কিডনি আমাদের শরীরের রক্ত পরিশোধন করে এবং অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সমস্যা হলো, কিডনির অসুখ অনেক সময় নীরবে বাড়তে থাকে। শুরুতে তেমন ব্যথা বা তীব্র অস্বস্তি না থাকায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ রাতে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এসব উপসর্গ নিয়মিত দেখা দিলে তা কিডনির জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। নিচে এমন কয়েকটি লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো অবহেলা না করাই ভালো।
পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি জমতে শুরু করে। এর ফলে পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতা ফুলে যেতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় সন্ধ্যা বা রাতে ফোলা বাড়ে, আবার সকালে কিছুটা কমে যায়। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া শুধু ডায়াবেটিসের কারণেই হয় না। কিডনি দুর্বল হয়ে পড়লেও এমন হতে পারে। বিশেষ করে যদি প্রায়ই রাতে দুইবার বা তার বেশি প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
ঘুম না আসা বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে ভোগা অনেকের মধ্যেই অনিদ্রার সমস্যা দেখা যায়। শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে থাকলে অস্বস্তি তৈরি হয়, যা ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। হঠাৎ করে ঘুমের বড় ধরনের সমস্যা শুরু হলে সেটি অন্য অসুস্থতার পাশাপাশি কিডনির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: বর্তমানে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ কোলোরেক্টাল ক্যানসার
আরও পড়ুন: রমজানে ঘুমের ঘাটতি নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে তরল জমে ফুসফুসে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে শোয়ার সময় শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। বিশেষ করে যদি আগে এমন সমস্যা না থেকে হঠাৎ শুরু হয়, তাহলে পরীক্ষা করানো দরকার।
রাতের বেলা অস্বাভাবিক ক্লান্তি
কিডনি দুর্বল হলে রক্তে বর্জ্য জমে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই রাতে অতিরিক্ত অবসাদ বা শক্তিহীনতা অনুভব করেন। এটি নিয়মিত হলে অবহেলা না করে পরীক্ষা করানো ভালো।
আরও পড়ুন: স্ট্রেসের কারণে ঘুম আসছে না? ১১ সহজ উপায়ে শান্ত করুন মন
আরও পড়ুন: হৃদ্রোগ চিকিৎসায় নতুন আশার আলো
এই উপসর্গগুলোর এক বা একাধিক নিয়মিত দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে কিডনির অবস্থা যাচাই করা যায়।
মনে রাখতে হবে, সময়মতো ধরা পড়লে কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
সূত্র: বোল্ড স্কাই
মন্তব্য করুন
