ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার পাঁচটি পুজা মন্ডপ ও মন্দির পরিদর্শন করলেন - কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু 
বগুড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মন্দির ও পুজা মন্ডপে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ 
সারিয়াকান্দিতে ২৮ পূজা মণ্ডপে অনুদান ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা প্রদান 
মশিউর অর্ণব
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৮ টি পূজা মণ্ডপে অনুদান বিতরণ, পূজা উপলক্ষে ১০০ জন অসহায় মহিলার মাঝে শাড়ি বিতরণ, ভেলাবাড়ী ও চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ এবং পূজা মণ্ডপে মোতায়েনকৃত আনসার সদস্যদের নিয়ে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলামের সভাপতিত্বে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে এ অনুদান বিতরণ করেন। এসময় প্রধান অতিথি কাজী রফিকুল ইসলামের নিজস্ব অর্থায়নে ১০ হাজার টাকা করে ২৮ টি মন্দিরে নগদ অর্থ বিতরণ করেন।  এছাড়াও মন্দিরের উন্নয়ন কল্পে ১ লাখ টাকা করে ১৫ টি মন্দিরে চেক বিতরণ করেন। সাংসদ কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সারিয়াকান্দি একটি মডেল। দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয় সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আনসার সদস্যদের সজাগ থাকতে হবে।  একই সাথে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আমরা কাজ করছি। আমাদের সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় আছে। এসময় উপস্থিতি ছিলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রাশেদুল ইসলাম, থানা অফিসার ইনচার্জের প্রতিনিধি এসআই মিনার, পৌর বিএনপির সভাপতি সাহাদৎ হোসেন সনি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাজাত হোসেন পল্টন, সারিয়াকান্দি পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাত কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক নিরাঞ্জন সরকার সহ বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এবং ২৮ টি পূজা মণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ।  
সারিয়াকান্দি বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি
সারিয়াকান্দিতে ৯শ ৫৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধারের পর ধ্বংস 
সারিয়াকান্দিতে রং তুলির আঁচড়ে সাজছে প্রতিমা, এখন শুধু মন্ডপে তোলার অপেক্ষা 
সারিয়াকান্দিতে বগুড়া নিসচা শাখার সমাবেশ ও ট্রাফিক ক্যাম্পেইন
সারিয়াকান্দিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, উপজেলা শাখার শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০ ঘটিকায় পৌর এলাকার শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের উপজেলা কার্যালয়ে এ মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সারিয়াকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ মোমিনুর ইসলাম সেলিম।   প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সারিয়াকান্দি উপজেলা আমির মো. ইকবাল হোসেন , বগুড়া জেলা ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক হোসাইন আহমেদ আকাশ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জহুরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন উপজেলা শ্রমিক কল্যানের সহ-সভাপতি জুয়েল হোসেন৷  এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পৌর ভারপ্রাপ্ত আমির রেজোয়ানুল হক স্বপন, সারিয়াকান্দি উপজেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সহ- সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, অর্থ সম্পাদক মাওলানা হেলাল উদ্দিন, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক বেলাল সরকারসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি সেক্রেটারী ও কর্মী বৃন্দ।

সারিয়াকান্দিতে নতুন যোগদানকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন   

বগুড়া সারিয়াকান্দিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নতুন যোগদান করা শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের আগে পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।   রোববার (৪ অক্টোবর) সারিয়াকান্দি উপজেলায়  উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) হল রুমে এ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ. মো. মাহতাবুর রহমান, সঞ্চালনা করেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বুলবুল আহম্মেদ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মশিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে যোগদানকৃত প্রত্যক সহকারী শিক্ষকে ফুল দিয়ে বরন করে নেওয়া হয়।  সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র থেকে জানা যায়, সারিয়াকান্দি উপজেলায় এবার ৫৯ জন সহকারী শিক্ষক যোগদান করেছে। তাদের সকলকে এই পাঁচ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণে নতুন শিক্ষকদের শিক্ষার্থীকে চেনা, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, সহজ ক্লাস পরিচালনার কাঠামো, স্বল্প খরচে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ তৈরি, পাঠ পরিকল্পনা লেখা এবং শ্রেণি কক্ষের সাধারণ সমস্যা মোকাবিলার প্রাথমিক কৌশল শেখানো হবে। পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে প্রবেশ, ছুটি, ভাতা, আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মৌলিক বিষয়ও প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন শিক্ষকদের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর শেখার বৈশিষ্ট্য বোঝানো, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পাঠ পরিকল্পনার দক্ষতা তৈরি, স্বল্প খরচে শিক্ষণ সহায়ক উপকরণ তৈরির সক্ষমতা অর্জন এবং শ্রেণিবকক্ষের সাধারণ সমস্যা মোকাবিলার প্রাথমিক কৌশল শেখানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী -দুই পরিচয়ে নতুন শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মাহতাবুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে আপনাদের স্বাগতম। আপনাদের সাথে প্রশিক্ষণ চলাকালীন অনেক কথা বলবো। আপনারা আসলে খুবি ভাগ্যবান যারা স্কুলে চাকরীতে যোগদান করার প্রথমেই  প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে যারা যোগদান করেছে তারা চাকরীতে যোগদান করার ছয় মাস বা এক বছর পরে এ প্রশিক্ষণে যোগদান করতে পেরেছে। আপনারা বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই তৈরী হয়ে যাচ্ছেন। এ সুযোগ বর্তমান সরকার করে দিয়েছে এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।  উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আশরাফ আলী, মো সাখাওয়াত হোসেন, মো.আব্দুর রউফ মিয়া, মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম, সারিয়াকান্দি বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার সাহা, নতুন যোগদাকৃত সহকারী শিক্ষকগন, সাংবাদিক প্রমুখ।  

