ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শেরপুর সীমান্তে  অবৈধ  মাদক জব্দ, পলাতক- ৩
সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে নকলায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা
নকলায় আরফুজ পাগালার মাজার ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
নকলায় আরফুজ পাগালার মাজার ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
শেরপুরের নকলায় মাজার ভাঙচুরের অভিযোগে মো. আসাদুজ্জামান কেনু (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বানেশ্বর্দী কান্দাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান কেনু ওই এলাকার মৃত ইলাহী বক্সের ছেলে। মামলার বাদী মো. আবু হানিফার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবু হানিফার সঙ্গে একই এলাকার আসাদুজ্জামান কেনুসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। জমির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে আবু হানিফার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত তাঁর দাদা আরফুজ লেংটার মাজার শরিফে হামলাসহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, আসাদুজ্জামান কেনুসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে ইটের দেয়াল, টিনের চাল ও পাকা মেঝে ভাঙচুর করেন। এতে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। এ ছাড়া মাজারে থাকা স্টিল ও বাঁশের তৈরি দানবাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় আবু হানিফা বাদী হয়ে আসাদুজ্জামান কেনুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে নকলা থানায় মামলা দায়ের করেন। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র  বলেন, মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তদন্ত চলছে।  
শেরপুরের ১৬৭ পূজামণ্ডপে কড়া নিরাপত্তা, সাংবাদিক হত্যায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে এসআরবি
শ্রীবরদীতে নিজ অর্থায়নে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন মাওলানা আরিফুর রহমান
গণশুনানিতে মা-হারা শিশুকে কোলে নিলেন জেলা প্রশাসক
নকলায় জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা
টিকটক-ফেসবুকে ভিউয়ের নেশায় বন্য হাতিকে উত্ত্যক্ত, অতঃপর...

শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ে খাবারের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্যহাতির পাল। এসব হাতিকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়ার আশায় ভিডিও ধারণ করতে আসা কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও কৌতূহলী মানুষের ভিড় এবং বিরক্তিকর আচরণে ব্যাহত হচ্ছে হাতির স্বাভাবিক চলাচল। এতে মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকিও। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি ভিউ পাওয়া ও কনটেন্ট ভাইরাল করার প্রতিযোগিতায় কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বন্যহাতির পেছনে ছুটছেন। অন্যদেরও হাতির কাছাকাছি যেতে উৎসাহিত করছেন তারা। হাতির একেবারে কাছে গিয়ে পটকা ফাটানো, ঢিল ছোড়া কিংবা নানা ধরনের শব্দ করে প্রাণীগুলোকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও ঘটছে। পরে হাতির ভয় পাওয়া বা উত্তেজিত হয়ে ওঠার দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বন্যহাতিকে এভাবে বিরক্ত ও উত্তেজিত করার ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। এতে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। একপর্যায়ে হাতির উপদ্রব ও সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এসবি তানভীর আহমেদ বলেন, বন্যহাতির খুব কাছাকাছি গিয়ে ভিডিও ধারণ, পাথর নিক্ষেপ কিংবা অন্য কোনোভাবে হাতিকে উত্ত্যক্ত বা উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বন্যহাতির কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতি ও মানুষের সংঘাতে ৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে মারা গেছে ৩৩টি বন্যহাতি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভিউ বাড়ানো ও কনটেন্ট ভাইরাল করার উদ্দেশে হাতির কাছাকাছি গিয়ে ভিডিও ধারণ এবং প্রাণীগুলোকে উত্ত্যক্ত করার প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। 

নকলায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরের নকলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, দুর্যোগ মোকাবিলাবিষয়ক মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকালে নকলা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্তর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ। পরে শেরপুরের ফায়ার সার্ভিসের উদ্যেগে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় মহড়া প্রদর্শন করা হয়।  এর পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ আলহাজ্ব মো. খোরশেদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি, জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার আমির মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ প্রমুখ। এসময় সাংবাদিক শফিউল আলম লাভলু, আরিফুর রহমান, শফিউজ্জামান রানা, নাহিদুল ইসলাম রিজন, আল আমিনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পর্যায়ে গণিত কুইজে দ্বিতীয় স্থান, শেরপুরের বাগড়ী বিদ্যালয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

