ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, এই হুমকির রাজনীতি চলবে না: ডাকসু ভিপি

এশিয়া পোস্ট নিউজ

  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৮
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, ক্যাম্পাসগুলোতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসছে, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে; দেখে নেওয়ার হুমকি আসছে। আমরা সাবধান করছি, এই হুমকির রাজনীতি এখন আর চলবে না।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর ওপর যদি একটা টোকাও পড়ে, সেটা প্রতিহত করতে আবু সাঈদের মতো আমরা তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াব।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের ক্যাম্পসগুলোতে কেউ যদি গণরুম বা গেস্ট রুম কালচার কিংবা ভাইয়ের কালচার তৈরি করতে চায় আমরা তা হতে দেব না। সেই রাজনীতি এখন আর চলবে না, সেটা শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং কেউ যদি মনে করেন ক্ষমতায় এসেছেন বলে হল দখল করবেন, তবে তা প্রতিহত করা হবে।

এ সময় সাদিক কায়েম বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সময়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। ২৪ ঘণ্টায় তিনটি লাশ পড়েছে, শতাধিক জায়গায় হামলা হয়েছে। আমরা হুঁশিয়ার করতে চাই, যারা ক্ষমতায় এসেছেন প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আর যদি একটা লাশ পড়ে—রাজপথে নামবে জামায়াত-শিবির ও ১১ দলীয় জোট। বাংলাদেশে হামলা-মামলা, হুমকি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি আর চলবে না। যারা সন্ত্রাস করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তারেক রহমান দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

নির্বাচন-পরবর্তী ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করে ছাত্রশিবিরের এই নেতা আরও বলেন, জাতীয় গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা যেভাবে চাপা দেওয়া হচ্ছে, তা নতুন ফ্যাসিবাদের আস্ফালন হিসেবে দেখছি।

মন্তব্য করুন

বেরোবির সেই রেজিস্ট্রারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে তার জন্য বরাদ্দ পরিবহন সুবিধা বাতিল করা হয়েছিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জালিয়াতি ও নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে সোচ্চার থাকায় ওসব শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে সরানোর জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। এ ছাড়াও তিনি জামাতপন্থি হওয়ায় তার নির্বাচনের ছুটির পরপর তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। তাকে কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। জানা যায়, নির্বাচনকালীন ছুটির পরদিন রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে দফায় দফায় কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তারা মিটিং করেন। মিটিংয়ে রেজিস্ট্রারের নিয়োগ দুই এক দিনের মধ্যে বাতিল করার দাবি ওঠে। রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ দাবি করেন, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক তাকে ফোন করে অফিসে না আসতে এবং ছুটিতে থাকতে বলেন, তবে তিনি তাতে সম্মত হননি। রোববার সকালে অফিসে গেলে তাকে ফোন করে অফিস ছাড়তে বলা হয়। পরে দুপুরে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলাম তার দপ্তরে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে তাকে ‘জামাতি রেজিস্ট্রার’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংসহ বিভিন্নভাবে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একইদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে জানানো হয়, তার জন্য পরিবহন সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। পরে তিনি রিকশাযোগে বাসায় ফেরেন। এ ছাড়া একটি দল তার দপ্তরে এসে কোনো ফাইল যেন তার কাছে না যায় এবং দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সরে যেতে বলে গেছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে ছিলাম। তবে সেটি অন্য বিষয়ে ছিল। রেজিস্ট্রারের বিষয়ে কোনো বৈঠক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না এবং মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। পরিবহন সুবিধা বাতিলের বিষয়ে জানতে পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আমার কাছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার (রেজিস্ট্রার) বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর বেরোবিতে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান ড. হারুন অর রশিদ। মেয়াদ শেষে পুনরায় আরও এক বছরের জন্য তার নিয়োগ নবায়ন করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ শুরু থেকেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করে স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে স্থায়ী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে, ২০২২ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, কোন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত দায়িত্ব বা চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি/ সামরিক কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্র বিশেষ কলেজের শিক্ষকগণকে চুক্তিভিত্তিক/ খণ্ডকালীন নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে, প্রশাসনিক কার্যাদি সুচারুরূপে সম্পাদনে বিঘ্নতার সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন/প্রবিধান অনুযায়ী উল্লিখিত পদসমূহে পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান প্রয়োজন।
