ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
জিয়ানগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যান উপহার
জিয়ানগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যান উপহার
পিরোজপুরের জিয়ানগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অসহায় পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ এবং উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যান বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) জিয়ানগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউর রহমান রুবেলের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সহায়তা বিতরণ করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১২০টি অসহায় পরিবারের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে এবং আরও দুটি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যান বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের বর্তমান আমির মাওলানা আলী হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তৌহিদুর রহমান রাতুলসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিক্ষক এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, “আসুন, আমার কোনো ভুল হলে আমাকে বলুন, আমি নিজেকে শুধরে নেব। ভালো কাজে সহযোগিতা করুন। তা না হলে একসময় আপনাদের রাজনীতি হারিয়ে যাবে। রাজনীতি হোক দেশ ও মানুষের কল্যাণে।” তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
জিয়ানগরে সরকারি পুকুরের মাছ ধরার অভিযোগ খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, নিলামে বিক্রি
নেছারাবাদে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্বোধন
জিয়ানগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আ. মান্নান শিকদারের সমর্থনে এমপি মাসুদ সাঈদীর মতবিনিময় সভা জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
জিয়ানগরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, নেছারাবাদে কারখানা মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে রুচি আইসক্রিম কারখানার মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কারখানাটি বন্ধ রাখার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। এ সময় কারখানা থেকে অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুসারে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে রুচি আইসক্রিমের মালিক আবুল হোসেন (৬৫), পিতা—আছমত আলীকে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। মোড়কজাত পণ্যের নিবন্ধন সনদ না থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর উপায়ে আইসক্রিম উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহামুদ। এ সময় প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বরিশালের পরিদর্শক তাহসিন আলম। অভিযানে নেছারাবাদ থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে। অভিযানকালে কারখানার উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন সংগ্রহের আগে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মানসম্মত পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জিয়ানগরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্যের নামে জেলে কার্ড, এলাকায় চাঞ্চল্য

পিরোজপুরের জিয়ানগরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকিরের নামে জেলে কার্ড থাকার এবং এর মাধ্যমে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তার চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়নের ১ নম্বর চরবলেশ্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকিরের নাম মৎস্যজীবীদের তালিকায় রয়েছে। ওই তালিকার ৩৮ নম্বর ক্রমিকে তাঁর নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তার চাল উত্তোলন করছেন। দুলাল ফকির চরবলেশ্বর গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং সমুদ্রে মাছ ধরার দুটি ফিশিং বোটের মালিক। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেও জানা গেছে। এদিকে, চন্ডিপুর ইউনিয়নে প্রকৃত জেলেদের অনেককে বাদ দিয়ে অন্য পেশার লোকজনকে জেলে কার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকির বলেন, “আমি একজন মহাজন। সাগরে মাছ ধরার ফিশিং বোট রয়েছে আমার। তবে মহাজন ও জেলে—সবারই জেলে কার্ড পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি চাল উত্তোলন করে অন্য এক জেলেকে দিয়েছি।” এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ রহমান বলেন, “ইউপি সদস্যের নামে জেলে কার্ডের বিষয়টি আমার জানা নেই। তালিকা না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”

নেছারাবাদে পর্যটন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান  

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ ক্যাম্পাসে পর্যটন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে লুডু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে কলেজের হলরুমে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে লুডু প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক কাবিল মিঞা, সহযোগী অধ্যাপক মো. মনজুরুজুল ইসলাম এবং স্বরূপকাঠি ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আজমল হোসেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিক আহমেদ ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আজমল হোসেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পর্যটনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পর্যটন বিকাশে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে লুডু প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিক আহমেদ ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আজমল হোসেন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং আনন্দমুখর সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।

