ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জিয়ানগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যান উপহার
জিয়ানগরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়
জিয়ানগরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্যের নামে জেলে কার্ড, এলাকায় চাঞ্চল্য
জিয়ানগরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্যের নামে জেলে কার্ড, এলাকায় চাঞ্চল্য
পিরোজপুরের জিয়ানগরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকিরের নামে জেলে কার্ড থাকার এবং এর মাধ্যমে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তার চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়নের ১ নম্বর চরবলেশ্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকিরের নাম মৎস্যজীবীদের তালিকায় রয়েছে। ওই তালিকার ৩৮ নম্বর ক্রমিকে তাঁর নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তার চাল উত্তোলন করছেন। দুলাল ফকির চরবলেশ্বর গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং সমুদ্রে মাছ ধরার দুটি ফিশিং বোটের মালিক। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেও জানা গেছে। এদিকে, চন্ডিপুর ইউনিয়নে প্রকৃত জেলেদের অনেককে বাদ দিয়ে অন্য পেশার লোকজনকে জেলে কার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকির বলেন, “আমি একজন মহাজন। সাগরে মাছ ধরার ফিশিং বোট রয়েছে আমার। তবে মহাজন ও জেলে—সবারই জেলে কার্ড পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি চাল উত্তোলন করে অন্য এক জেলেকে দিয়েছি।” এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ রহমান বলেন, “ইউপি সদস্যের নামে জেলে কার্ডের বিষয়টি আমার জানা নেই। তালিকা না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”
জিয়ানগরে ইলিশ সংরক্ষণে টাস্কফোর্স কমিটির সভা
স্বামীর পরকীয়া ও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতনের অভিযোগ, গৃহবধূ নাদিয়ার মৃত্যু!
চিকিৎসক থেকে পানি—নানা সংকটে জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ভোগান্তিতে কয়েক গ্রামের মানুষ
জিয়ানগরের পত্তাশীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ও খেজুরতলা এলাকায় এডিস মশার বংশবিস্তার প্রতিরোধ ও ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুর ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খেজুরতলা এলাকায় পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের নির্দেশনায় এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জোবায়ের তালুকদারের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কার্যক্রমে স্থানীয় চিকিৎসক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন মানুষ অংশ নেন। সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পত্তাশী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ও খেজুরতলা এলাকায় এ অভিযান শুরু করা হয়েছে। চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আগামী তিন মাসব্যাপী এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশ থেকে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব দূর করতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।” পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেই হবে না, প্রত্যেক পরিবারকে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার না করতে পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। জনসচেতনতা সৃষ্টি ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের এ কার্যক্রম আগামী তিন মাস অব্যাহত থাকবে।”  

নিজের অধিকার নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হয়: মাসুদ সাঈদী এমপি

“নিজের অধিকার নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। অধিকার কেউ এমনিতেই দেয় না, তা আদায় করে নিতে হয়। সমাজে নিজের গ্রহণযোগ্যতা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়।” পিরোজপুরের জিয়ানগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জিয়ানগর উপজেলা শাখার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার এফ. করিম আলিম মাদ্রাসায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আমির মাওলানা আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রব। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নির্বাচনী বিভাগের সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জননেতা নাসিম সাঈদী, উপজেলা সেক্রেটারি তৌহিদুর রহমান রাতুল, উপজেলা বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা তাওহিদুল ইসলামসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, রোকন ও কর্মীরা। মতবিনিময়কালে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী উপস্থিত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত মাসব্যাপী দাওয়াতি কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

জিয়ানগরে জামায়াতের অর্থায়নে ইটসলিং রাস্তা নির্মাণ উদ্বোধন

পিরোজপুরের জিয়ানগরে ২ নম্বর পত্তাশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩০০ মিটার ইটসলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তাটি নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম। রামচন্দ্রপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ সেবাশ্রম থেকে সঞ্জয় হালদারের বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাটি জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। জনসাধারণের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী রাস্তাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের অবহেলিত রাস্তাটি জামায়াতে ইসলামীর অর্থায়নে এবং ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাদের জন্য দোয়া করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, “সবকিছুর জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের দিকে না তাকিয়ে সমাজের বিত্তবানদেরও উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসা উচিত। এলাকার উন্নয়নে আমার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আগামী মাসের মধ্যে এলাকার উন্নয়নের সব কাজ শুরু হবে।” ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারি সহায়তার পাশাপাশি আমি এলাকার বিভিন্ন রাস্তা, পোল ও বাঁধ নির্মাণে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে জামায়াতে ইসলামীর আর্থিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। আমার সমাজসেবামূলক কার্যক্রম সবসময় অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল মান্নানসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।  