বেরোবির সেই রেজিস্ট্রারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
রাজধানীর মিরপুরে উৎসবমুখর ও বর্ণিল পরিবেশে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অত্যন্ত আনন্দঘন ও সাফল্যমণ্ডিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত ডিসপ্লে, উদ্দীপনাময় খেলাধুলা ও দলগত অংশগ্রহণের দৃশ্য পুরো আয়োজনকে এক অনন্য প্রাণচাঞ্চল্যে ভরিয়ে তোলে। মাঠজুড়ে শিশুদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সহযোগিতার প্রকাশ দর্শক ও অভিভাবকদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এই আয়োজন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি ছিল শিক্ষার্থীদের সাহস, নেতৃত্ব, অধ্যবসায় এবং একসঙ্গে এগিয়ে চলার মানসিকতার এক জীবন্ত উদযাপন, যা শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের প্রকৃত সৌন্দর্যকে সবার সামনে তুলে ধরে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও হেড অব স্কুল মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও ইসলামিক স্কলার এবং এভেরোজ শরিয়াহ ও ইসলামিক সেন্টারের লিড স্কলার প্রফেসর মোখতার আহমাদ, উইজডম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান মজিদুল হক ও সিটি ব্যাংকের হেড অব ইসলামিক ব্যাংকিং মো. আফজালুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুনায়েদ আহমেদ, পিয়ারসসের বাংলাদেশ ও নেপাল রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার  আবদুল্লাহ আল মামুন লিটন, পিয়ারসনের রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌস সিগমা,  কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের কান্ট্রি লিড (বাংলাদেশ) সারওয়াত রেজা, অক্সফোর্ড এ কিউ এ-এর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. শাহিন রেজা, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর ও উত্তরার পরিচালক সৈয়দা মণিকা সোহাগ এবং এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর ও উত্তরার পরিচালক উম্মে হানি।  অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ফাতিমা জেমাইমা রহমান এবং সেকশন হেড জ্যোতি ফারহানা গাজী। তাদের দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বয় এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুরো আয়োজনটি সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ফাতিমা জেমাইমা রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত সহযোগিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি উল্লেখ করেন, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল সবসময় এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যেখানে একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গোলাম মোস্তফা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পরিচালক অর্থ, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর।  অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদসহ পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কবুতর ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের প্রায় ১১শ শিক্ষার্থী, ২১৫ শিক্ষক ও স্টাফ এবং প্রায় আড়াই হাজার অভিভাবক ও অতিথি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। মোট ২৫১টি ক্রীড়া ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে এভেরোজ অ্যালামনাই, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ বলেন, আজকের এই আয়োজন কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র গঠন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাস তৈরির এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। মাঠে প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, সাহস, অধ্যবসায় এবং দলগত চেতনার শিক্ষা দেয়, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের সফলতার ভিত্তি হয়ে উঠবে। এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর-এ আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃত শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না; শিক্ষা গড়ে ওঠে অভিজ্ঞতায়, চ্যালেঞ্জে, সহযোগিতায় এবং বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে। স্পোর্টস ডে সেই শিক্ষারই এক জীবন্ত প্রতিফলন। যেখানে জয় বা পরাজয়ের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে অংশগ্রহণের সাহস, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং শক্তিশালী চরিত্র গঠনের যাত্রা। তিনি বলেন, আজকের এই মাঠে দাঁড়িয়ে আমরা শুধু খেলাধুলা দেখছি না, আমরা দেখছি ভবিষ্যতের সেই নেতৃত্বকে, যারা জ্ঞান, নৈতিকতা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে সমাজ ও বিশ্বকে এগিয়ে নেবে। আমাদের দায়িত্ব তাদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা শারীরিকভাবে শক্তিশালী, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্টাফদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্যের জন্য দোয়া করেন। ব্রিটিশ কাউন্সিল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুনায়েদ আহমেদ, পিয়ারসসের বাংলাদেশ ও নেপাল রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার  আবদুল্লাহ আল মামুন লিটন, পিয়ারসনের রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌস সিগমা,  কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের কান্ট্রি লিড (বাংলাদেশ) সারওয়াত রেজা, অক্সফোর্ড এ কিউ এ-এর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. শাহিন রেজা। বক্তারা এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর-এর শিক্ষা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক পরিবেশ, নৈতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বিশেষভাবে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও হেড অব স্কুল মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগের দূরদর্শী নেতৃত্ব, শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টার উচ্চ প্রশংসা করেন। সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে যখন একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। তিনি এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষাদর্শন, শিক্ষক ও স্টাফদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি আরও বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল গত এক দশকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও স্বনামধন্য ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে একটি ক্যাম্পাস নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে এটি ১১টি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত একটি শিক্ষা নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। প্রতিষ্ঠানে সকল শিক্ষার্থীর জন্য কুরআন শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পূর্ণ হিফজ প্রোগ্রাম। বর্তমানে প্রায় এক হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী হিফজ প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছে এবং শতাধিক শিক্ষার্থী হাফেজে কুরআন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিবছর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে পিয়ারসন হাই অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড এবং দ্য ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড লাভ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে এবং সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত সহযোগিতার মনোভাব আরও বিকশিত হবে। ভবিষ্যতেও এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল মিরপুর স্কুল শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নৈতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি সুস্থ, সৃজনশীল ও সমন্বিত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
বেরোবি রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতির গুঞ্জন, পরিবহন সুবিধা বন্ধ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। ইতোমধ্যে তার পরিবহন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে‌। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অফিস শেষে পরিবহন সুবিধা না পেয়ে রিকশা করে অফিস ত্যাগ করেছেন তিনি।  জানা যায়, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে থাকা বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশিদকে রোববার অফিসে না এসে ছুটিতে থাকতে বলা হয়েছিল। তবে রেজিস্ট্রার হারুন রশিদ ছুটিতে না থেকে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে অফিসে আসেন এবং অফিস করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অফিসে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপাচার্যের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করেন। অভিযোগ রয়েছে, আড়ালে থেকে এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেরোবি প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান। প্রশাসনিক ভবনের একটি সূত্র জানায়, দুপুরে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কিছু কর্মকর্তা এসে রেজিস্ট্রার দপ্তরের সবাইকে চলে যেতে বলে এবং তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করার জন্য বলা হয়। তার কাছে ফাইল না পাঠাতে বলা হয়। