ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

চোখ রাঙাচ্ছে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ‘স্নেইল ফিভার’

এপি নিউজ

  ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫০
ছবি: সংগৃহীত

নীরবেই এটি ডিম পাড়ে, আর এসব ডিম জমা হয় মানবদেহের লিভার, ফুসফুস ও যৌনাঙ্গে। এই পরজীবীর সংক্রমণ ‘স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত। স্নেইল বা শামুক এই পরজীবী বহন করার কারণেই এই নামকরণ।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে মানুষের শরীরে এই পরজীবীর উপস্থিতি থাকলেও তা ধরা না-ও পড়তে পারে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো এই পরজীবী সংক্রমিত রোগ ক্রমেই বদলাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মনোযোগ উপেক্ষিত এই পরজীবীর সংক্রমণ এমনভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে ভবিষ্যতে এটি নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রতি বছর এই রোগের জন্য চিকিৎসা নেন বিশ্বের প্রায় ২৫ কোটি মানুষ। যাদের বেশিরভাগই আফ্রিকা মহাদেশে বসবাস করেন। কারণ, যেসব শামুক এই পরজীবী বহন করে, সেগুলো মূলত আফ্রিকাতেই পাওয়া যায়।

তবে বিশ্বজুড়ে ৭৮টি দেশে এই রোগের সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চীন, ভেনেজুয়েলা ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিষয়টি এখন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে এমন সব পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই সতর্কবার্তাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।

এই দিবসের লক্ষ্য হলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকজনিত এমন রোগগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া, যেগুলো মূলত দরিদ্র অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০ কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে।

স্নেইল ফিভার কী?

আগেই জানিয়েছি এই পরজীবী বহন করে বিশেষ ধরনের শামুক। এই শামুক যে পানিতে থাকে সেখানে এই পরজীবীর লার্ভা বা শিশু পরজীবী পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এখন কোনো মানুষ বা প্রাণী যদি কোনোভাবে সেই পানির সংস্পর্শে আসে বা গোসল করতে নামে তখন তার স্নেইল ফিভার হতে পারে। এই লার্ভাগুলোয় চামড়া গলিয়ে ফেলার মতো এনজাইম ছাড়ে এবং ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে।

ধীরে ধীরে এগুলো মানুষের শরীরের ভেতরে বড় হয়ে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বসবাস শুরু করে। স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। এই ডিমগুলোর কিছু কিছু মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে অনেক ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে যায়। ডিমগুলো আটকে গেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করতে গিয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।

কিছু ডিম তলপেট ও যৌনাঙ্গের আশপাশে আটকে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস। এই রোগে পেটব্যথা থেকে শুরু করে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে এবং মারাত্মক ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। স্নেইল ফিভার সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে সেরে যায়। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের, যেমন ছোট শিশু, কৃষিশ্রমিক ও জেলেদের গত কয়েক বছর ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছেন যেন তারা প্রতি বছর এই ওষুধ খান।

তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়াসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরজীবীর নতুন কিছু ধরন পাওয়া গেছে যেগুলো বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ধরা নাও পড়তে পারে।

সংকট আরও গভীর

প্রশ্ন হলো, একই জায়গায় বারবার এই রোগ ছড়াচ্ছে কেন? গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে থাকা পরজীবী আর প্রাণীর শরীরে থাকা পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে নতুন ‘হাইব্রিড’ (মিশ্র) ধরন তৈরি করছে। এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষ ও প্রাণী দুজনকেই আক্রান্ত করতে পারে। ফলে রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন যে মানুষ ও প্রাণীর শরীরের পরজীবীগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রজনন করছে। কিন্তু তারা নিশ্চিত ছিলেন না, এই হাইব্রিড ডিমগুলো শরীরের বাইরে টিকে থাকতে ও বেঁচে থাকতে পারছে কি না। এটা প্রমাণ করতে গবেষকরা মালাউইর কিছু নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ ও প্রাণীর কাছ থেকে নমুনা নেন।

তারা দেখেন, এসব পরজীবীর সাত শতাংশই ছিল পরিবর্তিত হাইব্রিড, যা তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। এর মানে, এই নতুন পরজীবীগুলো সফলভাবে বংশবিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতে আরও ছড়িয়ে পড়বে।

অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘প্রকৃতিতে যদি এভাবে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যাবে’। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেহেতু গবেষণা শুধু কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় করা হয়েছে, তাই এটা হয়তো ‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র’, আসল সমস্যা আরও বড় হতে পারে। বিশেষ করে, অনেক সময় পরীক্ষায় এই সংক্রমণ ধরাই পড়ছে না।

ভবিষ্যতে এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো পুরোনো পরজীবীদেরও হারিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন তিনি। এটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, চিকিৎসকেরা এখনো নিশ্চিত নন, এই হাইব্রিড পরজীবী বহন করা রোগীদের কীভাবে চিকিৎসা করতে হবে।

অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের একটা বার্তা, সচেতন হউন। বড় সমস্যা হওয়ার আগেই কি আমরা দ্রুত কিছু করতে পারি না?’

পরীক্ষায় যৌনাঙ্গে হওয়া সংক্রমণ ধরা পড়ছে না

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গেও সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে হাইব্রিড স্নেইল ফিভার শনাক্ত করা কঠিন। কারণ, এদের ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর ডিমের মতো দেখায় না। এ ছাড়া অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা এর উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করতে পারেন।

চিকিৎসা না হলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস থেকে যৌনাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যাত্ব এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের শারীরিক, সামাজিক ও সন্তান ধারণসংক্রান্ত প্রভাব আরও বেশি গুরুতর বলে মনে করা হয়।

অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘ভাবুন তো, যদি কোনো নারী সন্তান ধারণ করতে না পারেন… আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে মানুষ ওই নারীকে নানা নামে ডাকতে শুরু করে। এটা সত্যিই খুব খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ।’

চাপের মুখে অগ্রগতি

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো নতুন নতুন অঞ্চলে স্নেইল ফিভার ছড়িয়ে দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভ্রমণ এবং মানুষের অভিবাসনের কারণে স্নেইল ফিভার ছড়াতে পারে। আর হাইব্রিড পরজীবী থাকলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে যায়। ইতোমধ্যে দক্ষিণ ইউরোপের কিছু এলাকায় এমন হাইব্রিড সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা. আমাদু গারবা জিরমে বলেন, ‘এটা একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ’। সংস্থাটির আশঙ্কা করছে, এর ফলে রোগ নির্মূলের লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘কিছু দেশে মানুষের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ নেই, কিন্তু প্রাণীদের শরীরে পরজীবীটি রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে সেটাই মানুষের জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।’ এই নতুন হুমকি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের কৌশল বদলাচ্ছে।

চলতি বছর সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে। বড় পরিসরে অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির কারণে ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্নেইল ফিভারের সংক্রমণ ৬০ শতাংশ কমেছে। তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে দরকার নিয়মিত অর্থায়ন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে উপেক্ষিত ট্রপিক্যাল রোগ খাতে সহায়তা ৪১ শতাংশ কমে গেছে, যা বড় হুমকি।

তবু অধ্যাপক মুসায়া আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা রোগটি নির্মূল করতে পারি। তবে এটা একা কারও কাজ নয়। আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। আমরা বলছি, সমস্যাটা আছে, এখনই এটাকে সামলাতে হবে।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য করুন

