বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ জনপদেও বিল জলাশয়ে ধেথতে পাৗযঅ যায়। আবার অনেক মানুষের জীবিকা ও আয়ের প্রধান উৎস। বিল বা জলাশয় থেকে শাপলা তুলে হাটে-বাজারে বিক্রি করে সংসার চালান।
শাপলা ফুল তুলে বাজারে বিক্রি করে কোনমতে সংসার চালান দিনমজুর তরিকুল ইসলাম। দিন ভালো গেলে পেট ভরে খেতে পারেন স্ত্রী-সন্তানরা, না হলে অর্ধাহারেই কেটে যায় দিন। অথচ এই অভাবি মানুষটি এখনো পর্যন্ত পায়নি ইউনিয়ন পরিষদের হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত কোনো সরকারি ভিজিডি, ভিজিএফ বা টিসিবি কার্ড, নেই ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাওয়ার তালিকায় নাম।
সরেজমিনে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর খামারী পাড়ার তরিকুল ইসলাম (৪৪)। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার অভাব-অনটনের সংসার। ঠিকমতো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। জীবিকার জন্য পরের বাড়িতে কামলা খাটা আর বষা মৌসুমে বিলে শাপলা তুলেই চলে সংসার। বেশ কয়েক বছর ধরে বাড়ির পাশেই কুড়ুলগাছি রায়সা বিলের শাপলা ফুল সংগ্রহ করে হাটে-বাজারে বিক্রি করে সংসার চলে।
রায়সা বিল প্রতিদিন বাবা-ছেলে কাক ডাকা ভোরে বিলের পানিতে নেমে সংগ্রহ করেন শাপলা। আর সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে দর্শনা শহরসহ আশেপাশের এলকার বাজারে বিক্রি করেন । প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ আটি শাপলা ফুল তোলেন । আটি প্রতি ১০-১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন শাপলা ফুল। দিনে ৫শ থেকে ৬শ টাকা আয় হয় । তাদিয়ে চলে সংসার । যেদিন বেচা কিনা ভালো হয় না, সে দিন পরিবারের সকলকে না খেয়ে থাকতে হয়।
তরিকুল বলেন, বর্ষা মৌসুমে শাপলা তুলে বিক্রি করেই চলে সংসার। কষ্ট করে সংসার চালালেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। না আছে ভিজিডি কার্ড, না ভিজিএফ, না টিসিবির সাশ্রয়ী পণ্যের কার্ড। তিনি আরও বলেন, নুন আনতে পানতা ফুরায়। সরকারি কোনো সহায়তা পেলে সংসারটা একটু বাঁচত।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত কুমার জানান, ‘‘বিষমুক্ত, ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল মুক্ত নিরাপদ সবজি শাপলার চাহিদা ভোক্তা পর্যায়ে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন খরচ নেই, সংগ্রহ খরচ খুবই কম, পক্ষান্তরে লাভজনক দামে বিক্রি হয় শাপলা। শাপলার কদর আছে সবার কাছে সমান ভাবে। তবে অতিরিক্ত সংগ্রহে যেন আমাদের জাতীয় ফুলের বীজ ধ্বংস হয়ে বিলুপ্তির পথে না যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাথতে হবে।’’