ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
দর্শনা পৌরসভার সাবেক সভাপতির স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল
দর্শনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে পৌর প্রশাসকের মতবিনিময় 
শাপলা বিক্রি করেই বাঁচার লড়াই, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় তরিকুলের পরিবার
শাপলা বিক্রি করেই বাঁচার লড়াই, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় তরিকুলের পরিবার
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ জনপদেও বিল জলাশয়ে ধেথতে পাৗযঅ যায়। আবার অনেক মানুষের জীবিকা ও আয়ের প্রধান উৎস। বিল বা জলাশয় থেকে শাপলা তুলে হাটে-বাজারে বিক্রি করে সংসার চালান।  শাপলা ফুল তুলে বাজারে বিক্রি করে কোনমতে সংসার চালান দিনমজুর তরিকুল ইসলাম। দিন ভালো গেলে পেট ভরে খেতে পারেন স্ত্রী-সন্তানরা, না হলে অর্ধাহারেই কেটে যায় দিন। অথচ এই অভাবি মানুষটি এখনো পর্যন্ত পায়নি ইউনিয়ন পরিষদের হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত কোনো সরকারি ভিজিডি, ভিজিএফ বা টিসিবি কার্ড, নেই ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাওয়ার তালিকায় নাম। সরেজমিনে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর খামারী পাড়ার তরিকুল ইসলাম (৪৪)। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার অভাব-অনটনের সংসার। ঠিকমতো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। জীবিকার জন্য পরের বাড়িতে কামলা খাটা আর বষা মৌসুমে বিলে শাপলা তুলেই চলে সংসার। বেশ কয়েক বছর ধরে বাড়ির পাশেই কুড়ুলগাছি রায়সা বিলের শাপলা ফুল সংগ্রহ করে হাটে-বাজারে বিক্রি করে সংসার চলে।  রায়সা বিল প্রতিদিন বাবা-ছেলে কাক ডাকা ভোরে বিলের পানিতে নেমে সংগ্রহ করেন শাপলা। আর সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে দর্শনা শহরসহ আশেপাশের এলকার বাজারে বিক্রি করেন । প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০  আটি শাপলা ফুল তোলেন । আটি প্রতি ১০-১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন শাপলা ফুল। দিনে ৫শ থেকে ৬শ টাকা আয় হয় । তাদিয়ে চলে সংসার । যেদিন  বেচা কিনা ভালো হয় না, সে দিন পরিবারের সকলকে না খেয়ে থাকতে হয়।  তরিকুল বলেন, বর্ষা মৌসুমে শাপলা তুলে বিক্রি করেই চলে সংসার। কষ্ট করে সংসার চালালেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। না আছে ভিজিডি কার্ড, না ভিজিএফ, না টিসিবির সাশ্রয়ী পণ্যের কার্ড। তিনি আরও বলেন, নুন আনতে পানতা ফুরায়। সরকারি কোনো সহায়তা পেলে সংসারটা একটু বাঁচত। এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত কুমার জানান, ‘‘বিষমুক্ত, ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল মুক্ত নিরাপদ সবজি শাপলার চাহিদা ভোক্তা পর্যায়ে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন খরচ নেই, সংগ্রহ খরচ খুবই কম, পক্ষান্তরে লাভজনক দামে বিক্রি হয় শাপলা। শাপলার কদর আছে সবার কাছে সমান ভাবে। তবে অতিরিক্ত সংগ্রহে যেন আমাদের জাতীয় ফুলের বীজ ধ্বংস হয়ে বিলুপ্তির পথে না যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাথতে হবে।’’  
দামুড়হুদায় শারদীয় দুর্গাপুজা প্রস্ততিমুলক ও আইন শৃঙ্খলার সভা অনুষ্ঠিত 
দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতির ইন্তেকাল
দামুড়হুদায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু 
দামুড়হুদায় ফল ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা, হ্যান্ডকাপসহ পালালেন আওয়ামী লীগ নেতা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এসময় হ্যান্ডকাপসহ পালিয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠনের ওই নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে দামুড়হুদা উপজেলার  চণ্ডীপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। পলাতক আবু ছিদ্দিক কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আবু ছিদ্দিককে গ্রেপ্তারের জন্য বুধবার রাতে চণ্ডীপুর এলাকায় অভিযান চালায় দর্শনা থানার একটি দল। এসময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় পরিবারের সদস্যরা।  পুলিশের দাবি, হামলায় তাদের দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে পুলিশের হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় পালিয়ে যান আবু ছিদ্দিক। ওই ঘটনায় লক্ষ্মণ, ফিরোজ, কণা ও সোনালীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  সহকারি পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ নুরুল্লাহ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছিদ্দিককে আটক করতে গেলে পরিবারের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমাদের দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয় । তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসারের গাড়িতে শিক্ষক হাফিজের রাজকীয় বিদায়  

দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক হাফিজুর রহমান দুই দশক ধরে একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম পাঠের সাথে জড়িয়ে থাকা সেই শিক্ষককে বিদায়ের দিনে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় ভিন্নধর্মী সংবর্ধনা দিয়েছেন স্কুলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সুসজ্জিত চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক অফিসারের গাড়িতে করে  আর স্কুলের সকল শিক্ষকবৃন্দ ও  শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রায় প্রিয় শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার সময় দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ বিদায়  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানিত হয়। বিদায়ী শিক্ষক হাফিজুর রহমান ২০০৭ সালে  জুন মাসে  সহকারী শিক্ষক হিসেবে দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা  বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেষায় যোগ দেন। দীর্ঘ ১৯ বছর একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে কর্মজীবনের ইতি টানেন তিনি।  দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ও সহকর্মীরা অংশ নেন। প্রিয় শিক্ষককে ফুল ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হয়। দীর্ঘদিনের শিক্ষককে বিদায় দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাফিজুর রহমানসহ  উপস্থিত শিক্ষক ও ছাত্রীরা । সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় ব্যতিক্রমী বিদায়যাত্রা। চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের গাড়িতে নেওয়া হয় । সামনে শিক্ষকদের  মোটরসাইকেল ও গাড়ির  পেছনে চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আনিসুর রহমান, বিদ্যালয় পরিদর্শক  আনোয়ার হোসেন,  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম হুমায়ুন কবিরসহ স্কুলের ৫শ  শিক্ষার্থীর শোভাযাত্রা করে প্রিয় স্যারের বাড়িতে পৌছায়ে দিয়ে আসেন।  পথজুড়ে ছিল শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি। স্কুলের  শিক্ষার্থীদের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো বিদায়যাত্রা। শিক্ষার্থীদের কাছে এটি ছিল শুধু একজন শিক্ষকের অবসর উপলক্ষে বিদায় নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রিয় একজন মানুষকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বিদায় জানানোর আয়োজন।  বিদায়ী অনুষ্ঠানে দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আনিসুর রহমান,  সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাসমত আলীসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দসহ  ৫ শ শতাধিক শিক্ষার্থী। চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো আনিসুর রহমান  বলেন, একজন শিক্ষককে সম্মান জানানো স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজন প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে। দীর্ঘ ১৯ বছরের কর্মজীবনের শেষে শিক্ষক হাফিজুর রহমান বিদায় নিলেও তার সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের যেন শেষ হলো না।  গাড়িতে ও পায়ে হেটে  এক কিলোমিটারের সেই বিদায়যাত্রা হয়ে থাকলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালোবাসা শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য স্মৃতি। 

দর্শনা ইমিগ্রেশনে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খালেক গ্রেপ্তার

চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পথে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গ্রেপ্তার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহের পর গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তার সম্পর্কে খোজখবর নেওয়া হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর গাংনী থেকে আসা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে মেহেরপুরের গাংনীর উদ্দেশে রওনা হয়। এম এ খালেকের ছেলে আসিফ রেজা বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার হার্টে ব্লক রয়েছে। বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য তাকে ভারতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ইমিগ্রেশনে তাকে আটকে দেওয়া হয়। আমার জানামতে, আমার বাবার নামে কোনো নিয়মিত মামলা নেই। যে কয়টি মামলা রয়েছে, সেগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা যায়, এম এ খালেক চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। এ সময় তার কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মেহেরপুরের গাংনীতে তার সম্পর্কে খোজখবর নেওয়া হয়। এতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে গাংনী থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সাব-ইন্সপেক্টর মো. তারিক জানান, এম এ খালেকের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খোজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এম এ খালেকের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল একটি মামলা হয়। গাংনী থানার মামলা নম্বর ১৫। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫ডি ধারায় করা ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

দর্শনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মিল্লাত হোসেন (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত দর্শনা কলেজের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বলে জানাগেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে দর্শনা থানাধীন দক্ষিণচাদপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

নৌকা চলে, জীবন চলে না আশানুর মাঝির

সারাদিন রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নৌকা পারাপার করেন আশানুর মাঝি। সময় আর স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন দামুড়হুদার জীরাট ঘাটের আশানুর মাঝি। এটি যেমন বাস্তব জীবনের দুঃখ, তেমনি বাংলা গান ‘জীবনের নৌকা চলে’—এর কথাও মনে করিয়ে দেয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়া’ কবিতার বেদনাও যেন এতে ফুটে ওঠে। খেয়া নৌকা বেয়ে চার গ্রামের মানুষ পারাপার করেন দামুড়হুদার জীরাট গ্রামের আশানুর মাঝি। মানুষ পারাপার করেই চলে তাঁর সংসার। বয়স ৬২ বছর। শরীরজুড়ে বার্ধক্যের ছাপ ফুটে উঠেছে। কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেন না। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠা ঠেলে, কখনো রশি টেনে গ্রামের মানুষ ও পথচারীদের নদী পারাপার করেন। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের জীরাট গ্রামের ঘাটপাড়ার বাসিন্দা আশানুর মাঝি। দীর্ঘদিন ধরে খেয়া নৌকায় নদী পারাপারের কাজ করছেন তিনি। সরেজমিনে খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, আশানুর মাঝির চোখেমুখে যেন অভাব ও হতাশার ছাপ। চামড়ায় পড়েছে বার্ধক্যের ভাঁজ। নৌকার এক কোণে ছই লাগিয়ে শক্ত হাতে কাপড় জড়িয়ে নৌকার রশি ধরে যাত্রী পারাপার করছেন তিনি। ঘাটপাড় থেকে অসুস্থ রোগীর জন্য জরুরি ওষুধ এনে দেওয়াও তাঁর নিত্যদিনের কাজ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সংসারের খরচ বেড়ে গেছে। তাঁর আয় বাড়েনি, রয়ে গেছে সাংসারিক টানাপোড়েন। জীবিকার তাগিদে হাতে তুলে নিয়েছেন নৌকার বৈঠা। সেই ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর হাতে থাকে বৈঠা। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াসহ নানা খরচ সামাল দিয়ে এখন আর খেয়া পারাপারের আয় দিয়ে সংসার চালাতে পারছেন না আশানুর মাঝি। প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়। এভাবেই খেয়া পার করে চলে তাঁর সংসার। নৌকা পারাপারের সময় রামনগর দাসপাড়ার শ্রী গিরিবালা বাঘদি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মানুষ পারাপারের কাজ করছেন আশানুর মাঝি।’ আশানুর মাঝি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘সারাদিন নদী পারাপার করেও অভাব মেটে না। ইজারাদার ও ঘাটের খরচ মিটিয়ে হাতে সামান্য কটা টাকা থাকে। আমার জমিজমা নেই। পরিবারে ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করি। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো মতে জীবন-সংসার চলে। বেশির ভাগ সময়ই নৌকায় কাটাতে হয়।’

দর্শনার মেয়ে এলিজা অস্ট্রেলিয়ার ক্যামডেনের ডেপুটি মেয়র, গর্বিত চুয়াডাঙ্গাবাসী

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের কৃতি সন্তান এলিজা আজাদ রহমান টুম্পা অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের জায়গা করে নিয়েছেন। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই নারী। তার এ সাফল্যের খবরে জন্মস্থান দর্শনা ও পুরো চুয়াডাঙ্গায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ক্যামডেন কাউন্সিলের সভায় কাউন্সিলরদের ভোটে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন এলিজা রহমান। একই সভায় ভিন্স ফেরেরি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারীর এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। এলিজার পারিবারিক শেকড় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামে। তার বাবা আজাদুল ইসলাম আজাদ। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেও জন্মভূমির সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ রয়েছে। এলিজার নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শ্যামপুর গ্রামের আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এলিজা। কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের দুই বছরের মধ্যেই ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কাউন্সিলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন এলিজা। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত অভিবাসী ও বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এলিজার বাবা আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, তার ছোট মেয়ে এলিজা আজাদ টুম্পা দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছে। প্রায় দুই বছর আগে ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব শুরু করে। এবার একই কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। মেয়ের এই অর্জন পরিবার ও বাংলাদেশি হিসেবে তাদের জন্য গর্বের। নতুন দায়িত্ব যেন এলিজা সফলভাবে পালন করতে পারে, সে জন্য সবার দোয়া কামনা করেন তিনি। দর্শনা পৌরসভার স্থানীয় ও সচেতন মহলের মতে, প্রবাসে বাংলাদেশি নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে উঠে আসা দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা। বিশেষ করে দর্শনার মতো সীমান্তবর্তী এলাকার একজন নারীর অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে নেতৃত্বে আসা তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলিজা রহমানকে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে ডেপুটি মেয়র হওয়া প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  দর্শনার শ্যামপুর গ্রামের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্যামডেন কাউন্সিলের নেতৃত্বে এলিজা রহমানের উঠে আসা তাই শুধু একটি পদ অর্জনের ঘটনা নয়, এটি শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রবাসে একজন বাংলাদেশি নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠারও গল্প। তার সাফল্যে গর্বিত জন্মভূমি দর্শনা ও চুয়াডাঙ্গার মানুষ।

দামুড়হুদায়  প্রতিবেশীর বালিধারার আঘাতে যুবক নিহত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় প্রতিবেশীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে বাশের আঘাতে গুরুতর আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ফরিদুল ইসলাম (৪৫) দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পীরপুরকুল্লা গ্রামের আবু হোসেন চৌকিদারের ছেলে।  স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন জানান, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী দুলালের বাড়ির পাশে কাপড়ের নেকড়া বা ছেড়া কাপড় ফেলা নিয়ে ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় দুলাল বালিধারা (বাশ) দিয়ে ফরিদুল ইসলামের মাথায় আঘাত করলে ফরিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হলে পরিবারের লোকজন  তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে রাতেই তাকে রাজশাহীতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও
X