ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কমলগঞ্জে দুর্গোৎসবে শতাধিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ
রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা
বাহারি রঙের সৌন্দর্যে মুগ্ধতা ছড়ায় জিনিয়া ফুল
বাহারি রঙের সৌন্দর্যে মুগ্ধতা ছড়ায় জিনিয়া ফুল
প্রকৃতির রঙিন ক্যানভাসে সৌন্দর্যের এক অনন্য নাম জিনিয়া ফুল। লাল, গোলাপি, হলুদ, সাদা, বেগুনি, কমলা—নানা রঙের সমাহারে জিনিয়া যেন রঙের উৎসব নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতির আঙিনায়। পাপড়ির বিন্যাস, উজ্জ্বল রং আর স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে ফুলপ্রেমীদের সহজেই মুগ্ধ করে এই ফুল। বাগানের শোভা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরের ফুলদানিতে কিংবা ফুলের তোড়ায়ও জিনিয়া যোগ করে নান্দনিকতার অনন্য মাত্রা। মৌসুমি ফুলের মধ্যে জিনিয়া বেশ জনপ্রিয়। বাড়ির আঙিনা, ছাদবাগান, পার্ক কিংবা ফুলের বাগানে এই ফুলের উপস্থিতি পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। রঙের বৈচিত্র্য ও সহজে চাষযোগ্যতার কারণে শৌখিন বাগানিদের কাছেও জিনিয়া বেশ সমাদৃত। জিনিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম Zinnia elegans। এটি অ্যাস্টারেসি (Asteraceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একধরনের সপুষ্পক উদ্ভিদ। ফুলটির আদি নিবাস মেক্সিকো। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শোভাবর্ধক ফুল হিসেবে এর চাষ হয়। জিনিয়া নামেই ফুলটি বাংলাদেশে পরিচিত। জিনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বর্ণিল ফুল। প্রজাতি ও জাতভেদে ফুলের আকার, পাপড়ির বিন্যাস এবং রঙে ভিন্নতা দেখা যায়। লাল, গোলাপি, হলুদ, সাদা, বেগুনি ও কমলা রঙের জিনিয়া বিশেষভাবে পরিচিত। কিছু জাতের ফুলে একাধিক রঙের মিশ্রণও দেখা যায়। ফলে একই বাগানে বিভিন্ন জাতের জিনিয়া ফুটলে তৈরি হয় চোখজুড়ানো রঙের সমারোহ। শনিবার সকাল ১১ টার দিকে ফরেস্ট অফিস রোডের কল্লোল দেবের বাসা ছাদ বাগান থেকে ছবিগুলো ধারন করা হয়। গাছের উচ্চতা ও গড়ন জাতভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত বীজ থেকে জিনিয়ার চারা জন্মানো যায়। উপযুক্ত আলো, পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা এবং পরিচর্যা পেলে গাছ সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে ও ফুল দেয়। শীতকাল জিনিয়া চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হলেও উষ্ণ আবহাওয়ায় উপযুক্ত পরিবেশ ও জাত নির্বাচন করে বছরের অন্য সময়েও এর চাষ সম্ভব। শুধু সৌন্দর্যেই নয়, ব্যবহারিক দিক থেকেও জিনিয়ার রয়েছে বিশেষ কদর। ফুলদানিতে সাজানো, ঘর সাজানো এবং নানা ধরনের ফুলের তোড়া তৈরিতে জিনিয়া ব্যবহার করা হয়। ফুলের স্থায়িত্ব ও আকর্ষণীয় রঙের কারণে এটি কাট ফ্লাওয়ার হিসেবেও জনপ্রিয়। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে জিনিয়া কেবল একটি ফুল নয়; এটি রঙ, সৌন্দর্য ও সজীবতার প্রতীক। বাগানের এক কোণে ফুটে থাকা কয়েকটি জিনিয়া যেমন মন ভালো করে দিতে পারে, তেমনি নানা রঙের জিনিয়ায় সাজানো একটি বাগান হয়ে উঠতে পারে বাড়ির সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এই ফুল তাই ফুলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ প্রিয়। রঙিন পাপড়ির মায়া আর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে জিনিয়া বারবার মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির ছোট ছোট আয়োজনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আনন্দ ও মুগ্ধতার অফুরন্ত উৎস।
শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
কমলগঞ্জে মিরতিংগা চা বাগানে বোনাসের দাবিতে চা শ্রমিকদের অবস্থান ধর্মঘট
রাজনগরে দুর্যোগ প্রশমনে সচেতনতামূলক মহড়া ও আলোচনা সভা
শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
রাজনগরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও জেনারেটর রাখার ওপর গুরুত্বারোপ