রাস্তা নয়, যেন মরণফাঁদ! জিয়ানগরে বেহাল সড়কে চরম দুর্ভোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি

পিরোজপুরের জিয়ানগরে ঐতিহ্যবাহী ইন্দুরকানী বাজার থেকে জিয়ানগর সরকারি কলেজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ। ইন্দুরকানী বাজারের পাশেই রয়েছে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি থানা, ছয়টি ব্যাংকসহ কয়েক শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন অসংখ্য মানুষ। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা হলেও কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ইন্দুরকানী বাজারের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—আর কতদিন অপেক্ষা? কবে সংস্কার হবে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি? সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন। এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা প্রকৌশলী ওবায়েদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকারের আওতাধীন কোনো সড়কের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগে রিপিয়ারের চাহিদা দেওয়া যায় না। এ সড়কের রিপিয়ারের চাহিদা আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দেওয়া যাবে। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আপাতত সাময়িক মেরামতের বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটির মেরামতের কাজ শুরু হবে।”

জিয়ানগরে সরকারি খাল দখল করে নির্মিত ৮টি অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ

পিরোজপুরের জিয়ানগরে সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত ৮টি দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. রুবাইয়াত ফেরদৌস ও জিয়ানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওলিউর রহমান (রুবেল)-এর নেতৃত্বে এবং ইন্দুরকানী থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার কালাইয়া খায়েরহাট এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ করা দোকানঘরগুলোর মালিকরা হলেন—মো. জামাল মোল্লা, মো. মামুন, মো. বাশার আকন, নুরুল ইসলাম, মো. বাসার মৃধা, মো. হাবিবুর রহমান, মো. সোবাহান খান ও মো. আনিস। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদের আগে দোকানঘরগুলোর মালিকদের নিজ নিজ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিশ পাওয়ার পরও কোনো দোকান মালিক তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেননি। পরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জিয়ানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওলিউর রহমান (রুবেল) বলেন, “সরকারি জমি ও খাল দখল করে নির্মিত সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারসহ সরকারি জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।” পিরোজপুর জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. রুবাইয়াত ফেরদৌস বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দখলকারী দোকান মালিকদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা আমলে নেননি। পরে বাধ্য হয়ে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি জমি ও খাল অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত সব স্থাপনা উচ্ছেদে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জিয়ানগরে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে ‘দলীয় সুপারিশের’ অভিযোগ

পিরোজপুরের জিয়ানগরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে জনবল নিয়োগে মেধা তালিকা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিএনপির সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাধারণ আবেদনকারী ও মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষে গত ৪ আগস্ট সকালে তিন শতাধিক প্রার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ওই দিনই মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ফলাফল ও নিয়োগ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দলীয় সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফলে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় সুপারিশই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে জনবল নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে নিয়োগ কমিটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে জিয়ানগরে নিয়োগের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আল-আমিন হোসেন সুপারভাইজার পদে এবং সরকারি ইন্দুরকানী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি মো. মারুফ তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নিয়োগ পাওয়া অন্যদের নিয়েও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেধা তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, “পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে মেধা যাচাইয়ের জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি দলীয় পরিচয় ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন কী ছিল? আমরা যোগ্য হয়েও বঞ্চিত হয়েছি।” তাদের অভিযোগ, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে সরকারি কার্যক্রমেও দলীয়করণের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করব না।” এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “যারা ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবহারিক পরীক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ৭০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা সবাই যোগ্য প্রার্থী। এসব যোগ্য প্রার্থীর মধ্য থেকে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু ছাত্রদল ও যুবদলের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে, আর কোনো দল বা মতের কাউকে উত্তীর্ণ করা হয়নি”—এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি, অনেক অভিজ্ঞ প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অনভিজ্ঞদের দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আরও
X