সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ, এমপির আকস্মিক পরিদর্শন
ঝালকাঠির রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা জানতে বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ করেই অফিস পরিদর্শনে যান ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাংবাদিক, পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে জমি রেজিস্ট্রির খরচ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় জমি গ্রহীতা মোঃ জাকির হোসেন জানান, তিন লাখ টাকায় একটি জমি কেনার পর দলিল রেজিস্ট্রির জন্য দলিল লেখক মোঃ আলকাজ হোসেনকে ৩৬ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি শুনে এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, তিন লাখ টাকার জমির ক্ষেত্রে এ পরিমাণ টাকা নেওয়া সরকারি নির্ধারিত রেজিস্ট্রি খরচের চেয়ে বেশি কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পরে তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
তবে দলিল লেখক আলকাজ হোসেনের দাবি, ‘দলিল খরচ বাবদ আমি ৩০ হাজার টাকা নিয়েছি। বাকি ছয় হাজার টাকা জাকির হোসেন বাইরে থেকে দাখিলা সংগ্রহ করতে খরচ করেছেন।’
রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রার (খণ্ডকালীন) মোঃ মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক আলকাজ হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে।
এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময় পেয়েছি। বিশেষ করে ছোট জমিদাতা ও গ্রহীতাদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ আসছে। বিষয়টি সরাসরি দেখতেই অফিসে এসেছি।’
তিনি বলেন, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দলিলদাতার পাশাপাশি গ্রহীতার কাছ থেকেও কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি তদারকিতে একটি টিম গঠন করা হবে।
পরিদর্শনের সময় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হক নান্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ মাসুম বিল্লাহ পারভেজ, সদস্যসচিব সৈয়দ নাজমুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাবু রতন দেবনাথ, সদস্যসচিব মোঃ রিয়াজ হোসেন খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।