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজনগর উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিংদার। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, এ বছর রাজনগর উপজেলায় ৮২টি সার্বজনীন ও ৫৫টি ব্যক্তিগত মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে উপজেলার জন্য ২ লাখ টাকা ও ৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের পাঁচগাঁও দুর্গামণ্ডপে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও লাল রঙের প্রতিমার পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সেখানে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এ কারণে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সভায় জানানো হয়, পূজামণ্ডপের গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আটজন, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে ছয়জন এবং অন্যান্য মণ্ডপে চারজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন, আনসার ও পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহার এবং একাধিক টহল দল সক্রিয় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর প্রস্তুত রাখা এবং আনসার সদস্যদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সভার সভাপতি। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া সভায় মাদক, চুরি ও জননিরাপত্তাসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা। এসব সমস্যা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাশ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল আল আলামিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম. মোস্তফির বিল্লাহ, রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল গনী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান, রাজনগর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মকছেদুল মমিন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আলী হাসান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তরভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকার, রাজনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন, টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মতিন এবং পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুবেল আহমদ রাসেল। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি কবির মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাস্টার, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক রূপক চন্দ্র দেব, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু রায়হান শাহীন এবং বিএনপি নেতা হাকিম বক্স। এ সময় রাজনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আওয়াল কালাম বেগ, বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনগরে তিন ওয়ার্ডে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় প্রাথমিকভাবে তিনটি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী পরিবারের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উপকারভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড, তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজনগর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহবিষয়ক অবহিতকরণ ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার কর্মসূচির উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং উপকারভোগী নির্বাচনের সম্ভাব্য মানদণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে, সেগুলো হলো—ফতেপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড, কামারচাক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচন ও তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তাবলি অনুসরণ, তথ্যের যথার্থতা যাচাই-বাছাই এবং প্রকৃত উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হোসেন শাহ, রাজনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আওয়াল কালাম বেগ, উপদেষ্টা আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমদউর রহমান ইমরান এবং সহযোগী সদস্য জুয়েল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনগরে প্রকৌশলীর নিষেধ উপেক্ষা করে ঢালাই, ঝুলে পড়ল বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ছাদ  

মৌলভীবাজারের রাজনগরে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছাদ ঢালাইয়ের ২৭ দিন পর সিঁড়ির কক্ষের ছাদ ঝুলে পড়েছে। ছাদটি ভবনের মূল কলাম থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেলে ছাদের সাটারিং খোলার সময় এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের মেদিনীমহল গ্রামে ১৯৯৮ সালে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে পুরোনো একটি ভবন থাকলেও শিক্ষার্থীদের সংকুলান না হওয়ায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে চারতলা ফাউন্ডেশনের ওপর তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। সম্প্রতি ভবন নির্মাণের কাজ পায় ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. খলীলুর রহমান এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের সিঁড়ির কক্ষের ছাদ ঢালাইয়ে বিম দেওয়া হয়নি এবং ছাদে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ছাদ ঢালাই না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেন। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ঢালাই দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত শুক্রবার বিকেলে ছাদের সাটারিং খোলার সময় ছাদটি দেবে যায়। এ সময় ছাদটি ভবনের মূল কলাম থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভবন নির্মাণের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, মিস্ত্রিরা বাড়িতে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছিলেন। আমাকে বা প্রকৌশলীকে না জানিয়েই তাঁরা সিঁড়ির কক্ষের ছাদ ঢালাই দেন। প্রকৌশলী এটি ভেঙে ফেলার জন্য চিঠি দিয়েছেন। আমি এসে ওই ঢালাই ভেঙে নতুন করে ঢালাই দিয়ে দেব। জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের সিঁড়ির কক্ষের ছাদে বিম না দিয়ে ক্যান্টিলিভার ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ছাদটি ঝুলে পড়েছে। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জয় কাপালী বলেন, আমাদের না জানিয়েই ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে যাতে ছাদটি ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়া হয়। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, ঘটনাটি জানার পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন তাঁদের না জানিয়েই ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ছাদটি ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।  