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পরে আমাকে শনিবার অফিস না করে ছুটি থাকার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার ছুটি নেওয়ার কোনো কারণ না থাকায় আমি আজ যথারীতি অফিসে এসেছি এবং কাজ শুরু করি। কিন্তু ওনারা মিটিং করে ওই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে শুনেছি। দুপুরের খাবার সময় গাড়ি চাইলে আমাকে জানানো হয়, পরিবহন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে আমি রিকশা করে যাতায়াত করছি।’  এ বিষয়ে জানতে বেরোবি পরিবহন পুলের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার তারিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সঠিক না। আমি অন্য দপ্তরে সংস্থাপন শাখায় কাজ করি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বা কোনো কথা আমি বলি নাই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে উপাচার্য বা প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যারা আমার নামে অভিযোগ করেছে আপনি তাদেরকেই জিজ্ঞাসা করুন। আমি এসবের কিছুই জানি না। তারিকুল কেন আমার সঙ্গে কথা বলতে বলবে। আপনি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলুন।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে এশিয়া পোস্টের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি মেসেজ দেখেও সাড়া দেননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ড. মো. হারুন অর রশিদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর নেতৃত্বে গঠিত একটি সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ও কর্মকর্তা জাল সনদ ও মিথ্যা অভিজ্ঞতার তথ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন। এই দুর্নীতির কারণে অনেক জনকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক এবং কর্মকর্তা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
বেরোবি রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতির গুঞ্জন, পরিবহন সুবিধা বন্ধ
সিকৃবিতে শিক্ষকদের দুপক্ষের মারামারি, ভিসিসহ আহত ৬
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ভিসি অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভুইয়াসসহ অন্তত ৬ শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে সিকৃবির ভিসির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টায় এই রিপোর্ট লেখার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা চলছে। শিক্ষকদের একটি সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ভিসি প্রফেসর ড. মো. আমিনুল ইসলামের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন বিএনপিপন্থি সাদাদলের শিক্ষকরা। তবে তাদের পাত্তা না দিয়ে ভিসি নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভিসি’ দাবি করে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব মানবেন না বলে তিনি তার অনিয়ম দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নির্বাচনের পর সাদাদলের শিক্ষকরা বারবার ভিসির সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চাইলেও তাদের অভিযোগ নানান অজুহাত দেখিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করা থেকে বিরত থাকছিলেন। এদিকে রোববার বিএনপিপন্থি সাদাদলের শিক্ষকরা তার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন—এমনটা অনুমান করে তিনি আগে থেকেই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তার বলয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের সেখানে জড়ো করে রেখেছিলেন। সাদাদলের শিক্ষকরা সেখানে তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে বিশেষ করে, নানান অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রমের বিরোধিতা করতে গেলে একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত থাকা একজন সাদাদলের একজন শিক্ষককে ঘুসি মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত এবং তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ ঘটনায় সাদাদলের অন্তত ৭ জন শিক্ষক আহত হওয়ার দাবি করেছেন তারা। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন সিকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আমিনুল ইসলাম। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, সাদাদলের শিক্ষকরা নাকি ১৭ বছর অভুক্ত ছিলেন। এখন কোনো যোগ্যতার বিচার ছাড়াই তাদেরকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিতে হবে—এমন একটা দাবি নিয়ে আমার কাছে এসে হইচই শুরু করলে প্রক্টর, অ্যাডভাইজার, রেজিস্ট্রার এসে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা আমার ওপর চড়াও হলে তাদের ঠেকাতে গেলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি এমনিতেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রশাসনের ওপর তারা হাত তুলেছে। তাই এই ব্যাপারে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সাদাদলের শিক্ষক ও সিকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর কাজী মেহতাজুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, তার অবৈধ কার্যকলাম ও নিয়োগ বন্ধের দাবি নিয়ে কথা বলায় আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় আইন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।  
