ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

নির্বাচনি মাঠে এখন শঙ্কা লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র-গুলি

এপি নিউজ, বগুড়া

  ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৮
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে অগ্নিকাণ্ডের পর বগুড়া সদর থানা। ছবি : এশিয়া পোস্ট 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারাদেশ টালমাটাল। এমন অবস্থায় বগুড়ার সদর থানায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। থানায় থাকা বিভিন্ন অস্ত্র ও গুলি লুট হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বেশ কিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করলেও অধিকাংশই হাতের নাগালের বাইরে আছে। দেড় বছরে শেষ হয়নি উদ্ধার কার্যক্রম।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

আসন্ন নির্বাচনে এসব অরক্ষিত অস্ত্রের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা নির্বাচনি মাঠে এসব অস্ত্রের অপব্যবহার হতে পারে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দাবি, এমন আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।

বগুড়া জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বগুড়া সদর থানা থেকে ৫টি পিস্তল, ১২টি রাইফেল, ৫টি এসএমজি ও এলএমজি এবং ১৭টি শটগান লুট হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। দুর্বৃত্তের হাতে রয়ে গেছে ৬টি রাইফেল ও ৪টি পিস্তলসহ মোট ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র। ম্যাগাজিন লুট হয় ৫৬টি। উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৩টি। বাকিগুলোর এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ ছাড়া লুট হওয়া ৮ হাজার ৪২৯ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ১৯৪ রাউন্ড। অবশিষ্ট ৮ হাজার ২৩৫ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জেলা পুলিশের তথ্যে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বগুড়ায় ১০টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে পুলিশ। এর মধ্যে ৬টি বিদেশি পিস্তল। এর বাইরে ৬টি ম্যাগাজিন, ১৮১ রাউন্ড গুলি ও ৬৭২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়৷

আরও পড়ুন : গুলশানের দিকে লাইন দিলে তরুণরা ছাড়বে না, প্রশাসনকে হাসনাত

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও বগুড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। জেলাজুড়ে প্রায়ই খুন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
এমনকি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। গত বছরে পুলিশের ওপর হামলার অন্তত ৩টি ঘটনা আছে।

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৫৭টি হত্যাকাণ্ড হয়। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া সদর এলাকায় অপরাধের হার সবচেয়ে বেশি। এ উপজেলায় মোট ১৪টি খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। শাজাহানপুর থানায় ৭টি, শিবগঞ্জ থানায় ৪টি, সোনাতলায় ২টি, গাবতলীতে ৪টি, সারিয়াকান্দিতে ৩টি, আদমদীঘিতে ২টি, দুপচাঁচিয়ায় ৪টি, নন্দীগ্রামে ৪টি, কাহালুতে ৩টি, শেরপুরে ৭টি এবং ধুনটে ৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়াও ১৪টি ডাকাতি ও ৩৫টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারি গাবতলীর নেপালতলী ইউনিয়নে একটি বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাকাতি হয়।

এসব সংঘটিত অপরাধের কারণে স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, এবারের নির্বাচনে সংঘাতের ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। আর এই সংঘাতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করবে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে বিদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা অস্ত্র যেমন রয়েছে। তেমনি লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রও আছে এই শঙ্কার তালিকায়।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তা রাহাত আহমেদ জানান, আমাদের সদর থানায় অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র লুটের ঘটনা আমরা সবাই জানি। সামনে নির্বাচন, এটাকে কেন্দ্র করে এসব অস্ত্রের অপব্যবহার হতেই পারে। এই নির্বাচনের সময় এই অস্ত্রগুলো যদি মানুষের হাতে চলে আসে, আর তারা যদি অপব্যবহার করে, তাহলে আমরা তো সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবো না। তবে আমরা এটাও আশা করি, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসবে।

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম দেখছেন বলে মন্তব্য করেন বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম রিগ্যান। তিনি বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান দেখি। যারা বৈধ অস্ত্রধারী আছেন, তারাও অস্ত্র থানায় জমা দেয়। এবার দৃশ্যমান কিছু এখনও দেখিনি। এ ছাড়া প্রতি বছর অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ প্রশাসন উদ্ধার করে। সেটারও তেমন কিছু দেখছি না। আবার আমাদের জন্য একটি আশঙ্কার বিষয়, সদর থানার অস্ত্র লুট হওয়া ঘটনা। আমরা আশা করব, সরকার অতি দ্রুত অবৈধ ও থানায় লুট অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে।

বগুড়ার সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ তুহিন বলেন, অবৈধ অস্ত্র মানুষের হাতে থাকলে সেটা তো অবশ্যই নির্বাচনে সমস্যা হতে পারে। অতীতেও আমরা এসব নিয়ে কাজ করেছি। দেখেছি অস্ত্রের ঝনঝনানি। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি রাজনীতিবিদদেরও দায় রয়েছে। যেহেতু একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। তারা কোনো আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে আমি মনে করি সরকারকে আরও তৎপর হতে হবে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুসেইন মুহাম্মদ রায়হান এশিয়া পোস্টকে জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন নাশকতা, হত্যাকাণ্ড না করতে পারে এ জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছি। যাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে আমরা নামের তালিকাও করেছি। এ ছাড়া ৫ আগস্টে আমাদের থানায় যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে, সেগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ লক্ষ্যে আমরা পুরস্কারের ঘোষণাও করেছি। আশা করছি, আমাদের তৎপরতায় আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রকার নাশকতা ঘটবে না।

