ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ঝুট কাপড়ে তৈরি কম্বলে ৩০০ কোটি টাকার সম্ভাবনা

এপি নিউজ, সিরাজগঞ্জ

  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০১
কম্বল তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি : এপি

​ নদীভাঙনের ক্ষত বুকে নিয়েই কম্বল শিল্পের উত্থান হয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায়। উপজেলার শিমুলদাইড় বাজার এখন বাংলাদেশের কম্বল শিল্প এলাকা নামে পরিচিত। পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত টুকরো, ঝুট কাপড় দিয়ে এখানে তৈরি হচ্ছে হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের শীত নিবারণের কম্বল।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা কম্বল তৈরির কাজটি এ অঞ্চলে এখন শিল্পের খ্যাতি লাভ করেছে। আর এসব কম্বল কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ ছাড়াও সারা দেশের হতদরিদ্র মানুষের শীত নিবারণের অন্যতম বস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাই এ বছরও শীতের আগমনিতে সরগরম হয়ে উঠেছে কাজিপুরের কম্বল পল্লির গ্রামগুলো। জেলার কাজিপুর উপজেলার শিমুলদাইড়, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, ঢেকুরিয়া ও বেলতৈলসহ আশপাশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামের প্রতিটি ঘরেই চলছে সেলাইয়ের কাজ।

গ্রামের নারীরা এখন আর বসে নেই। তারাও কম্বল সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকেই জমজমাট থাকে কম্বলের বাজার খ্যাত কাজীপুর উপজেলার শিমুলদাইড় বাজার। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী ও পাইকার এখানে আসেন, কিনে নিয়ে যান নানা রঙের কম্বল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার চলতি মৌসুমে ৮০ থেকে ৯০ লাখ পিস কম্বল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এখানকার কারিগরদের। এতে এ বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। এরই মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ লাখ কম্বল বিক্রি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে সময়ের ব্যবধানে এ কাজে যুক্ত হয়েছে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। ফলে কম্বল তৈরি ব্যবসায় স্বাবলম্বী হচ্ছে গ্রামীণ নারীরা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে বেকার যুবকদের।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার ছালাভরা গ্রামের তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে। তিনি জানান, শিমুলদাইড় বাজার থেকে ঝুট কাপড় কিনে নিয়ে গিয়ে সেলাই করে কম্বল তৈরি করেন তিনি। সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে কম্বল সেলাই করে প্রত্যেক মাসে তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বাড়তি আয় করেন। যার ফলে তার সংসারে আগের চেয়ে অনেক আয় উন্নতি হয়েছে।

একই গ্রামের আরেকজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রিনা আক্তার বলেন, এখানে কম্বল ব্যবসা গড়ে ওঠার কারণে এ এলাকায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এতে, পরিবারগুলো আগের চেয়ে অনেকটা স্বাবলম্বী হচ্ছে। সরকার যদি কম সুদে লোনের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে এ ব্যবসাটা আরও ভালোভাবে চালাতে পারতাম।


কম্বল তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি : এপি
শিমুলদাইড় বাজারে কম্বল ব্যবসায়ী ফরহাদ রেজা বলেন, কম্বল তৈরির ব্যবসা এখন আগের চেয়ে অনেক পরিসর বেড়েছে, ব্যবসাও ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম ও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে পেজ খুলে সারা দেশে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় কম্বল পোঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছি। এতে গ্রাহকদের যেমন হয়রানি ও ভোগান্তি কমেছে, তেমনি বিশ্বস্ততা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, কম্বল ব্যবসার কারণে এখানকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তেমনিভাবে শিক্ষার্থীরাও এ কাজে অংশগ্রহণ করে তাদের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে সক্ষম হচ্ছে ও সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছে।

শিমুলদাইড় বাজারে পুরোনো কম্বল ব্যবসায়ী বদিউজ্জামান বলেন, এ বাজারে কম্বলের শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকান থেকে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অনেক জেলায় কম্বল সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্রেতারা পছন্দ করে দরদাম ঠিক করে টাকা পাঠালে এখান থেকে ট্রাকে কম্বল পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিনই ট্রাকে করে কম্বল যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।

