ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

গাড়ি থেকে নিজ হাতে সরকারি লোগো খুললেন ইশরাক

অনলাইন ডেস্ক

  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৮ পিএম

গাড়ি থেকে নিজ হাতে সরকারি লোগো খুলে ফেলেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নিজ বাসা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে লোগোটি খুলে ফেলেন তিনি।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এ সময় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দল চায়নি, নিজে থেকেই পদত্যাগ করছি। বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে, তবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে।’

এর আগে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

ইশরাক আরও লেখেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।

অভিযানের ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রোববার (১৮ অক্টোবর) দিনভর ঘটনাটি আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এ ঘটনায় বিএনপির মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্যও তা বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।

কক্সবাজারে অস্ত্রের মুখে ৫০-৬০ যানবাহনে ডাকাতি
কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি এলাকার ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে ডাকাতরা।  সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের কবলে পড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। এসব যানবাহনের বেশির ভাগই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। এ সময় শতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগীরা জানান, মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার বলেন, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওসি আরও বলেন, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গভীর বনাঞ্চল এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে মোট কতটি যানবাহনে লুটপাট হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁদের তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় ডাকাতেরা। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কক্সবাজারে অস্ত্রের মুখে ৫০-৬০ যানবাহনে ডাকাতি
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
সকল ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম আলাদা হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’ রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে আমরা একে অপরকে দেখে রাখব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। সবার আগে এটিই হচ্ছে আমাদের পরিচয়।  এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান- যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনো জিজ্ঞেসও করিনি।’ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় দেশে গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, মানুষ যখন তার রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছে। তখনও কিন্তু আন্দোলনকারী একজন পাশের জনকে জিজ্ঞেস করেনি, ভাই আপনি কি মুসলমান, নাকি আপনি হিন্দু, নাকি আপনি বৌদ্ধ, নাকি আপনি খ্রিষ্টান? কেউ তো জিজ্ঞেস করেনি। সবাই সেদিন সোচ্চার ছিলাম মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বেশি দিন আগের কথা নয়। এই তো মাত্র আড়াই বছরও হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের চোখের সামনে সবগুলো দৃশ্য ভেসে ওঠে। সেই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ?’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। অনেকেই শহীদ হয়েছেন, আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি। সেখানে তো হিন্দু মানুষও আছে, মুসলমান মানুষও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিষ্টানও আছে। সকলেই তো সেদিন জান কোরবানি দিয়েছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’ দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের পরিবর্তন ঘটলে, দেশের মানুষের পরিবর্তন ঘটলে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, আমিও উপকৃত হব।’ তিনি বলেন, ‘যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন যেমন দেখে না কোন ধর্মের মানুষ, যখন মানুষ ভালো থাকে, তখনো মানুষ দেখে না। শুধু দেখে আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা একে অপরকে  আরেকজনকে চিনি ও জানি।’ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।’
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
সৌদিতে শি'রশ্ছেদ: সিথি নয়, সেই নারীর নাম সুইটি, জানা গেল পরিচয়!
মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী নন বলে জানিয়েছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। তিনি দাবি করেছেন, সুইটি আক্তারকে তারা চেনেন না। নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছিরের ছেলে। আব্দুল বাছির বলেন, ‘ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।’ তিনি জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। তবে কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো জানেন না পরিবারের সদস্যরা। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও জানান আব্দুল বাছির। তিনি আরও বলেন, ‘সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।’ স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দেন ২৫ বছর বয়সী নজরুল। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারলেও কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে পারেনি। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বুধবার নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামবাসী তাদের বাড়িতে আসছেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন তারা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম বলেন, নজরুলকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো অপরাধ তিনি করেছেন বলে মনে করেন না। সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্‌ঘাটন করা হোক। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। দূতাবাস যোগাযোগ করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের একই ধরনের সাজা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির দেশের দূতাবাস ব্যবস্থা নিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত নজরুলের পরিবারের সঙ্গেও কেউ যোগাযোগ করেনি বলে দাবি করেন তিনি। গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন সামাজিক নীতিতে পরিবর্তন এলেও মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
মশিউর অর্ণব
চাটখিলে এক বাড়ির সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা!
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ এক আবাসিক গ্রাহকের ৫টি লাইট, ২টি ফ্যান, ১টি ফ্রিজ ও ১টি সিসি ক্যামেরার বিপরীতে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিল করেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। এ বিল দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, ভুতুড়ে বিলের নিবন্ধিত গ্রাহক ওই বাড়ির মৃত আবু তাহের। তার মৃত্যুর পর তার নাতি শহিদুল ইসলাম রনি নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছেন। শহিদুল ইসলাম রনি অভিযোগ করেন, সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকার একটি ভুতুড়ে বিল পাঠানো হয়েছে। গত পাঁচ মাস ধরে তাদের ঘরে গড়ে মাত্র ১২৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। অথচ সেপ্টেম্বর মাসের বিলে সরাসরি ৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি। চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে পেয়ে আমরা স্তম্ভিত। সাধারণ বাতি-ফ্যান চালিয়ে কীভাবে এক লাখ টাকার বেশি বিল আসতে পারে?’ পল্লী বিদ্যুতের বিল প্রস্তুতে নিয়োজিত কর্মীদের গাফিলতি ও চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিল হাতে পাওয়ার পর বিদ্যুৎ বিল বিতরণকারী কর্মীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি চাটখিল কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে আরও ক্ষুব্ধ হন শহিদুল ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব—এটি কোন ধরনের আচরণ? আমি চাই, এই গাফিলতির জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মূল বিলের কপি পাঠানোর পর তিনি ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটি ভুলবশত হয়েছে। শিগগিরই আমাদের লোকজন ওই গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা করবেন এবং দ্রুত বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হবে।’
চাটখিলে এক বাড়ির সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা!
সৌদিতে মৃ'ত্যুদণ্ড: সেই সিথি আক্তার ছিলেন ওমরাহ যাত্রী, জানা গেল পরিচয়
সৌদি আরবের মক্কার একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিক নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া দাবি ছড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে- তারা পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী এবং নবদম্পতি, ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবের গিয়েছিলেন। তাছাড়া মসজিদে কপালে চুমু দেওয়ার কারণে ওই দুই তরুণ-তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অবশেষে তাদের দুইজনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়। অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা।  আকাশ পথের যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও এ সময় জানান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আজেল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশি হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বসির এবং সিথি আক্তার। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে স্থানান্তর করা হলে বিচারক তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।  তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকাকে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গত ১৭ অক্টোবর বিবিসি বাংলায় এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যে দুজনের শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে তাদের বিষয়ে কোনো তথ্যই এখনো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
৮ মাসে মন্ত্রিসভায় তিন মন্ত্রীসহ আরও যাদের পদত্যাগ
ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যজনক পোস্ট
‘চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম’
নিজ হাতে গাড়ি থেকে স্টিকার তুলে ফেলে যা বললেন ইশরাক
X