সিকৃবিতে শিক্ষকদের দুপক্ষের মারামারি, ভিসিসহ আহত ৬
আজ আপনাদের কাছে দুই অসভ্যকে নিয়ে বিচার দিলাম : হামিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী ষড়যন্ত্রমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়নে `সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব‍্যানারে উৎপাত শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। এ সময় তিনি সচেতন শিক্ষার্থী ও দেশের তরুণদের কাছে এ নিয়ে বিচার দেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক পোস্টে এসব কথা বলেন। পোস্টে হামীম লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই অসভ‍্য শিক্ষার্থী দলীয় ও ষড়যন্ত্রমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়নে `সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব‍্যানারে উৎপাত শুরু করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বিচার দিলাম, আপনারা বলুন এই যে নির্বাচিত জননেতা জনাব তারেক রহমান তার নাম ধরে ১০ জন নিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে দুই অসভ‍্য। আমি যদি ক‍্যাম্পাসের ৫০০ ছোট ভাই নিয়ে ওই বেয়াদবদের বাবা-মাকে তুলে স্লোগান দিই, যে এ রকম অসভ‍্য কেন জন্ম দিয়েছেন, আপনারা জবাব দেন। বিষয়টি কেমন হতো?  দায়বদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি চাইলে ওদের বাবা-মাকে গালি দিয়েও স্লোগান দিতে পারি, কিন্তু আমি সেটি করব না। কেননা, আমি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পড়ছি জনগণের টাকায়। তাই, দেশের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে যে দায়বদ্ধতা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আমার অর্জিত জ্ঞান-মেধা-চলন/বলনে প্রকাশ করা কর্তব‍্য।’ ‘কিন্তু, এই দুই অসভ্যের যে মতি-গতি, এরা নিশ্চিত কোন রাষ্ট্রের এজেন্ট, যারা দেশের এই পরিবর্তন ও জনগণের সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর চেয়েছিল না। নতুবা, যার নেতৃত্বে ২১১টি আসনে জনগণ আস্থা রাখলেন, তার বিরুদ্ধে এভাবে বাজে স্লোগান দেবেই বা কেন?’ বিচার দিয়ে তানভীর বারী হামিম বলেন, ‘প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থী ও দেশের তরুণ সমাজ, আজ আপনাদের কাছে দুই অসভ‍্যকে নিয়ে বিচার দিলাম।’
আজ আপনাদের কাছে দুই অসভ্যকে নিয়ে বিচার দিলাম : হামিম
এবার আবু সাঈদরাও প্রস্তুত আছে, ডাকসু জিএসের হুঁশিয়ারি
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘এবার আবু সাঈদরাও প্রস্তুত আছে। জীবন দেবে, কিন্তু পুরোনো ফ্যাসিবাদকে নতুন কোনো রূপে মেনে নেওয়া হবে না।’ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১২ মিনিটে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। পোস্টে এস এম ফরহাদ লেখেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ২৬৩টি সংসদীয় আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। নির্বাচনের কিছুদিন পর থেকেই আওয়ামী লীগ নিজের জন্য ফ্যাসিবাদী পথ বেছে নেয়। একপর্যায়ে চব্বিশে জনগণ আওয়ামী লীগকে দেশছাড়া করেছে।’ ‘এবারের নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট তথা ২০৯টি আসন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিএনপি এবার আওয়ামী পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে। দেশব্যাপী শতাধিক স্থানে ভিন্নমতের ভোটারদের ওপর হামলা করেছে ও অসংখ্য ভোটার গুরুতর আহত। কিছুক্ষণ আগে একজনকে হত্যা করা হয়েছে।’ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এই কর্মকাণ্ডে বিএনপি এবার কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে; এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমগুলো যাতে মিডিয়ায় না আসে, সেই আয়োজনও দারুণভাবে সম্পন্ন করেছে। ব্যাপারটা দারুণ! সাবাশ বিএনপি! আওয়ামী লীগ ১৫ বছর সময় নিয়েছিল, আপনারা কি সময় আরও কম নেবেন? স্বাগতম এই পথে!’ হুঁশিয়ারি দিয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘তবে হ্যাঁ, এবার আবু সাঈদরাও প্রস্তুত আছে। জীবন দেবে, কিন্তু পুরোনো ফ্যাসিবাদকে নতুন কোনো রূপে মেনে নেওয়া হবে না।’
এবার আবু সাঈদরাও প্রস্তুত আছে, ডাকসু জিএসের হুঁশিয়ারি
ব্যঙ্গাত্মক গান বাজিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে পিকআপ মিছিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধিকাংশ আসনে পরাজয়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থি শিক্ষার্থীরা ব্যঙ্গাত্মক গান বাজিয়ে পিকআপ ভ্যানে করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে টিএসসি এলাকা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিভিন্ন হল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তা শেষ হয়। কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীরা প্রিন্স মাহমুদের জনপ্রিয় গান ‘রাজাকার আল-বদর কিছুই রবে না রে, সব রাজাকার ভাইসা যাইব বঙ্গোপসাগরে’ বাজান। পাশাপাশি বিভিন্ন প্যারোডি গানও শোনা যায়। এছাড়া আবু সাদিক কায়েমকে নিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক গানও তারা বাজান। গানটির কথায় রাজনৈতিক ইঙ্গিত ছিল বলে উপস্থিতদের অনেকে মন্তব্য করেন। আয়োজকদের একজন এনামুল হাসান অনয় বলেন, জামায়াতের পরাজয় তাদের জন্য আনন্দের বিষয়। তবে তিনি দাবি করেন, দলটি এখন কার্যত বিরোধী অবস্থানে থাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ অতীতের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে সচেতন এবং সে কারণেই ভোটের ফলাফলে এর প্রতিফলন দেখা গেছে।’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মসূচিটি নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে অপ্রয়োজনীয় উসকানি বলেও মন্তব্য করছেন।