মাদকবিরোধী অভিযানে সারিয়াকান্দিতে ৮ মাসে আটক ২৬০, উদ্ধার বিপুল মাদক

বগুড়া সারিয়াকান্দি থানায় যোগদানের সময় থেকেই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান তার সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে সদা- সর্বদা থানার বিভিন্ন এলাকার অনিয়ম,অপরাধ, মাদক কারবারি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী, দমনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তার এমন কাজে থানার এলাকার সর্বত্রের মানুষ বেশ উজ্জীবিত ও খুশি। মাদকাসক্ত ও মাদকদ্রব্য কারবারিতে সারিয়াকান্দি থানা রয়েছে জিরো টলারেন্স অবস্থায়। পুলিশ প্রশাসনের সন্ত্রাস ও মাদকের বিস্তার রোধকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ও বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় মাদক - সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছেন (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান। থানায় গত ৮ মাসে ২৬০ জন মাদক এর সাথে জড়িত অপরাধের গ্রেপ্তার করেছে এবং বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করেছে। থানার তথ্যমতে, এই অভিযানগুলো ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এই অভিযানকালে, ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ১৩৬৫ পিস, গাজা ২৬ কেজি ৭৩৯ গ্রাম, ইয়াবা ৮৫ পিস, চোলাই মদ ১১০২ লিটার, ফেন্সিডিল ৬ বোতল জব্দ করেছে।   স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে সারিয়াকান্দি  থানা পুলিশ বিচক্ষণতার সাথে প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করায় এ এলাকায় মাদকের হট-স্পটখ্যাত এরিয়া থেকে মাদকের সাথে জড়িত ও বখাটে সন্ত্রাসীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।   স্থানীদের সাথে কথা বলে জানায়, থানার চৌকস পুলিশ অফিসারগণ ও পেশাদার পুলিশ সদস্যরা যদি তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতা কাজে লাগিয়ে কাজ করে তাহলেই অবশ্যই আমাদের থানা  থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে। বর্তমান ওসি থানায় যোগদানের পর থেকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি এবং তার সকল পুলিশ সদস্যগণ। স্থানীয় আরও জানান, আমরা সাধারণ জনগণ ও পুলিশ মিলে একসঙ্গে কাজ করলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা ও অপরাধ রোধ করা সম্ভব হবে। সন্ত্রাস- মাদকের বিরুদ্ধে কমিউনিটি পুলিশকে কাজে লাগাতে হবে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তাহলেই সারিয়াকান্দিসহ সারাদেশ থেকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল করতে সহজ হবে। এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার মাদক-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আপোষহীন ও দৃঢ় প্রত্যয়ী। মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই আমরা মাদকের আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে মুক্ত রাখার জন্য বদ্ধপরিকর। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।    পুলিশের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে সারিয়াকান্দি থানার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশের সাথে সাপ্তাহিক বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।থানার আওতাধীন সকল বিট ইনচার্জদের সাথে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে তদারকি করে থাকি। এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, ব্যবসায়ী, সংবাদিক ধর্মীয় নেতাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে শান্তি-শৃঙ্খলায় রাখতে প্রতিনিয়ত বৈঠক করা হচ্ছে । থানাকে মাদকমুক্ত করতে জনসচেতনতাও সর্বোচ্চ মাত্রায় বৃদ্ধি করেছি।  তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে পুরো জাতিকে মাদকের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হবে বিধায় এই এলাকার যুব সমাজকেও সচেতনামূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দেশ এবং সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে পারে সেই লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।  

