ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কমলগঞ্জে দুর্গোৎসবে শতাধিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ
রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, মধ্যনগরে উন্নয়নকাজ বন্ধের নির্দেশ এমপি কামরুলের
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, মধ্যনগরে উন্নয়নকাজ বন্ধের নির্দেশ এমপি কামরুলের
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এমপি কামরুজ্জামান কামরুল পরিদর্শন করেন। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর কাজ বন্ধের নির্দশ। পরিদর্শন কালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট-বালি ব্যবহার করায়, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। এ সময় তিনি কাজ বন্ধ রেখে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী পরিবর্তন করে প্রকল্পের নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে তিনি উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাইতকান্দা সেতু ও মধ্যনগর থেকে টুকের বাজার পর্যন্ত সাবমার্সিবল সড়কের কাজ এবং উড়াল সড়ক প্রকল্পের ৭ নম্বর প্যাকেজের চলমান কাজ পরিদর্শন করেন। উড়াল সড়ক প্রকল্পের এ প্যাকেজের ব্যয় ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। পরিদর্শনকালে উড়াল সড়ক প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের ইট-বালি দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য। এ সময় সঙ্গে থাকা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুন্সি শাহাব উদ্দিনকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী পরিবর্তন করে নির্ধারিত মানের ইট, বালি ও পাথর ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি এবং ফাঁকিবাজি চলবে না। আজ কয়েকটি কাজের সাইট পরিদর্শন করেছি। যেখানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী পেয়েছি, সেগুলো পরিবর্তন করে ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছি। তাছাড়া গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোথাও কাজের কোনো ধরনের অনিয়ম দেখতে পেলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।পরে তিনি মধ্যনগরে রাত্রিযাপন করেন। উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম মজনু ও মো. আবুল বাশার, মউপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল হোসেন,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম সইফুল,উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক: চুনারুঘাটের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নানা আলোচনা
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পে ধীরগতি
জগন্নাথপুরে বিয়ের দাওয়াত নিয়ে বিরোধ, হামলায় নিহত ১
বাহারি রঙের সৌন্দর্যে মুগ্ধতা ছড়ায় জিনিয়া ফুল
ভারতে পড়ে থাকা কানাইঘাটের খালেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে আকুয়া এলাকায় পড়ে থাকা কানাইঘাটের খালেদ আহমদ (২২) এর লাশ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও জকিগঞ্জ ১৯ বিজিবির মিডিয়া সেলের মাধ্যমে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির মিকিরপাড়া এরালীগুল গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের পুত্র খালেদ আহমদ স্থানীয় কয়েকজন গরু চোরাকারবারীদের সাথে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে। সেখান থেকে গরু নিয়ে আসার সময় ভারতের আকুয়া বস্তির খাসিয়াদের সাথে চোরকারবারীদের বিরোধ দেখা দিলে অস্ত্রধারী খাসিয়ারা চোরাকারবারীদের ধাওয়া দিলে খালেদ আহমদ নিখোঁজ হয়। তার সাথে থাকে অপর চোরাকারবারীরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। স্থানীয়রা জানান, ফিরে আসা চোরাকারবারীরা খালেদ আহমদের পরিবারকে খবর দেয়, ভারতীয় বিএসএফ খালেদ আহমদকে গুলি করে হত্যা করেছে, তার লাশ দনা সীমান্ত এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে। পরে তার পরিবার ও স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, খালেদ আহমদের লাশ ভারতের আকুয়া এলাকার জঙ্গলে পড়ে রয়েছে। তবে ভারতীয় বিএসএফ না খাসিয়াদের গুলিতে খালেদ আহমদ নিহত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় অনেকের ধারনা অস্ত্রধারী খাসিয়ারাই তাকে গুলি করে হত্যা করতে পারে। ঘটনাটি স্থানীয় দনা বিজিবি ক্যাম্পকে জানানোর পর উভয় দেশের আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গুলিবিদ্ধ খালেদের লাশ শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, খালেদ আহমদ এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠাবে। তবে তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় বিজিবি’র পক্ষ থেকে থানা পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি।

জগন্নাথপুরের শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের নবীন বরণে এমপি কয়ছর আহমেদ

উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়াস্থিত শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণির (২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১টায় কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, “আজকের নবীন শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং এর সুফল জগন্নাথপুরবাসীও ভোগ করবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি জগন্নাথপুরকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করব। তবে একা এই কাজ করা সম্ভব নয়; সবার সহযোগিতা পেলে আমি অবশ্যই সফল হব। আগামী ১০ বছরের মধ্যে জগন্নাথপুরকে আমরা দেশের সর্বোচ্চ জায়গায় দেখতে চাই।” শিক্ষা খাতের অগ্রগতি ও কলেজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার শিক্ষাবান্ধব। বাংলাদেশে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ বাজেট শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শাহজালাল মহাবিদ্যালয় সরকারীকরণ, সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণ এবং ডিগ্রি স্তরে উন্নীত করার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও অনুদান থাকবে।” শাহজালাল মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ শাহজালাল মহাবিদ্যালয়কে ডিগ্রিকরণ, সরকারীকরণ এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জোরালো দাবি জানান। শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক তাশনিমুল শিহাবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহসিন উদ্দিন, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু হোরায়রা ছাদ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা জজ আদালতের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহিন, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিক মিয়া, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ এবং জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী আব্দুস সোবহান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কলকলিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাশিম, শিক্ষানুরাগী এম সাদিকুর রহমান নান্নু, আনিছুর রহমান, আব্বুস সালাম, হুমায়ুন কবীর, জহিরুল ইসলাম লেবু, কলকলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সেলিম আহমেদ এবং সাবেক শিক্ষার্থী জিল্লুল হক। অনুষ্ঠানে বক্তারা কলেজের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, কলেজটি বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর জমি দান করেছিলেন প্রখ্যাত দানবীর হাজী ইশরাক আলী। কলেজটির শিক্ষার মান ও পরিধি বাড়াতে দ্রুত ডিগ্রি কোর্স চালু এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবনী রানী নাথ। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নবীনদের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করেন মোঃ ইমন আহমেদ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেদোওয়ান হোসেন রিয়াদ। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে শিক্ষক শিব্বির আহমেদ প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য ও শক্তির জায়গা: সিসিক প্রশাসক 

সিলেটের ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। এই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে নগরের দাড়িয়াপাড়ায় শ্রী শ্রী রক্ষা কালী বাড়িতে আয়োজিত বস্ত্র বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিসিক প্রশাসক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এ উৎসবকে আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। নগরের পূজামণ্ডপগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সড়কবাতি সচল রাখা এবং মশক নিধনসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সিসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই চেতনা ধারণ করে আমরা একটি সুন্দর ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তুলতে চাই। দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব যাতে মানুষ নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সিলেটের ধর্মীয় সম্প্রীতির যে সুনাম রয়েছে, তা ধরে রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কোনো বিকল্প নেই। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা আমাদের বিভক্ত করে না; বরং সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক কানন কান্তি দাশ। সংগঠনের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট ফণী ভূষণ সরকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমাজসেবী জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর বার্তা সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস, পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এপেক্সিয়ান চন্দন দাশ এবং জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার দাশ। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে অতিথিরা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন।

হবিগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ঢাকা সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুল খালেক (৫০) নামে এক মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল খালেক বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম গ্রামের মৃত আফতাব হোসেনের পুত্র। খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।  জানা গেছে, আব্দুল খালেক সে তার শ্বশুর বাড়ি লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রাম থেকে মোটর সাইকেলযোগে সুন্নতে খতনা করানোর জন্য অলিপুর এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে মহাসড়কের অলিপুর এলাকার কাছাকাছি পৌছলে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তার মোটর সাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।  শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সৈয়দ ইমরুল সাহেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে শান্তিগঞ্জ বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কমরূপদলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক লাল চক্রবর্তী। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তেঘরিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধা রঞ্জন মজুমদারকে। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল ২টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মজিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে, রথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে, ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সর্ব সম্মতিক্রমে অনুষ্ঠানের সভাপতি আশীষ কুমার চক্রবর্তী এই কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নেতৃত্বের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম, পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন—সিনিয়র সহসভাপতি (পুরুষ) হিসেবে শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন এবং সিনিয়র সহসভাপতি (মহিলা) হিসেবে দরগাপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মালা রায়। এ ছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি (পুরুষ) পদে মুক্তাখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সালেহ আহমদ এবং সিনিয়র সহসভাপতি (মহিলা) পদে হাছকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজবিন আক্তার দায়িত্ব পেয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) হিসেবে হাসারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নেজাবুল হক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (মহিলা) হিসেবে কসবা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শীলা রাণী দাশ তালুকদার রয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে কাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন কান্তি তালুকদার ও আলমপুর (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুমা আক্তার রয়েছেন। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ধনপুর-সর্দারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঈনুল হক। দপ্তর সম্পাদক পদে আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল চক্রবর্তী এবং অর্থ সম্পাদক পদে চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ তালুকদার দায়িত্ব পেয়েছেন। কমিটিতে সহ-অর্থ সম্পাদক পদে, উকারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র দাস,  ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত চক্রবর্তী, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক পদে ছয়হাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবা রানী পাল, মহিলা সম্পাদক পদে ডুংরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রোখসানা বেগম, সহ-মহিলা সম্পাদক পদে গাগলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাছুমা বেগম, সাহিত্য সম্পাদক মৌগাঁও বাঘেরকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রীতি রানী সাথী, কো-অপ্ট সদস্য পদে রথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার চক্রবর্তী, গাজীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব রায়, সদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমা চক্রবর্তী, কান্দাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসুন কান্তি দাশ সহ মোট ২৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটির নেতৃত্বে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও পেশাগত ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া তুলে ধরা, পেশাগত সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে সমিতি কার্যকর অবদান রাখবে।

চা বাগানে পূজার আনন্দ, শ্রমিকদের পাশে এমপি ফয়সল

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার চা বাগানগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার তাঁরা চা বাগানসহ বিভিন্ন এলাকার  সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠান সায়হাম নিজস্ব তহবিল থেকে চা বাগানসহ ২০৩টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দিয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় চা শ্রমিকদের পূজার আনন্দে অংশীদার হতে এ সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি অনুদান বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থেকে পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সভা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও অনুদান বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ও পরিবারের সার্বিক সহযোগিতায় মাধবপুর ও চুনারুঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে। চা শ্রমিক নেতা দীপক কর্মকার বলেন, চা বাগানের শ্রমিকেরা প্রতিবছর অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করেন। এ বছর সরকারি অনুদানের পাশাপাশি সায়হাম কোম্পানি পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এতে শ্রমিকদের আনন্দ আরও বেড়েছে। এখন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে পূজার উৎসব চলছে। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের হেমন্ত পান বলেন, পূজা উপলক্ষে সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও তাঁর ছেলে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চা শ্রমিকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। তাঁরা বাগানে এসে শ্রমিকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কারও কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন। এ বছর আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। চা বাগানগুলোতে পূজাকে কেন্দ্র করে সাজসজ্জা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিজয়া দশমী পর্যন্ত এ আনন্দ অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে এমন সহযোগিতা ও শুভেচ্ছা বিনিময় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

মাধবপুরের বিভিন্ন সড়কে তালবীজ রোপণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সড়কে তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। চলতি বছর উপজেলায় মোট ৮ হাজার ২০০টি তালবীজ রোপণের তথ্য পাওয়া গেছে। বুল্লা মানবিক টিমের অর্থায়নে প্রথম পর্যায়ে ৯০০টি তালবীজ রোপণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসানের সৌজন্যে বিভিন্ন সড়কে আরও ৩ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়। এ ছাড়া কামরুলের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে আরও ৩ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। বুধবার উপজেলার তেলিয়াপাড়া স্মৃতিস্তম্ভের মাঠে তালবীজ রোপণ করেন ইউএনও মো. মেহেদী হাসান। এ সময় হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) রাজিউর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়, মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, মৌজপুর থেকে ঘিলাতুলী সড়কে ৯০০টি, সুলতান থেকে শাহপুর পর্যন্ত ১ হাজার ১০০টি, গুমুটিয়া থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত ৩০০টি, জলভাঙ্গা থেকে বানেশ্বর সড়কে ৩০০টি এবং আদাঐর থেকে মাল্লা রোডে ৪০০টি তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব তালবীজ থেকে চারা গজিয়ে গাছ বেড়ে উঠলে এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে।

আরও
X