সার্বিক বিষয়ে বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। রাজনৈতিক দলগুলোও আমাদের আশ্বাস দিয়েছে যে— তারাও সহযোগিতা করবে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্টসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সব ডেপ্লয়েড বাহিনী সব ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে। তারা অস্ত্র উদ্ধার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মামলার আসামি, ফেরারি আসামিদের গ্রেপ্তার করছেন।

মন্তব্য করুন

সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
ময়মনসিংহের ফুলপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস শেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। বালিয়া মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সেনাবাহিনীর একটি বড় গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর গাড়ির চালক ও বাসের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত আটজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, নিহত সেনাসদস্য সার্জেন্ট পদমর্যাদার ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সেনাবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, সার্জেন্টসহ নিহত ২
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পর কার্যালয়ের সামনে টাঙানো ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের দিন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয়। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের সামনে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্যোগেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভোরে কিছু লোক সেখানে ব্যানার টাঙায়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। কিছুক্ষণ পর ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ব্যানারটি কারা সরিয়েছে, তা জানা যায়নি।
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
সিলেটের হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১০-১২ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। পরদিন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন কোনো দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ সময় সরকারও কার্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জেলা কার্যালয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় এক বক্তা বলেন, শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহিরের নির্দেশে আজ আমরা কার্যালয় খুলেছি। এর মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হলো। হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
হবিগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে খুলল আওয়ামী লীগের কার্যালয়
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ-সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে পাঁচজন জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে নাইক্ষ্যংদিয়া নামক নাফ নদী থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সত্যতা নিশ্চিত করে শাহপরীর দ্বীপ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, জালিয়াপাড়া এলাকার মাহামুদুল্লাহর নৌকাটি মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে আরাকান আর্মি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপহৃত জেলেরা হলেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ, শাহ আলম, আমীর আব্বাস, আবুল হোসন। এর মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তারা স্থানীয় মাহামুদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন নৌকায় মাছ শিকার করছিল। প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আতাউর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি নৌকা একসঙ্গে মাছ শিকার শেষে ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যায়। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এসে একটি নৌকাসহ পাঁচ জেলেকে ধরে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যায়। অন্য নৌকাগুলো দ্রুত সরে এসে নিরাপদে ফিরে আসি। তিনি আরও বলেন, মাছ শিকার শেষে ফেরার সময় মিয়ানমারের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে আসতে হয়। এ কারণে প্রায়ই জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময় নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে জিন্মি ছিল। এদের মধ্যে গত সোমবার ৭৩ জনকে ফেরত আনে বিজিবি। এ ঘটনার দুই দিনের মাথায় নাফ নদীতে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটল।
নাফ নদী থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন লম্বরী ও মিঠাপানির ছড়া নৌঘাট এলাকা থেকে ভেসে আসা তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী সৈকত এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে দুটি মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয় জেলেরা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ওসি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া তরুণীর শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। অপরদিকে তরুণের পরনে লম্বা প্যান্ট ও জ্যাকেট ছিল। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ দুটির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
টেকনাফ সৈকত থেকে তরুণ-তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকেও জামিন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন। বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির জানান, আদালত বুধবার এই তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বরিশালের অন্তত ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতার জামিন
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পর্শে হয়ে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার দক্ষিণ নলুয়া গ্রামের খান বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন মৃত শাহাদাত খানের স্ত্রী আমেনা বেগম রিনা (৬৫) এবং তার ছেলে এনামুল হক রাসেল খান (৩৫)। স্বজনরা জানান, বাড়ির প্রায় ৫০০ গজ উত্তরে তারা নতুন ভিটাবাড়িতে সেচের জন্য শ্যালো মেশিনে পানি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ জন্য রাস্তার পাশে স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন এনামুল হক রাসেল।  এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুতায়িত হন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমেনা বেগম রিনাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলের মৃত্যু
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষ চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বাধ্য। কাগজে-কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে কোনো ভৌত অবকাঠামো নেই এসবের। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাজারো মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। তবে এগুলোর কোনো অবকাঠামো নেই। ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রে কোনো জনবল নেই। কসবা ইউনিয়ন কেন্দ্রের দুজন জনবল থাকলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর নাচোলকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ৪টি ইউনিয়ন গঠিত হয়- নাচোল, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর। সাধারণত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকা উচিত, যেখানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন স্যাকমো কর্মরত থাকেন। কিন্তু বাস্তবে এখানে কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয়রা উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া ও ওষুধের খরচ বাড়ছে। দীর্ঘদিন কেন্দ্র না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ইউনিয়নগুলোয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কসবা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হয়। ভাড়া ও ওষুধপত্রের খরচ বাড়ছে। দ্রুত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক।’ নাচোল উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, তবে অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। নেজামপুর ও ফতেপুর কেন্দ্রে জনবল নেই। কসবা কেন্দ্রে একজন স্যাকমো পদে কর্মরত আছেন, তবে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে নাচোল উপজেলায় তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবকাঠামো নেই। তবে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে জনবল শূন্য। আরেকটিতে থাকলেও তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ওইসব জায়গায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। আগামীতে ওইসব ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে।  এটা অবশ্যই স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবি। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে বেশ উৎপর। আশা করছি, এসব সংকট নিরসন হবে।
চার ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে শুধু কাগজে-কলমে
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের
নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের টাউন হল মোড়-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের এ কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকালে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন তারা। নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করতেই দীর্ঘদিন পর তারা কার্যালয়ে ফিরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কর্মী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দাবি ছিল কার্যালয়টি চালু করার। আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছি।’
তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ নেতাকর্মীদের