সিলগালা করে দেওয়া কোচিং সেন্টারে তদন্ত কমিটির পরিদর্শন

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি বাজারে অবস্থিত " নিউ কনটেস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টারে" ঘটে যাওয়া ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এলাকাবাসী কোচিং সেন্টারের প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে কমিটি। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল। অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মাহতাবুর রহমান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কাজল কুমার সরকার। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় প্রথমে ঘটে যাওয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর ফুলবাড়ি গমীর উদ্দিন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অফিস রুমে দুপুর ২ পর্যন্ত তদন্তের কাজ করেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ কোচিং সেন্টারে প্রতিনিধিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখানে তদন্ত করতে এসেছিলো। তাঁরা কোচিং এর প্রতিনিধি, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছেন। শিগগরই তদন্ত রিপোর্ট দিবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা সব ঘটনা কর্মকর্তাদের খুলে বলেছি। এ সময় সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান সেখানে উপস্হিত ছিলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধৈর্য্য ধারন করতে বলেন। এছাড়াও সেখানে থাকা সকলের উদ্দেশ্য দেওয়া বক্তব্যবে বলেন, উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছে। তারা তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করবে। সে অনুযায়ী ব্যাবস্হা গ্রহন করবে উপজেলা প্রশাসন। এলাকাবাসী সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানান। সর্তকবার্তায় দিয়ে বলেন কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা বরদাশ করা হবে না।   এ বিষয়ে সাংবাদিকদের তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল জানান, কোচিং সেন্টারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শুনেছেন ও লিখিত নিয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত বক্তব্য এবং তথ্য-উপাত্ত সমন্বয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করে দ্রুতই উপজেলা  নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হবে। তারপরে উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর আগে গত (১৫ সেপ্টেম্বর) সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি বাজারে উপজেলা প্রশাসন "নিউ কনটেস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কোচিং"সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়। এই কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকাবাসীর দাবির মুখে এ ব্যাবস্হা নেওয়া হয়।   

সারিয়াকান্দিতে খাদ্য গুদামের সব সিসি ক্যামেরাই অকেজো, নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা 

বগুড়া সারিয়াকান্দি খাদ্য গুদামের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্হাপন করা হয়েছিলো ২০২২ সালে। কিন্তু প্রায় কয়েক বছর ধরে সেসব ক্যামেরার বেশির ভাগই নষ্ট ছিলো। এর মধ্য তিনটি ক্যামেরা সচল ছিলো। তাই দিয়ে পুরো খাদ্য গুদাম নজরদারিতে রাখা হচ্ছিলো কিন্তু প্রায় চার মাস হলো সেই তিনটিও নষ্ট হয়ে আছে।  সংরক্ষিত এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়। এতে সেখানকার চলাচলরত সকলের গতিবিধির উপর নজর রাখা যায় এবং চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম, অপরাধ, সরকারি সম্পদের উপর নজর রাখা সহজ হয়।  উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সুএে জানাযায়, ২০২২ সালে এই সিসি ক্যামেরা গুলো স্হাপন করা হয়। খাদ্য গুদামে মোট ১২ টি ক্যামেরা ছিলো সে সব দিয়ে পুরো গুদামে নজরদারি অব্যাহত রাখা হতো। ক্যামেরা স্হাপনের কিছু দিনের মাঝেই এক এক করে ৯ টি ক্যামেরা অকার্যকর হয়ে পরে। সর্বশেষ ৩ টি ক্যামোরা ভালো ছিলো এটি দিয়েই পুরো গুদাম এলাকার নজরদারি করা হতো। কিন্তু গত মে মাসে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারনে ব্যাটারী আইপিএস পুড়ে যায়। এতে করে পুরো খাদ্য গুদামের সকল ক্যামেরা অচল হয়ে পরে।     পৌর বিএনপির সভাপতি সাহাদত হোসেন সনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনা এখানে এত দিন সিসি ক্যামেরা কেন নষ্ট আমার তা বোধগম্য নয়। আমার আবেদন থাকবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাতে অতি তাড়াতাড়ি খাদ্য গুদামের এলাকাটি সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনা হয়।  উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারনে ব্যাটারী ও আইপিএস পুড়ে যায়। এ ব্যাপারে উর্ধতন কতৃপক্ষ জানানো হয়েছে। এখন বর্তমানে খাদ্য গুদামে সিসি ক্যামেরার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আশাকরি অতি শীগ্রই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।  সারিয়াকান্দি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবু সম্রাট খান বলেন, আমাদের সিসি ক্যামেরা অকেজো হওয়ার পরের দিনই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসে আবেদনের মাধ্যমে জানিয়েছে। এছাড়াও প্রতিমাসে আমাদের রিপোর্ট পাঠানোর সময় এ ব্যাপারে তথ্যা পাঠাচ্ছি এখন কোন শুরাহা হয়নি। তবে অতি শীগ্রই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।  বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, আমাদের একটা প্রজেক্ট ছিলো, সেই প্রজেক্টের হওয়ার পরে ওরা দুই বছর এসব মেইনটেন্স করছে। প্রতিমাসে আমরা রির্পোট দিচ্ছি আমাদের কতৃপক্ষের কাছে। আশা করছি  দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।  

সারিয়াকান্দি পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে ৩য় পরামর্শ সভা

নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভার মহা-পরিকল্পনা (Master Plan) প্রণয়ন বিষয়ক ৩য় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় সারিয়াকান্দি পৌরসভার কনফারেন্স হলরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এস এম মিকাইল ইসলাম।  সভায় পৌর এলাকার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, বর্তমান অবকাঠামোর অবস্থা, নাগরিক সেবা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। পরামর্শ সভায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকরা সারিয়াকান্দি পৌরসভার স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন চাহিদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।  একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত নগর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারা পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা (ড্রেনেজ সিস্টেম), যানজট নিরসন, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় উপস্থিত বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে দীর্ঘ মেয়াদী, সুশৃঙ্খল ও একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে। এর ফলে একদিকে যেমন নাগরিক সুযোগ - সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ব্যাপক গতিশীলতা আসবে। এ সময় অন‍্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মাহতাবুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রওশন আলী মন্ডল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সাহাদত হোসেন সনি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম, পেশাজীবি প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম, বণিক সমিতির সদস্য মো. বেলাল হোসেন, রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা, রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. শাফি মাহমুদ, নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আকতারুজ্জান মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহাদাত জামান, উপজেলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, সাংবাদিক মো.হারুনুর রশিদ সিনিয়র নগর পরিকল্পনাবীদ তাজুল ইসলাম তানভীর, জুনিয়র নগর পরিকল্পনাবীদ মুহাইমুন ইসলাম, প্রজেক্ট ইন্জিনিয়ার এলজিডি এবিএম জহিরুল ইসলামসহ পৌরসভার কর্মকর্তা - কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ সময় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করেন।প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও ফ্রান্সের উন্নয়ন সংস্থা (AFD)। সভাটি পরিচালনা ও সার্বিকভাবে সমন্বয় করেন, পৌরসভার ইন্জিনিয়ার মো.শহিদুল ইসলাম। 