শ্রীমঙ্গলে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন WHO ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা

শ্রীমঙ্গলে হাম-রুবেলা (এমআর) মপ-আপ ক্যাম্পেইন ও মাঠপর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) প্রতিনিধিরা। শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, কার্যক্রমের মান যাচাই এবং মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে গতকালের  উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিম, এমওডিসি ডা. সুভাষ দেবনাথ স্নিগ্ধ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের টিকাদান কার্ড যাচাই করেন। পাশাপাশি টিকাদানসংক্রান্ত নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে কার্যক্রমের অগ্রগতি, সঠিকতা ও গুণগত মান যাচাই করেন। এ সময় মা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে টিকাদান বিষয়ে তাঁদের সচেতনতা, আগ্রহ এবং টিকা গ্রহণে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া নারী ও মায়েদের ধনুষ্টংকার প্রতিরোধী টিকা গ্রহণসংক্রান্ত কার্ড ও তথ্য যাচাই করা হয়। মা ও অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার গুরুত্ব এবং টিকা গ্রহণের পর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়। টিকা গ্রহণের পর কোনো শিশু বা নারী শারীরিক সমস্যা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালন, উপকারভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সার্বিক কর্মতৎপরতাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো শিশু যেন টিকাদানের আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিদর্শন শেষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। একই সঙ্গে চলমান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টার জন্য তাঁরা ধন্যবাদ জানান। হাম-রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং সব শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কমলগঞ্জে বিদেশি মদসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৫১ বোতল বিদেশি মদসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা গ্রামে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কমলগঞ্জ উপজেলার দলই চা বাগানের বাসিন্দা রতন পালের ছেলে জয় পাল (২৫) এবং মৃত কান্তি লাল রিকিয়াশনের ছেলে শিবা রিকিয়াশন (১৯)। এসআরবি-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর সময় দুই যুবক দুটি বাজারের ব্যাগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযানিক দলের সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। পরে ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে ৫১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবক ও উদ্ধার করা মদ কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার বংশবিস্তার রোধে রাজনগরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার বংশবিস্তার রোধে মৌলভীবাজারের রাজনগরে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি রাজনগর বাজার প্রদক্ষিণ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মশা নিধনের যন্ত্রের সাহায্যে ধোঁয়া ছিটানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, রাজনগর, মৌলভীবাজারের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) রুবেল মাহমুদ। তিনি বলেন, মশা নিধনে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এ ধরনের কার্যক্রম শুধু তিন মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এতে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং মানুষ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবে। এ জন্য তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা হোসেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাশ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবাইর আহমেদ চৌধুরী, টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর মতিন, পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুবেল আহমদ রাসেল, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আলী হোসেন, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গির আলম ও রুপক চন্দ্র দেব এবং সচেতন নাগরিকদের পক্ষে ফুয়াদ হোসেন মুরাদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টব পরিত্যক্ত পাত্র ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। র‍্যালি ও মশা নিধন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে রাজনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের ফল প্রকাশ

‘বই পড়ি, মন গড়ি’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব-২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সকাল ১০টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২ মাসব্যাপী পাঠ কার্যক্রমের সাফল্য উদ্‌যাপন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ তালুকদার সহ বিেনপি'র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো, জ্ঞানচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, পাঠপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনুষ্ঠানে উৎসবের ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ায় উৎসাহিত করবে এবং শ্রীমঙ্গলে জ্ঞানভিত্তিক ও মননশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

আরও
X