ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক: চুনারুঘাটের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নানা আলোচনা
হবিগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
চা বাগানে পূজার আনন্দ, শ্রমিকদের পাশে এমপি ফয়সল
মশিউর অর্ণব
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার চা বাগানগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার তাঁরা চা বাগানসহ বিভিন্ন এলাকার  সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠান সায়হাম নিজস্ব তহবিল থেকে চা বাগানসহ ২০৩টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দিয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় চা শ্রমিকদের পূজার আনন্দে অংশীদার হতে এ সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি অনুদান বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থেকে পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সভা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও অনুদান বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ও পরিবারের সার্বিক সহযোগিতায় মাধবপুর ও চুনারুঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে। চা শ্রমিক নেতা দীপক কর্মকার বলেন, চা বাগানের শ্রমিকেরা প্রতিবছর অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করেন। এ বছর সরকারি অনুদানের পাশাপাশি সায়হাম কোম্পানি পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এতে শ্রমিকদের আনন্দ আরও বেড়েছে। এখন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে পূজার উৎসব চলছে। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের হেমন্ত পান বলেন, পূজা উপলক্ষে সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও তাঁর ছেলে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চা শ্রমিকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। তাঁরা বাগানে এসে শ্রমিকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কারও কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন। এ বছর আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। চা বাগানগুলোতে পূজাকে কেন্দ্র করে সাজসজ্জা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিজয়া দশমী পর্যন্ত এ আনন্দ অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে এমন সহযোগিতা ও শুভেচ্ছা বিনিময় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
মাধবপুরের বিভিন্ন সড়কে তালবীজ রোপণ
পুকুরে ডুবে ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপ শীলের মৃত্যু
বিএনপি সরকার সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল: এস.এম ফয়সল এমপি
লাখাইয়ে সন্ধ্যার পর লোকালয়ে শেয়ালের তাণ্ডব, নারী ও শিশুসহ আহত ৩২
আজমিরীগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

আজমিরীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে সিজিল মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ৩৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ আটক হয়েছেন তিনি। তবে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আটক করা হলেও পৌর এলাকায় পর্দার আড়ালে থেকে বড় বড় ডিলাররা মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার লঞ্চ টার্মিনাল সড়কে অভিযান চালিয়ে সিজিল মিয়াকে আটক করা হয়। হবিগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মীরারানী দেবীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে তাঁকে আজমিরীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক সিজিল মিয়া আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সুন্দর আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার একাধিক স্থানে ইয়াবা বেচাকেনা চলছে। এর মধ্যে কাকাইলছেও রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সড়ক, শরীফনগর শাহী ঈদগাহসংলগ্ন এলাকা, মুন সিনেমা হল সড়ক, লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক এবং পাহাড়পুর সড়কসংলগ্ন শরীফনগর নতুনবাড়ি ও মুন্সিহাঠি নতুনবাড়ির মধ্যবর্তী এলাকাকে ইয়াবা বেচাকেনার হটস্পট হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকের বিস্তার যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, মাদক কারবারের মাধ্যমে বড় বড় ডিলাররা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খুচরা পর্যায়ের কারবারিরা আটক হলেও পর্দার আড়ালে থাকা বড় সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মাদকের বিস্তার রোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু খুচরা কারবারিদের আটক করলেই হবে না, মাদকের মূল হোতাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদকের উৎস, সরবরাহের পথ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সমন্বিত অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। এর আগে আজমিরীগঞ্জে মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে  এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা, চোলাই মদ, বিদেশি মদ এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগের চিত্র উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালিত হলেও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সচেতন মহলের দাবি, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের আটক করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং নেপথ্যে থাকা মূল কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ৩৪ পিছ ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