যেভাবে ‘নীরবতা’ বদলে দেয় আমাদের মস্তিষ্ক
চারপাশে এখন শব্দের ছড়াছড়ি। যানবাহনের আওয়াজ, মানুষের কথাবার্তা, মোবাইলের নোটিফিকেশন, টেলিভিশন—সব মিলিয়ে দিন-রাত কোনো না কোনো ধরনের শব্দের ভেতরেই কাটছে আমাদের জীবন। এই ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ সময়ে নীরবতা অনেকটা বিলাসিতার মতো মনে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নীরবতা শুধু শব্দের অনুপস্থিতি নয়; এটি মানুষের মস্তিষ্কে গভীর ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। নীরবতায় মস্তিষ্কের ভেতরে কী ঘটে আমরা যখন চুপচাপ থাকি, তখন মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়—এমনটা ভাবা ভুল। বরং নীরব অবস্থায় মস্তিষ্ক এক বিশেষ সক্রিয়তায় প্রবেশ করে। তখন এটি স্মৃতি সাজায়, অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে এবং নতুন নতুন ধারণা তৈরি করে। গবেষণায় দেখাচ্ছে, প্রতিদিন অল্প সময়ের নীরবতাও মস্তিষ্কে নতুন কোষ গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে হিপোক্যাম্পাস নামের অংশটি, যা স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে যুক্ত, নীরব পরিবেশে ইতিবাচকভাবে সাড়া দেয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা নীরব পরিবেশে রাখলে হিপোক্যাম্পাসে নতুন কোষের বৃদ্ধি পায়। এটি নিউরোজেনেসিস নামে পরিচিত। শব্দ, চাপ ও মানসিক ক্লান্তি দীর্ঘ সময় শব্দের মধ্যে থাকলে আমাদের শ্রবণ প্রক্রিয়া সবসময় সক্রিয় থাকে। এর ফলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে, মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিপরীতে, নীরবতা মস্তিষ্ককে বিশ্রামের সুযোগ দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অল্প সময়ের নীরবতাও শরীরের কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো থাকে। অর্থাৎ নীরবতা শুধু মানসিক আরাম নয়, শারীরিক উপকারও এনে দেয়। সৃজনশীলতার জন্য নীরবতা জরুরি নীরব পরিবেশে মস্তিষ্ক অবাধে চিন্তা করতে পারে। একে অনেক বিজ্ঞানী ‘ডিফিউজ থিংকিং’ বলেন, যেখানে মস্তিষ্ক আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বিষয়গুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ খুঁজে পায়। অনেক বড় আবিষ্কার বা সৃজনশীল ভাবনা এসেছে নির্জনতা বা নীরবতার মুহূর্তে। বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) নীরবতা ও একান্ত সময়কে মূল্য দিতেন। তিনি প্রায়ই একা হাঁটতেন বা নিরিবিলি বসে ভাবতেন। সংগীতকার লুডভিগ ফান বেটহোফেন (Ludwig van Beethoven) শ্রবণশক্তি হারানোর পর গভীর নীরবতার মধ্যেই তাঁর কিছু বিখ্যাত সিম্ফনি রচনা করেন। তাদের অভিজ্ঞতা দেখায়, নীরবতা সৃজনশীলতার শক্তিশালী সহায়ক হতে পারে। আবেগ নিয়ন্ত্রণে নীরবতার ভূমিকা নীরব পরিবেশে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স বেশি সক্রিয় হয়, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্সও সক্রিয় হতে পারে, যা আবেগগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। নিয়মিত নীরব সময় কাটানো মানুষদের মধ্যে আত্মসচেতনতা ও সহমর্মিতা বাড়তে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধ্যান বা মননশীল নীরবতা উদ্বেগ ও হতাশার লক্ষণ কমাতেও সহায়ক হতে পারে। প্রকৃতি ও নীরবতার মিলিত প্রভাব নীরবতা সবচেয়ে কার্যকর হয় যখন তা প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়। বন, পাহাড়, নদী বা গ্রামীণ পরিবেশে যে ধরনের স্বাভাবিক নীরবতা থাকে, তা মস্তিষ্ককে আলাদা স্বস্তি দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটালে অ্যামিগডালা নামের অংশের কার্যকলাপ কমে, যা ভয় ও স্ট্রেসের সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের পরিবেশে হিপোক্যাম্পাসের সংযোগও উন্নত হতে পারে, যা স্মৃতি ও শেখার জন্য উপকারী। পড়াশোনা ও কাজের দক্ষতায় নীরবতার প্রভাব শব্দপূর্ণ পরিবেশে মনোযোগ ভেঙে যায় এবং শেখার ক্ষমতা কমে। বিপরীতে, নিরিবিলি পরিবেশে পড়াশোনা বা কাজ করলে তথ্য বেশি ভালোভাবে মনে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, শেখার পর অল্প সময়ের নীরব বিরতি নিলে তথ্য ধারণের ক্ষমতা বাড়ে। পেশাজীবীরাও যদি কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট নীরবতা চর্চা করেন, তবে সমস্যা সমাধান, মনোযোগ ও মানসিক সহনশীলতা বাড়তে পারে। দীর্ঘায়ু ও মস্তিষ্কের সুরক্ষা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কোষের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করতে পারে এবং স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নীরবতা স্ট্রেস কমিয়ে মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাণীর ওপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শান্ত পরিবেশে থাকা প্রাণীদের জ্ঞানীয় সক্ষমতা