রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। ইতোমধ্যে তার পরিবহন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অফিস শেষে পরিবহন সুবিধা না পেয়ে রিকশা করে অফিস ত্যাগ করেছেন তিনি।
জানা যায়, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে থাকা বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশিদকে রোববার অফিসে না এসে ছুটিতে থাকতে বলা হয়েছিল। তবে রেজিস্ট্রার হারুন রশিদ ছুটিতে না থেকে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে অফিসে আসেন এবং অফিস করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অফিসে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপাচার্যের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করেন। অভিযোগ রয়েছে, আড়ালে থেকে এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেরোবি প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান।
প্রশাসনিক ভবনের একটি সূত্র জানায়, দুপুরে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কিছু কর্মকর্তা এসে রেজিস্ট্রার দপ্তরের সবাইকে চলে যেতে বলে এবং তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করার জন্য বলা হয়। তার কাছে ফাইল না পাঠাতে বলা হয়।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পরে আমাকে শনিবার অফিস না করে ছুটি থাকার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার ছুটি নেওয়ার কোনো কারণ না থাকায় আমি আজ যথারীতি অফিসে এসেছি এবং কাজ শুরু করি। কিন্তু ওনারা মিটিং করে ওই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে শুনেছি। দুপুরের খাবার সময় গাড়ি চাইলে আমাকে জানানো হয়, পরিবহন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে আমি রিকশা করে যাতায়াত করছি।’
এ বিষয়ে জানতে বেরোবি পরিবহন পুলের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার তারিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সঠিক না। আমি অন্য দপ্তরে সংস্থাপন শাখায় কাজ করি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বা কোনো কথা আমি বলি নাই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে উপাচার্য বা প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যারা আমার নামে অভিযোগ করেছে আপনি তাদেরকেই জিজ্ঞাসা করুন। আমি এসবের কিছুই জানি না। তারিকুল কেন আমার সঙ্গে কথা বলতে বলবে। আপনি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলুন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে এশিয়া পোস্টের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি মেসেজ দেখেও সাড়া দেননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ড. মো. হারুন অর রশিদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর নেতৃত্বে গঠিত একটি সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ও কর্মকর্তা জাল সনদ ও মিথ্যা অভিজ্ঞতার তথ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন। এই দুর্নীতির কারণে অনেক জনকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক এবং কর্মকর্তা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
মন্তব্য করুন








