ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
অবশেষে মিটল প্রবাসফেরত ছেলে ও বাবার বিরোধ, যে সিদ্ধান্ত হলো
গুপ্ত দলটি সবসময় জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী
ফেনীতে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করায় জরিমানা
ফেনীতে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করায় জরিমানা
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির দায়ে এক ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনী , একই অভিযানে নকল লাল চিনি বিক্রির অভিযোগে আরও একটি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে ফেনীর সালাউদ্দিন মোড়, বিসিক এলাকা ও বড় বাজারে বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ফেনী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে এলপিজির বাজার, ভোজ্যতেল ও নিত্যপণ্যের মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। এ সময় বিসিক এলাকায় মেসার্স মক্কা ট্রেডিং কর্পোরেশন নামের বিএম গ্যাসের এক ডিলারকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু ওই ডিলার পাইকারি পর্যায়ে একই সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। তিনি গ্যাসটি ১ হাজার ৫৬০ টাকায় কেনার কথা জানালেও এর স্বপক্ষে কোনো ক্রয় ভাউচার দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি বিক্রির পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের কোনো বিক্রয় ভাউচার দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছেও পণ্য কেনার প্রমাণক না থাকায় তারা ইচ্ছামতো মূল্যে ভোক্তাদের কাছে এলপিজি বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান। এসব কর্মকাণ্ডকে ভোক্তা অধিকারবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় মেসার্স মক্কা ট্রেডিং কর্পোরেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানে সালাউদ্দিন মোড় এলাকার মেসার্স সায়েম খাদ্য বিতানকে নকল লাল চিনি বিক্রির অভিযোগে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে মোট দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পাশাপাশি ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। অভিযানে জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ফেনীতে সড়ক উন্নয়ন কাজে চাঁদা দাবির সত্যতা পায়নি বিএনপির তদন্ত কমিটি
ফেনীতে জেলি পুশ করা ১০৫ কেজি চিংড়ি জব্দ, তিন আড়তকে জরিমানা 
ফেনীতে বাস উল্টে নিহত ১, আহত একাধিক
দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩
​​​​​​​প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফেনীতে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা ছাড়ল বিএনপি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীতে উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী সদর উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের ফাজিল মোহাম্মদ চৌধুরী হাটখোলা এলাকায় ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন মধুয়াই খালে এসব মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। এ সময় ফেনী জেলা বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জলজ সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ফেনীর জেলা প্রশাসক মাহবুবউল করিমের মতবিনিময় 

ফেনীতে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক জেলার সার্বিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জন সেবার মানোন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেন কর্মরত সাংবাদিকরা। সাংবাদিকরা ফেনীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনস্বার্থে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ফেনীতে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।  

