ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মানবিক সহায়তায় প্রাণ ফিরে পেলেন অসহায় জয়গুন
বয়স ১২৩, চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন নাটোরের আব্বাস প্রামাণিক
গুরুদাসপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত
গুরুদাসপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত
প্রবীণরা পরিবারের বোঝা নন,তাঁদের প্রয়োজন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও যত্ন। ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে নাটোরের গুরুদাসপুরে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি র‌্যালিবের করে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদে গিয়ে র‌্যালীটি শেষ হয়।  এপর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায়  অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস ও রবিউল ইসলামসহ সাংবাদিক আলী আক্কাছ। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুর রশীদ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে প্রবীণদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ।
১২৩ বছরেও চশমা ছাড়া কুরআন পড়েন বৃদ্ধ আব্বাস আলী!
চলনবিল পুনরুদ্ধারে মতবিনিময় সভা
গুরুদাসপুরে মাদক মামলায় দুই ছেলেসহ মা গ্রেপ্তার
গুরুদাসপুরে শালিসী বৈঠকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
গুরুদাসপুরে সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ

নাটোরের গুরুদাসপুরে কাতার চ্যারিটি কর্তৃক ইকোনমিক ইমপাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠির জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে অস্বচ্ছল ও অসহায় ২১ জনের মাঝে সিএনজি, ট্রাইসাইকেল ও গম ভাঙানো মেশিন, শতবর্ষী ১১জন নারী-পুরুষকে ১০ হাজার করে সরকারি অনুদানের চেক ও ৫৭ জন গ্রাম পুলিশের মাঝে নতুন পোষাক বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে এসব অনুদান বিতরণ করেন মো. আব্দুল আজিজ এমপি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান, কাতার চ্যারিটির প্রতিনিধি গ্লোবাল উন্নয়ন সেবা সংস্থার প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এছাড়া সুবিধাভোগী উদ্যোক্তা শাহারা বেগম, সালমা আক্তার, মুক্তার হোসেন ও শাহীন আলম তাদের জীবনের করুণকাহিনী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, উৎসবে মাতল দুই উপজেলার মানুষ

সুসজ্জিত নৌকায় ঢাক-ঢোলের তালে চলছে ভাটিয়ালী গান। মাঝিদের কণ্ঠে ‘হেইয়ারে হেইয়াহো, মারো টান, হেইয়াহো'। পানিতে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর হাজারো দর্শকের করতালিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ।  ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে গুরুদাসপুরের চেচুয়া নদীতে দুইদিন ব্যাপী গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উপভোগ করল গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম উপজেলার মানুষ। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম খাঁকড়াদহ, শরীফপুর, কচুগাড়ী ও ভিটা কাজিপুর এলাকার চেচুয়া নদীতে এ বাইচকে কেন্দ্র করে বাড়ি বাড়ি আত্মীয়স্বজনের আগমন ঘটে। নদীর দুইপাড়ে লক্ষাধিক উৎসুক দর্শকের সমাগম ঘটে। বুধবার বিকেল ৩টায় উপজেলার খাঁকড়াদহ পূর্বপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে বাইচের ফাইনাল পর্ব শুরু হয়। বাইচে সোনার মদিনা এক্সপ্রেস, কান্দিপাড়া সোনার তরী, একতা এক্সপ্রেস, রিয়াদ এন্টার প্রাইজ, মোল্লাপাড়া এক্সপ্রেসসহ ১৪টি নৌকা অংশ নেয়। ৭টি গ্রুপে বিভক্ত নৌকার মধ্যে চলে তুমুল প্রতিযোগিতা।  পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। প্রথম বিজয়ীকে বড় ফ্রিজ, দ্বিতীয়কে ৩২ ইঞ্চি এলইডি ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি পুরস্কার দেয়া হয়। বাইচে অংশ নেয়া অন্যান্য নৌকার মালিকরাও সৌজন্য পুরস্কার পান।