যমুনার চরে পলিসেড হাউজে মরিচের চারা উৎপাদনে কৃষকের সবুজ বিপ্লব 

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পলিসেড হাউজে  সারা বছর চলছে সবজির চারা উৎপাদন। পলিসেড হাউসে বছরব্যাপী সবজির চারা উৎপাদন করে কৃষিতে নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন কৃষকরা।  জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সারা বছর নিরাপদ সবজির চারা উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি পলিসেড হাউসে চাষাবাদে কৃষকদের এখন মুখে হাসি ফুটেছে। এ বিশেষ ব্যবস্থায় সারা বছরই সবজি চারা উৎপাদন করছেন কৃষকরা। গ্রীষ্মকালেও উৎপাদন হচ্ছে শীতকালীন সবজির চারা।  সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস সুএে জানা যায়, পলিসেড হাউসে সবজির চারা উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। তাপমাত্রাও থাকে নিয়ন্ত্রণে। থাকেনা কোন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ। জৈব সার প্রয়োগেই যথেষ্ট। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি  প্রযুক্তি সম্রসারণ প্রকল্পের আওতায়  সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নে ৩ টি পলিশেড হাউস তৈরি করে।  মরিচের ও সবজি চারা উৎপাদনে বেশ সাফল্য পান কৃষক সন্জু মিয়া, আরিফ ও ইশতিয়াক হাসান আরিফ। সরকারি উদ্যোগে তৈরি করা কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে উচ্চ মূল্যের সবজি চারা ফলানোয় কৃষকরা হয়ে উঠছে স্বাবলম্বী। তাদের দেখা দেখি অন্য চাষিরাও এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি। এমতাবস্থায় খাদ্য চাহিদা মেটাতে কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ। পলিসেড হাউস সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি নিয়ন্ত্রণ। পোকার আক্রমণ ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে ফসলকে রক্ষা করে।  পলিসেড হাউস তৈরিতে সহনীয় তাপমাত্রা, পলিথিন, লোহা বা বাঁশ দিয়ে জমির চারপাশে পলি ঘেরা হয়। ওপরের অংশেও দিতে হয় পলিথিন। এতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত হয়। চারা উৎপাদনে জৈবসার, নারিকেলের খোসা পচিয়ে প্রাকৃতিক তন্তু, হালকা ওজনের পানি ধারণের ক্ষমতা রাখে। যাকে বলা হয় কোকোপিট। মাটির বিকল্প বা মাটিতে বীজতলা করতে হয়। পলিসেড হাউসে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। কোকোপিট পানি ধরে রাখে। গাছকে আর্দ্র রাখে। পানিও দিতে হয় কমই। মাটিকে ঝরঝরে রাখে। শেকড়ে বাতাস পায়। ফলে পচনশীল রোগও কম হয়। পলিসেড হাউসে যেসব সবজি চাষ হয়। সেগুলোর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয়।  ভেতরে চাষাবাদে পলিমাটি, ছাই, গোবর, খৈল মিশ্রণে প্রস্তুত হয় চাষের জমি। পলিথিনের ব্যবহারে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ভেতরে প্রবেশে বাধা পায়। অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও চারা অক্ষত থাকে। পলিসেড হাউসে বছর জুড়ে ধনেপাতা, ফুলকপি, বেগুন, পাতাকপি, মরিচের  চারা উৎপাদন হয়। গ্রীষ্মকাল ও শীতকালেও সবজি চাষ হওয়ায় কৃষকের আয় হচ্ছে বছর জুড়েই।  এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সাফল্য পেয়েছেন সারিয়াকান্দি কাজলা ইউনিয়নে কুড়িপাড়া, জামথল চরের কৃষকরা। প্রায় ২ মাস আগে চরে  ১০ শতক জমির ওপর পলিসেড হাউস তৈরি করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । সবজির উৎপাদনের দায়িত্ব নেন সন্জু। গত ৩ মাসে পলিসেড হাউসে সবজি ও মরিচের চারা উৎপাদন করে প্রায় ১ লাখ টাকা। সে ২ লাখ টাকা খরচ করে বিক্রি করেছে ৩ লাখ টাকার কিছু বেশি।  খরচ বাদে লাভ হয়েছে ১ লাখ টাকা।  কৃষক সন্জু মিয়া বলেন, পলিসেড হাউজে বছর জুড়েই মৌসুম ভিত্তিক উন্নতমানের সবজির চারা বিক্রি করছেন। অসময়ে গ্রীষ্মকালীন মরিচের চারা বিক্রিতে ভাল লাভবান হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার টাকার  মরিচের চারা বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা মতো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছে। প্রতিটি চারা তৈরিতে খরচ হয় ৭০ পয়সা। বিক্রি করছেন দেড় টাকা ২ টাকা করে। পলিসেড হাউসে ২ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন তারা বলেন, একাজেই তাদের সংসার চলে।  স্থানীয়রা বলেন, অসময়ে সবজির চাহিদা বেশি থাকে। দামও বেশি থাকে। আগাম সবজি চারা উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। আগ্রহী কুড়িপাড়ার কৃষক  বাহারাম বাদশা বলেন, সারা বছর চারা উৎপাদন করা সম্ভব। দুর্যোগে ক্ষতির আশঙ্কা কম। কৃষকরা ও চারা নিয়ে লাভবান হচ্ছেন। বিক্রেতাও ভাল মুনাফা পাচ্ছেন। পলিসেড হাউস করার আশা আছে তার মনেও আছে যদি কৃষি অফিস সহযোগিতা করে তাহলে সে করবে। সারুয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, পলিসেড মূলত উচ্চ ফলনশীল ফুল, ফল ও সবজির চারা উৎপাদন  হয়ে থাকে। এখান থেকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া শেড থেকে আমরা অসময়ের সবজিও পেতে পারি। অসময়ে সবজি চাষ করে কৃষক অধিক লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে উচ্চমূল্যে সবজি বিক্রি করতে পারেন কৃষক। এ ছাড়া সারা বছরই চারাও পাওয়া যায়। দিনে দিনে বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ!  

আরও
X