মাটির প্রতিমায় প্রাণের ছোঁয়া, দুর্গোৎসবের রঙে সাজছে বানিয়াচং

কয়েকদিন আগেও যেখানে পড়ে ছিল বাঁশ, কাঠ, খড় আর মাটির স্তূপ, এখন সেখানেই ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। কারও হাতে রংতুলি, কারও হাতে মাটির প্রলেপ; কেউ ব্যস্ত চোখের পাতা আঁকতে, কেউ সাজিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গার অলংকার। সকাল গড়িয়ে রাত, রাত পেরিয়ে ভোর—সময় যেন থামছে না বানিয়াচংয়ের মৃৎশিল্পীদের। শারদীয় দুর্গোৎসব যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। মাটির শরীরে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছেন দেবী দুর্গা। সঙ্গে তৈরি হচ্ছে সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশ। রংতুলির শেষ আঁচড়ে প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে আরও আকর্ষণীয়। উৎসবের আনন্দের আড়ালে এ যেন মৃৎশিল্পীদের নিরলস শ্রম, ঘাম আর বংশপরম্পরায় টিকে থাকা এক শিল্পের গল্প। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় এবার ১২২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের এই উৎসবের সমাপ্তি হবে। পূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ পর্যায়ে। কোথাও চলছে রঙের কাজ, কোথাও প্রতিমার অলংকার পরানো হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। মাটির প্রতিমায় রংতুলির প্রতিটি আঁচড় যেন উৎসবের আগমনী বার্তা বহন করছে। মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ মোটেও সহজ নয়। প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করতে হয় কাঠামো। এরপর খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করে দেওয়া হয় মাটির প্রলেপ। কয়েক ধাপে মাটি শুকানোর পর আসে সূক্ষ্ম কারুকাজ, রং ও সাজসজ্জার পালা। একটি প্রতিমা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে দীর্ঘ সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন। তাই শেষ সময়ের চাপ সামলাতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন তারা। প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিখিল আচার্য বলেন, “বয়স ৬৫ পেরোলেও প্রতিমা গড়ার নেশা আর ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা আমাকে আজও মাটির কাছে টেনে আনে। একই বাড়িতে টানা ৪০ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিমা তৈরি করছি। এবার মাটির কাজ শেষ, চলছে রংতুলির শেষ আঁচড়ে প্রতিমাকে জীবন্ত করে তোলার প্রস্তুতি। সময়ের সঙ্গে প্রতিমার নকশা ও আকারে পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু আমি বুকের গভীরে আগলে রেখেছি পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য আর আদি শিল্পধারা।  কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে আর্থিক চাপ বাড়লেও প্রতিমা গড়ার আনন্দ ও দায়বদ্ধতা কখনো কমেনি। তবে আগের তুলনায় সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা বেড়েছে, যা আমাদের মতো প্রবীণ শিল্পীদের নতুন করে সাহস জোগায়। তাঁদের এই সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।” প্রতিমাশিল্পী অঞ্জন পাল বলেন, “প্রতিমা তৈরির কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে। রংতুলির নিপুণ আঁচড়, সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নান্দনিক সাজসজ্জায় প্রতিটি প্রতিমাকে অপরূপ রূপে ফুটিয়ে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে দিন-রাত একাকার করে পরিশ্রম করতে হচ্ছে। পূজার আগমনী আনন্দকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে এখন আমাদের চোখে ঘুম নেই, ক্লান্তি উপেক্ষা করেই চলছে শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ।” বানিয়াচং পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাধব দেব জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বানিয়াচংয়ের পূজামণ্ডপগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী ১৬ অক্টোবর শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে পাঁচ দিনব্যাপী এ মহোৎসবের। দুর্গোৎসবকে সুশৃঙ্খল, আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন করতে মণ্ডপে মণ্ডপে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।  ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীরা যেন নিশ্চিন্তে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এবং উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো। সরকার ও প্রশাসন অন্যান্য বছরের তুলনায় খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রতি মণ্ডপে এবার ৬'শ কেজি করে সরকারি বরাদ্দকৃত চাল পাবে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি এখন অনেকটাই সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পূজার দিনগুলোতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলন ঘটে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমার রূপ ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বানিয়াচংয়ের জনপদেও ছড়িয়ে পড়ছে উৎসবের আবহ। এদিকে প্রতিমা তৈরির কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি। উৎসবকে ঘিরে বাজারেও বাড়ছে ব্যস্ততা। নতুন পোশাক, পূজার সামগ্রী ও বিভিন্ন পণ্যের কেনাকাটায় জমে উঠছে স্থানীয় বাজার। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। উপজেলার ১২২টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।  পূজার পুরো সময়জুড়ে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আনসার বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, ভক্ত-দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক ও তৎপর থাকবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মেহরাব হোসাইন বলেন, “দুর্গোৎসবের আনন্দ যেন সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই ভক্তরা যেন নির্বিঘ্নে পূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।  পুলিশ, আনসার ও এসআরবি সদস্যরা পূজামণ্ডপগুলোতে টহল দেবেন। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে থাকবে বিশেষ নজরদারি। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলার ১২২টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ৭৩.২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ভালোবাসার এক অনন্য বন্ধন। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে বানিয়াচংয়ে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই জনপদে কোনো বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