গুরুদাসপুরে নৌকা বাইচ দেখতে উপচেপড়া ভিড়

সুসজ্জিত নৌকায় বাজছে ঢাক-ঢোল। তালে তাল মিলিয়ে চলছে ভাটিয়ালী গান। মাঝিরা বোল ছেড়েছে ‘হেইয়ারে হেইয়াহো, মারো টান, হেইয়াহো'। আর বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ পানিতে। সেই সাথে হাজারো দর্শকের করতালিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে গুরুদাসপুরের চেচুয়া নদীতে দুইদিন ব্যাপী গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের উদ্বোধন করা হলো। গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম খাঁকড়াদহ, কচুগাড়ী ও ভিটা কাজিপুর এলাকায় এ বাইচকে কেন্দ্র করে বাড়ি বাড়ি আত্মীয়স্বজনের আগমন ঘটেছে। নদীর দুইপাড়ে অন্তত ৮০ হাজার মানুষের উপচেপড়া ভিড় জমে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় এ নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রবিউল ইসলাম। উপজেলার খাঁকড়াদহ পূর্বপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। বাইচে সোনার মদিনা এক্সপ্রেস, কান্দিপাড়া সোনার তরী, একতা এক্সপ্রেস, রিয়াদ এন্টার প্রাইজ, মোল্লাপাড়া এক্সপ্রেসসহ ১৪টি নৌকা অংশ নেয়। ৭টি গ্রুপে বিভক্ত নৌকার মধ্যে চলে তুমুল প্রতিযোগিতা। আয়োজকরা জানান, বাইচের দ্বিতীয়দিন বুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দিবেন। প্রথম বিজয়ী পাবে বড় ফ্রিজ, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া বাইচে অংশ নেয়া সকল নৌকাকে সৌজন্য পুরস্কার দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানের সহসভাপতি ইসহাক আলী মজনু মাস্টার বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারো জাকজমকভাবে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আগামীতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

গুরুদাসপুরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি

‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গুরুদাসপুরে দেশীয় মাছের জাত সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।  মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা মৎস্য চাষী কল্যান সমিতির উদ্যোগে ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নাজিরপুরের গোপিনাথপুর মির্জামামুদ খালে ওই পোনা অবমুক্ত করা হয়।  পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমিতির সভাপতি আলহাজ আব্দুস সালাম মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক হাসান জাহিদ শিহাব, রাকিবুর রহমান রাজা ও স্বপন খান রাকিব। এসময় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

গুরুদাসপুরে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

নাটোরের গুরুদাসপুরে পুরুলিয়া হাটের সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে তিনটি দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যবসায়ীদের সিকিউরিটি নিয়ে ঘর ভাড়াও তুলছেন কতিপয় প্রভাশালীরা।  সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের পুরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের পশ্চিমপাশে মির্জামাহমুদ নদীর পাড় ও হাটের সরকারি জায়গা রয়েছে। আইন অমান্য করে সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্য ইট, বালি ও খোয়া এনে স্তুপ করে রেখেছেন প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম রঞ্জু, কালাম ফকির ও বেল্লাল খাঁ। এছাড়া দুই যুগ ধরে সরকারি ওই জায়গা দখল করে আছেন স্থানীয় মোন্তাজ, আজাদ, চাঁদ মোহাম্মদ, সবুজ, দলীয় ক্লাব, বাবলু, আবু সোনার, জয়নাল সরকার, নজরুল সরকারসহ অনেকে।  হাট বাজার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩ এর বিধিমালা ২০২৫ এ বলা আছে, হাট ও বাজারের সরকারি খাস জমিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা বা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোন স্থাপনা নির্মাণ হলে তা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মানের জন্য অনধিক এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড, কিংবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, হাট দখলকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় প্রায় ৫০টি আধাপাকা দোকান ঘর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া পূর্বে দখলকৃতরা মোটা অংকের সিকিউরিটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রতিমাসে ভাড়াও আদায় করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, নিয়ম-নীতি মেনে অবকাঠামো নির্মাণ হলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব পাবে। টোল দিয়েই সেখানে ব্যবসা করবেন তারা। ঘর নির্মাণকারী বেল্লাল খাঁ জানান, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দোকান নির্মাণ বন্ধ রেখেছি। নির্মাণসামগ্রীও সরানো হয়েছে। বাবলু ও আবু সোনার জানান, তারা ঘর সরিয়ে জায়গা খালি করার কোন নোটিশ বা সরকারী নির্দেশনা পাননি। সবাই সরিয়ে নিলে তারাও সরিয়ে নেবেন। এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন- ‘পুরুলিয়া হাটের জায়গা জোরপূর্বক দখল করা হচ্ছে। সরকারি জায়গা উদ্ধারে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আসাদুল ইসলাম বলেন, নতুন একটি স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এসময় দু’জনকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হয়। অন্যদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে।

গর্ত-কাদাপানিতে বেহাল প্রধান সড়ক, ভোগান্তিতে গুরুদাসপুরবাসী

একদিকে ৪৪ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বাজেট, অন্যদিকে হাসপাতালের সামনে ভাঙাচুরা সড়ক। প্রধান এই সড়কের সাথে হাট বাজারের অলিগলিও এখন কাদাপানির রাজ্য। কার্পেটিং উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। একই পথে হাসপাতালে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রসূতিসহ অন্যান্য রোগীরা। সড়কের কোথাও ড্রেন আছে, কোথাও নেই। আবার ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের এমন বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। কাদাপানির নিচে থাকা ভাঙা সড়কগুলো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ও রিকশা-ভ্যানে রোগী আনা-নেওয়ার সময় ভাঙা সড়কের ঝাঁকুনিতে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। জরুরি মুহূর্তে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে বাণিজ্যনগরী চাঁচকৈড় বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে কাদাপানি জমে। মাছ বহনকারী গাড়ী থেকে পানি ছিটকে পড়েও সড়কে কাদা তৈরি হচ্ছে। হাসপাতালের ফটকের সামনে ভাঙা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে অ্যাম্বুলেন্স ও অটোরিকশা। পাশেই রয়েছে বাসস্ট্যান্ড। এ সড়কে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বাস, ট্রাক, ট্রলি, সিএনজি, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত উন্মুক্ত বাজেটে পৌরসভার আয় ধরা হয় ৪৪ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ব্যয়ও একই পরিমাণ। বাজেটে উদ্বৃত্ত দেখানো হয় ৯১ লাখ ৩০ হাজার ২০০ টাকা। বিপুল অঙ্কের বাজেটের পরও 'ক' শ্রেণির এই পৌরসভায় নাগরিকদের উন্নত জীবনমান নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে হাসপাতালের সামনে ইট-বালু ও পাথর রেখে ড্রেন নির্মাণ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভাঙা সড়ক আর সংস্কার হচ্ছেনা। কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা জামিল আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম, শাহজাহান আলী, আপেল সরকার জানান, পৌরসভার বেশির ভাগ রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য। জনগণ এত টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়েও সুফল পাচ্ছেন না। ড্রেন নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তাঁরা। এদিকে বাণিজ্যনগরী চাঁচকৈড় হাটের প্রতিটি রাস্তা ও অলিগলি এখন খানাখন্দ আর কাদাপানিতে একাকার। আমজাদ শেখ স্মৃতিগেট থেকে ধানহাট, পাটহাট, কাঠহাট, ডিমহাটা, গুড় ও চৈতালী হাটসহ বাঁশহাটের রাস্তা অকেজো হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব রাস্তার বেহাল দশা থাকলেও সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয় জবতুল্লা মন্ডল, মাহফুজ, জালাল মাস্টার, আসাদুজ্জামান, আব্দুল বারীসহ অনেকেই বলেন, চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া এলজি মোড় থেকে কাঠহাটা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সড়ক হলেও বিভিন্ন স্থানে এলোমেলোভাবে ইট বিছানো রয়েছে। সড়কটি এতটাই বন্ধুর যে প্রসূতি রোগীদের আনা নেওয়া যায়না। মধ্যমপাড়া ব্রিজ থেকে মৎস্যজীবী মোড় পর্যন্ত ১৭ বছরেও রাস্তা হয়নি। একইসাথে অবহেলিত জিয়া খালের পাশ দিয়ে রাস্তার হেয়ারিং-বন্ড থাকলেও সেখানে ইট নেই। খালের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। চাঁচকৈড় তালুকদারপাড়া থেকে বাজারের মূল অংশ পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটিতে হাটুপানি হয়। চাঁচকৈড় হাটে আসা মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের কাপড়চোপড় ভিজে নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে পৌর সদরের ১নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন ১২০ ফুট জায়গায় ড্রেন নির্মাণ না হওয়ায় জনভোগান্তি বেড়েই চলছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০০১ সালে এডিপির টেন্ডার হলেও অদ্যাবধি সেই কাজ আলোর মুখ দেখেনি।  ভুক্তভোগী শাহরিয়ার স্বপন আব্বাসী, ময়েজ উদ্দিন, আফতাব উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, তাঁরা বছরে প্রায় ছয় মাস পানিবন্দি থাকেন।  পৌরসভায় আবেদন করেও কোনো সুফল পাননি। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সুপারিশও পৌর কর্তৃপক্ষ মানছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। পৌর প্রশাসক ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ ও পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, 'কিছু রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেন্ডারের মাধ্যমে বাকি সড়কগুলোর সংস্কার ও নির্মাণকাজ করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। গুরুদাসপুরে ফিরে বিষয়টি দেখব।’ 

গুরুদাসপুরে সার পাচারের সময় বিসিআইসি ডিলারের প্রতিষ্ঠানে অভিযান

নাটোরের গুরুদাসপুরে সার পাচারের সময় বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স সিদ্দিকুর রহমান এর প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারের ওই সার ডিলারের কেয়ারটেকার বাবু মোল্লার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ রায় দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ। বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম বলেন- ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ মোতাবেক ১২/১ ধারায় ওই অর্থদন্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযান চলাকালে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা ও বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।   

আরও
X