটিতে হাটুপানি হয়। চাঁচকৈড় হাটে আসা মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের কাপড়চোপড় ভিজে নষ্ট হচ্ছে।
অপরদিকে পৌর সদরের ১নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন ১২০ ফুট জায়গায় ড্রেন নির্মাণ না হওয়ায় জনভোগান্তি বেড়েই চলছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০০১ সালে এডিপির টেন্ডার হলেও অদ্যাবধি সেই কাজ আলোর মুখ দেখেনি।
ভুক্তভোগী শাহরিয়ার স্বপন আব্বাসী, ময়েজ উদ্দিন, আফতাব উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, তাঁরা বছরে প্রায় ছয় মাস পানিবন্দি থাকেন। পৌরসভায় আবেদন করেও কোনো সুফল পাননি। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সুপারিশও পৌর কর্তৃপক্ষ মানছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
পৌর প্রশাসক ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ ও পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, 'কিছু রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেন্ডারের মাধ্যমে বাকি সড়কগুলোর সংস্কার ও নির্মাণকাজ করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। গুরুদাসপুরে ফিরে বিষয়টি দেখব।’