ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, মধ্যনগরে উন্নয়নকাজ বন্ধের নির্দেশ এমপি কামরুলের
জগন্নাথপুরে বিয়ের দাওয়াত নিয়ে বিরোধ, হামলায় নিহত ১
জগন্নাথপুরের শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের নবীন বরণে এমপি কয়ছর আহমেদ
মশিউর অর্ণব
উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়াস্থিত শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণির (২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১টায় কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, “আজকের নবীন শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং এর সুফল জগন্নাথপুরবাসীও ভোগ করবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি জগন্নাথপুরকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করব। তবে একা এই কাজ করা সম্ভব নয়; সবার সহযোগিতা পেলে আমি অবশ্যই সফল হব। আগামী ১০ বছরের মধ্যে জগন্নাথপুরকে আমরা দেশের সর্বোচ্চ জায়গায় দেখতে চাই।” শিক্ষা খাতের অগ্রগতি ও কলেজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার শিক্ষাবান্ধব। বাংলাদেশে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ বাজেট শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শাহজালাল মহাবিদ্যালয় সরকারীকরণ, সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণ এবং ডিগ্রি স্তরে উন্নীত করার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও অনুদান থাকবে।” শাহজালাল মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ শাহজালাল মহাবিদ্যালয়কে ডিগ্রিকরণ, সরকারীকরণ এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জোরালো দাবি জানান। শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক তাশনিমুল শিহাবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহসিন উদ্দিন, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু হোরায়রা ছাদ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা জজ আদালতের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহিন, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিক মিয়া, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ এবং জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী আব্দুস সোবহান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কলকলিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাশিম, শিক্ষানুরাগী এম সাদিকুর রহমান নান্নু, আনিছুর রহমান, আব্বুস সালাম, হুমায়ুন কবীর, জহিরুল ইসলাম লেবু, কলকলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সেলিম আহমেদ এবং সাবেক শিক্ষার্থী জিল্লুল হক। অনুষ্ঠানে বক্তারা কলেজের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, কলেজটি বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর জমি দান করেছিলেন প্রখ্যাত দানবীর হাজী ইশরাক আলী। কলেজটির শিক্ষার মান ও পরিধি বাড়াতে দ্রুত ডিগ্রি কোর্স চালু এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবনী রানী নাথ। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নবীনদের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করেন মোঃ ইমন আহমেদ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেদোওয়ান হোসেন রিয়াদ। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে শিক্ষক শিব্বির আহমেদ প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।
শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন
জগন্নাথপুরে ৩৯ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি
শান্তিগঞ্জে নজরুল বর্ষের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম সাংবাদিক-কন্যা নাফিসা
জগন্নাথপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
শান্তিগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকারের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠু, নির্ভুল ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিমা। কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রওশন খান সাগর, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল তালুকদার। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার ২৮ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং দুজন সুপারভাইজার অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ সহজ করতে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ট্যাব বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রাথমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

শান্তিগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।  বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শান্তিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমার নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ শুরু হয়। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অভিযানের সময় উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রজননস্থল এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশ্ব চক্ষু দিবসে শান্তিগঞ্জকে ছানি রোগমুক্ত করার অঙ্গীকার

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বিশ্ব চক্ষু দিবস উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার মানুষের মধ্যে চক্ষু রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিগঞ্জকে চোখের ছানি রোগমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাসপাতাল চত্বরে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান। সভায় বক্তারা বলেন, চোখের ছানি একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। সময়মতো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করা গেলে এ রোগের কারণে সৃষ্ট দৃষ্টিজনিত সমস্যা অনেকাংশেই দূর করা সম্ভব। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বক্তারা আরও বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত ও হাওরাঞ্চলের অনেক মানুষ অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত সীমাবদ্ধতার কারণে চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল উদ্দিন, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হাসিবুন নাছিম সোহান, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের প্রজেক্ট অফিসার গোলাম রায়হান, সুনামগঞ্জ ভার্ড চক্ষু হাসপাতালের ম্যানেজার নুর হোসেন, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ ও হাসপাতালের নার্স সুপারভাইজার সুজন দেবনাথসহ সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব চক্ষু দিবস উপলক্ষে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল ও ভার্ডের সহযোগিতায় শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়। শিবিরে চক্ষু পরীক্ষা, ছানি রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। শনাক্ত হওয়া ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার ছানি রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের আওতায় এনে শান্তিগঞ্জকে ছানি রোগমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। 

শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেপ্টেম্বর মাসে ৭৪টি নরমাল ডেলিভারি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেপ্টেম্বর মাসে ৭৪টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসের মতো গত সেপ্টেম্বর মাসেও গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত প্রসূতিসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গেল সেপ্টেম্বর মাসেমোট ৭৪ জন গর্ভবতী নারীর নরমাল ডেলিভারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নিরাপদে এসব প্রসব সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের এই হাসপাতালে প্রসূতিসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় এখন অনেক রোগীকেই জেলা শহর বা দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে না। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। বিশেষ করে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ায় স্থানীয় গর্ভবতী নারীদের মধ্যে সরকারি এই হাসপাতালের প্রতি আগ্রহ ও আস্থা তৈরি হচ্ছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালটি নতুন প্রতিষ্ঠিত হলেও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। অন্যান্য উপজেলা হাসপাতালের তুলনায়ও আমরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি রোগীকে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের সব বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিশেষ করে প্রসূতি সেবাকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সেপ্টেম্বর মাসে ৭৪টি নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী আমেজ

স্থানীয় নির্বাচনের ঘোষনা আসার পর সুনামগঞ্জে জগন্নাথপুর উপজেলার মধ্যে নির্বাচনী আমেজ জমে উঠেছে মিরপুর ইউনিয়নে। আগাম প্রচারণা চালাচ্ছেন ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা৷ কেউ কেউ দলীয় প্রতীক পাওয়া জন্য জনসমর্থন দেখানো প্রয়োজনে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য সূত্র। সূত্রমতে, নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য তারিখ কাছাকাছি না আসলেও এই ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠে৷ সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন৷ পাশাপাশি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দোয়া ও সমর্থন চেষ্টায়। এই প্রার্থীগন সামাজিক ও মানবিক কাজে যুক্ত থেকে মিরপুর ইউনিয়নবাসির পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্টা রয়েছে বেশ। মিরপুর ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এখানে রাস্তাখাটের বড় সমস্যা, বিগত সময়ে এই উপজেলার অন্য ইউনিয়নে দৃশ্যমান উন্নয়ন হলে ও এই ইউনিয়ন দেখার মত উন্নয়ন হয় নাই বলে জানা যায়। এসব সমস্যা দূর মিরপুর ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন বাস্তবায়নের অংশিদার হিসেবে মীরপুর ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিকে মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরব রয়েছেন বেশ কয়েকজন সম্ভ্যাব্য প্রার্থী। তাদের মাঝে রয়েছেন নব্বই দশকের তুখোড় ছাত্র নেতা, সিলেট মহানগর যুবদল সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য বিএনপির নেতা মহি উদ্দিন বাবলু, মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আখলুল করিম, সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এম এম সুহেল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ আজিজ। সরকার দলীয় প্রার্থীরা উঠান বৈঠক, গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা৷ এই ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ কিংবা জাতীয় নাগরিক পার্টি ( এনসিপি) সমর্থিত প্রার্থীদের কোন প্রচারণায় পাওয়া যায় নি। বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের দাবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সরকারী বরাদ্দ বা কাজ থেকে এক পয়সাও খাবেন না। সবটা জনগণের মাঝে দিবেন। আগামী দিনে মিরপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত, শিক্ষাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে তারা কাজ করতে চান। এ লক্ষ্যে তারা এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা, দোআ ও সমর্থন কামনা করতেছেন। তারা পৃথকভাবে নির্বাচনী এলাকায় উঠান বৈঠক, গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করতে কাজ করছেন। সকলের চেষ্টা করছেন এমপির আস্থা অর্জনের। এছাড়াও এ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের হয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গোঁপনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে না।

