ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ট্রাম্পকে নিয়ে তর্ক করায় বাবার গুলিতে প্রাণ গেল মেয়ের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫১
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তর্ক করায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বাবার গুলিতে মেয়ে লুসি হ্যারিসন নিহত হন। যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্যের ওয়ারিংটনের চেশায়ার এলাকার বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী লুসি হ্যারিসন ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি টেক্সাসের ডালাসের কাছে প্রস্পার এলাকায় তার বাবার বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশ শুরুতে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড (ম্যানস্লটার) হিসেবে তদন্ত করলেও কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি মেয়েটির বাবা ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে কোনো ফৌজদারি মামলা হয়নি।

চেশায়ার করোনার কোর্টে শুরু হওয়া তদন্ত শুনানিতে লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার জানান, তিনি লুসির সঙ্গে ছুটি কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। ঘটনার দিন সকালে ট্রাম্পকে নিয়ে বাবা-মেয়ের মধ্যে ‘বড় ধরনের তর্ক’ হয়েছিল। ট্রাম্প তখন দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, লুসি প্রায়ই তার বাবার অস্ত্র রাখার বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করতেন এবং এ নিয়ে কথা উঠলে মন খারাপ করতেন। শুনানিতে আরও জানানো হয়, লুসির বাবা ক্রিস হ্যারিসন মেয়ে ছোট থাকতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। অতীতে মদ্যপানের আসক্তির কারণে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

শুনানিতে অনুপস্থিত থাকা ক্রিস হ্যারিসন আদালতে পাঠানো এক বিবৃতিতে স্বীকার করেন, গুলির দিন তিনি আবার মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং প্রায় ৫০০ মিলিলিটার সাদা মদ পান করেছিলেন।

লিটলার আদালতকে জানান, ঘটনার দিন ১০ জানুয়ারির সকালে ট্রাম্পকে ঘিরে তর্কের সময় লুসি তার বাবাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমি যদি সেই পরিস্থিতির মেয়েটি হতাম এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হতাম, তাহলে আপনার কেমন লাগত?’

জবাবে ক্রিস হ্যারিসন নাকি বলেন, তার সঙ্গে আরও দুই মেয়ে থাকে, তাই বিষয়টি তাকে ততটা নাড়া দিত না। এতে লুসি ভীষণভাবে বিচলিত হয়ে উপরে চলে যান।

পরে সেদিন, বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে লুসি রান্নাঘরে ছিলেন। লিটলারের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তার বাবা লুসির হাত ধরে নিচতলার শোবার ঘরে নিয়ে যান। প্রায় ১৫ সেকেন্ড পর একটি জোরালো শব্দ শোনা যায়। এরপর ক্রিস হ্যারিসন তার স্ত্রী হেদারের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকেন।

লিটলার বলেন, ‘আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে দেখি লুসি বাথরুমের দরজার কাছে মেঝেতে পড়ে আছে, আর ক্রিস অসংলগ্নভাবে চিৎকার করছেন।’

ক্রিস হ্যারিসনের বিবৃতিতে বলা হয়, তারা তখন টেলিভিশনে বন্দুক-সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রতিবেদন দেখছিলেন। তিনি মেয়েকে জানান যে, তার কাছে একটি বন্দুক আছে এবং সেটি দেখতে চায় কি না জিজ্ঞাসা করেন। এরপর তিনি শোবার ঘরে গিয়ে বেডসাইড ক্যাবিনেটে রাখা গ্লক ৯ মিলিমিটার সেমি-অটোমেটিক পিস্তল দেখাতে চান।

তিনি দাবি করেন, পরিবারের নিরাপত্তাবোধের জন্য কয়েক বছর আগে অস্ত্রটি কিনেছিলেন এবং এর আগে কখনো মেয়ের সঙ্গে এটি নিয়ে আলোচনা হয়নি।

তার ভাষ্য, ‘আমি বন্দুকটি তুলে ধরতেই হঠাৎ একটি জোরে শব্দ শুনি। কী ঘটেছে বুঝতে পারিনি। লুসি সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যায়।’ ট্রিগারে তার আঙুল ছিল কি না—তা মনে করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

শুনানিতে আরও জানানো হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ কর্মকর্তা লুসিয়ানা এসকালেরা তার নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের গন্ধ পেয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু আগে তিনি একটি সেভেন-ইলেভেন দোকান থেকে মদ কিনেছিলেন।

শুনানির শুরুতে ক্রিস হ্যারিসনের আইনজীবী আনা স্যামুয়েল করোনার জ্যাকলিন ডেভোনিশকে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন জানান। তার দাবি, তদন্তটি একটি তথ্য-অনুসন্ধানী প্রক্রিয়ার বদলে ফৌজদারি তদন্তের মতো পরিচালিত হয়েছে, যা পক্ষপাতের আশঙ্কা তৈরি করে।

তবে লুসির মা জেন কোটসের পক্ষে আইনজীবী লুইস নরিস বলেন, ঘটনার সময় ঘরে একমাত্র উপস্থিত ব্যক্তি ছিলেন ক্রিস হ্যারিসন, যিনি লুসিকে গুলি করেছিলেন।