তুলনামূলক ভালো থাকে। মানুষের ক্ষেত্রেও ধ্যান ও নীরব অনুশীলন প্রদাহের মাত্রা কমাতে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে বলে প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। দৈনন্দিন জীবনে নীরবতা যুক্ত করবেন যেভাবে নীরবতা চর্চা করতে আলাদা কোনো সরঞ্জাম বা ব্যয়বহুল আয়োজন প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন পাঁচ থেকে দশ মিনিট মোবাইল বন্ধ রেখে চুপচাপ বসা, সকালে হাঁটার সময় গান না শোনা, অথবা কাজের আগে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া—এসব ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্কুল ও কর্মক্ষেত্রেও এখন নিরিবিলি কক্ষ বা নীরব সময় চালুর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থী ও কর্মীরা মানসিকভাবে সতেজ থাকতে পারেন। নীরবতা কোনো শূন্যতা নয়; এটি মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের সক্রিয় ও পুনরুদ্ধারমূলক অবস্থা। নীরব মুহূর্তে মস্তিষ্ক স্মৃতি গুছিয়ে নেয়, নতুন ধারণা তৈরি করে, চাপ কমায় এবং আবেগকে স্থিতিশীল করে। শব্দে ভরা এই সময়ে সচেতনভাবে কিছু সময় নীরব থাকা মানে নিজের মস্তিষ্ককে বিশ্রাম ও বিকাশের সুযোগ দেওয়া। প্রতিদিন অল্প সময়ের নীরবতা আমাদের মানসিক স্বচ্ছতা, সৃজনশীলতা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নীরবতাকে গুরুত্ব দিলে আমরা শুধু বিশ্রামই পাই না, বরং নিজের ভেতরের সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারি। আরও পড়ুন: যেসব জায়গায় ফোনে কথা বলা একদমই উচিত না আরও পড়ুন: এক গুপ্তচর অভিযানে বদলে গেল স্ট্রবেরির ইতিহাস আরও পড়ুন: ভয় পেলেও কেন আমরা হরর পছন্দ করি, আছে বৈজ্ঞানিক কারণ আরও পড়ুন: অ্যাপ ব্যবহার না করলেও আপনার তথ্য সংগ্রহ করছে টিকটক, থামানোর উপায় আরও পড়ুন: স্টিভ জবসের সাফল্যের নীতিগুলো কাজে আসবে আপনারও আরও পড়ুন: আপনি কোথায় বড় হয়েছেন তা আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে সূত্র: সাইন্স নিউজ টুডে
যেভাবে ‘নীরবতা’ বদলে দেয় আমাদের মস্তিষ্ক
বর্তমানে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ কোলোরেক্টাল ক্যানসার
৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কোলোরেক্টাল ক্যানসার। অথচ নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই রোগটি মৃত্যুর দিক থেকে ছিল পঞ্চম স্থানে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসার সোসাইটি (American Cancer Society)-এর এক প্রতিবেদনে গত তিন দশকে তরুণদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, এই বয়সি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক ক্যানসারে মৃত্যুহার ৪৪ শতাংশ কমেছে। কিন্তু কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। বরং এই রোগে মৃত্যুহার বেড়েছে। বড় ধরনের ক্যানসারের মধ্যে এটিই একমাত্র, যার মৃত্যুহার কমার বদলে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ৫০ বছরের নিচে সবচেয়ে প্রাণঘাতী পাঁচ ক্যানসার - মস্তিষ্কের ক্যানসার - স্তন ক্যানসার - লিউকেমিয়া - ফুসফুসের ক্যানসার - কোলোরেক্টাল ক্যানসার ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এ তালিকার চারটি ক্যানসারে মৃত্যুহার কমেছে। কিন্তু কোলোরেক্টাল ক্যানসারে ২০০৫ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ১ দশমিক ১ শতাংশ করে মৃত্যুহার বেড়েছে। ২০২৩ সালে এটি ফুসফুসের ক্যানসারকে ছাড়িয়ে ৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর শীর্ষ কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে কোলন ক্যানসার কোলন বা রেকটামে যে ক্যানসার হয় তাকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বলা হয়। কেন তরুণদের মধ্যে এই রোগ বাড়ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে গবেষকরা জীবনযাপন ও পরিবেশগত কিছু কারণের দিকে ইঙ্গিত করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে - পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত শস্য না খাওয়া - অতিরিক্ত লাল মাংস, বিশেষ করে ধূমায়িত বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া - স্থূলতা বৃদ্ধি - কম শারীরিক পরিশ্রম এসব কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্থূলতার হার বাড়ছে, যা কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আরেকটি বিষয় হলো, আমরা যা খাই তার সবকিছুই শেষ পর্যন্ত কোলনের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে খাদ্যাভ্যাস ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দেরিতে ধরা পড়ায় বাড়ছে মৃত্যুহার প্রতিবেদন বলছে, ৫০ বছরের কম বয়সি চার রোগীর মধ্যে তিনজনের ক্যানসার ধরা পড়ে তখন, যখন রোগটি অনেকটাই ছড়িয়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে বাঁচার সম্ভাবনা