ব্যঙ্গাত্মক গান বাজিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে পিকআপ মিছিল
ইউআইইউতে ‘প্রেজেন্টেশন চ্যাম্পস’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ‘প্রেজেন্টেশন চ্যাম্পস: সিজন ২’ শিরোনামে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উপস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রদর্শন প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।   মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ইউআইইউ ক্যাম্পাসে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ফোরামের (ইএলএফ) উদ্যোগ এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের (ডিসিসিএসএ) সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠান হয়।  প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘দ্য টিম উইদাউট এ নাম’ দল, প্রথম রানারআপ হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ‘টিম রেড মার্কড’ দল এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির  ‘কি দেওয়া জিই’ দল। চ্যাম্পিয়ন দলকে ২৫ হাজার টাকা, প্রথম রানারআপ দলকে ১৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ দলকে ১০ হাজার টাকার চেক এবং ট্রফি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইউআইইউর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া বিজয়ীদের হাতে ট্রফি এবং চেক তুলে দেন।   প্রতিযোগিতার প্রাথমিক রাউন্ডে দেশের ১৮ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৯২টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি দল একটি লটারি ইভেন্টের মাধ্যমে তাদের দেওয়া একটি বিষয়ে তথ্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনা প্রদান করে। প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দলকে পেচাকুচা ফরমেটের মাধ্যমে ২০টি স্লাইড উপস্থাপন এবং প্রতিটি স্লাইড প্রেজেন্টেশনের জন্য ২০ সেকেন্ড—সর্বমোট ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ড সময় দেওয়া হয়। দক্ষ বিচারকদের প্যানেল শারীরিক ভাষা, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা এবং সময় ব্যবস্থাপনার মানদণ্ডের ভিত্তিতে পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করেছে।   প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ইউআইইউ বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক প্রফেসর ড. সালমা করিম, ইউআইইউ সিএসই বিভাগের প্রধান ড. সুমন আহমেদ, ইউআইইউ ইডিএস বিভাগের প্রধান ড. শান্তনু কুমার সাহা, ইংলিশ অলিম্পিয়াডের প্রধান সংগঠক মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, ইউআইইউ ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মিসেস কার্স্টেন গুজেন এবং ইউআইইউর হেড অব কমিউনিকেশনস উম্মে সুমাইয়া মুতিয়াতুর রসুল। 
ইউআইইউতে ‘প্রেজেন্টেশন চ্যাম্পস’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
এআইইউবিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিল বেসরকারি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি)। স্প্রিং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এআইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চেয়ারম্যান মিসেস নাদিয়া আনোয়ার। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতা বজায় রেখে এআইইউবিতে তাদের একাডেমিক যাত্রা শুরু করার জন্য উৎসাহিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন—প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর; প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম, ডিন, ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস; প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভাইজার ও ডিন (ইনচার্জ), ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন; প্রফেসর ড. এবিএম সিদ্দিক হোসেন, ডিন, ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মশিউর রহমান, সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও ডিন, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি; প্রফেসর ড. মঞ্জুর এইচ. খান, প্রক্টরসহ বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির শিক্ষকরা।  অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এছাড়া অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি তথ্যবহুল সেশন পরিচালনা করেন। 
এআইইউবিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত