ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজায় নাশকতার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা, যশোর-নড়াইলে এসআরবি-৬-এর নজরদারি
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতির মৃত্যু  
রিসোর্টে আগুনে দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতির মৃত্যু
রিসোর্টে আগুনে দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতির মৃত্যু
কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের মণিরামপুরের এক দম্পতি ও তাদের দুই শিশুকন্যা। রিসোর্টের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হওয়া চারজনের দগ্ধ মরদেহ তাঁদের হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনেরা। তবে মরদেহগুলোর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত না হওয়ায় পরিবারটির সদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মণিরামপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, তুহিন, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন। কক্সবাজারে পারিবারিক ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মুঠোফোনে তাঁর বাবাকে জানিয়েছিলেন। তুহিনের চাচাতো ভাই ও মণিরামপুর হাসপাতাল মোড়ের ওষুধ ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন জানান, শুক্রবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন তুহিন। দুই দিন অবস্থান শেষে রোববার তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে তুহিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে তানজির মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন স্বজনেরা। তাঁর ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। রিয়াজ উদ্দিন জানান, তাঁদের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান রিসোর্ট এলাকায় দেখাচ্ছিল। দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও তুহিন ও তাঁর পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের শৌচাগার থেকে পরস্পরকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর স্বজনদের মধ্যে তাঁদের বেঁচে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স শনিবার থেকে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। রোববার সকালে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। প্রিন্স বলেন, ‘তুহিন, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে বেঁচে আছেন কি না, আমরা নিশ্চিত নই। কক্সবাজারে পৌঁছালে প্রকৃত অবস্থা জানতে পারব।’ তবে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মণিরামপুরের ওই দম্পতি ও তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তবে এখনো মরদেহ শনাক্ত করা হয়নি বলে জানান তিনি।
যশোর বেনাপোলে পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ ভ্যানচালক আটক  
যশোরে শংকরপুর থেকে ৮টি ককটেলসদৃশ বোমা উদ্ধার
যশোর চৌগাছায় মোটরসাইকেল-পিকআপ সংঘর্ষে প্রেমিক-প্রেমিকা নিহত 
বারোবাজারে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির
বারোবাজারে বিনামূল্যে ৩১০ চক্ষু রোগীকে চিকিৎসাসেবা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে যশোরস্থ বারবাজার (শহর মোহাম্মাদাবাদ) সমিতির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় একদিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বারোবাজার হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এ শিবিরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্রসহ বিভিন্ন বয়সী প্রায় ৩১০ জন রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা শিবিরে চোখ পরীক্ষা শেষে ৫০ জন রোগীকে ছানি রোগী হিসেবে বাছাই করা হয়। বাছাইকৃত রোগীদের যশোরের আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের উদ্যোগে এবং রেশমি অ্যান্ড মাহমুদ সিদ্দিকী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীদের চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়। চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বারবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, প্রবীণ শিক্ষক আরশেদ আলী পাতা, যশোরস্থ বারবাজার সমিতির আহ্বায়ক ডা. সাহাব উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সোহেল, তরিকুল ইসলাম, সিনিয়র সদস্য আমিনুর রহমান, বারোবাজার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আয়োজকরা জানান, সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও বারোবাজার ও আশপাশের এলাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

যশোরে দুর্গাপূজার ব্যাপক প্রস্তুতি,নিরাপত্তায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও উৎসবের আমেজে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে যশোরের পূজামণ্ডপগুলো। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখা। অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, এপিসি প্লাটুন এবং কে-৯ ডগ স্কোয়াড। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার যশোর জেলার আটটি উপজেলায় মোট ৭২৯টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদরে ১৩৫টি, অভয়নগরে ১৩৩টি, মনিরামপুরে ১৩১টি, কেশবপুরে ১০২টি, বাঘারপাড়ায় ৮২টি, ঝিকরগাছায় ৬১টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩২টি মন্দির ও মণ্ডপ রয়েছে। ১৫ অক্টোবর সকালে বোধন ও বিকেলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, বিকল্প আলোর ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রবীণদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। উৎসব চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা ও উত্তেজনা এড়াতে ক্ষতিকর ও উসকানিমূলক গান পরিবেশন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় উৎসবকে সর্বজনীন আনন্দের আয়োজনে পরিণত করতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় হিন্দু-মুসলিম জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করছেন। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও উপলক্ষ। উৎসবের আনন্দ যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে। এদিকে দুর্গাপূজা ঘিরে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা ও শহরের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি এবং যশোর শহরে ২০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত টহল, রেকি ও মোবাইল পেট্রোল পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা ৫২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে এপিসি প্লাটুন ও কে-৯ ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী বিওপিগুলোতে জনবল বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। উৎসবের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক রতন আচার্য্য, প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি রবিন কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সাহা এবং পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রেমিকের বাইক চালাচ্ছিলেন প্রেমিকা, অতঃপর...

যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেল ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে অয়ন হোসেন (২২) ও মিথিলা খাতুন (১৭) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তারা প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া-টালিখোলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অয়ন হোসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আজমপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। অপর নিহত মিথিলা খাতুন চৌগাছা পৌরশহরের বাকপাড়ার নাজমুল ইসলামের মেয়ে। পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে অয়ন ও মিথিলা একটি মোটরসাইকেলে করে চৌগাছা থেকে যশোর সড়কের আড়ারদাহ ক্যাফেতে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মিথিলা। পথে কয়ারপাড়া-টালিখোলা মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অয়ন হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মিথিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহত দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মিথিলা। তাদের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

যশোর বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন সম্মেলনে তদন্তের দাবি

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে তদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ও সার ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি খলশী বাজারের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং ১৯৯৮ সাল থেকে সার ও কীটনাশকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সরকারি বিজ্ঞপ্তির পর সার ডিলার নিয়োগের জন্য তিনি যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের নম্বর বাঘারপাড়া-৫৯। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে ৬ নম্বর খলশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান। আব্দুস সাত্তারের অভিযোগ,রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সার ব্যবসার লাইসেন্স পাননি। বর্তমানে ডিলার নিয়োগে তাঁর পরিবর্তে আব্দুর রশিদকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালক মিজানুর রহমান মিজানের ভাই বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে জিএম ট্রেডার্সের নামে সার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি আরও বলেন, এ নিয়োগের কারণে তাঁর জীবিকা সংকটে পড়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়েও প্রতিকার পাননি। তাই নিয়োগপ্রক্রিয়া তদন্ত করে যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি ইমান আলী ফারাজি, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ মিলন হোসেন ও বিএনপির সদস্য নূর জালাল আজাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। আব্দুস সাত্তার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি মো. ইমান আলী ফারাজি ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মিলন হোসেন এবং বিএনপি সদস্য নুর জালাল আজাদী উপস্থিত ছিলেন।

মণিরামপুরে পুষ্টি বিষয়ক কর্মশালা ও দুর্যোগ প্রশমন দিবস অনুষ্ঠিত   

মণিরামপুরে সু-স্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন। উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) এর বাস্তবায়নে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের প্রশিক্ষণ হলরুমে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সময় বিশেষ অতিথি এবং প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ জুনাইদ হাবীব, ড. মারুফুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন, মৎস্য অফিসার সেলিম রেজা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল, ডা. সুদীপ্ত সেন প্রমুখ। দুটি গ্রুপে ৬০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাঠ কর্মী, এনজিও কর্মী  কৃষক ও অন্যান্যরা অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গলবার থেকে অনুষ্ঠিত হওয়া কর্মশালাটি আগামীকাল বুধবার শেষ হবে। অপর দিকে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা চত্ত্বরের বটতলায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা, সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা খান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী খলিলুর রহমান প্রমূখ। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জরুরি: এমপি গোলাম রসুল

গণমাধ্যমের যাচাইকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যশোর ৪  আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে অভয়নগর রিপোর্টার্স ক্লাবের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সত্য ও সঠিক  সাংবাদ প্রকাশ করাই জনগণের আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ। সভায় সভাপতিত্ব করেন অভয়নগর রিপোর্টার্স ক্লাবের  সভাপতি মো. বদরুজ্জামান । সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সদস্য  সাংবাদিক ইবাদুল হোসেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অভয়নগর রিপোর্টার্স ক্লাবের উপদেষ্টা শাহজালাল হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন,অভয়নগর উপজেলা  উপজেলা আমীর সর্দার শরীফ হোসেন, সা. সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, নওয়াপাড়ায় পৌর শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান। এ সময় অভয়নগর রিপোর্টার্স ক্লাবের অন্যান্য সাংবাদিকরাও  উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ অধ্যাপক গোলাম রসুল আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান দায়িত্ব। প্রতিটি সংবাদ যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করতে হবে, যাতে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহজালাল হোসেন বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

দখল ও ভাঙনে বিপর্যস্ত ভৈরব নদ, হুমকিতে শিল্পনগরী

যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে দখল ও ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। নদীর জায়গায় কৃত্রিম চর তৈরি করে ঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদের স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরের ভাঙনে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে নওয়াপাড়ার ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপজেলার রাজঘাট থেকে বসুন্দিয়া ইউনিয়নের আফ্রা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নওয়াপাড়া নদীবন্দর বিস্তৃত। নৌ, সড়ক ও রেল যোগাযোগের সুবিধার কারণে এ অঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। নদীর নাব্যতা কমে গেলে পণ্য পরিবহন ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন স্থানে মাটি ও বালু ফেলে কৃত্রিম চর তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে নদীর অংশবিশেষ ঘিরে ভরাটের চেষ্টা চলছে। এতে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া ও কোনো কোনো স্থানে গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তবে দখলের পরিমাণ এবং ভাঙনের সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরিপ প্রয়োজন। নওয়াপাড়া নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এখানে নয়টি সরকারি জেটি রয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ১০০টি ঘাট রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে গাইডওয়াল, স্থায়ী জেটি ও কাস্টমস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছিল। নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল হোসেন বলেন, নওয়াপাড়ায় প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন। নদীর নাব্যতা রক্ষা করা না গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে গম ও চালের সরবরাহ কমেছে এবং কয়লা আসাও আগের তুলনায় কমে গেছে বলে তিনি জানান। নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলের অভিযোগ তদন্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভৈরব নদ রক্ষা করা গেলে নওয়াপাড়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নওয়াপাড়া নদীবন্দরের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, কৃত্রিম চর তৈরি করে নদী দখলের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের তালিকা করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও
X