শেরপুর শহরের নয়আনী বাজার এলাকার বাগড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, জাতীয় পর্যায়ে গণিত কুইজে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাজেরা খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোফাজ্জল হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুজ্জামান, শেরপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দা মোহসীনা সোবহান, সহকারী মনিটরিং অফিসার মো. মনসুর আলী, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, মো. আতাউর রহমান, সারোয়ার জাহান ও মো. ফরিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে গণিত কুইজে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যে শিক্ষক, অভিভাবক ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে। তাঁরা শিক্ষার্থীদের অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেন। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

নকলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স

শেরপুরের নকলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। নকলা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের জন্য ৯২ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৯ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন। এ প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন মিন্টু, নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উমর ফারুকসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক শফিউল আলম লাভলু, আরিফুর রহমান ও নাহিদুল ইসলাম রিজন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহিত করা হয়। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।  

মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি হাতিও সংরক্ষণ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী মিন্টু

মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি হাতিকেও সংরক্ষণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। পাশাপাশি হাতিকেও সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলে দুদিক থেকেই আমাদের লাভ হবে।” শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, হাতির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন, শেরপুর ও ময়মনসিংহ বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি), গণমাধ্যমকর্মী এবং হাতি সংরক্ষণে নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। এর আগে পরিবেশমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাতি চলাচলের পথ পরিদর্শন করেন। শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। সভায় বক্তারা ওই অঞ্চলে মানুষ ও হাতির মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। এ সময় হাতির আক্রমণ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি থেকে স্থানীয়দের সুরক্ষা এবং হাতির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, ইআরটি সদস্য এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অযত্নে ভঙ্গুর মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন খানবাড়ি মসজিদ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া লস্কর গ্রামের ঐতিহাসিক খানবাড়ি জামে মসজিদ। প্রায় ৪১৮ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর অনন্য এই নিদর্শন। মসজিদের দেয়ালে প্রাচীন কারুকাজ, এক গম্বুজের নির্মাণশৈলী ও চুন-সুরকির গাঁথুনি আজও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন-অবহেলা ও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে প্রাচীন স্থাপনাটি। ঐতিহাসিক এই নিদর্শন সংরক্ষণে দ্রুত সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ ও একজন সরকারি খাদেম নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে ঘাগড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত খানবাড়ি জামে মসজিদ। মসজিদের দরজায় খোদাই করা শিলালিপিতে হিজরি ১০১৬ ও ইংরেজি ১৬০৮ সালের উল্লেখ রয়েছে। সেই হিসাবে মসজিদটির ইতিহাস প্রায় চার শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। স্থানীয় ইতিহাস ও প্রবীণদের বর্ণনায়, স্থাপনাটির সঙ্গে বাংলার নবাবি আমলের নানা ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। মসজিদের মূল ভবনের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট করে। দেয়ালের গাঁথুনি প্রায় চার ফুট পুরু। চুন-সুরকির নির্মাণশৈলী, ভেতরের মেহরাব, ফুল ও ফুলদানির নকশাসহ বিভিন্ন কারুকাজে ফুটে উঠেছে তৎকালীন স্থাপত্যশিল্পের নিপুণতা। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের নির্মাণশৈলী প্রাচীন স্থাপত্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বহন করছে। মসজিদের মূল ভবনের ভেতরে একসঙ্গে ইমাম ছাড়া প্রায় ৩০ জন মুসল্লি তিন কাতারে নামাজ আদায় করতে পারেন। এ ছাড়া বারান্দায়ও নামাজ পড়েন মুসল্লিরা। ছোট পরিসরের এই মসজিদটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ফজলুল করিম বলেন, একসময় মসজিদটির দেখভালের জন্য সরকারি খাদেম নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থা না থাকায় নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে পরিদর্শন করা হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয় মুসুল্লী একাব্বর আলী বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে প্রাচীন এই স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মসজিদটির মূল নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুত সংস্কার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ, একজন সরকারি খাদেম নিয়োগ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এর পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন বলেন, “প্রাচীন এই মসজিদটির দেখভাল, সংরক্ষণ ও সংস্কারের মূল দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ভঙ্গুর অবস্থা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হবে।”

