ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||
যেভাবে ‘নীরবতা’ বদলে দেয় আমাদের মস্তিষ্ক
বর্তমানে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ কোলোরেক্টাল ক্যানসার
গবেষণা / হৃদ্‌রোগ চিকিৎসায় নতুন আশার আলো
হৃদ্‌রোগ চিকিৎসায় নতুন আশার আলো
হার্ট অ্যাটাকের পর মানুষের হৃদ্‌যন্ত্রে নতুন পেশিকোষ তৈরি হতে পারে; এমনই তথ্য উঠে এসেছে এক যুগান্তকারী গবেষণায়। বিশ্বের প্রথম এই গবেষণাটি দেখিয়েছে, হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদ্‌যন্ত্র পুরোপুরি অচল হয়ে যায় না; বরং নির্দিষ্ট মাত্রায় হলেও নতুন পেশিকোষ তৈরি হয়। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগ চিকিৎসায় নতুন ধরনের পুনর্জননমূলক থেরাপির পথ খুলে দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, বেয়ার্ড ইনস্টিটিউট এবং রয়্যাল প্রিন্স আলফ্রেড হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের যৌথ গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল সার্কুলেশন রিসার্চ-এ। গবেষকদের মতে, এতদিন ধারণা ছিল হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদ্‌পেশির যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা আর কখনো ঠিক হয় না। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, হৃদ্‌যন্ত্রে দাগ বা স্কার থেকে গেলেও সেখানে নতুন পেশিকোষ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদ্‌যন্ত্রে কোষ বিভাজনের হার কিছুটা বেড়ে যায়। এই কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন পেশিকোষ তৈরি হয়, যা হৃদ্‌যন্ত্রের কাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। আগে ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, মানুষের ক্ষেত্রে এটি প্রথমবারের মতো প্রমাণিত হলো। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া এই নতুন পেশিকোষ হার্ট অ্যাটাকের মারাত্মক প্রভাব পুরোপুরি ঠেকাতে যথেষ্ট নয়। অনেক রোগী বেঁচে গেলেও পরে হার্ট ফেইলিউরে ভোগেন। হার্ট ফেইলিউরের চূড়ান্ত চিকিৎসা হলো হার্ট প্রতিস্থাপন, কিন্তু দাতার স্বল্পতার কারণে এই চিকিৎসা সবার জন্য সম্ভব হয় না। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জীবিত রোগীর হৃদ্‌যন্ত্র থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা। বাইপাস সার্জারির সময় রোগীর সম্মতিতে হৃদ্‌যন্ত্রের আক্রান্ত ও সুস্থ অংশ থেকে টিস্যু নেওয়া হয়। এই পদ্ধতি গবেষকদের বাস্তব মানব হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ চিকিৎসা গবেষণায় আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেবে। এই টিস্যু বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এমন কিছু প্রোটিন শনাক্ত করেছেন, যেগুলো আগে প্রাণীর হৃদ্‌যন্ত্রে পুনর্জন্ম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা ছিল। এখন লক্ষ্য হলো, মানুষের হৃদ্‌যন্ত্রে এই প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, যাতে হার্ট অ্যাটাকের পর ক্ষতিগ্রস্ত হৃদ্‌যন্ত্র আবার কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। বিশ্বজুড়ে হৃদ্‌রোগ মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি। শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই মোট মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য হৃদ্‌রোগ দায়ী। উন্নত চিকিৎসার ফলে হার্ট অ্যাটাকের পর বেঁচে থাকার হার বেড়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হার্ট ফেইলিউর এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, মানুষের হৃদ্‌যন্ত্রের নিজস্ব পুনর্জন্মের ক্ষমতা আছে, যদিও তা সীমিত। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসা উদ্ভাবনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা হৃদ্‌যন্ত্রের এই স্বাভাবিক ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। সফল হলে হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউর চিকিৎসায় এটি হতে পারে এক বড় পরিবর্তন, যা বহু মানুষের জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করবে। সূত্র: সাইন্স অ্যালার্ট
ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য: ডব্লিউএইচও
বিজ্ঞানীদের সতর্কতা / চোখ রাঙাচ্ছে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ‘স্নেইল ফিভার’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র
এক পায়ে দাঁড়ানোর যত উপকারিতা
আরও