অনেক বেশি। Centers for Disease Control and Prevention-এর তথ্য অনুযায়ী, একেবারে শুরুর পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে প্রায় ৮৯ শতাংশ রোগী কমপক্ষে পাঁচ বছর বেঁচে থাকেন। কিন্তু একেবারে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়লে সেই হার নেমে আসে ১৬ শতাংশে। গবেষণায় দেখা গেছে, উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর রোগ নির্ণয় হতে গড়ে চার থেকে ছয় মাস সময় লেগে যায়। সাধারণ সতর্কসংকেতগুলো হলো - পেটব্যথা - পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া - দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য এ ছাড়া অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ক্লান্তি, বা পায়খানা সম্পূর্ণ হয়নি এমন অনুভূতিও লক্ষণ হতে পারে। কারা আগে থেকেই পরীক্ষা করাবেন সাধারণভাবে ৪৫ বছর বয়স থেকে নিয়মিত স্ক্রিনিং শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কারও পরিবারের সদস্য কম বয়সে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হলে তার ১০ বছর আগেই পরীক্ষা শুরু করা উচিত। যেমন, কারও মায়ের ৪৫ বছর বয়সে ক্যানসার ধরা পড়লে সন্তানের ৩৫ বছরেই স্ক্রিনিং শুরু করা প্রয়োজন। পরিবারে পেট, অগ্ন্যাশয় বা স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে। কিছু জেনেটিক পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ যেমন ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস থাকলেও ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আদিবাসী ও আলাস্কা নেটিভ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ রোগের হার বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো কোলোরেক্টাল ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা তুলনামূলক কম। অনেকেই উপসর্গকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা অর্শরোগ ভেবে এড়িয়ে যান। ফলে দেরিতে রোগ ধরা পড়ে। তাই পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে তা চিকিৎসককে জানানো এবং সময়মতো কোলনোস্কপি বা অন্যান্য পরীক্ষা করা জরুরি। লজ্জা ও ভুল ধারণা বড় বাধা অনেকেই পায়খানা বা অন্ত্রের সমস্যার কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। এই সামাজিক অস্বস্তি অনেক সময় দেরিতে রোগ ধরা পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা দরকার। পায়খানার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন হলে বা রক্ত গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু চিকিৎসকও কম বয়সিদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের সম্ভাবনা গুরুত্ব দেন না। ফলে উপসর্গকে সাধারণ সমস্যা ভেবে সময় নষ্ট হয়। কিন্তু উপসর্গ থাকলে এবং ঝুঁকি বেশি হলে দ্বিতীয় মতামত নেওয়াও প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিরোধে জীবনযাপনের পরিবর্তন গবেষণা বলছে, কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। যেমন— - লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস কম খাওয়া - বেশি শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া - নিয়মিত ব্যায়াম - স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা - অ্যালকোহল কম পান করা - তামাক বর্জন বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের সঠিক জীবনযাপন ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। কোলোরেক্টাল ক্যানসার অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসাযোগ্য। কিন্তু দেরিতে শনাক্ত হলে ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তরুণদের মধ্যে এই রোগ বাড়তে থাকা একটি উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। উপসর্গকে অবহেলা না করা, পরিবারে রোগের ইতিহাস জানা, সময়মতো স্ক্রিনিং করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে বহু অকালমৃত্যু রোধ করতে। সূত্র: হেল্থ লাইন
বর্তমানে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ কোলোরেক্টাল ক্যানসার
গবেষণা / হৃদ্‌রোগ চিকিৎসায় নতুন আশার আলো