লাখাইয়ে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ​

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রাসু দেবনাথ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে লাখাই থানা পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) মধ্যরাতে (রাত ১২টা ২০ মিনিট) লাখাই ইউনিয়নের কামালপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাখাই থানার এসআই (নিরস্ত্র) প্রণয় কুমার সরকার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ কামালপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন।  অভিযানকালে ১ নম্বর লাখাই ইউনিয়নের অন্তর্গত কামালপুর গ্রামে রাধা চরন দেবনাথের বাড়ির পাশ থেকে  রাসুকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ​গ্রেপ্তারকৃত রাসু দেবনাথ কামালপুর গ্রামের রাধা চরন দেবনাথ ও অর্পনা রানী দেবনাথের পুত্র। ​বিষয়টি নিশ্চিত করে লাখাই থানা পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।  মাদক বিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাধবপুরে ১১৮টি পূজামণ্ডপে সায়হাম গ্রুপের অনুদান

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ১১৮টি দুর্গাপূজামণ্ডপে সায়হাম গ্রুপের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রোববার বেলা ১১ টায় মাধবপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।বশিক্ষাবিদ অরুণ কুমার নাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সায়হাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। মাধবপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষক হিমাংশু দেব, অধ্যাপক পঙ্কজ রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল, পৌর বিএনপির সভাপতি গোলাপ খান, মাধবপুর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোজ কান্তি পাল, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক হীরেশ ভট্টাচার্য, পৌর আহ্বায়ক সুরঞ্জন পাল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলরনি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, চেয়ারম্যান আতাউল মোস্তাফা সোহেল, আধাঐর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মৃণাল বিশ্বাস ও বিউটি কৈরিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের নির্দেশনায় মাধবপুর ও চুনারুঘাটের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মাধবপুরে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। বক্তারা আরও বলেন, এবার ১১৮টি পূজামণ্ডপে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তাঁরা।  সভা শেষে সায়হাম গ্রুপের পক্ষ থেকে ১১৮টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদ।

আজমিরীগঞ্জে দিনদুপুরে সিএনজি চালককে মারধর, ছুরিকাঘাত করে মোবাইল-টাকা ছিনতাই  

আজমিরীগঞ্জে দিনদুপুরে সিএনজি (অটোরিক্সা) চালককে মারধর ও ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ১ নম্বর সদর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত চালক সুজন মিয়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মৃত মোঃ আতর আলী মিয়ার ছেলে। তিনি আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। সুজন মিয়া জানান, সায়েস্তাগঞ্জ থেকে তিনজন যাত্রী ৮০০ টাকা ভাড়ায় তাঁকে আজমিরীগঞ্জে নিয়ে আসেন। বিরাট গ্রামসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই যাত্রীদের পরিচিত আরও দুজন সিএনজিতে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর সায়েস্তাগঞ্জ থেকে আসা তিন যাত্রী নেমে যান। পরে বাকি দুজনকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একপর্যায়ে তাঁরা তাঁকে কোমল পানীয় ‘স্পিড’ খেতে দেন। তিনি তা পান করতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করে সিএনজির চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সুজনের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁকে সড়কে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর হাতে আঘাত করা হয়। পরে তাঁর মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় এবং ছিনিয়ে নেওয়া নগদ টাকার পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ৫০হাজার টাকা জরিমানা 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে হাবিবুর রহমান (৩০) নামে এক যুবককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।  বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার বদরগাজী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গালিব চৌধুরী। দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার পঞ্চাশ এলাকার বাসিন্দা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনারুঘাট উপজেলার বদরগাজী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।  এ সময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর বিধান অনুযায়ী অবৈধভাবে বালু তোলার অপরাধে হাবিবুর রহমানকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে চুনারুঘাট থানা-পুলিশের একটি দল সহায়তা করে। ইউএনও মোহাম্মদ গালিব চৌধুরী জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চুনারুঘাটে ঘুষকাণ্ডে আরেক এএসআই প্রত্যাহার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অতনু বণিককে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই অতনু বণিক এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নিচ্ছেন। ভিডিওতে টাকা দাবি ও তা হস্তান্তরের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানায় দায়িত্ব পালনকালে অতনু বণিক সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। এর আগেও একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। ঘুষকাণ্ডের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এএসআই অতনু বণিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে, এর আগে গত ৫ অক্টোবর একই থানার আরেক এএসআই ইলিয়াস হোসেনের ঘুষসংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকেও পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। চুনারুঘাট থানার পরপর দুই এএসআইয়ের ঘুষকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় থানার অভ্যন্তরীণ তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এএসআই অতনু বণিককে থানা থেকে ছাড়পত্র দিয়ে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও
X