গ্রাম আদালত অ্যাপে প্রবেশ করলেই জানা যাবে সকল সেবার তথ্য

অল্প সময়ে স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে  চলো যাই গ্রাম আদালতে। এই স্লোগান সামনে রেখে, গ্রাম আদালত অ্যাপ ব্যবহারের নির্দেশিকা ডাউনলোড করে সকল তথ্য জানা যায়। অ্যাপটি জনসচেতনতা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য করা হয়েছে। অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে প্রবেশ করলেই জানা যাবে সকল সেবার তথ্য। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের লক্ষে উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ মোর্শেদুল আলম মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা সহ আদালতে আসার জন্য মানুষকে উদ্ভুদ্ধকরণ করতে,লিফলেট বিতরণ,বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক, ইউনিয়ন পরিষদে ও উপজেলা পরিষদে নিয়মিত অবহিতকরণ সভা করে যাচ্ছেন।এছাড়াও একটি অ্যাপ ব্যবহার করে জানতে পারবেন গ্রাম আদালত সম্পর্কে।  প্রাচীনকাল থেকেই দেশে পঞ্চায়িত নামে সংস্থা প্রচলিত ছিল। তার অন্যতম দায়িত্ব ছিল স্থানীয় বিচার কার্য সম্পাদন ও ঝগড়া বিবাদ মিমাংসা করা। বৃটিশরা যদিও প্রথমে এ দায়িত্ব স্থানীয় সংস্থার উপর অর্পন করেনি,কিন্তু বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগেই ১৯১৯ সালে বঙ্গীয় পল্লি স্বায়ত্তশাসন আইনের মাধ্যমে, ইউনিয়ন বোর্ডেকে দেওয়ানি ফৌজদারি উভয় প্রকার মামলার বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করন তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প,স্থানীয় সরকার বিভাগ,স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রনালয় এর আওতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায় গ্রাম আদালত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কেন আমরা গ্রাম আদালতে যাবো? অতি সহজে বিরোধ ও বিবাদ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। প্রতিনিধি মনোনয়নে আবেদনকারী ও প্রতিবাদী সমান সুযোগ পায়। পক্ষগণ নিজের কথা নিজে বলতে পারে,আইনজীবী দরকার নাই। গ্রাম আদালত সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়,এক বিরোধ থেকে অন্য বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকে। পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হয়, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণ বিশেষ করে নারী,প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খুব সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পায়। গ্রাম আদালত কীভাবে গ্রামের জনগণকে সহায়তা করতে পারে? গ্রাম আদালত হলো স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ব্যবস্হা যা ন্যায্য বিচার লাভে সহায়তা করে। তাছাড়া  গ্রাম আদালত মামলার ফিস ছাড়া অন্য কোনো খরচ নাই। এবং উচ্চতর আদালতের জট কমাতে সাহায্য করে। গ্রাম আদালত কী কী ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে? ফৌজদারি,  চুরি,দাঙ্গা, প্রতারণা,ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, অন্যায় নিয়ন্ত্রণ, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেওয়া, কোন নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা। দেওয়ানী,পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার। কোন অস্হাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়,স্ত্রী কতৃক বকেয়া ভরণপোষণ আদায় ইত্যাদি। বিচার আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে গ্রাম আদালত অ্যাপে প্রবেশ করুন,এবং গ্রম আদালত সম্পর্কে সকল তথ্য জানুন। https://play.google.com/store/apps/details?id=xyz.powern.gram_adalot&hl=bn  

ছাতকে স্ত্রীর পর স্বামীর আত্নহত্যা

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় স্ত্রী’র আত্নহত্যার ঘটনার মাত্র ১০দিন পর বিষপানে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ভোরে উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামে এমন হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার খবরে পুরো উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এদিকে, মা-বাবাকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় শোকের সাগরে ভাসছে তিনটি অবুঝ শিশু। স্থানীয় সূত্র জানায়, পেশায় দিনমজুর নিহত তোফাজ্জল হোসেনের মূল বাড়ি উপজেলার উত্তরকূর্শী গ্রামে হলেও বিয়ের পর থেকে তিনি মঈনপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় স্থায়ী ভাবে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। তোফাজ্জলের সংসারে ৭ বছরের এক ছেলে দেড় বছরের এক ও ৬ মাস বয়সী তিনটি সন্তান রয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে মঈনপুর গ্রামে নিজ বসতঘরের তীরের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে দিনমজুর তোফাজ্জলের স্ত্রী তুলনা বেগমের মৃত্যু হয়। তবে কি কারনে ওই গৃহবধু আত্নহত্যার পথ বেঁেজ নিলেন এবিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। গত রোববার মধ্যরাতে গৃহবধূ তুলনার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন কীটনাশক পান করেন।  তার অবস্থার অবনতি হলে প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে সোমবার ভোরে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বাবা-মাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই দম্পতির তিন শিশু সন্তান। ছোট শিশু সন্তানদের কান্নায় হতবম্ব স্বজন ও এলাকাবাসী।  স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাল মিয়া বলেন, ঘটনার বিষয়ে জাহিদপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহমানকে তাৎক্ষণিক জানানো হয়েছে।  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না শেষে পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

আরও
X