হার্ট অ্যাটাকের পর মানুষের হৃদ্‌যন্ত্রে নতুন পেশিকোষ তৈরি হতে পারে; এমনই তথ্য উঠে এসেছে এক যুগান্তকারী গবেষণায়। বিশ্বের প্রথম এই গবেষণাটি দেখিয়েছে, হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদ্‌যন্ত্র পুরোপুরি অচল হয়ে যায় না; বরং নির্দিষ্ট মাত্রায় হলেও নতুন পেশিকোষ তৈরি হয়। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগ চিকিৎসায় নতুন ধরনের পুনর্জননমূলক থেরাপির পথ খুলে দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, বেয়ার্ড ইনস্টিটিউট এবং রয়্যাল প্রিন্স আলফ্রেড হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের যৌথ গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল সার্কুলেশন রিসার্চ-এ। গবেষকদের মতে, এতদিন ধারণা ছিল হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদ্‌পেশির যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা আর কখনো ঠিক হয় না। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, হৃদ্‌যন্ত্রে দাগ বা স্কার থেকে গেলেও সেখানে নতুন পেশিকোষ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদ্‌যন্ত্রে কোষ বিভাজনের হার কিছুটা বেড়ে যায়। এই কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন পেশিকোষ তৈরি হয়, যা হৃদ্‌যন্ত্রের কাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। আগে ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, মানুষের ক্ষেত্রে এটি প্রথমবারের মতো প্রমাণিত হলো। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া এই নতুন পেশিকোষ হার্ট অ্যাটাকের মারাত্মক প্রভাব পুরোপুরি ঠেকাতে যথেষ্ট নয়। অনেক রোগী বেঁচে গেলেও পরে হার্ট ফেইলিউরে ভোগেন। হার্ট ফেইলিউরের চূড়ান্ত চিকিৎসা হলো হার্ট প্রতিস্থাপন, কিন্তু দাতার স্বল্পতার কারণে এই চিকিৎসা সবার জন্য সম্ভব হয় না। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জীবিত রোগীর হৃদ্‌যন্ত্র থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা। বাইপাস সার্জারির সময় রোগীর সম্মতিতে হৃদ্‌যন্ত্রের আক্রান্ত ও সুস্থ অংশ থেকে টিস্যু নেওয়া হয়। এই পদ্ধতি গবেষকদের বাস্তব মানব হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ চিকিৎসা গবেষণায় আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেবে। এই টিস্যু বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এমন কিছু প্রোটিন শনাক্ত করেছেন, যেগুলো আগে প্রাণীর হৃদ্‌যন্ত্রে পুনর্জন্ম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা ছিল। এখন লক্ষ্য হলো, মানুষের হৃদ্‌যন্ত্রে এই প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, যাতে হার্ট অ্যাটাকের পর ক্ষতিগ্রস্ত হৃদ্‌যন্ত্র আবার কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। বিশ্বজুড়ে হৃদ্‌রোগ মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি। শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই মোট মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য হৃদ্‌রোগ দায়ী। উন্নত চিকিৎসার ফলে হার্ট অ্যাটাকের পর বেঁচে থাকার হার বেড়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হার্ট ফেইলিউর এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, মানুষের হৃদ্‌যন্ত্রের নিজস্ব পুনর্জন্মের ক্ষমতা আছে, যদিও তা সীমিত। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসা উদ্ভাবনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা হৃদ্‌যন্ত্রের এই স্বাভাবিক ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। সফল হলে হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউর চিকিৎসায় এটি হতে পারে এক বড় পরিবর্তন, যা বহু মানুষের জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করবে। সূত্র: সাইন্স অ্যালার্ট
হৃদ্‌রোগ চিকিৎসায় নতুন আশার আলো
ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য: ডব্লিউএইচও
বিশ্বে প্রতি ১০ জন ক্যানসার আক্রান্তের মধ্যে প্রায় চারজনকে ঝুঁকিপূর্ণ জীবনধারা ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ধূমপান, অ্যালকোহল, বায়ু দূষণ এবং সংক্রমণ—এই চারটি প্রধান কারণেই গড়ে নতুন ক্যানসারের প্রায় ৩৮ শতাংশ। বিশ্ব ক্যানসার দিবসের আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকরা এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে নতুন ক্যানসারের ৭.১ মিলিয়ন ঘটনা অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য কারণের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকরা ৩০টি ঝুঁকির উপাদান পরীক্ষা করেছেন, যা ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামাক নতুন ক্যানসারের ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রধান কারণ। ক্যানসার সৃষ্টিকারী সংক্রমণ ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং অ্যালকোহল ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। অন্যান্য ঝুঁকি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়ামের অভাব, অতিবেগুনী বিকিরণ এবং কর্মক্ষেত্রে অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শ। ডব্লিউএইচওর ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ দলের প্রধান আন্দ্রে ইলবাউই বলেন, ‘এটাই প্রথম বিশ্বব্যাপী বিশ্লেষণ, যা দেখায় ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা প্রতিরোধযোগ্য।’ ফুসফুস, পাকস্থলী এবং জরায়ুর ক্যানসার সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধযোগ্য। ফুসফুসের ক্যানসার মূলত ধূমপান ও বায়ু দূষণের কারণে, পাকস্থলীর ক্যানসার হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে যুক্ত এবং জরায়ুমুখের ক্যানসারের বেশিরভাগ ঘটনা এইচপিভি সংক্রমণের কারণে, যা টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য। পুরুষদের মধ্যে নতুন ক্যানসারের প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য, মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ। পুরুষদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসার ধূমপানের কারণে, মহিলাদের ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ। গবেষকরা দেশগুলোকে তামাক ও অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকা, বায়ুর মান উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এনসিডি অ্যালায়েন্সের সিইও কেটি ডেইন বলেন, ‘ক্যানসারের বোঝা কমাতে চাইলে আমাদের অসংক্রামক রোগের বোঝাও কমাতে হবে। তামাক, অ্যালকোহল, অতিপ্রসেসড খাবার এবং দূষিত বাতাস বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের প্রধান কারণ।’ সূত্র: জিও নিউজ
ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য: ডব্লিউএইচও
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি তার বৃহত্তম দাতা সংস্থা হিসেবে আর কোনো সাহায্য পাবে না। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এক বছর আগে নিজের দেশকে সংস্থাটি থেকে প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা মহামারির সময় সংস্থাটিকে খুব বেশি ‘চীন-ঘেঁষা’ বলে সমালোচনা করেছিলেন তিনি। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, মহামারির সময়ের ‘ভুল ব্যবস্থাপনা’, সংস্কারে অক্ষমতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডব্লিউএইচও এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, এই প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য ক্ষতি। সংস্থাটি পোলিও, এইচআইভি, মাতৃমৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে ডব্লিউএইচও সদস্য রাষ্ট্রগুলো ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে একটি আন্তর্জাতিক মহামারি চুক্তি তৈরির জন্য কাজ করেছে, যার মধ্যে ভ্যাকসিন এবং ওষুধ আরও ন্যায্যভাবে ভাগাভাগি করা অন্তর্ভুক্ত। গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ডব্লিউএইচও’র সব সদস্য রাষ্ট্র এই চুক্তিতে সম্মত হয়। ঐতিহ্যগতভাবে ডব্লিউএইচও’র অন্যতম বৃহৎ দাতা যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেনি। এর ফলে সংস্থাটিতে ইতোমধ্যেই বিশাল কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। যদিও ডব্লিউএইচও’র আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার, তারা এই অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য। তবে ওয়াশিংটন বলছে, বকেয়া পরিশোধ করার কোনো কারণ তারা দেখছে না। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও’কে মার্কিন সরকারের সমস্ত তহবিল বন্ধ করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংস্থাটির সদর দপ্তর ও বিশ্বব্যাপী কার্যালয়গুলো থেকে মার্কিন কর্মী এবং ঠিকাদারদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও’র সঙ্গে শত শত মার্কিন কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র
এক পায়ে দাঁড়ানোর যত উপকারিতা
এক পায়ে দাঁড়ানো কাজটি দেখতে খুবই সহজ মনে হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি অনেকের জন্য কঠিন হয়ে যায়। তবে এই ছোট অভ্যাসটি শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে। নিয়মিত এক পায়ে দাঁড়ানোর অনুশীলন শরীরকে শক্তিশালী করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই লেখায় সহজ ভাষায় জানানো হয়েছে কেন এক পায়ে দাঁড়ানো এত গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এক পায়ে দাঁড়ানো কেন কঠিন হয়ে যায় শৈশব ও কৈশোরে আমাদের ভারসাম্য খুব দ্রুত উন্নত হয়। সাধারণত ৯ থেকে ১০ বছর বয়সে এক পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা পরিপূর্ণ হয়। ত্রিশের শেষ দিকে এই ক্ষমতা সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকে। এরপর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে অনেকের জন্য কয়েক সেকেন্ডের বেশি এক পায়ে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যায়। এই সামান্য সমস্যাই কিন্তু আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং শরীর কীভাবে বয়সের সঙ্গে বদলাচ্ছে তার ইঙ্গিত দিতে পারে। ভারসাম্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ডাক্তাররা এক পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতাকে স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখেন। এর একটি