করোনার আদালত আবেদনটি খারিজ করেন।

নিজের আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে ক্রিস হ্যারিসন এ ঘটনার দায়ভার ‘পূর্ণভাবে স্বীকার’ করে বলেন, একটি দিনও যায় না, যেদিন এই ক্ষতির ভার অনুভব করি না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই ভার বহন করতে হবে।

লুসির মা জেন কোটস বলেন, তার মেয়ে ফ্যাশন ব্র্যান্ড বুহু-তে একজন বায়ার হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্ত শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। সেদিন করোনার তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্যে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে জলবায়ু সংকট
যুক্তরাজ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত শতাধিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কথাও জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। বছরের শুরুতেই নিয়মিত ও ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা দেখছেন দুর্বিষহ ও খারাপ আবহাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই। বিজ্ঞানীদের মতে, ব্রিটেনের এই অবিরাম বৃষ্টির পেছনে যে বায়ুমণ্ডলীয় শক্তি কাজ করছে, সেটিই স্পেন ও পর্তুগালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণ। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের (মেট অফিস) বরাতে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডে গত ১৪৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল মাস ছিল গত জানুয়ারি। একই সময়ে দক্ষিণ ইংল্যান্ডে ১৮৩৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এটি ছিল ষষ্ঠ বৃষ্টিবহুল মাস। জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গড়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য দক্ষিণ ইংল্যান্ডে গড়ের তুলনায় ৮৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া ডেভনের নর্থ ওয়াইক, কর্নওয়ালের কার্ডিনহ্যাম ও উরচেস্টারশায়ারের অ্যাস্টউড ব্যাংকে বছর শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রিডিং ইউনিভার্সিটির হাইড্রোলজিস্ট জেস নিউম্যান বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মানুষের জন্য বছরের শুরুটা ছিল দুর্বিষহ। লন্ডনের কাছের শহরগুলোতে ১০০ বছরেরও বেশি রেকর্ডে সবচেয়ে দীর্ঘ বৃষ্টিপাত দেখা গেছে। মাত্র কয়েক মাস আগেও যুক্তরাজ্যের বড় অংশে খরা ছিল এবং এ কারণে হোসপাইপ ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি জারি ছিল।’ কিন্তু দীর্ঘদিন খরার পর বছরের শুরুতেই এবার কেন এত বৃষ্টিপাত হচ্ছে দেশটিতে? সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এই অবিরাম বৃষ্টির পেছনে রয়েছে দ্রুত আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব। ‘জেট স্ট্রিমের’ ক্রমাগত দক্ষিণমুখী স্থানান্তরে ফলেই দেশটিতে এত বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দ্রুতগতির এই বায়ুপ্রবাহ একের পর এক নিম্নচাপকে যুক্তরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মেট অফিসের প্রধান পূর্বাভাসকারী নিল আর্মস্ট্রং বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আটলান্টিক থেকে বারবার বৃষ্টির বলয় ঢুকে পড়েছে, ফলে যুক্তরাজ্যের বড় অংশে মাটি ক্রমেই আরও ভিজে গেছে।’ মূলত টানা বর্ষণের ফলে দেশের অনেক অংশের মাটি সম্পূর্ণভাবে স্যাচুরেটেড— অর্থাৎ পানি শোষণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। আর্মস্ট্রং আরও বলেন, ‘উত্তর আমেরিকার ওপর ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিকে তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়িয়ে দিয়েছে, যা জেট স্ট্রিমকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সময়ে উত্তর ইউরোপে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় আবহাওয়া ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। যার ফলে সেগুলো যুক্তরাজ্যের ওপর আটকা পড়ছে।’ জেট স্ট্রিমের এই পরিবর্তন স্পেন ও পর্তুগালেও ভয়াবহ বন্যা ডেকে এনেছে। সেখানে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং হাজারো মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। যুক্তরাজ্যে নিম্নচাপগুলো তুলনামূলকভাবে কম তীব্র হলেও, অনেক এলাকায়ই দৈনিক বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটি আর পানি শোষণ করতে পারে না। তখন সামান্য বৃষ্টিও বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতাও বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়াচ্ছে। প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাতাস প্রায় ৭ শতাংশ বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। এর ফলে যুক্তরাজ্যে ভেজা শীতকাল আঞ্চলিক জলবায়ু মডেলের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় দুই দশক আগেই শুরু হয়েছে। তবে চলতি জানুয়ারিতে আর্কটিক বাতাসের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কম ছিল।  পূর্বাভাস অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যে শীতকাল আরও ভেজা ও গ্রীষ্মকাল আরও শুষ্ক হবে।  তবে জেস নিউম্যানের মতে, ‘সাম্প্রতিক বৃষ্টির একটি ইতিবাচক দিক হলো, যুক্তরাজ্যের পানিসম্পদ পুনরুদ্ধারের পথে ফিরছে। মে মাসের পর এই প্রথম ইংল্যান্ড পুরোপুরি খরামুক্ত হয়েছে। জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।’
অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্যে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে জলবায়ু সংকট