চটকদার মোড়কের আড়ালে কী? নেছারাবাদে আইসক্রিম ও শিশু খাদ্য নিয়ে প্রশ্ন

পিরোজপুরে প্রশাসনিক নজরদারি এড়াতে ভুয়া ঠিকানা ও ভুয়া ব্র্যান্ড ব্যবহার করে রমরমিয়ে চলছে অনুমোদনহীন আইসক্রিম ও ভেজাল শিশু খাদ্যের ব্যবসা। জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় সরাসরি ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত আইসক্রিম তৈরির পাশাপাশি পটুয়াখালী ও বাগেরহাটের ভুয়া নাম-ঠিকানা এবং পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার অস্তিত্বহীন কারখানার মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছে এসব চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, নেছারাবাদ উপজেলার উত্তর-পশ্চিম সোহাগদল গ্রামের এনডবিøউ মাদরাসার পাশে একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে ‘লুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরি’। বিএসটিআই কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই চরম নোংরা পরিবেশে অননুমোদিত কৃত্রিম রং, নামহীন কেমিক্যাল ও বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে আইসক্রিম ও শিশু খাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এসব পণ্যের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নির্ধারিত ম‚ল্যের কোনো উল্লেখ নেই। ‘সাদ আইসক্রিম’-এর চকবার ও কোকোনাট আইসক্রিম, নছিলা আইসক্রিম, বিভিন্ন ধরনের কাপ আইসক্রিমের গায়ে ভুয়া ঠিকানা হিসেবে পটুয়াখালীর ‘নিউ নন্দিনী’ ও ‘হেতালিয়া’ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি বাগেরহাটের নাম ভাঙিয়ে ‘ক্যাটবেরী আইসক্রিম’ সহ শিশুদের আকর্ষণ করতে ‘রোবট’, ‘দধি’ ও ‘স্পিড’ নামের বিষাক্ত উপাদানসমৃদ্ধ বিভিন্ন ক্ষতিকর শিশু খাদ্য তৈরি ও বিক্রি করা হচ্ছে। কারখানায় তৈরি এসব আইসক্রিম উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের দোকানগুলোতে পৌঁছে দেন তৌহিদ নামের এক বিক্রেতা। তিনি দোকানে দোকানে আইসক্রিম ও শিশু খাদ্য সরবরাহের কথা স্বীকার করে জানান, এসব পণ্য সোহাগদল গ্রামের আবুল হোসেনের কারখানা থেকেই তৈরি হয়ে আসে। আমি শুধু বিক্রি ও দোকানে দোকানে সরবরাহ করি। জানা গেছে, আবুল হোসেনের এই অবৈধ কারখানায় তৌহিদ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন কর্মী মাঠপর্যায়ে সরবরাহ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। অনুমোদনহীন ব্যবসা ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানাটির মালিক আবুল হোসেন নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, আমার কারখানার কোনো সরকারি অনুমোদন নাই, পণ্যের নির্দিষ্ট কোনো বৈধ মোড়কও নাই। ছোটখাটোভাবে কারখানাটি চালাচ্ছি, আমার ভুল হয়ে গেছে। এদিকে অনুসন্ধানে জালিয়াতির আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জেলার নাজিরপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামে ‘আশা ফুড প্রোডাক্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মোড়কে শিশু খাদ্য বাজারে বিক্রি হলেও বাস্তবে জয়পুর গ্রামে এমন কোনো কারখানার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি! কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের নাম ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি অসাধু চক্র শিশুদের হাতে এসব বিষাক্ত পণ্য তুলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে নাজিরপুরের এক বরফ কলের মালিক ফুয়াদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের নাজিরপুরের এলাকা ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া মোড়কে এসব অবৈধ শিশু খাদ্য বিক্রি করা হচ্ছে, যা স্পষ্ট আইনি অপরাধ। এভাবে জালিয়াতি করে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনকে নজরে এনে এই প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তম‚লক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব তারিখহীন ও নাম সর্বস্ব পণ্য অবাধে বিক্রি করায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সচেতন স্থানীয়রা জানান, চটকদার মোড়ক দেখে কোমলমতি শিশুরা এসব কিনে খেয়ে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া ও কাশিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জনস্বার্থে এবং কোমলমতি শিশুদের জীবন রক্ষায় অবিলম্বে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার উত্তর-পশ্চিম সোহাগদল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে উক্ত কারখানাটি সিলগালা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  আশিক আহমেদ জানান, অনুমোদন ছাড়া ও ভুয়া মোড়কে শিশু খাদ্য তৈরি করা গুরুতর অপরাধ। সুনির্দিষ্ট নাম-ঠিকানা পেলেই দ্রুত সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাকে মাইনাস করে কোনো কাজ করতে পারবেন না: এমপি মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আগে তাকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেছেন, পৌরসভার উন্নয়নকাজে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আমাকে মাইনাস করে কোনো কাজ আপনারা করতে পারবেন না। আমাকে না জানিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেবেন না।’ বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুর পৌরসভায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পৌর প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, নীতিমালার কারণে পৌরসভায় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে পৌরসভা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর নিজস্ব বাজেট রয়েছে। সেই বাজেট কোন কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা জানার অধিকার তার পাশাপাশি পৌরবাসীরও রয়েছে। মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আপনারা আমাকে হিসাবটা দেবেন—বাজেট কত ছিল, কোন কোন খাতে কত টাকা ব্যবহার করছেন।’ পৌরবাসীর রাস্তা, পানি ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করার কথাও জানান তিনি। পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে দুর্নীতির মামলা চলছে।’ তার দাবি, মামলা চলাকালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ পাওয়া গেছে। তার আশা, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সড়কের কাজ এ বছর শুরু হবে। রাস্তা ও পানি সমস্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে দুইবার কথা বলেছেন বলেও জানান মাসুদ সাঈদী। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে এখনো সুপরিকল্পিত কোনো প্রস্তাব পাননি বলে দাবি করেন তিনি। পৌরসভা ও নাজিরপুরের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে নিয়ে আলোচনা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা সড়কের কাজ এ বছরই শুরু হবে বলেও জানান তিনি। পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আগে তাকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

জিয়ানগরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে পিরোজপুরের জিয়ানগরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ এলাকায় এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। পরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ওলিউর রহমান রুবেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার অশোক রায়। সভায় বক্তারা বলেন, একটি জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়। শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা, পেশাগত উন্নয়ন ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. আহসানুল হক ছগির। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী হোসেন, জিয়ানগর সরকারি কলেজের অধ্যাপক মো. জাকারিয়া হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনসুর হেলাল, এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন গাজী, সিনিয়র শিক্ষক মো. আরিফুজ্জামান, শিক্ষক মো. গোলাম রাব্বানীসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একটি দক্ষ, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।  

নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা / জিয়ানগরে ইলিশ সংরক্ষণে টাস্কফোর্স কমিটির সভা

পিরোজপুরের জিয়ানগরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়নে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলা মৎস্য বিভাগের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ওলিউর রহমান রুবেল। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, প্রেসক্লাবের সভাপতি খান মো. নাসির উদ্দিন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান, নৌ পুলিশের ইনচার্জ দীপক, জিয়ানগর থানার উপপরিদর্শক সঞ্জীব ঢালী প্রমুখ। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ রহমান। সভায় জানানো হয়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ওলিউর রহমান রুবেল বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে নদীতে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিষেধাজ্ঞার সময় কোনোভাবেই যাতে ইলিশ আহরণ না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষার এই কার্যক্রম সফল করতে জেলে, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। মৎস্য বিভাগ জানায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ করা হলে প্রজননের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ইলিশের পোনা নদীতে যুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে এসব পোনা বড় হয়ে নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তাই নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ বন্ধ, বাজারে ইলিশ বিক্রি নিয়ন্ত্রণ এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।  

আরও
X