বড় কারণ হলো সারকোপেনিয়া, অর্থাৎ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি ও আকার কমে যাওয়া। ৩০ বছর বয়সের পর প্রতি দশ বছরে প্রায় ৮ শতাংশ করে পেশি কমতে থাকে। বয়স ৮০ হলে অনেক মানুষের শরীরে এই সমস্যা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এর ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং চলাফেরার শক্তি কমে যায়। এক পায়ে দাঁড়ানোর সময় শরীরের পা, কোমর ও মূল পেশিগুলো সক্রিয় থাকে। যারা নিয়মিত এই অনুশীলন করেন, তাদের মধ্যে পেশি ক্ষয় কম হয় এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। মস্তিষ্কের সঙ্গে ভারসাম্যের সম্পর্ক এক পায়ে দাঁড়ানো শুধু পেশির শক্তির বিষয় নয়। এর সঙ্গে চোখ, কানের ভেতরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্নায়ুতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করে। এই সব তথ্য একত্র করে মস্তিষ্ক আমাদের শরীরকে স্থির রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থাগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়। ফলে ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়। এক পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা কমে গেলে তা মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের অবস্থাও নির্দেশ করে। যেমন প্রতিক্রিয়ার গতি, দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা এবং তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা। গবেষণায় দেখা গেছে, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া ৬৫ বছরের বেশি মানুষের মধ্যে আঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ। নিয়মিত এক পায়ে দাঁড়ানোর অনুশীলন এই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। জীবনকাল ও স্মৃতিশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মধ্য ও পরবর্তী বয়সে যারা ১০ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়াতে পারেন না, তাদের মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা মাত্র ২ সেকেন্ড বা তার কম সময় এক পায়ে দাঁড়াতে পারেন, তারা ১০ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় দাঁড়াতে পারা মানুষের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়। যারা এখনও এক পায়ে কিছু সময় দাঁড়াতে পারেন, তাদের মানসিক অবনতি তুলনামূলকভাবে ধীর হয়। এক পায়ে দাঁড়ানোর অনুশীলন কীভাবে উপকার করে ভালো খবর হলো, এই দক্ষতা অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নত করা যায়। নিয়মিত এক পায়ে দাঁড়ানোর ব্যায়াম পা, কোমর ও শরীরের মূল অংশকে শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে এটি মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যকারিতাও উন্নত করে। এই অনুশীলন মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোকে সক্রিয় করে, যেগুলো চলাফেরা, স্থান সম্পর্কে ধারণা এবং স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি অল্প বয়সীদের মধ্যেও এক পায়ে দাঁড়ানো স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে বলে দেখা গেছে। কখন এবং কীভাবে অনুশীলন করবেন বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এক পায়ে দাঁড়ানোর অনুশীলন করুন। তবে প্রতিদিন করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের উচিত নিজের সক্ষমতা যাচাই করা। সহজভাবে দাঁত ব্রাশ করার সময় এক পায়ে ১০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকা যেতে পারে। এরপর অন্য পায়ে চেষ্টা করুন। খালি পায়ে ও জুতা পরে দুই ভাবেই করা ভালো, কারণ এতে শরীরের ভারসাম্য আলাদাভাবে কাজ করে। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কাজ করা, বাসন মাজা বা সিঙ্কের সামনে দাঁড়ানো সময়ও এই অনুশীলনের সুযোগ হতে পারে। দিনে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিলেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। যোগব্যায়াম, তাই চি বা হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও ভারসাম্য উন্নত করতে সাহায্য করে। এসব ব্যায়াম পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। এক পায়ে দাঁড়ানো একটি খুব সাধারণ অভ্যাস হলেও এর উপকারিতা অসাধারণ। এটি শরীরের শক্তি বাড়ায়, মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং বয়স বাড়লেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে সাহায্য করে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নব্বই বছর বয়সেও ভালো ভারসাম্য ধরে রাখা সম্ভব। সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের জন্য আজ থেকেই এক পায়ে দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী পদক্ষেপ। সূত্র : বিবিসি
এক পায়ে দাঁড়ানোর যত উপকারিতা