ধীতপুর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপির ৪, জামায়াতের ১
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপের তারিখ ঘোষণার পর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনি হাওয়া। চায়ের দোকান, হাটবাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। কেউ সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন, আবার কেউ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
আসন্ন ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির চারজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন—ভালুকা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সাবেক সদস্য সারোয়ার আলম, ধীতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি মো. আরমান মীর এবং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলটির ধীতপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি খন্দকার খুররম।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা যা বলছেন
রকিবুল হাসান খান রাসেল: ধীতপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে রকিবুল হাসান খান রাসেল বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ধীতপুর ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চাই। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, তরুণদের কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেব। আমি চাই, ইউনিয়ন পরিষদ হবে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা, যেখানে সবাই সহজে তাঁদের সমস্যার কথা বলতে পারবেন।”
সারোয়ার আলম: ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সারোয়ার আলম বলেন, “জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। ধীতপুর ইউনিয়নের যেসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে চাই। দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। জনগণের সমর্থন পেলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে ইউনিয়নের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
মো. আরমান মীর: তরুণদের অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মো. আরমান মীর বলেন, “ধীতপুর ইউনিয়নের তরুণদের নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক থেকে তরুণদের দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। জনগণের সমর্থন পেলে তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করব।”
মো. জাহাঙ্গীর আলম: সাধারণ মানুষের পাশে থাকা ও নাগরিক সেবা সহজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি মানুষের সঙ্গে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে চাই। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা যেন সাধারণ মানুষ সহজে পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং এলাকার সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করতে চাই। দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের সমর্থন পেলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
খন্দকার খুররম: জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী খন্দকার খুররম বলেন, “ধীতপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। জনগণের সেবা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে চাই। নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে সবার মতামত নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নাগরিক সেবা সহজ করাকে অগ্রাধিকার দেব।”
ভোটারদের প্রত্যাশা উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা
ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও মানুষের পাশে থাকার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চান তাঁরা। বিশেষ করে সড়কের বেহাল দশা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং নাগরিক সেবার মান নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক প্রার্থী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তাঁদের অনেককে আর কাছে পাওয়া যায় না। তাঁরা এমন একজন চেয়ারম্যান চান, যিনি নিয়মিত মানুষের খোঁজখবর নেবেন এবং এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক থাকবেন।
স্থানীয় তরুণদের প্রত্যাশা, ইউনিয়নে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি সারা বছর মানুষের পাশে থাকাটাই একজন জনপ্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য একজন প্রার্থীকে ঘিরেও চলছে আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, কোন দল কাকে মনোনয়ন দেবে এবং ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে ধীতপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে নির্বাচনি আলোচনা শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা ও দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচনি মাঠের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।