তিনি জানান, মৌসুমের শুরুতেই প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার কম্বল বিক্রির অর্ডার পাচ্ছেন তিনি। এ থেকে প্রতিদিন তিনি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। এ মৌসুমে তিনি ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার কম্বল বিক্রি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

কম্বল ব্যবসায়ী লিটন সরকার বলেন, গারমেন্টস থেকে আনা ঝুট কাপড় দিয়ে বাহারি রকমের কম্বল তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এই এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। মানে ভালো আর দামে কম হওয়ায় এখানকার কম্বলের চাহিদা রয়েছে সারা দেশজুড়ে। স্বল্পসুদে ঋণসহ ব্যাংকের শাখা স্থাপন করলে এই শিল্পের আরও উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন তিনি।

শাহজাদপুর থেকে কম্বল কিনতে আসা আসিকুর রহমান বলেন, শীত এলেই গরিব মানুষের কাছে কাজীপুরের ঝুঁট কাপড়ের কম্বলের কদর বেড়ে যায়। দামে কম, টেকসই আর ভালো ওম পাওয়া যায় বলে এ কম্বলের চাহিদা বেশি। তাই এখান থেকে কম্বল কিনে নিয়ে এলাকায় আমরা সীমিত লাভে বিক্রি করি। এখানকার কম্বলের চাহিদা রয়েছে প্রতিটি এলাকায়। তাই তো এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা কম্বল ক্রয় করতে আসেন।

শিমুলদাইড় কম্বল বাজার সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, এ সমিতির আওতায় ৩০৭ জন সদস্য রয়েছেন। প্রত্যেকেই ছোট-বড় কম্বল ব্যবসায়ী। এ মৌসুমে ৮০ থেকে ৯০ লাখ পিস কম্বল তৈরি করে বিক্রি করা হবে। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে মনে করি।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু এশিয়া পোস্টকে বলেন, কাজীপুর উপজেলার শিমুলদাইড় বাজারের কম্বল ব্যবসার সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানকার কম্বলগুলো দামে কম, মানেও অনেক ভালো। সেখানে বিভিন্ন ধরনের কম্বল পাওয়া যায়। তাই তো প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ব্যবসার হয় সেখানে। কাজিপুরের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াতে এবং এই শিল্পটিকে প্রসারের জন্য, স্বল্পসুদে ঋণ ও ব্যাংক স্থাপনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে প্রায় নিঃস্ব নারী-পুরুষরা কম্বল তৈরির কাজ করে অনেকটাই সচ্ছল হচ্ছেন। আমরা কম্বল ব্যবসায়ীদের পাশে সব সময় রয়েছি। ছোট্ট পরিসরে শুরু হওয়ার পর দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়ায় প্রসার ঘটতে থাকে এ কম্বল শিল্পের। প্রতি শীত মৌসুমে এই এলাকাগুলো থেকে সারা দেশে প্রায় কোটি কোটি টাকার কম্বল বিক্রি করা হয়। পাইকারদের কাছে সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনেও সারা দেশেই বিক্রি হচ্ছে এখানকার কম্বল। এ ব্যবসার পরিসর বাড়ানোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মন্তব্য করুন

সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
ময়মনসিংহের ফুলপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস শেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। বালিয়া মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সেনাবাহিনীর একটি বড় গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর গাড়ির চালক ও বাসের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত আটজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, নিহত সেনাসদস্য সার্জেন্ট পদমর্যাদার ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পর কার্যালয়ের সামনে টাঙানো ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের দিন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয়। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের সামনে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্যোগেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভোরে কিছু লোক সেখানে ব্যানার টাঙায়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। কিছুক্ষণ পর ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ব্যানারটি কারা সরিয়েছে, তা জানা যায়নি।
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
সিলেটের হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১০-১২ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। পরদিন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন কোনো দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ সময় সরকারও কার্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জেলা কার্যালয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় এক বক্তা বলেন, শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহিরের নির্দেশে আজ আমরা কার্যালয় খুলেছি। এর মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হলো। হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ-সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে পাঁচজন জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে নাইক্ষ্যংদিয়া নামক নাফ নদী থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সত্যতা নিশ্চিত করে শাহপরীর দ্বীপ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, জালিয়াপাড়া এলাকার মাহামুদুল্লাহর নৌকাটি মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে আরাকান আর্মি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপহৃত জেলেরা হলেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ, শাহ আলম, আমীর আব্বাস, আবুল হোসন। এর মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তারা স্থানীয় মাহামুদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন নৌকায় মাছ শিকার করছিল। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আতাউর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি নৌকা একসঙ্গে মাছ শিকার শেষে ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যায়। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এসে একটি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যায়। অন্য নৌকাগুলো দ্রুত সরে এসে নিরাপদে ফিরে আসি। তিনি আরও বলেন, মাছ শিকার শেষে ফেরার সময় মিয়ানমারের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে আসতে হয়। এ কারণে প্রায়ই জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময় নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে জিন্মি ছিল। এদের মধ্যে গত সোমবার ৭৩ জনকে ফেরত আনে বিজিবি। এ ঘটনার দুই দিনের মাথায় নাফ নদীতে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটল।
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন লম্বরী ও মিঠাপানির ছড়া নৌঘাট এলাকা থেকে ভেসে আসা তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী সৈকত এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে দুটি মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয় জেলেরা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ওসি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া তরুণীর শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। অপরদিকে তরুণের পরনে লম্বা প্যান্ট ও জ্যাকেট ছিল। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ দুটির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকেও জামিন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন। বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির জানান, আদালত বুধবার এই তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বরিশালের অন্তত ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পর্শে হয়ে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার দক্ষিণ নলুয়া গ্রামের খান বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন মৃত শাহাদাত খানের স্ত্রী আমেনা বেগম রিনা (৬৫) এবং তার ছেলে এনামুল হক রাসেল খান (৩৫)। স্বজনরা জানান, বাড়ির প্রায় ৫০০ গজ উত্তরে তারা নতুন ভিটাবাড়িতে সেচের জন্য শ্যালো মেশিনে পানি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ জন্য রাস্তার পাশে স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন এনামুল হক রাসেল।  এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুতায়িত হন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমেনা বেগম রিনাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বাধ্য। কাগজে-কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে কোনো ভৌত অবকাঠামো নেই এসবের। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাজারো মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। তবে এগুলোর কোনো অবকাঠামো নেই। ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রে কোনো জনবল নেই। কসবা ইউনিয়ন কেন্দ্রের দুজন জনবল থাকলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর নাচোলকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ৪টি ইউনিয়ন গঠিত হয়- নাচোল, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর। সাধারণত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকা উচিত, যেখানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন স্যাকমো কর্মরত থাকেন। কিন্তু বাস্তবে এখানে কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয়রা উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া ও ওষুধের খরচ বাড়ছে। দীর্ঘদিন কেন্দ্র না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কসবা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। ভাড়া ও ওষুধপত্রের খরচ বাড়ছে। দ্রুত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক।’ নাচোল উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, তবে অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। নেজামপুর ও ফতেপুর কেন্দ্রে জনবল নেই। কসবা কেন্দ্রে একজন স্যাকমো পদে কর্মরত আছেন, তবে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। তবে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে জনবল শূন্য। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ওইসব জায়গায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগামীতে ওইসব ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে।  এটা অবশ্যই স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবি। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে বেশ উৎপর। আশা করছি, এসব সংকট নিরসন হবে।
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের এ কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন তারা। নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করতেই দীর্ঘদিন পর তারা কার্যালয়ে ফিরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কর্মী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দাবি ছিল কার্যালয়টি চালু করার। আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি।’
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
আরও পড়ুন
অবৈধ বাঁধে ৩০ বছর ডুবে ছিল দুই হাজার বিঘা জমি
সেতু নেই, ২২ হাজার মানুষের ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো
সিরাজগঞ্জে নেই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি