ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শারদীয় দুর্গাপুজা উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি
দিনমজুর দবির উদ্দীন ভারতে পাচার করছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ন; অতপরঃ
ভারত থেকে কেনা ১৮ টি ব্রডগেজ রেলকোচ  দেশে এসেছে 
ভারত থেকে কেনা ১৮ টি ব্রডগেজ রেলকোচ  দেশে এসেছে 
ভারত থেকে কেনা ১৮ টি ব্রডগেজ রেলকোচ  দেশে এসেছে। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা বন্দর দিয়ে ভারত থেকর ১৮ টি ব্রডগেজ রেলকোচ বাংলাদেশে পৌঁছে।  এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী ডি়ভিশনে কর্মকর্তারা কোচগুলো দর্শনা সীমান্তে গ্রহন করেন। এ সময় সীমান্তে নতুন রেলকোচ দেখতে অনেকেই ভীড় জমান। রেলকোচসমূহের মধ্যে রয়েছে ১১টি নন এসি শোভন চেয়ার কার, ০৩ টি এসি চেয়ার কার, ০২ টি এসি স্লিপার কার এবং ০২ টি এসি পাওয়ার কার। ১২ অক্টোবর  ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালার রেলকোচ ফ্যাক্টরি থেকে কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠায় ভারত। এরপর পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট রেলস্টেশনে অবস্থান করে। এরপর আজ শুক্রবার ( ১৬ অক্টোবর)  দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের গেত বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের দর্শনায় পৌঁছে।  বাংলাদেশের দর্শনায় কাস্টম ক্লিয়ারেন্স সহ আনুষঙ্গিক কার্যাদি শেষে কোচগুলো পরীক্ষা-নীরিক্ষার উদ্দেশ্যে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।  বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন জানান, কোচগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে। এতে রেলওয়ের যাত্রীসেবা বাড়বে। পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কোচগুলো আজ দর্শনা বন্দরে ঢুকল। এরপর সৈয়দপুর রেলকারখানায় নেয়া হবে।  সেখানে ট্রায়াল রান করা হবে। তারপর বলা যাবে৷ কোচগুলে কেমন হয়েছে।  ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে ভারতের রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল এন্ড ইকোনোমিক সার্ভিসেস লিঃ এর সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ২০০টি এলএইচবি ব্রডগেজ রেলওয়ে কোচ সরবরাহের  এটি প্রথম চালান। 
চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় যুবককে হত্যা
জীবননগরে রাতের আঁধারে মাল্টা ও কলাগাছ কাটার অভিযোগ
ভারতে প্রবেশের চেষ্টায় সীমান্তে বিজিবির হাতে দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
অবশেষে জীবননগরে অবৈধ মজুদের সার বিক্রি, কৃষকের মুখে স্বস্তি
পৌর প্রশাসককে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানালেন দর্শনা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ​

দর্শনায় পৌর প্রশাসক শাহিন আলমকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানালেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন পৌর প্রশাসক শাহিন আলম। মাত্র ৯ মাসের কার্যকালে দর্শনা পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, দ্রুত নাগরিক সেবা প্রদান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ও প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের মাধ্যমে তিনি নানা উন্নয়নের রূপকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে  পৌর প্রশাসক শাহিন আলমের রাজশাহী বিভাগে বদলিজনিত কারণে রবিবার ( ৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দর্শনা পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যালয়ে তাঁকে এক বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজিত এই বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে অনেকের চোখেই অশ্রু দেখা যায়। ​পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল আলম বলেন, “আমি দীর্ঘকাল বিভিন্ন পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করেছি। তবে শাহিন আলম স্যার অল্প সময়ে পৌরবাসীকে যেভাবে সেবা দিয়েছেন, তা কল্পনার অতীত। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ থেকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা, সৎভাবে জীবনযাপনের পরামর্শ দেওয়া এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কীভাবে কাজ করতে হয়—তিনি তার বহু উদাহরণ আমাদের শিখিয়েছেন। স্যার যেখানেই থাকুন, আমরা তাঁর মঙ্গল কামনা করি এবং আশা করি তিনি আরও উচ্চতর পদে আসীন হবেন।” ​পৌরসভার কর-নির্ধারক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার দীর্ঘ ৩০ বছরের চাকরিজীবনে অনেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। স্যারকে কখনোই আমাদের কাছে ‘প্রশাসক’ বলে মনে হয়নি; তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও বন্ধুর মতো। কাউকে তিনি কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতেন না, কোনো কর্মচারীকে ছোট করে দেখতেন না। ছোট-বড় সকলকেই সমান চোখে দেখতেন এবং তাঁর কাছে কোনো আবদার নিয়ে গেলে কেউ খালি হাতে ফিরত না।” ​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুকুল হোসেন, পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলম শাহ, হিসাবরক্ষক আরেফিন হোসেন, লাইসেন্স পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম, সহকারী কর আদায়কারী গোলাম কিবরিয়া ও কনজারভেশন ইন্সপেক্টর মোমিনুল ইসলামসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।  

রাষ্ট্রের প্রতিটি দপ্তরে তাঁর সৃষ্টি, অথচ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি আজও এন. এন. সাহার 

চুয়াডাঙ্গার মাটিতে জন্ম নেয়া এমন একজন কৃতী সন্তানের নাম এন. এন. সাহা, যার সৃষ্টি আজও বহন করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র। সরকারি দপ্তর, সচিবালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত, সরকারি সিলমোহর, বাংলাদেশ পাসপোর্টের প্রচ্ছদ এবং অসংখ্য প্রশাসনিক নথিতে প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে তাঁর নকশা করা রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এই কৃতী মুক্তিযোদ্ধা,  ও শিল্পী পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা জাতীয় সম্মাননা। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী এলেই নতুন করে উঠে আসে একই প্রশ্ন—যাঁর সৃষ্টি রাষ্ট্র প্রতিদিন ব্যবহার করছে, সেই মানুষটির অবদান কি রাষ্ট্র ভুলে গেছে? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. আসহাব উল হকের আহ্বানে এন. এন. সাহা মুজিবনগর সরকারের জন্য রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের একাধিক নকশা প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে নির্বাচিত নকশাটি ২ এপ্রিল সরবরাহ করা হয়। সেই নকশার ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে সরকারি মনোগ্রাম ব্যবহৃত হতে থাকে। ১০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলার কারণে অনুষ্ঠানটি বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) স্থানান্তরিত হয়। রাষ্ট্রীয় এই মনোগ্রামের নকশায় রয়েছে—বৃত্তের ঠিক মাঝখানে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র, বৃত্তের ওপরের অংশে “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” এবং নিচের অংশে “সরকার” লেখা। বৃত্তের দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা সংযোজিত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের সব দাফতরিক কার্যক্রম, সরকারি সিলমোহর এবং বাংলাদেশ পাসপোর্টের প্রচ্ছদে এই মনোগ্রামটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। শুধু মনোগ্রামের নকশাকারই নন, এন. এন. সাহা ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট শিল্পী ও সমাজসেবক। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান এবং শিল্পসৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রগঠনে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু সেই ইতিহাস আজও যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। চুয়াডাঙ্গার মানুষের কাছে বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানের প্রশ্ন নয়; এটি জেলার গৌরবেরও প্রশ্ন। এই জেলার সন্তান হিসেবে এন. এন. সাহা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক নির্মাণ করেছেন। অথচ তাঁর নামে জাতীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা নেই। যদিও স্থানীয়ভাবে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি বহুবার উঠেছে এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন, যেন তাঁর অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়িত হয়। তাঁদের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহের বিষয় নয়; বরং ইতিহাসের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার অংশ। একজন শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রগঠনের নেপথ্য কারিগর হিসেবে এন. এন. সাহার যথাযথ মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে সহায়ক হবে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন একজন রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের প্রণেতার অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে না? কেন তাঁর জীবন ও কর্ম জাতীয় পাঠ্যক্রম, জাদুঘর কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্মাননার আলোচনায় স্থান পাবে না? ২০০২ সালের ২ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এন. এন. সাহা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সহধর্মিণী বিমলা বালা সাহাও পরবর্তীতে পরলোকগমন করেন। তাঁদের চার পুত্রের মধ্যে মেজো পুত্র মনোজ কুমার সাহাও আর বেঁচে নেই। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা  আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ যে মানুষের সৃষ্টি আজও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দাপ্তরিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাঁর পরিবারই আজ অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এন. এন. সাহার মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা শুধু তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হবে না, বরং তাঁর পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতারও বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। চুয়াডাঙ্গাবাসীর প্রত্যাশা, রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের প্রণেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলার গর্ব এন. এন. সাহার অবদান দ্রুত সরকারি উদ্যোগে যাচাই করে তাঁকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সরকার এগিয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশাও স্থানীয় মানুষের। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একটি জাতি তার প্রকৃত কৃতীদের সম্মান জানাতে পারলেই ইতিহাসের প্রতি তার দায়বদ্ধতা পূর্ণতা পায়।

মাদ্রাসার নামে ভুয়া রশিদ বই ছাপিয়ে প্রতারণামূলকভাবে টাকা আদায়: আটক ৩

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাদ্রাসার নামে ভুয়া রশিদ বই ছাপিয়ে প্রতারণামূলকভাবে টাকা আদায়ের সময় তিন প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। আজ রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার মালিক সুপার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ৮ জনের একটি প্রতারক চক্র বেশ কিছুদিন ধরে মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিল। আজ রোববার মালিক সুপার মার্কেট এলাকায় তাদের সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি ও টাকা তুলতে দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে স্থানীয় জনতা প্রতারক চক্রটিকে ধাওয়া করে। এ সময় জনগণের রোশনালে পড়ে ৫ জন কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাকি ৩ জনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে দামুড়হুদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভুয়া রশিদ বইতে "নাজমুল হোসাইন বিপ্লবী" নামের এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এমন অভিনব কায়দায় প্রতারণা চালিয়ে আসছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দামুড়হুদা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ভুয়া রশিদ চক্রের পলাতক বাকি ৫ সদস্যকে আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রদল নেতার শরীরে ফুটন্ত পানি ঢেলে ঝলসে দিল আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পুকুরপাড়া এলাকায় মসজিদে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হাসানুজ্জামানের (৩১) শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে সুলতানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও দুজন দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের পুকুরপাড়া মোড়ে জামালের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অপর দুজন হলেন একই এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৪২) ও হাসান (৩২)। তাঁদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ছাত্রদল নেতা হাসানুজ্জামান শঙ্করচন্দ্র গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাসানুজ্জামান অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে তিনি স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে পুকুরপাড়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতান মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ জানালে রাজনৈতিক আক্রোশে সুলতান দোকানের কেটলিতে থাকা ফুটন্ত গরম পানি তাঁর শরীরে ছুড়ে মারেন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে পাশে থাকা সিরাজুল ইসলাম ও হাসানের শরীরেও গরম পানি পড়ে। এতে তিনজনই দগ্ধ হন। ঘটনার পর সুলতান পালিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সুলতান শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আত্তাব হোসেনের ছেলে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ তিনজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে পোস্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকে মারধরের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলমডাঙ্গা উপজেলা সদস্য সচিব মোঃ আরাফাত রহমান (২১)-কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।  বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আরাফাত রহমান। আরাফাত রহমান আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের হাড়গাড়ী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুরের আনারুল ইসলামের ছেলে মোঃ কাজল আলী (২১), আলমডাঙ্গা স্টেশনপাড়ার মৃত সাইফুল ইসলাম কনকের ছেলে মোঃ সাইফ আলী (২০), আলমডাঙ্গা এক্সচেঞ্জপাড়ার সাংবাদিক বশিরুল ইসলামের ছেলে মোঃ স্বপ্নীল (২০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় এজাহার দিয়েছেন আরাফাত রহমান। জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আরাফাত রহমান। তার অভিযোগ, ওই পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। আরাফাত রহমানের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে বিএনসিসি সদস্যদের নিয়ে কর্মব্যস্ত থাকার সময় প্রথম আসামি মোঃ কাজল আলীসহ অন্যরা তার ওপর হামলা করেন। হামলার সময় ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে কেন পোস্ট করা হয়েছে, তা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এবং বৈষম্যরোধী ছাত্র আন্দোলনের ট্যাগ লাগিয়ে একপর্যায়ে তাকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রথম অভিযুক্ত মোঃ কাজল আলী বিএনসিসি ক্যাডেট প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত ডেমো রাইফেল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। এতে আঘাতটি তার বাম হাতের কাঁধের ওপর লাগে এবং সেখানে গুরুতর জখম, কালশিরা ও নীলাফোলা হয়। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে দ্বিতীয় অভিযুক্ত সাইফ আলী জিআই পাইপ দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় অভিযুক্ত মোঃ স্বপ্নীল কাঠের বাটাম দিয়ে তার ডান হাত ও ডান পায়ে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাতেও থেতলানো, কালশিরা ও ফোলাজনিত জখম হয়েছে বলে দাবি করেছেন আরাফাত। আরাফাতের চিৎকারে আশপাশে থাকা বিএনসিসির সহকর্মী ও স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলমডাঙ্গা উপজেলা সদস্য সচিব মোঃ আরাফাত রহমান (২১) বলেন আমাকে মারধরের পর আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে আমি ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছি।  এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা করেছেন নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার।  মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সড়ক-মহাসড়কে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি দমন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করার কথা জানান। তিনি চুয়াডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ, অনলাইন জুয়া, সাইবার বুলিং এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা মাদকের বিস্তার রোধ, শহরের যানজট নিরসন এবং স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানান। পাশাপাশি অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। সভাটি সঞ্চালনা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন ডিআই (১) কামরুজ্জামান। চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশি পিস্তল ও গুলিসহ মাদক উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার ভারত সীমান্তবর্তী জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রাম থেকে ১টি দেশী পিস্তল ২ রাউন্ড গুলি মাদক ইসকাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে বিজিবি-৫৮ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।  সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাটালিয়ন অধীনস্থ চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানার অন্তর্গত গয়েশপুর বিওপি'র হাবিলদার ইছাব্বর আলী'র নেতৃত্বে একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ৬৭/২-এস হতে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের কলুপাড়া গোয়ালদার পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত আম বাগানের মধ্যে একজন চোরাকারবারীকে ধাওয়া করে।  সে সময় সে একটি প্লাস্টিকের লাল নেটের বস্তা ফেলে সীমান্ত শুন্য রেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া বস্তা খোলার পর বস্তার মধ্যে ৭৮ বোতল ইসকাফ সিরাপসহ স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো সবুজ পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ১টি দেশী পিস্তল এবং ২ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। উদ্ধারকরা অস্ত্র, গুলি এবং ইসকাফ সিরাপ জীবননগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও
X