ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
উপজেলাকে নিজ হাতে সাজিয়ে পদোন্নতি পেয়ে বিদায় নিলেন নন্দীগ্রামের জনবান্ধব ইউএনও শারমিন আরা
নন্দীগ্রামে চার প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের ঘরে ছুটে গেলেন এমপি মোশারফ
নন্দীগ্রাম থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে রোহান
নন্দীগ্রাম থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে রোহান
একজন সরকারি কর্মকর্তা শুধু দায়িত্ব পালন করেন না, কখনো কখনো তিনি হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের আস্থা, ভরসা ও ভালোবাসার ঠিকানা। অফিসের দরজা পেরিয়ে যখন কোনো কর্মকর্তা মানুষের সুখ-দুঃখ, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা মন দিয়ে শোনেন এবং সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করেন, তখন তাঁর পদমর্যাদার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে তাঁর মানবিক পরিচয়। বগুড়ার নন্দীগ্রামে তেমনই এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার। ২০২৪ সালের ৬ জুন নন্দীগ্রাম উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন ৩৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ব্যাচের এই কর্মকর্তা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য ভূমিসেবা সহজ করা, হয়রানি ও ভোগান্তি কমানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং দ্রুততার সঙ্গে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর কর্মদক্ষতার বড় স্বীকৃতিও আসে দায়িত্ব পালনকালে। মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল ভূমিসেবা নিশ্চিত করা, দ্রুততম সময়ে নামজারি (খারিজ) নিষ্পত্তি এবং দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। এই অর্জন শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, নন্দীগ্রামের ভূমিসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনেরও স্বীকৃতি বলে মনে করেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। নন্দীগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে রোহান সরকার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বের পরিধি বাড়লেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সেবার মান ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত ছিল। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বাজার মনিটরিং, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সাধারণ মানুষের ভূমিসেবা আরও সহজ ও হাতের নাগালে আনতে নন্দীগ্রাম পুরাতন বাজারে নবস্থাপিত ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রও নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি করেন তিনি। জমি, নামজারি কিংবা অন্যান্য ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। একসময় অনেকের কাছে ভূমি অফিস মানেই ছিল ভোগান্তি, দীর্ঘসূত্রতা ও নানা ধরনের শঙ্কার জায়গা। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে সেই ধারণা বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রোহান সরকার। সরকারি চাকরিতে পদায়ন ও বদলি স্বাভাবিক নিয়ম। একজন কর্মকর্তা এক কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে অন্যত্র চলে যাবেন—এটাই প্রশাসনের নিয়ম। কিন্তু দায়িত্বের চেয়ার ছেড়ে চলে গেলেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। রোহান সরকারের নন্দীগ্রাম অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোনো পুরস্কার বা প্রশাসনিক স্বীকৃতি নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। ভূমিসেবা নিতে আসা মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা, নামজারি নিয়ে সমস্যায় পড়া নাগরিকের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা, বাজারে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া, খাসজমি ও খাসপুকুর অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার, সাধারণ ও সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর এবং ভিপি লীজমানি শতভাগ আদায়, নন্দীগ্রাম হাট পেরিফেরিভুক্তকরণ—এসব কাজের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে পরিচিত ও আস্থার কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর কর্মকালকে ঘিরে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে সেবার নানা গল্প। ফলে দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হওয়ার সময়টুকু অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে আবেগের। কারণ, একজন কর্মকর্তা বদলি হয়ে যেতে পারেন, পদ পরিবর্তন হতে পারে; কিন্তু মানুষের জন্য করা ভালো কাজের স্মৃতি বদলি হয় না। নন্দীগ্রামের মানুষ হয়তো একদিন ভুলে যাবে ভূমি অফিসে তাঁর চেয়ারটি কোথায় ছিল। কিন্তু ভূমিসেবা নিতে গিয়ে পাওয়া সহযোগিতা, হয়রানি থেকে মুক্তির স্বস্তি কিংবা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া একটি আবেদনের স্মৃতি অনেকের কাছেই থেকে যাবে দীর্ঘদিন। এদিকে রোহান সরকার পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। নন্দীগ্রামে সাধারণ মানুষের সেবায় অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে এবার তিনি জাতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন। নতুন কর্মস্থলে তাঁর দায়িত্বের পরিধি আরও বড় হবে, সামনে আসবে নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন মানুষ ও নতুন কর্মপরিসর। তবে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে তিনি থেকে যাবেন সেই কর্মকর্তা হিসেবে, যার দরজা থেকে সেবা নিতে এসে কাউকে খালি হাতে বা অবহেলায় ফিরতে হয়নি।
মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে কাউন্সিলর পদে আলোচনায় নন্দীগ্রামের গোলাম রব্বানী
নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপি নেতার মায়ের ইন্তেকালে বিভিন্ন মহলের শোক
নিজে নয়, নন্দীগ্রামে শ্রমিকদের দিয়েই রাস্তা উদ্বোধন করালেন এমপি মোশারফ
নন্দীগ্রামে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ
গ্রাম থেকে জাতীয় মঞ্চে নন্দীগ্রামের সুমি, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ

চার বোনের মধ্যে সবার ছোট। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। প্রত্যন্ত গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারের সেই মেয়েটিই আজ জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল মঞ্চে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। প্রতিবেশীদের নানা কটুকথা ও সামাজিক বাধাকে উপেক্ষা করে খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া মিম আক্তার সুমি এখন নন্দীগ্রামের গর্ব। জাতীয় পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৪ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফাইনালে ওঠার পর প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ক্রেস্ট ও মেডেল গ্রহণ করেছে সুমি। তার এই অর্জনে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক, প্রতিবেশী ও পুরো নন্দীগ্রামবাসী। ছোট্ট গ্রাম থেকে জাতীয় ফুটবলের মঞ্চে:  মিম আক্তার সুমি নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ধুন্দার দারোগাপাড়া গ্রামের কৃষক মামুনুর রশিদ ও গৃহিণী আকলিমা বিবির মেয়ে। ২০১২ সালের ২৪ জুলাই জন্ম নেওয়া সুমি বর্তমানে ধুন্দার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। চার বোনের মধ্যে সবার ছোট সুমির বড় তিন বোনেরই বিয়ে হয়েছে। সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও মেয়ের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহকে কখনো দমিয়ে রাখেননি বাবা-মা। বরং সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তাকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি সুমির ছিল প্রবল আগ্রহ। স্কুলের বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি তার বিশেষ ঝোঁক তৈরি হয়। তবে মেয়ের মাঠে খেলতে যাওয়া নিয়ে প্রতিবেশীদের কেউ কেউ নানা মন্তব্য করতেন। কিন্তু কারও কথায় কান দেয়নি সুমি। নিজের স্বপ্নকে সামনে রেখে নিয়মিত চালিয়ে গেছে অনুশীলন ও খেলাধুলা। সেই কটুকথার জবাব সে দিয়েছে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। আজ সেই মানুষগুলোর অনেকেই সুমির সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।   ‘নতুন কুঁড়ি’ থেকেই নতুন পথচলা: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তরের আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ অনূর্ধ্ব-১৪ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে সুমির প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের নতুন যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে সে নন্দীগ্রাম উপজেলা দলের হয়ে উপজেলা পর্যায়ে অংশ নেয়। উপজেলা পর্যায়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিপক্ষে নন্দীগ্রাম দল ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে রানারআপ হয়। তবে দলের হয়ে সুমির দারুণ পারফরম্যান্স নজর কাড়ে সংশ্লিষ্টদের। এরপর বগুড়া জেলা দল গঠিত হলে সেখানে জায়গা করে নেয় সুমি। জেলা পর্যায়ে বগুড়া জেলার হয়ে রাজশাহী জেলার বিপক্ষে মাঠে নামে সে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল নিষ্পত্তি না হওয়ায় টাইব্রেকারে জয় পায় বগুড়া জেলা দল। জেলা পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে: জেলা পর্যায়ের সাফল্যের পর সুমির সামনে খুলে যায় আরও বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ। জাতীয় পর্যায়ে সে রাজশাহী অঞ্চলের হয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলতে খেলতে ফাইনালে ওঠে রাজশাহী অঞ্চল। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। ফাইনালে রাজশাহী অঞ্চলের মুখোমুখি হয় রংপুর অঞ্চল। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে রংপুর অঞ্চল জয়ী হলে রাজশাহী অঞ্চল রানারআপ হয়। রানারআপ দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে সুমিও অর্জন করে সম্মাননা। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ক্রেস্ট ও মেডেল গ্রহণ করে মিম আক্তার সুমি। জীবনের এমন একটি মুহূর্তের কথা কখনো ভাবেনি সুমি। সুমি বলে, আমার বাবা কৃষক। বাবা-মায়ের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আমি খেলাধুলা করি। নতুন কুঁড়িতে অংশ নেওয়ার আগে স্কুলের বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়েছি। তখন প্রতিবেশীদের কেউ কেউ আমাকে অন্য চোখে দেখতেন। কিন্তু কারও কথায় তোয়াক্কা না করে আমি খেলা চালিয়ে গেছি। এখন তারাই আমাকে বাহবা দিচ্ছেন। সে আরও বলে, আমি জীবনে বড় খেলোয়াড় হতে চাই। কখনো ভাবিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারব। এই মুহূর্তটি আমার জন্য অনেক গর্বের। আমার এই সাফল্যের কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি আমার বাবা ও মায়ের। সুমির বাবা কৃষক মামুনুর রশিদ বলেন, আমি কৃষিকাজ করি। আমাদের সামর্থ্য খুব বেশি নয়। ছোটবেলা থেকেই সুমির খেলাধুলার প্রতি অনেক আগ্রহ। মেয়ের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দেখে তাকে কখনো বাধা দিইনি। আজ সে জাতীয় পর্যায়ে খেলেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছে এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। সুমির এক প্রতিবেশী বলেন, আগে অনেকেই মেয়েটিকে খেলাধুলা করতে দেখে নানা কথা বলতেন। কিন্তু সুমি কারও কথায় কান দেয়নি। নিজের মতো করে খেলা চালিয়ে গেছে। এখন জাতীয় পর্যায়ে খেলে সে আমাদের এলাকার সম্মান বাড়িয়েছে। আমরা সবাই তার জন্য গর্বিত। ধুন্দার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, সুমি আমাদের বিদ্যালয়ের মেধাবী ও ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও তার আগ্রহ রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে তার অংশগ্রহণ আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। আমরা চাই, সে ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলুক এবং দেশের নারী ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক। নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, উপজেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক পরিবারের মেয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলে সাফল্য অর্জন করেছে, এটি অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। সুমির এই সাফল্য উপজেলার অন্য কিশোরীদের খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। তার প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ অব্যাহত রাখা হবে। বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন এমপি বলেন, আমার উপজেলার মেয়ে মিম আক্তার সুমি জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তার এই অর্জন নন্দীগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। আমি সুমির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। প্রত্যন্ত গ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা সুমি আজ প্রমাণ করেছেস্বপ্ন বড় হলে সীমিত সামর্থ্য কিংবা মানুষের কটুকথা কোনো বাধাই হতে পারে না। নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম ও অদম্য মনোবল দিয়ে জাতীয় ফুটবলের মঞ্চে জায়গা করে নিয়ে সুমি এখন শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো নন্দীগ্রাম উপজেলার গর্ব।

নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানের পথে দুই উপজেলার মানুষ

দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের নন্দীগ্রাম সীমানা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়নকাজ গত ১২ মে নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের কইগাড়ি মোড়ে উদ্বোধন করেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই কাজের মান নিয়ে নিয়মিত নজরদারি করছেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। কাজের নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং দুই উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কটি সর্বশেষ ২০১৭ সালের দিকে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের পর কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সড়কটির বড় একটি অংশ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সড়কের গর্তে ইটের হেরিং-বোন সোলিং করে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার পাকা সড়কের প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার অংশে এ ধরনের জোড়াতালি দেওয়ায় দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে তা আরও বেড়ে যায়। সড়কটির বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং শত শত ছোট-বড় ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করত। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় প্রায়ই ঘটত ছোট-বড় দুর্ঘটনা।  সব মিলিয়ে সড়কটি হয়ে উঠেছিল দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ।নন্দীগ্রাম ও শেরপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন।সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি রোগী পরিবহনেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে মানুষকে।  কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে যেমন সময় ও খরচ বেড়েছে, তেমনি ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদেরও প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।স্থানীয়রা বলছেন, কাজটি যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে নন্দীগ্রাম ও শেরপুরের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।  পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।সড়কটির উন্নয়নকাজ উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন।  পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কাহালু-নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি রাস্তার উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের কাজ সম্পন্ন হলে পথচারী, কৃষক, শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন

আরও
X