নুসরাত হত্যাকাণ্ড: ‘রহস্য থেকেই গেল’ বললেন শিশির মনির

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে কীভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন ও রহস্য রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। সোমবার (২৪ আগস্ট) নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। শিশির মনির বলেন, নুসরাত মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে চারজন নারীর কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সাজা দেওয়ার সময় একজন নারীকে আসামি হিসেবে পাওয়া গেলেও বাকি তিনজন কীভাবে পুরুষ হয়ে গেলেন—এ প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি এখনও রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। নুসরাতকে সাইক্লোন সেন্টারের তিনতলার ওপরে কীভাবে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, সেখানে আগুন লাগানোর সময় কেউ কিছু শুনলেন না, আশপাশের কেউ বিষয়টি জানতে পারলেন না কিংবা কোনো শব্দও শুনতে পেলেন না—এ বিষয়টিও পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। নুসরাত হত্যা মামলাটিকে চাঞ্চল্যকর উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন, আর চারজনের কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছিল না। তিনি বলেন, ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১০ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন, চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। শিশির মনির আরও বলেন, বিচারিক আদালতের রায়ে নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে এসেছে। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর ‘বিধ্বংসী প্রভাব’ পড়েছে বলেও আদালত মন্তব্য করেছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ওই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিশির মনির জানান, এ মামলায় তিনি তিনজন আসামির আইনজীবী ছিলেন। তারা হলেন—কামরুন নাহার মনি, সাইফুর রহমান জুবায়ের ও মোহাম্মদ শামীম। তাদের মধ্যে মনি ও মোহাম্মদ শামীম খালাস পেয়েছেন। সাইফুর রহমান জুবায়েরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জুবায়েরের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জুবায়েরের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করব। মামলার ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার বিষয়টি তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, আমরা আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি যুক্তি তুলে ধরেছিলাম, রাষ্ট্রপক্ষ তার জবাব দেয়নি। ছয় বছর আগেও সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা বা প্রসিকিউশন সেই ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে আদালতে উপস্থাপন করেনি। ঘটনাস্থলে একটা সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। এই সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি আজও সেখানে আছে। ছয় বছর আগেও সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু প্রসিকিউশন বা তদন্ত কর্মকর্তা ওই সিসিটিভি ক্যামেরাও জব্দ করেনি। সিসিটিভি ক্যামেরাটাকে আদালতের সামনে উপস্থাপনও করেনি। এই ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যদি আদালতের সামনে আসতো সুনির্দিষ্টভাবে বোঝা যেত কে কাকে কোথায় কি করেছে, কীভাবে কে কাকে মেরেছে কিংবা মারেনি। সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলে মামলার মূল ভিত্তি ও আসামিপক্ষের যুক্তি ভিন্ন হতে পারত। শিশির মনির বলেন, কিন্তু একটা রহস্য থেকে গেল যে তিন তালার উপরে সাইক্লোন সেন্টারে নুসরাতের গায়ে কি করে আগুন লাগলো কেউই শুনল না, আশপাশের লোক কেউ জানল না, কেউ শব্দ পেল না একা একা আগুন লেগে গেল- এই পার্টটুকুর রহস্য এখানে থেকেই গেল। ফলে আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল করব। আমরা আশা করি আপিল বিভাগে গিয়ে এই রহস্যের উন্মোচন হবে। শিশির মনির বলেন, নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির যে অডিও এবং ভিডিও রয়েছে হাইকোর্টে সেটি উপস্থাপনের জন্য তারা আবেদন করেছিলেন। ওই ভিডিও সরাসরি দেখলে নুসরাত আসলে কী বলেছিলেন এবং কী বলেননি, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যেত। শিশির মনিরের দাবি, মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে চারজন বোরকা পরা নারীর কথা বলা হলেও পরবর্তী মামলায় তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আসামি পাওয়া যায়নি। নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে চারজন বোরকা পরা নারীর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। ফলে জবানবন্দিতে বলা চার নারীর সঙ্গে মামলার আসামিদের মিল না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে। সাইফুর রহমান জুবায়েরের আপিলের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী। উল্লেখ্য, ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা হয়েছে। এতে আগে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও ১০ জনকে খালাস দেন। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আলোচিত এ মামলার রায় দেন। রায়ে যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে তারা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। আর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে চার আসামিকে। তারা হলেন- সাইফুর রহমান জুবায়ের, উম্মে সুলতানা পপি, নুর উদ্দীন ও সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ। এই মামলায় খালাস পাওয়া ১০ জন হলেন- সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম। আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

ফেনীর বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দুজনের ফাঁসি ও চরজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এছাড়া খালাস পেয়েছেন ১০ জন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট থেকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামী। আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় রায় দেন। রায়ে মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে নুসরাতের মা শিরীন আক্তার মামলা করেন। পরে সিরাজকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগপত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে ছাদে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা করেন। ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ২৪ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন আদালত।

ফুলগাজীতে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনীর ফুলগাজীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬।  মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলা চলবে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত। মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ। পরে পরশুরাম রেঞ্জের বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবু নাসের জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও কাউছার হামিদ নিজের শিক্ষাজীবনের একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “ইউনিভার্সিটিতে থাকতে আমার একটা পরিকল্পনা ছিল-চাকরি না পেলে একটি ফলের বাগান করব, আর একটি জুস ফ্যাক্টরি করব।”  উদ্যোক্তা ও নার্সারি ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বেশি করে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান তিনি। মেলায় পাঁচটি স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কাজী নার্সারি, মিজান নার্সারি, ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুরের প্রবাসী নার্সারি এবং বন বিভাগ অংশ নিয়েছে। বন বিভাগের উদ্যোগে বীজ ও চারা প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মেলায় এসে স্টল পরিদর্শন করছে। আলোচনা সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা, ফুলগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, সমবায় কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাসুদুল হক, মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, আইসিটি কর্মকর্তা আছমা আক্তার, ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ, আনন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া ফারুকসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরশুরাম রেঞ্জের বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবু নাসের জিয়াউর রহমান জানান, মেলায় অংশ নেওয়া বেসরকারি নার্সারিগুলো থেকে দর্শনার্থীরা পছন্দের বিভিন্ন প্রজাতির চারা কিনতে পারবেন। আয়োজকরা জানান, আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির চারা প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শহরের ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে' ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম কায়সার এলিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিন মামুন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ সবুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দোলন, ছাগলনাইয়া উপজেলা সভাপতি জাফর আহমেদ মজুমদার, সদর উপজেলা সদস্য সচিব বেলাল হোসেন, জেলা সহ-সভাপতি ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মিল্লাত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন রিয়াদ প্রমুখ।  এ সময় ফেনী সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুবায়ের হোসেন, দাগনভূঞা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন, ফেনী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান ও সদস্য সচিব ইকবাল হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের মহিপাল, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, ফেনী প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকা, ফেনী সরকারি কলেজ গেট এবং ফেনী সদর হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় এক হাজার জন অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ প্রয়াত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

আরও
X