প্রকৃতির স্বর্গে অবহেলার ছাপ— জরাজীর্ণ মধুটিলা, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা

পাহাড়, টিলা আর সবুজ বনভূমির অপূর্ব মেলবন্ধনে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক। একসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকলেও দীর্ঘদিনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে অনেকটাই জৌলুশ হারিয়েছে এই পর্যটনকেন্দ্র। পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও ভাঙাচোরা অবকাঠামো, কোথাও আবার বন্ধ পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর মধ্যেই ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রবেশমূল্য করা হয়েছে ১০০ টাকা। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা প্রায় ৩৮০ একর বনভূমি নিয়ে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে মধুটিলা ইকোপার্ক। প্রথম পর্যায়ের উন্নয়নকাজ শেষ হয় ২০০৪ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পার্কটিতে আর কোনো বড় ধরনের উন্নয়নকাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন মধুটিলায়। তবে সময়ের সঙ্গে দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি পার্কের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা। একসময় পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র ছিল পার্কের তথ্যকেন্দ্র ও প্রদর্শনীকেন্দ্র। বর্তমানে এসব স্থাপনার কোথাও তালা ঝুলছে, আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে ভাঙাচোরা অবস্থা। পার্কজুড়ে থাকা হাতি, বাঘ, হরিণ, কুমিরসহ বিভিন্ন ভাস্কর্যের রং উঠে গেছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে নানা স্থাপনাও। পার্কে মিনি চিড়িয়াখানা থাকলেও এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশ দর্শনার্থীরা। শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকা শিশুপার্কেও নেই আগের সেই আকর্ষণ। প্রয়োজনীয় রাইড না থাকায় শিশুদের বিনোদনের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। মধুটিলা ইকোপার্কে রয়েছে লেক, পিকনিক স্পট, পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ি, ওয়াচ টাওয়ার ও পার্কিং জোন। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব স্থাপনার অনেকগুলোই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও রাস্তা ভাঙা, কোথাও দেখা যায় অপরিচ্ছন্নতা। পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগও রয়েছে দর্শনার্থীদের। এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পার্কের প্রবেশমূল্য। একসময় যেখানে মাত্র ২০ টাকা দিয়ে প্রবেশ করা যেত, বর্তমানে সেখানে টিকিটের মূল্য বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০০ টাকা। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, পার্কের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলেও বাড়ানো হয়েছে প্রবেশমূল্য। ফলে অনেকে ১০০ টাকা টিকিট না কেটে পার্কের গেট থেকেই ফিরে যাচ্ছেন। ঢাকা-গাজীপুর থেকে ঘুরতে আসা শিল্পী আক্তার বলেন, শুধু প্রবেশমূল্য বাড়ালেই হবে না, এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়াতে হবে সেবার মানও। দ্রুত পুরোনো স্থাপনাগুলো সংস্কার, বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। পার্কে বেড়াতে আসা রহিম মিয়া বলেন, পার্কে প্রবেশের মূল্য অনেক বেশি। সেই তুলনায় পার্কের ভেতরের অবকাঠামো ও সেবার মান অনেক নিম্নমানের। পুরোনো স্থাপনাগুলো সংস্কারের পাশাপাশি আধুনিক ও বিনোদনমূলক নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা প্রয়োজন। মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, “২০০৪ সালের পর থেকে কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। এ কারণে পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার করা প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এমপি মহোদয়কে জানানো হবে, যাতে পার্কটি সংস্কার ও উন্নয়ন করা যায় এবং পর্যটকদের আবার আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়।” প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা মধুটিলা ইকোপার্ক এখনও সম্ভাবনাময় একটি পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে এর আকর্ষণ। একদিকে জরাজীর্ণ অবকাঠামো, অন্যদিকে ২০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা প্রবেশমূল্য—সব মিলিয়ে হতাশ দর্শনার্থীরা। পর্যটকদের প্রত্যাশা, দ্রুত পার্কের পুরোনো স্থাপনাগুলো সংস্কার করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে মধুটিলা আবারও হয়ে উঠবে শেরপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।

আরও
X